• ই-পেপার

ট্রাম্পকে দেওয়া ‘শান্তি পুরস্কার’ নিয়ে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি

কেন হোটেলের ঠিকানা গোপন রেখে ‘ঘুমপাড়ানি মেশিন’ লাগাচ্ছে ইংল্যান্ড

ক্রীড়া ডেস্ক
কেন হোটেলের ঠিকানা গোপন রেখে ‘ঘুমপাড়ানি মেশিন’ লাগাচ্ছে ইংল্যান্ড
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ মহারণ। প্রতিপক্ষ স্বাগতিক মেক্সিকো। মাঠের লড়াইয়ে নামার আগেই মাঠের বাইরের নানা সমীকরণ আর মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ ভাবিয়ে তুলছে ইংল্যান্ড শিবিরকে। স্বাগতিক মেক্সিকান সমর্থকদের সম্ভাব্য ‘শব্দসন্ত্রাস’ রুখে দিয়ে হ্যারি কেইনদের শতভাগ চনমনে রাখতে এবার নজিরবিহীন বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে থ্রি-লায়নরা।

মেক্সিকোর অতিউত্সাহী সমর্থকদের বিরক্ত করার রেকর্ডটা বেশ পুরোনো। শেষ বত্রিশের ম্যাচে মেক্সিকোর মুখোমুখি হওয়ার আগে চরম তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছিল ইকুয়েডরের। তাদের অভিযোগ ছিল, গভীর রাতে হোটেলের বাইরে জড়ো হয়ে লাউডস্পিকার, হর্ন আর মোটরসাইকেলের বিকট শব্দে ফুটবলারদের ঘুম হারাম করে দিয়েছিল স্থানীয় সমর্থকেরা। জল ঘোলা হয়েছিল ফিফার সদরদপ্তর পর্যন্ত। সেই একই ফাঁদে পা দিতে নারাজ ইংল্যান্ড। ফুটবলারদের পর্যাপ্ত ঘুম আর বিশ্রাম নিশ্চিত করতে রীতিমতো গোপন মিশন বেছে নিয়েছে তারা; গোপন রাখা হয়েছে দলের হোটেলের অবস্থান!

অবশ্য সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে হোটেল লোকেশন কতক্ষণ গোপন থাকবে, তা নিয়ে খোদ ইংলিশদের মনেই ধন্দ আছে। তাই কোনো ঝুঁকি না নিয়ে আগেভাগেই বিশেষ বন্দোবস্ত করে রেখেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। যেসব ফুটবলার বা স্টাফ সঙ্গে শব্দরোধক (ইয়ারপ্লাগ) বা ঘুমের সরঞ্জাম আনেননি, তাদের জন্য প্রাকৃতিক ঘুমের উপকরণ এবং বিশেষ সাউন্ড-মাস্কিং যন্ত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এদিকে ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নকআউট পর্বের ম্যাচের আগের দিন স্বাগতিক শহরে আংশিক উন্মুক্ত অনুশীলন করতে হবে। এই বাধ্যবাধকতার কারণে ম্যাচের আগের রাতে নয়, বরং দুই দিন আগেই মেক্সিকো সিটিতে আস্তানা গেড়েছে ইংল্যান্ড।

তবে শুধু সমর্থকদের কোলাহলই নয়, ইংলিশদের আসল পরীক্ষা নেবে মেক্সিকো সিটির ভৌগোলিক অবস্থান। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ২৪০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত এই শহরের পাতলা বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা বেশ কম, যা সমতল থেকে আসা ফুটবলারদের দম ফুরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। বিপরীতে, চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের চারটি ম্যাচই এমন উচ্চভূমিতে খেলেছে মেক্সিকো। এর মধ্যে তিনটি মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে এবং একটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ হাজার ৫৬৬ মিটার উঁচুতে অবস্থিত গুয়াদালাহারায়।

সাধারণত এমন প্রতিকূল আবহাওয়ার সঙ্গে শরীর মানিয়ে নিতে (অ্যাক্লিম্যাটাইজেশন) যেকোনো অ্যাথলেটের অন্তত এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগে। কিন্তু ইংল্যান্ডের হাতে সেই বিলাসের সুযোগ নেই। দলের হেড কোচ টমাস টুখেলও বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে অকপটে বললেন, ‘উচ্চতা আমাদের জন্য বড় একটা অসুবিধা হতে যাচ্ছে। এত অল্প সময়ে, বিশেষ করে মাত্র চার দিনে এর সঙ্গে শারীরিকভাবে মানিয়ে নেওয়া অসম্ভব। এই সুবিধাটা মেক্সিকো আগে থেকেই পাবে এবং আমরা তা জানতাম। আমাদের এখন শুধু পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, আমার দল সেই মানসিকতা নিয়েই প্রস্তুত।’ 

আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচের আগমুহূর্তে সতর্কতা জারি

ক্রীড়া ডেস্ক
আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচের আগমুহূর্তে সতর্কতা জারি

বিশ্বকাপের মহারণ। মুখোমুখি আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দে। মাঠের উত্তাপ যখন ফুটবলপ্রেমীদের ছুঁয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই বাগড়া দিল প্রকৃতি। রাউন্ড অব থার্টি-টুর এই ম্যাচটি মাঠে গড়ানোর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে মায়ামি শহরে জারি করা হয়েছে ঝড়ের সতর্কতা।

সব ঠিক থাকলে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় (বাংলাদেশ সময় আজ রাত ৪টা) রেফারি শুরুর বাঁশি বাজাবেন। কিন্তু ফুটবলারদের পায়ের জাদুর আগেই মায়ামির আকাশে শুরু হয়েছে মেঘ-রোদের কানামাছি খেলা। আজ সকাল থেকেই শহরটির আকাশ ছিল মেঘলা, মাঝেমধ্যে ধূসর মেঘের চোখ রাঙানিও মিলেছে। আবহাওয়া অফিস বলছে, বিকেলে আর্দ্রতা বাড়ার পাশাপাশি সাময়িক ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তবে আসল ভয়ের কারণ বৃষ্টি বা ঝড় নয়, আয়োজকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে মূলত ‘বজ্রপাত’।

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ‘টিওয়াইসি স্পোর্টস’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বর্তমান গুমোট পরিস্থিতির কারণে ম্যাচের আগের সময়টায় আবহাওয়ার ওপর কড়া নজর রাখছে কর্তৃপক্ষ। কারণ, মার্কিন প্রশাসনের প্রোটোকল বেশ কড়া। স্টেডিয়ামের ১৩ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে যদি একবারও বিজলি চমকায় বা বজ্রপাত শনাক্ত হয়, তবে সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচ অন্তত ৩০ মিনিটের জন্য স্থগিত করতে হবে। মাঠ থেকে ফুটবলারদের সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি গ্যালারির দর্শকদেরও পাঠানো হবে নিরাপদ আশ্রয়ে।

বিপত্তি এখানেই শেষ নয়। ওই ৩০ মিনিটের ভেতর যদি দ্বিতীয়বার বজ্রপাত হয়, তবে সময় গণনা (ক্লক) আবার একদম শূন্য থেকে শুরু হবে! অর্থাৎ, ম্যাচ ঠিক কতক্ষণ বন্ধ থাকবে, তা বলা পুরোপুরি অসম্ভব। সবকিছুই তখন সুতোয় ঝুলবে প্রকৃতির ইশারায়। অবশ্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর খেলা যদি আবার শুরুও হয়, তবে ফুটবলাররা মাঠে নামার আগে নিজেদের গা গরম করার জন্য মাত্র ৫ মিনিট সময় পাবেন।

প্রথমার্ধে এগিয়ে থেকে ইতিহাস গড়ার পথে মিসর

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রথমার্ধে এগিয়ে থেকে ইতিহাস গড়ার পথে মিসর
ছবি : রয়টার্স

ম্যাচের বয়স তখন কেবল ১৩ মিনিট। ফ্রি-কিকের বাঁশি বাজতেই নড়েচড়ে বসল মিসর। সবাই যখন আশা করছিলেন মোহাম্মদ সালাহর চেনা বাঁকানো শট, ঠিক তখনই দেখা গেল দারুণ এক ‘ট্যাকটিক্যাল মাস্টারক্লাস’। অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণভাগকে পুরোপুরি বোকা বানিয়ে সালাহ সরাসরি শট না নিয়ে আলতো করে পাস বাড়ালেন বক্সে ওত পেতে থাকা ইমান আশুরের দিকে।

সেখান থেকে আশুরের নেওয়া প্রথম জোরালো শটটি অবশ্য সকারুজ ডিফেন্ডারদের দেওয়ালে লেগে ফিরে আসে। তবে তাতেও শেষরক্ষা হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। বলটি ডি-বক্স থেকে বিপদমুক্ত করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয় তাদের রক্ষণভাগ। উল্টো ফিরতি বলটি যখন বাতাসে ভেসে আবার বক্সের ভেতর ড্রপ খাচ্ছিল, ঠিক তখনই ব্যাক-পোস্টে বাজপাখির মতো ছোঁ মারেন আশুর। নিখুঁত ও চমৎকার এক হেডে বলকে জড়িয়ে দেন জালে।

এই এক গোলের ব্যাবধান নিয়েই বিরতিতে গেছে মিশর। এই ম্যাচ দিয়ে ৯২ বছর পর নকআউটের ম্যাচে খেলছে তারা। ১৯৩৪ সালের সে নকআউট ম্যাচে হাঙ্গেরির কাছে ৪-২ গোলে হেরে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিয়েছিল তারা। এবার মিশরের সামনে প্রথম নকআউট জয়ের ইতিহাসের হাতছানি। সালাহদের অপেক্ষা আর ৪৫ মিনিটের।

৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ‘খেলা অসম্ভব’, ফ্রান্স-প্যারাগুয়ে ম্যাচ স্থগিতের দাবি

ক্রীড়া ডেস্ক
৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ‘খেলা অসম্ভব’, ফ্রান্স-প্যারাগুয়ে ম্যাচ স্থগিতের দাবি

গুগল ওয়েদারে দেখানো হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় এই মুহূর্তে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস; কিন্তু অনভূত হচ্ছে ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো। এই পরিস্থিতিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। 

তীব্র দাবদাহের মধ্যেই আগামীকাল স্থানীয় সময় বিকেলে (বাংলাদেশ সময় রবিবার রাত ৩টা) মুখোমুখি হওয়ার কথা ফ্রান্স-প্যারাগুয়ের। তবে আবহাওয়া নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ দেখা দেওয়ায় বিশ্বকাপের শেষ ষোলো পর্বের ম্যাচটি স্থগিত করার দাবি উঠেছে। 

ফুটবলারদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ফিফপ্রো এবং ক্রীড়া বিজ্ঞানীদের পক্ষ থেকে ম্যাচের সময়সূচি বদলানোর জন্য ফিফাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, ম্যাচ চলাকালে তাপমাত্রা ৩৭ থেকে ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ম্যাচটি হওয়ার কথা ফিলাডেলফিয়ার লিংকন ফিন্যান্সিয়াল ফিল্ডে, যেটি একটি ছাদবিহীন স্টেডিয়াম। তাই সরাসরি রোদ ও উচ্চ আর্দ্রতা খেলোয়াড়, কোচ, রেফারি এবং দর্শকদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় ধরে দৌড়ঝাঁপ করলে হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা, এমনকি প্রাণহানির ঝুঁকি বেড়ে যায়। এছাড়া অতিরিক্ত গরমের কারণে খেলোয়াড়দের স্বাভাবিক খেলায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে, যা ম্যাচের ফলেও প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমান নির্দেশিকা অনুযায়ী, ওয়েট-বাল্ব তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করলে ম্যাচ স্থগিত করার সুযোগ রয়েছে। আগামীকালের ম্যাচে সেই সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় ফিফার ওপর চাপ বাড়ছে।

তবে ফিফা জানিয়েছে, দর্শক ও সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তায় তারা বিভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছে। স্টেডিয়ামের বাইরে কুলিং টেন্ট, পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা এবং ম্যাচ চলাকালে বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন ব্রেক রাখা হবে। যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ব্যবস্থা তীব্র গরমের কবল থেকে সবাইকে সুরক্ষা দিতে যথেষ্ট নয়।

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ এরই মধ্যে বিশ্বকাপের ফ্যান ফেস্টিভ্যালের সময়সূচিতেও পরিবর্তন আনতে বাধ্য করেছে। আবহাওয়ার এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আরো কয়েকটি ম্যাচ একই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে আশঙ্কা করা হচ্ছে।