আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হলে ক্যাম্প ৪ থেকে চূড়ান্ত সামিটের উদ্দেশ্য রওনা হই। কিছুদূর যেতেই তুষারঝড় শুরু হয়। গগলসের ফাঁক দিয়ে চোখে তুষারের কণা ঢুকে গেল। এর মধ্যেই ক্র্যাম্পন ছিঁড়ে পড়ি সেই বিপত্তিতে। লাকপা'র সহায়তায় বিপদ মাড়িয়ে সূর্যোদয় দেখতে দেখতে এভারেস্টের সবোর্চ্চ চূড়ায় পৌঁছে যাই। কতশ’ দিনের পরিশ্রম, অপেক্ষা, স্বপ্ন আর সংগ্রামের ফল। এভারেস্টের সবোর্চ্চ চূড়ায় ছুঁয়ে দেখি। আমি পেরেছি, আমার স্বপ্নকে ছুঁতে পেরেছি।
আজ শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এভারেস্ট জয়ের গল্প এভাবে বর্ণনা করেছিলেন সদ্য এভারেস্ট জয়ী বাংলাদেশি নুরুননাহার নিম্নি।
তার এভারেস্ট জয় উপলক্ষে পতাকা-প্রত্যর্পণ ও সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন– বাংলাদেশে নেপালী দূতাবাসের ডেপুটি চীফ অব মিশন ললিতা সিলওয়াল, বিশিষ্ট নারী অধিকার কর্মী শিরীন পারভিন হক, পূবালী ব্যাংক পিএলসি'র অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার ফারজিন আহমেদ ও এভারেস্ট বিজয়ী এম এ মুহিত।
নুরুননাহার নিম্নি বলেন, ২২ মে সকালে ক্যাম্প ৩ থেকে বের হয়ে ক্যাম্প ৪ এর উদ্দেশে রওনা দিই। পুরো পথই খাড়া চড়াই। ভয়ংকর তুষারঝড়ের কবল পড়ে যায়। কোনো ভাবেই দাঁড়ানো যাচ্ছে না। দৃঢ় মনোবল থাকা সত্ত্বেও বৈরি আবহাওয়ার কারণে সেদিন ক্যাম্প ২-এ ফিরে আসতে হয়।
আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে দুইদিন পর আবার যাত্রা শুরু করি। খাড়া পথ, মাঝে মাঝে রোপে ঝুলে পানি ও চকলেট খেয়ে শক্তি বজায় রাখছি। আবহাওয়ার সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে ৭ হাজার ৮শ’ মিটার উপরে ক্যাম্প ৪ পৌঁছায় যায় ২৬ মে।
প্রায় আট হাজার ফুট উচ্চতার ক্যাম্প ৪। এটি ডেথ জোন নামে পরিচিত। তীব্র বাতাসে তাঁবুগুলো ছিঁড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। ক্যাম্পজুড়ে ঝড়ের তাণ্ডবের চিহ্ন। ছেঁড়া তাঁবু, ব্যবহৃত অক্সিজেন সিলিন্ডার, চুলা, খাবার সবকিছু এলোমেলো পড়ে আছে। সব মিলিয়ে ক্যাম্প ৪ যেন ময়লার বিশাল এক স্তূপ। গাইড জানায় ক্যাম্প ৪ নাকি প্রায় সব সময়ই এমন ময়লা থাকে, নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। উত্তর শুনে মনটা আরো খারাপ হয়ে গেল।
কিছুক্ষণ বিশ্রামের পর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ফাইনাল সামিটের জন্য রওনা দেই। আবহাওয়া পরিষ্কার বাতাসও থেকে গেছে। গাইডসহ এগিয়ে চলছি। একসময় হিলারি স্টেপে পৌঁছে গেলাম। এর কিছুক্ষণ পর কাঙ্ক্ষিত এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছে গেলাম।
তার মতে, এ যাত্রা ছিল খুবই দুঃসাহসিক। প্রচণ্ড বাতাসের তীব্রতার কারণে চূড়ায় সরাসরি দাঁড়াতে পারেননি। চূড়াটি কেবল ছুঁয়ে দেখেছি। স্বপ্নকে ছুঁয়ে দেখেছি।
এর আগে নিম্নি ভারতে পর্বতারোহণ বিষয়ে মৌলিক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। ৬ হাজার মিটারের একটি ও ৭ হাজার মিটার একটি পর্বত আরোহণ করেছেন।




