• ই-পেপার

সবজির দাম আরেক দফা বাড়ল

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর শিগগিরই উদ্বোধন করা হবে : সংস্কৃতিমন্ত্রী

বাসস
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর শিগগিরই উদ্বোধন করা হবে : সংস্কৃতিমন্ত্রী

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, নির্মাণ ও সংস্কার কাজ প্রায় সম্পূর্ণ হওয়ার পথে। আগামী দুই-একদিনের মধ্যে নবগঠিত পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভায় জনবল নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। এরপরই  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুবিধাজনক সময় ও অনুমতি সাপেক্ষে অতি দ্রুত এই স্মৃতি জাদুঘর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।

সংস্কৃতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর দুঃশাসনে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ ছিল। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই এই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান পেয়েছি।’

তিনি বলেন, এই গণঅভ্যুত্থানের গভীরতা, ব্যাপকতা ও এর মূল তাৎপর্য বিশ্লেষণ করেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সংস্কৃতিমন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রকল্পকে আরো নিখুঁত ও স্থায়ী রূপ দেওয়ার জন্য কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন ও আইনি পরিমার্জন আনা হয়েছে।

জাদুঘর উদ্বোধনে বিলম্ব ও ব্যয় সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, জাদুঘর পরিচালনার জন্য একটি শক্তিশালী পরিচালনা পর্ষদ ইতিমধ্যেই গঠন করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালককে এখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ জাদুঘর পরিচালনায় স্থায়ী জনবল কাঠামো ও সুনির্দিষ্ট অর্গানোগ্রাম প্রয়োজন। 

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আইনি অনুমতি ও বিধিমালা সংশোধনের প্রক্রিয়ার কারণে কিছুটা সময় ব্যয় হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে মন্ত্রণালয়ের গৃহীত বিশেষ কর্মসূচি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও স্পিরিট মানুষের হৃদয়ে জাগিয়ে রাখতে ও দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। 

তিনি বলেন, ‘আগামীকাল ১৫ জুলাই থেকে আমাদের অধীনস্থ সব প্রতিষ্ঠান দেশজুড়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে।’

ডা. জাহেদ উর রহমান আরো বলেন, ‘১৫ জুলাই আমাদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। কারণ ১৪ জুলাই রাত ১২টার পর ছাত্ররা রাজপথে নেমে আসে এবং ১৫ জুলাই শিক্ষার্থীদের ওপর, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ১৬ জুলাইয়ের মহান আত্মত্যাগের মিছিলকে তরান্বিত করে।’

তিনি এই ল্যান্ডমার্ক দিনগুলোর চেতনা জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং অনুষ্ঠানমালার প্রচারে গণমাধ্যমকর্মীদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, সংস্কৃতি উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ও সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা।

জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু

অনলাইন ডেস্ক
জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু
সংগৃহীত ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন বিকেল ৩টায় শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে পুনরায় শুরু হয়েছে।

পবিত্র কোরআনের তিলাওয়াতের মাধ্যমে এ অধিবেশন শুরু হয়।

বন্যায় ৫৪ মৃত্যুর বেশির ভাগেরই কারণ পাহাড়ধস : ত্রাণমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
বন্যায় ৫৪ মৃত্যুর বেশির ভাগেরই কারণ পাহাড়ধস : ত্রাণমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

বন্যায় ৫৪ জনের বেশির ভাগই পাহাড়ধসের কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। 

মন্ত্রী বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে জরুরি ত্রাণকার্য পরিচালনার জন্য ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা আমরা তাৎক্ষণিক বরাদ্দ দিয়েছি। ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শুকনা খাবার দেওয়া হয়েছে এবং এর বাইরে প্রধানমন্ত্রী তার ত্রাণভাণ্ডার থেকে প্রত্যেক জেলায় ২০ লাখ টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আমাদের তৈরি খাবার দেওয়া হচ্ছে, শুকনো খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। উদ্ধারকাজের জন্য আমরা সেনাবাহিনী, বিজিবি ও কোস্ট গার্ড নিয়োজিত করেছি। তাদের উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে স্পিডবোট এবং রাবার বোট পাঠিয়েছি।’

মন্ত্রী আরো বলেন, আজকের গুরুত্বপূর্ণ সভায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের জন্য সরকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। যেসব রাস্তা-ঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, অল্প সময়ের মধ্যে তারা সেটা মেরামত করবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন যেসব সড়ক, তারা সেটা মেরামত করবে। আমরা আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে যদি কাঁচা সড়ক থেকে থাকে, সেগুলোকে আমরা কাবিখা-কাবিটা দিয়ে মেরামত করব।’

খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে জরুরি ভিত্তিতে এসব এলাকায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চলমান থাকবে বলেও জানান তিনি।

আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘বন্যার ঘটনায় সরকার সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে, বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে এবং জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। ওনার নির্দেশনায় আমি আগামীকাল থেকে ব্যাপকভাবে ওই এলাকাগুলো সফর করব। আজকে আমি চট্টগ্রাম যাচ্ছি।’

এ সময় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসাইন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণসচিব মো. সাইদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

জুনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৬৩

অনলাইন ডেস্ক
জুনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৬৩

জুনে সারা দেশে ৫৩২ সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৬৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ হাজার ৩২৩ জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল এ তথ্য জানিয়েছে। 

সংস্থাটি জানায়, এ মাসে রেলপথে ৫৩ দুর্ঘটনায় ৪৫ জন নিহত ও ৮ জন আহত হয়েছে। নৌ পথে ৫টি দুর্ঘটনায় নিহত ৫ জন ও আহত ০৫ জন হয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌ-পথে ৫৯০টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৫১৩ জন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে ১ হাজার ৩৩৬ জন। 

সংগঠনটি জানিয়েছে, দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তারা এই রিপোর্ট তৈরি করেছে। সংগঠনটির তথ্য মতে; এই সময়ে ১৭২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৭৩ জন নিহত, ১৩২ জন আহত হয়েছে; যা মোট দুর্ঘটনার ৩২.৩৩ শতাংশ, নিহতের ৩৭.৩৬ শতাংশ ও আহতের ৯.৯৭ শতাংশ। এই মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। ১২৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১২৬ জন নিহত ও ৩৭৩ জন আহত হয়েছে। সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে। ২৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত ও ৩৫ জন আহত হয়েছে।

সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত বার্তায় বলা হয়েছে, সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে ২২ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১১৬ জন চালক, ৮২ জন পথচারী, ২৯ জন পরিবহন শ্রমিক, ৮৭ জন শিক্ষার্থী, ১০ জন শিক্ষক, ৫২ জন নারী, ৫৫ জন শিশু, ১ জন সাংবাদিক, ১ প্রকৌশলী এবং ১০ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় মিলেছে। তাদের মধ্যে নিহত হয়েছে- ২ জন পুলিশ সদস্য, ১ জন সেনাবাহিনী সদস্য, ১ জন প্রকৌশলী, ১১১ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ৭১ জন পথচারী, ৪৫ জন নারী, ৪৭ জন শিশু, ৬০ জন শিক্ষার্থী, ১১ জন পরিবহন শ্রমিক, ১০ জন শিক্ষক, ও ০৯ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।

এ সময় সড়ক দুর্ঘটনায় সংগঠিত ৭৯৫টি যানবাহন শনাক্ত হয়েছে। এতে দেখা যায়, ২৬.৭৯ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৫.২৮ শতাংশ ট্রাক-পিকাপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৭.৩৫ শতাংশ বাস, ১৪.৯৬ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিক্সা ও ইজিবাইক, ৫.২৮ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৪.১৫ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা, ৬.১৬ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।

সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার ২৭.৬৩ শতাংশ গাড়ি চাপা বা ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা, ৪৩.২৩ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২০.৬৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৭.১৪ শতাংশ বিবিধ কারনে, ০.১৮ চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে এবং ১.১২ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই মাসে সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার ৪৪.৭৩ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ২৮.৩৮ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২০.৬৭ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এছাড়া সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৪.১৩ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ০.৯৩ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ১.১২ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংগঠিত হয়েছে।