kalerkantho

বুধবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৮। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২১ সফর ১৪৪৩

লকডাউন এবং ভ্যাকসিন কার্যক্রম নিয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না বললেন

‘বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করোনা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে’

অনলাইন ডেস্ক   

৫ আগস্ট, ২০২১ ২০:২৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করোনা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে’

ফাইল ফটো

নাগরিক ঐক্যর আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, সোয়া কোটি টিকার মজুদ নিয়ে গণ টিকা কার্যক্রমের ঘোষণা দিয়ে সরকার আরেকবার দেশের জনগণের সাথে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। এই পরিমাণ মজুদ নিয়ে ১৮ ঊর্ধ্ব সবাইকে টিকা দেয়ার ঘোষণা জনগণের সাথে তামাশা ছাড়া আর কিছু নয়। আর বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন জনগণকে বিভ্রান্ত করছে এবং করোনা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে।  যে ভ্যাকসিনের সাথে দেশের ১৮ কোটি মানুষের জীবন মৃত্যুর প্রশ্ন, সেই ভ্যাকসিন নিয়ে ছলচাতুরী কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

আজ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, সরকার ৭ আগষ্ট থেকে গণটিকা কার্যক্রম শুরু করার ঘোষণা দিয়ে তা আবার প্রত্যাহার করেছে। তারা বলছে ১৪ তারিখ থেকে এই কার্যক্রম শুরু করবে। কিন্তু টিকার মজুদ আছে মাত্র সোয়া কোটি। যারা ইতিমধ্যে ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছেন কিন্তু দ্বিতীয় ডোজ পাননি, তাদেরকেও এই মজুদ থেকেই দ্বিতীয় ডোজ দিতে হবে। তারা ঘোষণা করেছিল ১০ আগষ্টের পর লকডাউন শিথিল হলে ১৮ ঊর্ধ্ব সকলকে টিকা নিয়ে ঘরের বাইরে বের হতে হবে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সোয়া কোটি টিকার মজুদ নিয়ে দেশের ১০ কোটিরও বেশি মানুষের উপর বর্তায় এমন অমূলক ঘোষণা সত্যিই হাস্যকর, জনগণের সাথে নিছক প্রতারণা এবং ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা। জনগণের টাক্সের টাকায় কেনা বিনামূল্যে প্রদানের টিকা সরকার দলীয় হুইপের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে চুরি করে বিক্রি করা হয়েছে। অথচ দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরকার কোন পদক্ষেপ নেয়নি।

তিনি বলেন, দেশে প্রায় ১ মাস ধরে লকডাউন চলছে। কিন্তু সংক্রমণ এবং মৃত্যু হার কমেনি, বরং বেড়েছে। আমরা আগেই বলেছিলাম, নিম্ন আয়ের মানুষের খাবারের ব্যবস্থা না করে এই লকডাউন কোনভাবেই কার্যকর করা সম্ভব হবে না। এই লকডাউনের মধ্যে সরকার চূড়ান্তরকম অব্যবস্থাপনা এবং সমন্বয়হীনতার পরিচয় দিয়েছে। কঠোর লকডাউনের মধ্যে হঠাৎ করে গণপরিবহন বন্ধ রেখে শিল্প কারখানা খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরপর আবার কয়েক ঘন্টার জন্য গণ পরিবহন খোলার ঘোষণা দিয়েছে। এই সব অব্যবস্থাপনার কারণে সংক্রমণ আরো ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। এই লকডাউনে সরকার দেশের নিম্ন আয়ের মানুষ এবং শ্রমিকদের প্রতি যে অমানবিক আচরণ করেছে তা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। লকডাউন কার্যকর না হওয়া এবং সংক্রমন বেড়ে যাওয়ার পেছনে সরকারের এই সমন্বয়হীনতা, সিদ্ধান্তহীনতা এবং অব্যবস্থাপনাই দায়ী।

উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ভ্যাকসিনের ব্যাপারে সরকারের পদক্ষেপে একথা নিঃসন্দেহে বলা যায় এই সরকার এই বছর দূরের কথা আগামী বছরের মধ্যেও দেশের মানুষের জন্য ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে পারবে না। জনগণের ভোট ডাকাতি করে নিয়ে গেছেন, জোর করে ক্ষমতায় গিয়ে যাচ্ছেতাই করছেন। কিন্তু জনগণের জীবন নিয়ে ছলচাতুরী করবেন না। সবাইকে সাথে নিয়ে এই সংকট মোকাবেলা করতে হবে। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী মজুদ সোয়া কোটি টিকার সাথে এই মাসের মধ্যে আরো ১ কোটি ডোজ টিকা আসবে। কিন্তু তারপর কবে, কোথা থেকে, কিভাবে টিকা আসবে, সেই ব্যাপারে সরকারের কিছুই জানায়নি। আমি দাবি করছি, অবিলম্বে ভ্যাকসিনের বিষয়ে চূড়ান্ত রোডম্যাপ ঘোষণা করেন। কবে, কিভাবে, কোথা থেকে টিকা আসবে, কিভাবে এবং কবে নাগাদ ১৩ কোটি মানুষকে তা দেয়া হবে, সেই ব্যাপারে বিস্তারিত জানান। আইইডিসিআর যেভাবে প্রতিদিন বুলেটিন আকারে করোনার সংক্রমণ এবং মৃত্যুর তথ্য প্রদান করে, সেভাবে প্রতিদিন টিকার আপডেট বুলেটিন আকারে প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে। সবাইকে অন্ধকারে রেখে ভ্যাকসিন কার্যক্রম তথা সার্বিক করোনা সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। আমি অনুরোধ করছি, জনগণের জীবনের প্রশ্নে প্রতারণার আশ্রয় নিবেন না।

সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, আমি জানি, এই সরকার করোনা মোকাবেলায় শুরু থেকেই আন্তরিক ছিল না, এখনো তারা আমাদের কথা শুনবে না। তাই জনগণের কাছে আহবান, আপনারা স্ব স্ব এলাকায় টিকা কমিটি গঠন করুন এবং নিজেদের এলাকার জনগণের টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার চেষ্টা করুন, সরকারি দায়িত্বশীলদের কাছে তথ্য চান, যাচাই করুন। কারণ এই করোনা সংকট মোকাবেলার একমাত্র পথ ভ্যাকসিন। ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে পারলেই কেবলমাত্র আমরা করোনা সংকটকে জয় করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব।



সাতদিনের সেরা