kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৬ আশ্বিন ১৪২৭ । ১ অক্টোবর ২০২০। ১৩ সফর ১৪৪২

'আইয়ুব খান বেঁচে থাকলে বাংলাদেশের অবস্থা দেখে লজ্জা পেতো'

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ আগস্ট, ২০২০ ২১:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'আইয়ুব খান বেঁচে থাকলে বাংলাদেশের অবস্থা দেখে লজ্জা পেতো'

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, মেজর সিনহার হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পত্রপত্রিকায় যে রিপোর্টগুলো দেখলাম, তাতে এই অফিসার (সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ) অস্ত্র হাতে নিয়ে উদ্যত হয়েছেন তা দেখা যায়নি। তাহলে তাঁকে গুলি করার প্রয়োজন দেখা দিল কেন? পুলিশের নিয়মে আছে, প্রাথমিকভাবে গুলি করবে- আত্মরক্ষার্থে, হাঁটুর নিচে, যাতে সে আগাতে না পারে। বুকে গুলি করার অর্ডার তো পুলিশের থাকে না, নিয়মও নেই। রাষ্ট্রের প্রত্যেকটা স্তম্ভ দলীয়করণের মাধ্যমে এমন অবস্থায় নিয়ে গেছে, মানুষের নিঃশ্বাস ফেলার জায়গা অবশিষ্ট নাই।

আজ রবিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রয়াত সভাপতি শফিউল বারী বাবুর স্মরণে আয়োজিত আলোচনাসভায় গয়েশ্বর এ কথা বলেন।

গয়েশ্বর বলেন, আমরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে, আইয়ুবের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। আজকে আইয়ুব খান বেঁচে থাকলে বাংলাদেশের এই অবস্থা দেখে লজ্জা পেত। যে নীতি-নৈতিকতা, যে গণতন্ত্র, মূল্যবোধ-গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র দেখার জন্য একাত্তরে স্বাধীনতাযুদ্ধ হয়েছিল, আমরা যুদ্ধ করেছিলাম, সেই গণতন্ত্র এখনো পাইনি। একাত্তরের সেই যুদ্ধ এখনো শেষ হয়ে যায়নি।

তিনি বলেন, ওসি প্রদীপসহ তাঁর সঙ্গে আরো সাতজনকে কেন ধরলেন? প্রাথমিকভাবে সন্দেহ পোষণ হয়েছে, এটা হত্যাকাণ্ড, ইট ওয়াজ নট এক্সিডেন্টাল। তারা আত্মসমর্পণে গেল কেন? তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। আদালত অভিযোগ গ্রহণ করেছে, সে জন্য তারা আত্মসমর্পণ করেছে। তারা (পুলিশ) হত্যা মামলার আসামি যদি হয়, আদালত যদি বিশ্বাস করে তারা দায়ী। তাহলে তাদের (পুলিশের) দায়ের করা আসামিরা কেন জেলখানায় থাকবে? সেই মামলা কেন প্রত্যাহার হবে না। এটা সোজা হিসাব, এটা কঠিন হিসাব না।

গয়েশ্বর বলেন, সিনহা হত্যাকাণ্ড বিচ্ছিন্ন ঘটনা যদি হয়, তাহলে আমার দেশের সরকারপ্রধানের কাছে জানতে চাই, দুটি বাহিনী প্রধান বিচ্ছিন্ন ঘটনার জন্য সময় নষ্ট করলেন কেন? আমরা এইটুকু বিশ্বাস করি, তাদের সর্বোচ্চ যোগ্যতা আছে বলেই তারা সেখানে আছেন। একজন প্রধানের তো ওখানে যাওয়ার দরকার হয় না, পুলিশপ্রধান ঢাকায় বইসা অর্ডার দিলেই দ্যাটস এনাফ।

সিনহা হত্যার আগে কক্সবাজার-টেকনাফ-উখিয়াতে সংঘটিত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসমূহের বিচার দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, বিনা বিচারে উখিয়া-টেকনাফে ২৬৪ জন মানুষ হত্যা হয়েছে। বিনা বিচারে মানুষ হত্যা, যেটা স্বাধীন দেশে হয় না। সন্দেহ করে আপনি মানুষ মেরে ফেলবেন? এটা মেনে নেওয়া যায় না।

শফিউল বারী বাবুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে জাতীয়তাবাদী দলের দর্শনের প্রতি তাঁর আনুগত্যের স্মৃতিচারণা করেন গয়েশ্বর।

মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খানের পরিচালনায় আলোচনাসভায় বিএনপির মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শিরিন সুলতানা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল প্রমুখ বক্তব্য দেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা