• ই-পেপার

দুপুরে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বিএনপি

এইচআরএসএসের প্রতিবেদন

জুন মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৯, আহত ৩৪৬

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুন মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৯, আহত ৩৪৬
ফাইল ছবি

চলতি বছরের জুন মাসে সারাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় দলীয় কোন্দল ও অন্তর্কোন্দলে ৯ জন নিহত এবং ৩৪৬ জনের অধিক বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ ও হামলা, দলীয় অন্তঃকোন্দল ও চাঁদাবাজি কেন্দ্রিক অধিকাংশ সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি-এইচআরএসএস’।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ১৬টি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং এইচআরএসএসের সংগৃহীত তথ্য ও ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্টের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের জুন মাসের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে ৫৮টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৯ জন এবং আহত হয়েছেন ৩৪৬ জন। জুন মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় হতাহতের সংখ্যা মে মাসের তুলনায় বেড়েছে। গত মে মাসে ‘রাজনৈতিক সহিংসতায়’ নিহত হয়েছেন ৫ জন এবং আহত হয়েছেন ২৮৯ জন।

রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় এ মাসে ৫৮টি ঘটনার মধ্যে বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ২১টি ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৪৬ জন ও নিহত ৩ জন। ৮টি বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত ২ জন ও আহত হয়েছেন ৩৬ জন, ১৪টি বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত ২ জন এবং আহত ১১৫ জন। ৫টি বিএনপি-এনসিপি মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ১৮ জন, ৫টি বিএনপি-অন্যান্য দলের মধ্যে সংঘর্ষে ৯ জন আহত হয়েছেন। বিভিন্ন দলের মধ্যে ৫টি ঘটনায় নিহত ২ জন ও আহত ২২ জন। নিহত ৯ জনের মধ্যে বিএনপির ৪ জন, আওয়ামী লীগের ২ জন, শিবিরের ১ জন, ইউপিডিএফের ১ জন ও ১ জন চরমপন্থী দলের সদস্য।

এর পাশাপাশি দুষ্কৃতকারীদের দ্বারা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অন্তত ১২টি ঘটনায় কমপক্ষে ২২ জন আহত এবং ৯ নিহত হয়েছেন। ৯ জনের মধ্যে আওয়ামী লীগের ৩ জন, বিএনপির ৫ জন ও চরমপন্থী দলের সদস্য ১ জন রয়েছেন। এ ছাড়া অন্তত ১৫ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়াও এ মাসে সারাদেশে আধিপত্য বিস্তার, দখলদারিত্ব, রাজনৈতিক সহিংসতা ও চাঁদাবাজি কেন্দ্রীক ১৫টি ঘটনায় অন্তত ৪৫টি বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠা, দলীয় কার্যালয়ে সংঘর্ষ, হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

রাজনৈতিক মামলার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এ মাসে বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নামে ২২টির অধিক মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৬২৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরো প্রায় ১ হাজার ২৬২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। 

এ ছাড়া, একই মাসে রাজনৈতিক ও অন্যান্য মিলিয়ে মোট ২৫৭টি ঘটনায় অন্তত ৪ হাজার ৭৭৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অন্তত ১ হাজার ৫৫৯ জন নেতাকর্মী, বিএনপির ৩৫ জন, জামায়াতে ইসলামীর ২ জন রয়েছেন।

মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এ মাসে গণপিটুনি ও মব সহিংসতায় সারাদেশ চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বাক-বিতন্ডা, আধিপত্য বিস্তার, ধর্মীয় অবমাননাসহ নানা অভিযোগে ৬৩টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৩১ জন এবং আহত হয়েছেন ৬৯ জন।

এ ছাড়া এ মাসে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন, অভিযানে, আসামি ছিনতাই ও স্থানীয় জনগণের মব সহিংসতায় সারাদেশে অন্তত ২৯টি ঘটনায় ৬৬ জন আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য আহত ও হামলার শিকার হয়েছেন। 

জুন মাসে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনার তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, জুন মাসে ৩৯টি ঘটনায় ৪৭ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এ সকল ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্ততপক্ষে ২৮ জন, লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন ৫ জন, হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন ৯ জন সাংবাদিক। ৫ জন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া ৭টি মামলায় ১২ জন সাংবাদিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

সভা সমাবেশ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, এ মাসে ৬টি সভা ও সমাবেশ আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সরাসরি বা পরোক্ষভাবে বাধা প্রদান করে, এতে ১৭ জন আহত ও ৩৬ জনকে আটক করা হয়েছে।

এ ছাড়া এ মাসে মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ মাসে অন্তত ১১টি ঘটনায় ১১ জনকে আটক ও ৭টি মামলা দায়ের হয়েছে। এসব মামলায় অন্তত ১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান ও ক্ষমতাসীন দল বিএনপির অন্যান্য নেতাকর্মীদের সমালোচনায় ৬ জন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও কটূক্তির অভিযোগে ৫ জন এবং অন্যান্য ইস্যুতে ১ জনকে আটক করা হয়েছে।

অন্যদিকে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫-এর বিভিন্ন ধারার অধীনে পৃথক ৪টি মামলায় ৯ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া এসব ঘটনায় ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।

বিচার বহির্ভূত হত্যা, থানা ও কারাগারে মৃত্যুর বিষয়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, জুন মাসে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে, হেফাজতে ও নির্যাতনে কমপক্ষে ৩ জন নিহত হয়েছে। যাদের মধ্যে ২ জন কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে ও ১ জন ডিবি হেফাজতে নির্যাতনে নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর ধাওয়া খেয়ে গ্রেপ্তার এড়াতে পালাতে গিয়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এ ছাড়া, এ মাসে সারাদেশে কারাগারে কমপক্ষে ৭ জন আসামি মারা গিয়েছেন। এর মধ্যে ৪ জন জন কয়েদি ও ৩ জন হাজতি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের একজন, বিএনপির একজন ও ৫ জন জন্য সাধারণ কয়েদি মারা গেছেন।

সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনার উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ মাসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর ১২টি হামলার ঘটনায় ৭ জন আহত হয়েছে। এ ছাড়া ১২টি মন্দির, ১১টি প্রতিমা ও ৭টি বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এক নারী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।

সীমান্তে হতাহত ও আটকের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে এইচআরএসএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, জুন মাসে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ৫টি হামলার ঘটনায় ২ জন নিহত ও ২ জন আহত হয়েছে। ৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং বিএসএফ কর্তৃক ১ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া, ৭ জনকে পুশইন করা হয়েছে এবং ৪ শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশুকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছে।

অপরদিকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণের পৃথক ৩টি ঘটনায় একজন রোহিঙ্গা যুবকসহ ৩ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া ৩টি ঘটনায় ১২ জনকে আটক করেছেন আরাকান আর্মি।

শ্রমিক নির্যাতনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুন মাসে ৫৫টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১১ জন এবং আহত হয়েছেন ১৮৪ জন। এ ছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং শ্রমিকদের সুরক্ষামূলক সরঞ্জামের অভাবে দুর্ঘটনায় ৩৯ জন শ্রমিক তাদের কর্মক্ষেত্রে মারা গেছেন। এ ছাড়া বেতন ভাতার দাবিতে আন্দোলনের সময়ে ২৬ জন গার্মেন্টস শ্রমিককে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া এ মাসে দুইজন গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে এবং একজন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

এ মাসে ৩৫২ জন নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, জুনে মাসে ১০৬ জন নারী, শিশু ও কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৭৫ (৭১%) জন ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোরী। ১৯ জন নারী ও কন্যা শিশু সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং ধর্ষণেরর পর ২ জন কন্যা শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে ৯৪ জন নারী ও কন্যা শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তন্মধ্যে শিশু ৪৯ জন। যৌতুকের জন্য নির্যাতনের ঘটনায় নিহত ৪, আহত ৪, এবং আত্মহত্যা করেছেন ২ জন নারী। পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন ৫৭ জন, আহত হয়েছেন ৪৮ জন এবং আত্মহত্যা করেছেন ৩৬ জন নারী। এ ছাড়া, অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনায় আহত হয়েছেন ১ জন নারী।

অন্যদিকে, এটি উদ্‌বেগজনক যে, এ মাসে ২৯১ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন যাদের মধ্যে ৫৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ২৩৭ জন শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

সার্বিক বিষয়ে এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, এ মাসে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি একটি সংবেদনশীল ও পরিবর্তনশীল পর্যায় অতিক্রম করেছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা, জাতীয় সংসদকে ঘিরে বিতর্ক এবং জননিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্‌বেগের প্রেক্ষাপটে সার্বিক পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্‌বেগজনক রূপ ধারণ করেছে।

তিনি আরো বলেন, মাসজুড়ে রাজনৈতিক সহিংসতা, গণপিটুনি ও মব সহিংসতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সাংবাদিক নির্যাতন, নারী ও শিশু নির্যাতন, সীমান্তে সহিংসতা, শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনার ধারাবাহিকতা রয়েছে। তবে এ মাসে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মতামত প্রকাশকে কেন্দ্র করে গ্রেফতার, হয়রানি ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এসব বিষয় সমাধান করা না হলে মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।

এসময় সরকারের প্রতি মানবাধিকার রক্ষায় আরো জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সকল নাগরিক, গণমাধ্যমকর্মী, নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতি এইচআরএসএসের পক্ষ থেকে অধিক সোচ্চার ও সক্রিয় ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান তিনি।

নৌবহরে যুক্ত হলো জাপানের ৫ পেট্রল বোট

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
নৌবহরে যুক্ত হলো জাপানের ৫ পেট্রল বোট

দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার, উপকূলীয় এলাকায় টহল ও নজরদারি, মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সমুদ্রসম্পদ ও সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জাপানের ‘অফিসিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স (ওএসএ)’-এর আওতায় প্রাপ্ত ৫টি পেট্রল বোট জাপান সরকারের প্রতিনিধি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেন।

এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় উপমন্ত্রী শিমাদা তোমোয়াকি।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে জাপানের প্রতিনিধিদল ও নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জাপানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পারস্পরিক আস্থা, বন্ধুত্ব ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে ৫টি উচ্চগতিসম্পন্ন পেট্রল বোট সংগ্রহের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও জাপান সরকারের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

নোট বিনিময়ের মাধ্যমে ২০২৩ সালের নভেম্বরে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয় এবং প্রকল্পের কাজ শেষে গত ৬ ফেব্রুয়ারি বোটগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছায়। জাপানি বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে ‘বানৌজা নির্ভীক’-এ বোটগুলোর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে নৌবাহিনীর সদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রতিটি বোট ১৬.১৫ মিটার দীর্ঘ, ৩.৫৩ মিটার প্রস্থ ও ১.৭৮ মিটার গভীরতাসম্পন্ন এবং এগুলোর ধারণক্ষমতা ১৩.৫ টন।

পেট্রল বোটগুলো সর্বোচ্চ ৩২ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলাচল করতে সক্ষম। এগুলো কম গভীরতাসম্পন্ন জলপথে চলাচলের উপযোগী এবং উচ্চগতিসম্পন্ন হওয়ায় দেশের নদী, মোহনা ও উপকূলীয় অঞ্চলের সংকীর্ণ ও দুর্গম নৌপথে অধিক দক্ষতা ও কার্যকারিতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করতে পারবে। দেশের সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার, টহল অভিযান, নজরদারি, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া প্রদানে এসব বোট কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, ওএসএ কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্প বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ় করার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্রকে সম্প্রসারিত করবে।

বিমানের হজ কার্যক্রম শেষ : ফ্লাইট বাতিল ছাড়াই ফিরলেন ৩৪৪৬৪ যাত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিমানের হজ কার্যক্রম শেষ : ফ্লাইট বাতিল ছাড়াই ফিরলেন ৩৪৪৬৪ যাত্রী

কোনো ধরনের ফ্লাইট বাতিল বা বড় বড় শিডিউল বিপর্যয় ছাড়াই ২০২৬ সালের পবিত্র হজ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলামের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের নির্দেশনা এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা ও প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাতের নিয়মিত তদারকির কারণে এবার হজযাত্রীদের সেবার মান ছিল অত্যন্ত উন্নত। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে হজযাত্রীদের মাঝে বিশেষ হজ কেয়ার প্যাক বিতরণ করা হয়।

বিমান জানায়, গত ১৮ এপ্রিল থেকে ২১ মে পর্যন্ত পরিচালিত ৯৮টি প্রি-হজ ফ্লাইটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৩৮৬৮০ জন হজযাত্রীকে নিরাপদে সৌদি আরবে পৌঁছে দেয়। একই সঙ্গে ঢাকা বিমানবন্দরে সৌদিয়া ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের হজযাত্রীসহ মোট ৭৬১৯৭ জন যাত্রীর গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও অন্যান্য সেবা সম্পন্ন করা হয়।

অন্যদিকে, ৩০ মে থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত পরিচালিত পোস্ট-হজ কার্যক্রমে ১০৪টি ডেডিকেটেড ফ্লাইট এবং ১২টি নিয়মিত ফ্লাইটের মাধ্যমে সর্বমোট ৩৪৪৬৪ জন হজযাত্রীকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। দেশে ফেরার পর তাদের ফুল ও পবিত্র জমজমের পানি দিয়ে স্বাগত জানানো হয়।

এবারের হজে মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভ, ‘লাব্বাইক’ ডিজিটাল অ্যাপ, স্মার্ট লাগেজ ট্র্যাকিং, হজ প্রিপেইড কার্ড এবং ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসাসেবার মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে যাত্রা ছিল অনেক সহজ ও নিরাপদ। পুরো মৌসুমে কোনো ফ্লাইট বাতিল না হওয়ায় দীর্ঘ ফ্লাইট বিলম্ব বা মালপত্র জটের মতো পরিচিত সমস্যাগুলো এবার দেখা যায়নি।

বিমানের এই সফলতার পেছনে প্রতিষ্ঠানটির এক হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিষ্ঠা ও সমন্বয় কাজ করেছে উল্লেখ করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, সিভিল এভিয়েশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সব অংশীজনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

জুনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ

জুন মাসে গ্রাহকদের অতিরিক্ত বিল পাওয়ার অভিযোগ এবং লোডশেডিং পরিস্থিতি নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভার্চুয়াল মতবিনিময় ও পর্যালোচনা সভা হয়েছে। সভায় অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত ও নিষ্পত্তির পাশাপাশি গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখের সভাপতিত্বে জুম প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত সভায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভাগীয় কমিশনার, দেশের বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ও কম্পানিগুলোর কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সভায় জুন মাসে গ্রাহকদের অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল পাওয়ার অভিযোগের কারণ জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি লোডশেডিং বিষয়ে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং সোলার সিস্টেমে নেট মিটার স্থাপনের সর্বশেষ অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

সভায় জানানো হয়, জুন মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক গ্রাহক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল পাওয়ার অভিযোগ করেছেন, যা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও উঠে এসেছে। এ বিষয়ে বিতরণ কম্পানিগুলোর প্রধানদের বক্তব্যও শোনা হয়।

বিদ্যুৎ সচিব জেলা প্রশাসকদের কাছে এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা উল্লেখযোগ্য কোনো অভিযোগ পাননি বলে জানান। তবে সচিব বলেন, গ্রাহকদের বিলসংক্রান্ত সব অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিতরণ সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। করণিক ভুলের কারণে বিল বেশি হয়ে থাকলে তা দ্রুত সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অসাধু উপায়ে অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

গ্রাহকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থার সঙ্গে সরাসরি অথবা হটলাইনে যোগাযোগের আহ্বান জানিয়েছে। কেন্দ্রীয় সেবার হটলাইন ১৬৯৯৯। এছাড়া বিপিডিবি ১৬২০০, পল্লী বিদ্যুৎ ১৬৮৯৯, বিপিডিসি ১৬১১৬, ডেসকো ১৬১২০, নেসকো ১৬৬০৩ এবং ওজোপাডিকোর হটলাইন ১৬১১৭ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।

সভায় অভিযোগগুলো দ্রুত তদন্ত করে সমাধান এবং গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া জেলা পর্যায়ে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে জেলা প্রশাসকরা প্রস্তুত রয়েছেন এবং জনদুর্ভোগ কমাতে আন্তরিকভাবে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন।

দুপুরে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বিএনপি | কালের কণ্ঠ