• ই-পেপার

আমি ন্যায় বিচার পাইনি : রায়ের পর সাহেদ

কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে দেশে ফিরেছেন ১০৯ জন

অনলাইন ডেস্ক
কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে দেশে ফিরেছেন ১০৯ জন

কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার হওয়া আরও ১০৯ জন দেশে ফিরেছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাতে তারা দেশে ফেরেন। এ নিয়ে জুন মাসে সেখান থেকে ফিরলেন ৫৮৩ বাংলাদেশি।  

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত ১টা ২৫ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের টি‌জি-৩৩৯ ফ্লাইটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারা। এর মাধ্যমে গত চার দিনে দেশে ফিরেছেন ৩৬২ জন। শুধু জুন মাসেই কম্বোডিয়া থেকে ফিরেছেন মোট ৫৮৩ জন বাংলাদেশি।

দেশে ফিরে আসা প্রত্যেককে বিমানবন্দরে সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি, প্রবাসীকল্যাণ ডেস্ক এবং ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের যৌথ উদ্যোগে জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

লক্ষ্মীপুর জেলার এক ভুক্তভোগী জানান, একটি রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালাল চক্র তাকে কম্বোডিয়ায় একটি প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরির প্রতিশ্রুতি দেয়। এ জন্য তার কাছ থেকে ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয় এবং বিএমইটির ছাড়পত্রও সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু কম্বোডিয়ায় পৌঁছে তিনি মাত্র এক মাসের ভিজিট ভিসা পান। বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রহণ করে বাংলাদেশি দালালরা। পরে তাকে আর কোনো বৈধ কাজের ভিসা দেওয়া হয়নি, বরং টাকার বিনিময়ে তাকে সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

আরেক ভুক্তভোগী জানান, তাদের দিয়ে বিদেশি নাগরিকদের লক্ষ্য করে অনলাইনে প্রতারণা করতে বাধ্য করা হতো। নির্ধারিত টার্গেট পূরণ করতে না পারলে মারধর, শারীরিক নির্যাতন এবং বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হতো। স্ক্যাম কম্পাউন্ডের ভেতরেই ছিল নির্যাতনের জন্য আলাদা টর্চার সেল। সম্প্রতি কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান পরিচালনা করলে স্ক্যাম চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যায় এবং সেখান থেকে তারা মুক্তি পান।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলছি সাইবার স্ক্যাম এখন মানবপাচারে ভয়াবহ এক রূপ। উন্নত দেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের বিদেশে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হয়।

তিনি বলেন, ‘কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানের ফলে কয়েকটি স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে এসব বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। জুন মাসে ৫৮৩ জনের দেশে ফেরা প্রমাণ করে, বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি এই মানবপাচার চক্রের শিকার হয়েছেন। এরই মধ্যে ফিরে আসা বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী মামলা করেছেন।

পুরো ঘটনার সঙ্গে জড়িত দালাল, রিক্রুটিং এজেন্সি এবং আন্তর্জাতিক পাচারচক্রকে শনাক্ত করে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে ১৫ হাজার ৯২১ জন বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের উদ্দেশে কম্বোডিয়ায় গেছেন। তবে, দেশে ফেরা ভুক্তভোগীদের দাবি, সেখানে এখনও হাজার হাজার বাংলাদেশি প্রতারণার শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। 

তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, জুন মাসে দেশে ফিরে আসা ৫৮৩ জনের অনেকের কাছেই বিএমইটির ছাড়পত্র ছিল। এর আগে, চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি মায়ানমারের একটি সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে ৮ জন এবং ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আরো ১৮ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছিলেন। তাদেরও ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে থাইল্যান্ড সীমান্ত দিয়ে মায়ানমারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক সাইবার প্রতারণার কাজে নিয়োজিত করা হয়।

ব্র্যাক জানিয়েছে, কম্পিউটার অপারেটর, কল সেন্টার এক্সিকিউটিভ, কাস্টমার সার্ভিসসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় পদের চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে ভুয়া ওয়েবসাইট, ই-মেইল, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে নিয়োগের প্রলোভন দেখানো হয়। পরে চাকরিপ্রার্থীদের স্ক্যাম কম্পাউন্ডে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অনলাইন প্রতারণার কাজে বাধ্য করা হয়। 

এ কারণে থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, মায়ানমার, লাওস ও ভিয়েতনামে চাকরির উদ্দেশে যাওয়ার আগে চাকরির সত্যতা, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এবং ভিসার ধরন সম্পর্কে ভালোভাবে যাচাই করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্য নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে ব্র্যাক।

সীমান্ত পাহারার চেয়েও বর্তমানে সাইবার নিরাপত্তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ : তথ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
সীমান্ত পাহারার চেয়েও বর্তমানে সাইবার নিরাপত্তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ : তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ফাইল ছবি

কিলোমিটারের পর কিলোমিটার সীমান্ত পাহারা দেওয়ার থেকেও বর্তমানে সাইবার নিরাপত্তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

বুধবার (১ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজ ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে নিরাপত্তার ধারণা গুণগতভাবে পাল্টে গেছে। কিলোমিটারের পর কিলোমিটার সীমান্ত পাহারা দেওয়ার থেকেও এখন সাইবার নিরাপত্তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরো বলেন, প্রচলিত ধারণার মধ্য থেকে আনসার বাহিনীকে বের করে আনার চেষ্টা প্রশংসনীয়। প্রান্তিক কণ্ঠস্বরের আবির্ভাব গুজব প্রতিরোধসহ সঠিক তথ্য প্রবাহকে নিশ্চিত করবে। সবাইকে মনে রাখতে হবে তথ্য এখন আমাদের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি।

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের শঙ্কা

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও ভারি বর্ষণের শঙ্কা রয়েছে। 

বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাস থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

এতে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ উত্তর, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানায়, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। এ ছাড়া সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে ও রাতে সামান্য কমতে পারে।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত দেশের সবচেয়ে বৃষ্টি ঝরেছে কক্সবাজারে ৫৪ মিলিমিটার। এ সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

১২ লাখ টাকা বকেয়া

হোটেলে রাতভর ‘মৌজ মাস্তি’ করতেন এনসিপি নেতারা

অনলাইন ডেস্ক
হোটেলে রাতভর ‘মৌজ মাস্তি’ করতেন এনসিপি নেতারা

রাজধানীতে হোটেলকক্ষ ভাড়া নিয়ে আট মাস ধরে নানা ‘অশ্লীল-অনৈতিক কর্মকাণ্ড’ করার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। হোটেলের সেই দুটিরুমে রাতভর ‘মৌজ মাস্তিতে’ যোগ দিতেন দলটির আরো কয়েক ডজন নেতা। সেখানে দিন-রাত অবাধ আনাগোনা ছিল নারীদের। এমনকি হোটেল ভাড়া পরিশোধ না করেই চলে যান বলে অভিযোগ করেছে কর্তৃপক্ষ।

হোটেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এনসিপির ওই নেতারা হলেন, ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার, সাদেক মির্জা, মিরাসাত হোসেন হিমেল, শাখাওয়াত হোসেন ও তাওসীপ। এর মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সদস্যসচিব। বাকিরাও দক্ষিণের কমিটিতে বিভিন্ন পদপদবিতে রয়েছেন। শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে ৫ আগস্টের আগে ছাত্রলীগের সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তিনি ছিলেন স্থানীয় এমপির ঘনিষ্ঠজন। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে তিনি রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যুক্ত হন। পরে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিবের পদ লাভ করেন। শাহরিয়ারের বাবাও ছিলেন পতিত সরকারের যাত্রাবাড়ী এলাকার এমপি কাজী মনিরুল ইসলাম মনুর বিশেষ সহকারী। 

কালবেলার প্রতিবেদনে প্রকাশ হয়, এনসিপির পাঁচ নেতার কাছে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এলাকার আবাসিক হোটেল ইয়ামেনী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের প্রায় ১১ লাখ ৯৩ হাজার ২০০ টাকা হোটেল ভাড়া বকেয়া রয়েছে। ভাড়া নেওয়া রুমে নারীদের অবাধ যাতায়াত করতেও দেখা যায়। এ বিষয়ে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে হোটেল কর্তৃপক্ষ। হোটেলটির মহাব্যবস্থাপক খন্দকার রুহুল আমিনের স্বাক্ষরে এ অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এই পাঁচ নেতার নেতৃত্বে কয়েক ডজন নেতা সেখানে নিয়মিত রাত্রিযাপন করতেন। পাশাপাশি নারীদের আনাগোনাসহ নানা ধরনের অশ্লীল কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর এনসিপির কয়েকজন সমন্বয়ক আওয়ামী লীগ কার্যালয় সংস্কারের কাজের কথা জানিয়ে হোটেলটিতে অবস্থান নেন। পরে তারা ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় আট মাস হোটেলের ৭২৫ ও ৭২৭ নম্বর কক্ষ দুটি ব্যবহার করেন।

হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিটি কক্ষের দৈনিক ভাড়া ছিল ৩ হাজার টাকা। সে হিসাবে দুই কক্ষের মোট ভাড়া দাঁড়ায় ১১ লাখ ৯৩ হাজার ২০০ টাকা। বুকিংয়ের সময় তারা ১০ হাজার টাকা অগ্রিম পরিশোধ করলেও পরবর্তী সময়ে বাকি অর্থ পরিশোধ করেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দলীয় পরিচয়ের কারণে সরল বিশ্বাসে হোটেলে থাকার সুযোগ পান। কিন্তু পরে বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করেই হোটেল ত্যাগ করেন। পাওনা টাকা চাইলে হোটেল কর্তৃপক্ষকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, হোটেলে অবস্থানকালে কয়েকজনের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত সিসিটিভি ফুটেজ তাদের কাছে সংরক্ষিত আছে। হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দলীয় নেতৃত্বের সহযোগিতায় বকেয়া অর্থ আদায় সম্ভব না হলে তারা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরবে।

অভিযোগপত্রে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এনসিপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার, সাদেক মির্জা, মিরাসাত হোসেন হিমেল, শাখাওয়াত হোসেন ও তাওসীপ। এই পাঁচজনের নেতৃত্বে আরও কয়েক ডজন নেতা সেখানে নিয়মিত অবস্থান করতেন।

এ বিষয়ে হোটেল ইয়ামেনী ইন্টারন্যাশনালের হিসাব বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ কাজল বলেন, এনসিপির নেতারা হোটেলে দুটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে আট মাস ছিলেন। হোটেল বুকিংয়ের সময় ১০ হাজার টাকা দিলেও পরে আর কোনো ভাড়া দেননি। হোটেলে যারা ছিলেন তাদের কারো বাসা শনিরআখড়া, জুরাইন আবার কেউ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এখানে হোটেলে আসত, আড্ডা দিত রাতভর। তাদের সঙ্গেও লোকজন আসত। প্রায় তারা ‘নারীদের’ নিয়ে আসত। তাদের সঙ্গে যারা আসত তারাও ‘নারীদের’ নিয়ে আসত। আমরা বলেছি যে, নারী এলাওড না। তারা তখন বলেছে—আপনাদের কাজ আপনারা করেন, আমাদের কাজ আমাদের করতে দেন।

তিনি আরো বলেন, বকেয়া ভাড়ার বিষয়ে তাদের সঙ্গে আমরা কয়েকবার বসেছি। তারা আমাদের ম্যানেজমেন্টকে বলেছে টাকা আমরা দিয়ে দেব। কবে নাগাদ দেবেন তা বলেননি। প্রায়ই ভাড়া চাইতাম। তারা ঘুরাইত। নির্বাচনের পর দিন দেখি তারা আর নেই। পরে আমরা তালা ভেঙে রুম ক্লিন করে নতুন তালা দিয়ে রুম ভাড়া দিয়ে দিয়েছি। পাওনা টাকা আদায়ের জন্য আমরা এনসিপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব বরাবর অভিযোগ করেছি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার বলেন, ‘হোটেলের রুম ভাড়ার বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। নারী নিয়ে হোটেলে অবস্থানের প্রশ্নই আসে না। ওই ব্যক্তিটি আমি নই, তা যাচাই করার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলাম। শিক্ষার্থীদের মারধরের যে ভিডিওটির কথা বিভিন্ন সময়ে বলা হয় ওই ভিডিও পুরোনো, ২০২৩ সালের।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাদেক মির্জা বলেন, ‘ওই হোটেলে দুটি রুমে আমাদের কয়েকজন ছিল। তবে রুম ভাড়ার বিষয়ে আমি অবগত না। ওই সময়ে রাজনৈতিক কারণে বিভিন্ন আন্দোলনের সময় আমি দু-একবার দেখা করতে হোটেলে গিয়েছি। আন্দোলনের সময় রাত হয়ে যাওয়ায় রাতে অনেকে সেখানে থাকত। এর বাইরে আমার কিছু জানা নেই।’

এ বিষয়ে আরেক অভিযুক্ত এনসিপি নেতা শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘হোটেল ভাড়ার বিষয়টি আমি অবগত না। ওই রুমটি তো আমার নামে বুক হয়নি। যে পাঁচজনের কথা বলা হচ্ছে তার মধ্যে একজন ভাড়া নিয়েছে। তিনি হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমি তাদের সঙ্গে ওখানে গিয়েছিলাম এটা সত্যি। দুই রুমে কখনো পাঁচজন, সাতজন এমনকি দশজনও থেকেছি আমরা। সঠিক তথ্য জানতে হলে হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন।’

এনসিপির যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান সমন্বয়কারী মিরাসাত হোসেন হিমেল বলেন, ‘আমি ওই হোটেলে গিয়েছি এমনটি মনে পড়ে না। হোটেলের কে অভিযোগ করেছেন আমাকে একটু জানান।’

এ বিষেয়ে জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এই বিষয়ে অভিযোগ যেহেতু আসছে, সংগঠনের শৃঙ্খলা কমিটি আছে তারা বিষয়টি দেখতেছেন। শৃঙ্খলা কমিটি রিপোর্ট জমা দেওয়ার পরে সেই অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আমি ন্যায় বিচার পাইনি : রায়ের পর সাহেদ | কালের কণ্ঠ