kalerkantho

রবিবার । ২৬ জুন ২০২২ । ১২ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৫ জিলকদ ১৪৪৩

ওয়ার্কার্স পার্টির সুবর্ণ জয়ন্তী

নয়া উদারবাদী নীতির ফলে দেশে জিনিসপত্রের অগ্নিমূল্য : মেনন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ মে, ২০২২ ২০:১৮ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নয়া উদারবাদী নীতির ফলে দেশে জিনিসপত্রের অগ্নিমূল্য : মেনন

নয়া উদারবাদী অর্থনৈতিক নীতির ফলে জিনিসপত্রের অগ্নিমূল্য বলে মনে করেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। তিনি বলেছেন, সরকার স্বীকার করছে জিনিসপত্রের মূল্য তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এই অবস্থায় দেশকে বিদ্যমান সংকট থেকে উদ্ধার করতে বামপন্থা ও বামপন্থীদের কাছে আসতে হবে।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর তোপখানা রোডে পার্টির ৫০ বছর পূর্তি বা সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে বছরব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরো বলেন, পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ে দেড় দশকব্যাপী সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং বিএনপি-জামায়াত জঙ্গিবাদ-মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী আন্দোলনের সৃষ্টি করেছে ওয়ার্কার্স পার্টি ও বামপন্থীরা। এখনো সাম্রাজ্যবাদ, সাম্প্রদায়িকতা মৌলবাদের বিরুদ্ধে মূল শক্তি বামপন্থীরা। ওয়ার্কার্স পার্টি আগামীতে সমাজতন্ত্রের পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবে।

রাশেদ খান মেনন বলেন, পুঁজিবাদ ইতিহাসের শেষ কথা নয়, সমাজতন্ত্রই মুক্তির পথ। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তি ও সমাজতন্ত্রের বিপর্যয় ঘটেছে ঠিকই, তবে পৃথিবী আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে সমাজতন্ত্রের পথে। বিশ্ববাসী প্রতিমুহূর্তে পুঁজিবাদের মৃত্যুযন্ত্রণা দেখছে। দেশে দেশে যুদ্ধ বাধিয়ে তাদের অস্ত্র বিক্রি করা ছাড়া কোনো পথ নেই।  

এর ফলাফল হিসেবে ইতিমধ্যে বিশ্বজুড়ে জিনিসপত্রের অগ্নিমূল্য, মুদ্রার মান কমে যাওয়া, বর্ণবাদ, জাত্যভিমান এবং কর্তৃত্ববাদের প্রসার ঘটছে। বাংলাদেশও পুঁজিবাদী এই সংকট থেকে বাইরে নয়। ক্ষুদ্র অতিধনী ও আমলা গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত সম্পদ বিরাট বৈষম্যের সুষ্টি করেছে। বিশাল ঋণের ফাঁদ সৃষ্টি হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিদেশ থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি বলেন, গণতদন্ত কমিশনের রিপোর্ট ধর্মব্যবসায়ীদের মুখোশ উন্মোচন হয়ে যাওয়ায় তারা আবার ফণা তুলেছে। এবার তাদের ফণা ভেঙে দিতে হবে। সাম্প্রদায়িকতা ও বৈষম্যের বিস্তৃতি সরকারের সকল উন্নয়নকেই খেয়ে ফেলবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি গত ৫০ বছরে পার্টিকে এগিয়ে নিতে যারা প্রাণ দিয়েছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।  

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় পতাকা ও পার্টি পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলন করা হয়। সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে পার্টি অফিসের সামনের সড়কে আলোকসজ্জা, প্রায়াত নেতৃবৃন্দের ছবি, বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত দেয়াল লিখন, লাল পতাকা দিয়ে সুসজ্জিত করা হয়। সুবর্ণ জয়ন্তীর মিলনমেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন গণসাংস্কৃতিক মৈত্রী, গণশিল্পী সংস্থা, ভাবুক ও পার্টির অন্য শিল্পীরা।



সাতদিনের সেরা