kalerkantho

শুক্রবার । ১১ আষাঢ় ১৪২৮। ২৫ জুন ২০২১। ১৩ জিলকদ ১৪৪২

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে বিডিসিএসও প্রসেসের আলোচনা

বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে স্থানীয় এনজিও-সিএসওর স্বীকৃতি দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ মার্চ, ২০২১ ১৮:১৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে স্থানীয় এনজিও-সিএসওর স্বীকৃতি দাবি

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে সাতশো স্থানীয় এনজিও-সিএসওর প্লাটফরম বিডিসিএসও প্রসেস আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে স্থানীয় এনজিও-সিএসওদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সেই ভূমিকার স্বীকৃতি প্রয়োজন। বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের স্বার্থে সেই স্বীকৃতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

আজ বৃহস্পতিবার ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর ও অর্জন : নাগরিক সমাজের ভুমিকা’ শীর্ষক এই অনলাইন আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন কোস্ট ট্রাস্টের রেজাউল করিম চৌধুরী। আলোচনায় অংশ নেন বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আলম (দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থা), ফয়জুল্লাহ চৌধুরী (বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রচেষ্টা), রফিকুল ইসলাম খোকন (রূপান্তর), আরিফুর রহমান (ইপসা), শিউলি শর্মা (জাগো নারী), আনোয়ার জাহিদ (আইসিডিএ), মো. বেল্লাল হোসেন (প্রত্যাশা), শেখ আসাদ (উদয়ন), রওশন আরা বেগম (সারা), খন্দকার ফারুখ আহামেদ (তৃণমূল সংস্থা) প্রমূখ।

আলোচনায় রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিকদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির চেতনা ধারণ করে, সরকারের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এনজিও খাত। আন্তর্জাতিক নানা পরিস্থিতির  বাস্তবতায়  এনজিও- সিএসওকে নানাবিধ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। তাই উন্নয়ন কর্মসূচির স্থানীয়করণ প্রয়োজন। স্থানীয়করণ দেশিরা এসে আমাদের হাতে তুলে দিবে না। এর জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার পর উপকূলীয় এলাকায় এসে বঙ্গবন্ধু আমাদের স্থানীয় সংগঠন করার তাগিদ দেন। হাতিয়ার মতো দ্বীপে এনজিও পরিচালনার অনুপ্রেরণা বঙ্গবন্ধুর সেই নির্দেশনা। তখন সদ্য স্বাধীন দেশে আমরা ত্রাণ ও পুনর্বাসনে কাজ করেছি, পরবর্তীতে শিক্ষা-স্বাস্থ্য সেবায় সরকারের পাশপাশি কাজ করেছি। এখনো উন্নয়নের ফসল তৃণমূলে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি।

ফয়জুল্লাহ চৌধুরী বলেন, তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে দেশ আজ উন্নয়নের মডেলে পরিণত হয়েছে। কিন্ত এখনো সমাজে উন্নযনের অনেক বাধা আছে। সেই বাধা দূর করতে আর্থিক উন্নয়নের পাশাপাশি প্রয়োজন মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ, সুশাসন, গণতান্ত্রিক চর্চা।

রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, দেশের সকল সংকটেই এনজিওরা সরকারের পরিপূরক হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ায়। করোনা মহামারী প্রতিরোধেও স্থানীয় এনজিও এবং সংগঠন ঝাপিয়ে পড়েছে। তবে স্থানীয় সংগঠনগুলোর ত্যাগ-তিতীক্ষার স্বীকৃতি নেই বলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

শিউলী শর্মা বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরেও দেশের নারী সমাজ প্রকৃত স্বাধীন ও নিরাপদ নয়। নারীর জন্য স্বাধীন ও নিরাপদ পরিস্থিতি ছাড়া সত্যিকার স্বাধীনতার সুফল পাওয়া সম্ভব নয়।

আরিফুর রহমান বলেন, দেশের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনায় এনজিও-সিএসওগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে, নীতি পর্যায়েও রয়েছে এনজিও-সিএসওদের অবদান। কিন্ত সেইসব অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি আজও অধরা।



সাতদিনের সেরা