kalerkantho

রবিবার । ৪ আশ্বিন ১৪২৮। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১১ সফর ১৪৪৩

সাক্ষাৎকার

আগামী ৩০ বছরে হবে এক নতুন ঢাকা

শেখ ফজলে নূর তাপস, মেয়র, ডিএসসিসি

আবদুল্লাহ আল মামুন   

৩০ আগস্ট, ২০২১ ০২:৫৪ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



আগামী ৩০ বছরে হবে এক নতুন ঢাকা

সময়টা অনুকূল ছিল না। সারা বিশ্ব কাঁপছে করোনাভাইরাস মহামারির ভয়াবহতায়। সেই ঢেউ এসে পড়েছে বাংলাদেশে। সে অবস্থার মধ্যেই গত বছর মে মাসে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়রের দায়িত্ব নেন ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস। কিন্তু মা-বাবা আর প্রিয়জনদের হারিয়ে শৈশব থেকেই প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়ছেন যিনি, তাঁর কাছে এ আর নতুন কী। আবারও ঝাঁপিয়ে পড়লেন লড়াইয়ে। এই লড়াইটা জনবহুল ঢাকার মানুষের জন্য। এরই মধ্যে এক বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান আর নাগরিক সেবা দিয়ে মন জয় করেছেন ডিএসসিসি মেয়র ফজলে নূর তাপস। করোনাভাইরাসের সঙ্গে ভয়াবহ ডেঙ্গু মোকাবেলা, খাল ও নর্দমা পরিষ্কারের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন তাঁর উল্লেখযোগ্য সাফল্য। নিয়মিত নানা উন্নয়নকাজ তো রয়েছেই।

ডিএসসিসির মেয়র স্বপ্ন দেখছেন, আগামী ৩০ বছরে হবে এক নতুন ঢাকা। যে ঢাকা আর বিশ্বের কোনো জরিপে নিচের দিকে থাকবে না। পরিচিতি পাবে উন্নত শহর হিসেবে। সে লক্ষ্যেই মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে। গত ২৫ আগস্ট বুধবার নগর ভবনে কালের কণ্ঠকে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস। তিনি বলেছেন, ‘এখানে নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সে লক্ষ্যেই আমি মনে করেছি সুযোগটা নেওয়া দরকার।’

এমন প্রতিকূল সময়ে রাজধানীর জনবহুল এলাকাটির মেয়রের দায়িত্ব পালনের অনুভূতি কেমন—জানতে চাইলে মেয়র তাপস বলেন, লক্ষ্য ছিল ঢাকাবাসীর সেবাগুলো কিভাবে নিশ্চিত করা যায়। মৌসুমটা ছিল ডেঙ্গু রোগেরও। আগের বছর ডেঙ্গু রোগে যে প্রাণহানি ঘটেছিল সেই করুণ অভিজ্ঞতা তাঁর নজরে ছিল। একদিকে করোনাভাইরাস, অন্যদিকে এডিস মশা। প্রথম অগ্রাধিকার ছিল মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম। ফলে সেভাবে ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব ও প্রাণহানি হয়নি। এরপর ছিল করোনার পরিস্থিতিতে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম সচল রাখা। ৭৫টি ওয়ার্ডের এক কোটি ২০ লাখ মানুষকে যে দৈনন্দিন সেবা দিতে হয়, সেটা ফেলে রাখা বা বন্ধ রাখার কোনো সুযোগ নেই।

ঘটনাটি ২০১৫ সালের। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিকে বোস্টন শহরে তাঁর বাড়ির সামনে আবর্জনা (তুষার) জমে যাওয়ায় শহর কর্তৃপক্ষ জরিমানা করে বসল। এই দৃষ্টান্ত স্মরণ করিয়ে মেয়র তাপসের কাছে জানতে চাওয়া হয় ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কঠোর পদক্ষেপ নেবেন কি না? জবাবে দুই দেশের দুই ধরনের ব্যবস্থার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আমাদের একটি প্রতিকূলতা হচ্ছে মশক নিধন কর্মীরা সচরাচর অন্যের বাসার ভেতরে প্রবেশ করতে পারেন না। বাইরে থেকে কীটনাশক দিতে হয়, কিন্তু এডিস মশার বেশির ভাগ আধার সৃষ্টি হয় আঙিনার ভেতর। সুতরাং আমাদের জন্য দুরূহ হয়ে যায় উৎসস্থল খুঁজে বের করে এডিস মশা নিধন করা। এ জন্য নিজের উদ্যোগের সঙ্গে প্রয়োজন তথ্য জানানো।’

তাঁকে আবারও জন কেরির দৃষ্টান্ত স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় এবং জানতে চাওয়া হয় ডিএসসিসি এ ধরনের কোনো দৃষ্টান্তের মাধ্যমে কঠোর অবস্থান জানাবে কি? জবাবে মেয়র ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘আমরা চিরুনি অভিযান চালাচ্ছি। ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেটকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করে দিয়েছি। ৭৫ জন কাউন্সিলর কাজ করছেন। এ কারণে এখন পর্যন্ত এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি।’ তিনি জানান, আগামী বছর থেকে চিরুনি অভিযানের সময় আরেকটু বাড়ানো হবে।

অভিজাত ধানমণ্ডি এলাকার তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্যের মেয়র হওয়ার আগ্রহ কেন হলো—এমন প্রশ্নে তাপস বলেন, ‘আগ্রহ ঠিক নয়। আমার মধ্যে একটা দায়িত্ববোধ জাগ্রত হয়েছে। তৃতীয় মেয়াদে যখন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হই, দেখলাম অনেক প্রচেষ্টার পরও মনমতো বা প্রধানমন্ত্রী যেভাবে স্বপ্ন দেখছেন, সেভাবে ঢাকাকে এগিয়ে নিতে পারছি না। একটা দায়িত্ববোধ তৈরি হলো যে আরো বৃহত্তর পরিসরে কাজ করা প্রয়োজন এবং সুযোগ রয়েছে। সুতরাং যখন সিটি করপোরেশন নির্বাচন এলো তখন আমি মনে করলাম যে দায়িত্ব নিয়ে ঢাকাবাসীর সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা যায় কি না। ঢাকাকে একটু নতুন আঙ্গিকে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা যায় কি না। প্রধানমন্ত্রী ২০৪১ সালে যে উন্নত বাংলাদেশ চিন্তা করছেন বা পরিকল্পনা নিয়েছেন, সেটার জন্য তো উন্নত রাজধানী দরকার। এমনিতেই ঢাকা শহর একটি অপরিকল্পিত নগর হয়ে গেছে। বিশ্বব্যাপী যে প্রতিবেদন দেখি তাতে সব সময় আমরা নিচের দিকে থাকি। এখানে (ডিএসসিসি) নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সে লক্ষ্যেই আমি মনে করেছি সুযোগটা নেওয়ার দরকার।’

ফজলে নূর তাপস বড় হয়েছেন ধানমণ্ডিতে। পড়াশোনা করেছেন বিশ্বের অন্যতম অভিজাত শহর লন্ডনে। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অত্যন্ত ঘনবসতির শহর ঢাকায়। এ ব্যাপারে তাঁর কী প্রতিক্রিয়া? বললেন, ‘আমি সংসদ সদস্য হিসেবে কাজ করেছি, কিন্তু ঢাকা শহরে সংসদ সদস্য হিসেবে কাজ করলেও মূল কাজগুলোর জন্য সিটি করপোরেশনের দ্বারস্থ হতে হয়। সেবার জায়গাটায় আমি মনে করেছি যে ঘাটতি রয়ে গেছে। সিটি করপোরেশনের আগের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। আমি মনে করেছি, সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব শহরকে নিয়ে এখনি পরিকল্পনা করা। সে জন্য আমরা মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করছি, আগামী ৩০ বছরে কেমন হবে ঢাকা শহর।’ ৩০ বছরের মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে কি না—জানতে চাইলে মেয়র বলেন, মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। পরামর্শক নিয়োগ হয়েছে। তাঁরা কাজ করছেন। তিনি আশাবাদী যে আগামী এক বছরের মধ্যে মহাপরিকল্পনার রূপরেখা পেয়ে যাবেন।

অতীতে রাস্তা সংস্কার করে যাওয়ার পর ওয়াসা বা ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) এসে সেই রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করেছে, এমন দৃষ্টান্ত কম নয়। এই সমন্বয়হীনতা দূর করার বিষয়টি মহাপরিকল্পনার মধ্যে থাকছে কি না—জানতে চাইলে মেয়র তাপস বলেন, সমন্বয়ের বিষয়ে নজর দিচ্ছেন। এ বছর ঢাকা সিটি করপোরেশনের ইতিহাসে বর্ষা মৌসুমে সর্বনিম্ন কাটাকাটি বা সড়ক খনন হয়েছে। অন্য সংস্থাগুলোকে একেবারেই রাস্তা কাটতে দিচ্ছেন না। তিনি আশাবাদী, ভবিষ্যতে অপরিকল্পিত সড়ক কাটাকাটির সমস্যা দূর হবে।

বিদ্যমান ব্যবস্থায় কি যখন-তখন সড়ক কাটাকাটি বন্ধ করা সম্ভব? অতীতে মেয়ররা নগর সরকার ব্যবস্থা দাবি করেছেন। এ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভিন্নমত ব্যক্ত করে মেয়র তাপস বললেন, ‘আমি মনে করি না সে জন্য এটার প্রয়োজন হবে। কারণ স্থানীয় সরকার সিটি করপোরেশন আইন, ২০০৯-এ যথেষ্ট কার্যপরিধি, কার্যাবলি নির্ধারণ করা আছে। সে দায়িত্বগুলো সঠিকভাবে পালন করলে এবং সবাইকে সেটার আওতায় আনা গেলে ঢাকাবাসী তাদের প্রত্যাশিত সেবা পাবে।’ সম্প্রতি সাবেক একজন মেয়রের বক্তব্য সম্পর্কে ফজলে নূর তাপসের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয় যে এ নিয়ে মেয়রের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো সমস্যা বোধ করছেন কি না? জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি আমার দায়িত্ব নিয়ে চিন্তিত। সে ব্যাপারেই আমার নজর রয়েছে। সিটি করপোরেশনের বাইরে অন্য বিষয় একদমই নজরে আনছি না। কাজগুলো একাগ্রতার সঙ্গে করার চেষ্টা করছি।’

মেয়র তাপসের সবচেয়ে প্রশংসনীয় উদ্যোগ সিটি করপোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত করার চেষ্টা। এটি করতে গিয়ে কোনো কোনো মহলের বিরাগভাজন হয়েছেন তিনি। তার পরও দুর্নীতি দূর করার লক্ষ্যে অবিচল রয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রথম দিন থেকেই দুর্নীতি দূর করার ব্যাপারে কঠোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছি এবং এটা চলমান রয়েছে। যা আমাদের নজরে আসছে বা যেখানেই দুর্নীতির তথ্য পাচ্ছি সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছি। দুর্নীতির আখড়াগুলো ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছি। যে প্রক্রিয়াগুলো ছিল সেই প্রক্রিয়াগুলো পরিবর্তন করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিয়ে এসেছি। দুর্নীতি এখন কমে গেছে। তার পরও দুর্নীতি তো একটা মানসিক বিষয়। কেউ যদি দুর্নীতি করতে চায় সে লুকিয়েও করে। আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

অতীতের সঙ্গে তুলনায় মানুষ বর্তমান মেয়রের কাজে সন্তুষ্ট—ডিএসসিসি এলাকার মানুষ এমন আলোচনা করছে, কিন্তু এক বছরের কাজের ব্যাপারে মেয়র নিজে কি সন্তুষ্ট? জবাবে ফজলে নূর তাপস কিছুক্ষণ চুপ করে থাকেন। তারপর বলেন, ‘অবশ্যই সন্তুষ্ট না। ডিএসসিসির পুরনো অনেক দুর্বলতা রয়েছে। জনবল ঘাটতি রয়েছে। কর্মকর্তাদের সক্ষমতার অভাব রয়েছে। তার পরও চেষ্টা ও উদ্যোগগুলো চালিয়ে যাচ্ছি। জনবল নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করছি, কিন্তু কিছু দুর্বলতা রয়েছে, যা চাইলেই দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। তার পরও আমি আশাবাদী।’ উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে পাঁচ বছর কি কম সময়, এই প্রশ্নে হেসে ওঠেন মেয়র তাপস। বলেন, ‘স্থানীয় সরকারমন্ত্রী, সিনিয়র সচিবসহ মন্ত্রণালয়ের সবাই যথেষ্ট সাহায্য-সহযোগিতা করছেন। জনবল নিয়োগ, রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছেন। তবে প্রশাসনিক কিছু দুর্বলতা রয়েছে। মন্ত্রী দ্রুত খালগুলো হস্তান্তর করেছেন। এগুলো পরিষ্কার করেছি। যার সুফল এবার ঢাকাবাসী পেয়েছে। জলাবদ্ধতা হয়নি। সফলতার সঙ্গে ভূগর্ভস্থ নর্দমা ও খাল পরিষ্কার করেছি। কালভার্টগুলো পরিষ্কার করেছি। খালগুলোকে সংরক্ষণ করতে হবে। সেখানে নান্দনিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এ ব্যাপারে প্রকল্প দিয়েছি। সে প্রকল্প এখনো পাস হয়নি। একনেকে যাবে। এ সব কিছুতে সময় আসলে লেগে যায়। ওপরের পর্যায়ে কিছু সময় লাগে।’ আবারও পাঁচ বছর কম সময় কি না—জানতে চাইলে হাসতে হাসতে তাপস জবাব দেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এর আগে উল্লেখ করেছিলেন যদি আওয়ামী লীগ সরকার থাকে তাহলে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা থাকে। এখন সেটা প্রমাণিত। সুতরাং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করাটা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ এবং একজন পরিকল্পনা নিলে সেই পরিকল্পনাটা বাস্তবায়ন সঠিকভাবে হওয়া পর্যন্ত একটি বিষয় থাকেই। সময়ের দরকার হয়, কিন্তু তার মানে আমি তো এখানে সব সময়ের জন্য থাকতে আসিনি। আমি একটি মেয়াদ নিয়েই এসেছি। ইনশাল্লাহ ভিত রচনা করে দিয়ে যাচ্ছি। তারপর যিনি বা যাঁরা আসবেন সেই ভিত আরো সুদৃঢ় করবেন। আমাদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করবেন।’ আগামীবার মনোনয়ন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এত আগে এগুলো চিন্তা করার বিষয় কি? মাত্র এক বছর গেল তো!’

প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের কর্মকাণ্ডকে অনুপ্রেরণা মানেন মেয়র তাপস। বলেন, ‘আনিসুল হক সাহেব মাত্র তিন বছরের মধ্যে পরিবর্তন আনতে পেরেছিলেন। মেয়র পদে নির্বাচন করতে এটি আমার জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।’

একসময় ছিলেন আদালত অঙ্গনের ব্যস্ততম আইনজীবী। এখন জনবহুল ঢাকার এক অংশের ব্যস্ত মেয়র। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আইন পেশা মিস করেন কি না—জানতে চাইলে তরুণ এই ব্যারিস্টার বলেন, ‘খুবই মিস করি।’ তিনি জানান, আইন পেশা তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন বা সবচেয়ে ভালো সময় ছিল। যদি সুযোগ হয় আবার ফিরে যাবেন অতি পরিচিত সুপ্রিম কোর্টে।

মা-বাবা হারিয়ে সন্তানরা সাধারণত বিপথগামী হয়, কিন্তু আপনারা দুই ভাই ব্যতিক্রম। দুজনই উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত। কিভাবে সম্ভব হলো? জবাবে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নৃশংস হত্যাকাণ্ডে শহীদ শেখ ফজলুল হক মনির কনিষ্ঠ এই পুত্র বলেন, ‘এখনো বলা যায় না যে মানুষের মতো মানুষ হয়েছি।’ তিনি জানান, তাঁর মায়ের স্বপ্ন ছিল সন্তানরা মানুষের মতো মানুষ হবে। উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হবে। তাঁরা (বড় ভাই যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশসহ তিনি) সেটা ধারণ করেছেন। তাঁদের মুরব্বিরা, অভিভাবক যাঁরা ছিলেন চাচা-চাচি, দাদা-দাদি, ফুফুরা—সবাই অগাধ ভালোবাসা দিয়েছেন। সেটা দুই ভাইয়ের চলার পথকে অত্যন্ত মসৃণ করেছে। মায়ের সেই স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের চেষ্টা এখনো করে যাচ্ছেন বলে জানালেন তিনি।

শেষ প্রশ্নটি ছিল তাঁদের জীবনের সঙ্গে নির্মমভাবে জড়িয়ে থাকা ভয়াল আগস্ট নিয়ে। মা-বাবাসহ আরো অনেক প্রিয় স্বজনকে হারিয়েছেন, সেই ভয়াল স্মৃতি আজও কিভাবে তাঁকে তাড়া করে বেড়ায়? কিছুক্ষণ চুপ থেকে অত্যন্ত বিষণ্ন কণ্ঠে মেয়র ফজলে নূর তাপস বললেন, ‘সবচেয়ে বেদনার স্মৃতি হলো আমার বাবার লাশ মেঝের ওপরে পড়ে আছে। বাবার গলায় একটি গুলি। মা-বাবার সেদিনকার এটাই একমাত্র স্মৃতি। মার লাশটি আমার মনে নেই। কিন্তু বাবার লাশটি, সেই আতঙ্ক ও বীভৎস চিত্রটা আবছা আবছা আমার স্মৃতিতে ভাসে।’



সাতদিনের সেরা