• ই-পেপার

‘না বুঝে লাইক-শেয়ার দিলেই গ্রেপ্তার’

নবায়নযোগ্য জ্বালানির সুবিধা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ রাখার অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
নবায়নযোগ্য জ্বালানির সুবিধা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ রাখার অভিযোগ

জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কর ও শুল্ক সুবিধার ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবে তা সীমিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ)। 

সংগঠনটির দাবি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জারিকৃত এসআরও সংশোধন করে কর-সুবিধা সব অংশীজনের জন্য উন্মুক্ত না করলে দেশের সৌরবিদ্যুৎ খাতের সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হবে এবং ২০৩০ সালের নবায়নযোগ্য জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

রবিবার (১৪ জুন) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএসআরইএর নেতারা এসব কথা বলেন। 

সংগঠনটির সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ লিখিত বক্তব্যে জানান, বাজেট-পরবর্তী এসআরও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঘোষিত কর ও শুল্ক সুবিধা মূলত নির্দিষ্ট কিছু সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং রেসকো মডেলে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর জন্য প্রযোজ্য করা হয়েছে। ফলে আবাসিক, কৃষি, ক্ষুদ্র বাণিজ্যিক গ্রাহক এবং খাতসংশ্লিষ্ট অধিকাংশ ব্যবসায়ী এ সুবিধার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বড় অংশ গড়ে উঠেছে আমদানিকারক, পরিবেশক, ডিলার, খুচরা ব্যবসায়ী এবং ইপিসি (ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন) প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। অথচ বর্তমান প্রণোদনা কাঠামোয় তাদের জন্য কার্যকর কোনো সুবিধা রাখা হয়নি। এতে খাতসংশ্লিষ্ট হাজারো প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা ও কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

বিএসআরইএর মতে, বর্তমান এসআরও দেশের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীর মাত্র ২০ থেকে ২২ শতাংশকে লক্ষ্য করে প্রণয়ন করা হয়েছে। অন্যদিকে রেসকো মডেল বড় শিল্প গ্রাহকদের জন্য উপযোগী হলেও আবাসিক, কৃষি ও গ্রামীণ গ্রাহকদের জন্য তা কার্যকর নয়।

সংগঠনটি বলছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে সৌর প্যানেল ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির ওপর শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং বাজারে দাম কমেছে। কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশ সৌর পণ্যের ক্ষেত্রে কর ও শুল্ক কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। এতে বাজারে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীরা অযৌক্তিক চাপের মুখে পড়ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, চলতি বাজেট ও সংশ্লিষ্ট এসআরওতে সোলার ইরিগেশন, সোলার স্ট্রিট লাইট এবং ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএস) খাতের জন্য কার্যকর নতুন কোনো প্রণোদনা রাখা হয়নি। দেশে প্রায় ১৭ লাখ ডিজেলচালিত সেচ পাম্প থাকলেও সেগুলোকে সৌরচালিত ব্যবস্থায় রূপান্তরের জন্য বাজেটে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা বা আর্থিক সহায়তার প্রতিফলন নেই। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জামের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ‘ওয়েট-বেইজড অ্যাসেসমেন্ট’ পদ্ধতির পরিবর্তে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘ট্রানজ্যাকশন ভ্যালু’ ভিত্তিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ না থাকায় প্রকল্প ব্যয় অযৌক্তিকভাবে বাড়ছে বলে অভিযোগ করে সংগঠনটি।

মাউন্টিং স্ট্রাকচার, লিথিয়াম সেল, ব্যাটারি প্যাক ও বিইএসএসের জন্য শুল্ক সুবিধা ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএসআরইএ। তাদের মতে, দেশে এখনো এসব পণ্যের পর্যাপ্ত উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে ওঠেনি। ফলে আগেভাগে সুবিধা প্রত্যাহার করা হলে বিনিয়োগ ও বাজার সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

সংগঠনটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দেশের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীর ৬৩ শতাংশই আবাসিক, কৃষি ও ক্ষুদ্র বাণিজ্যিক গ্রাহক। অথচ বর্তমান প্রণোদনা কাঠামোয় তাদের জন্য কোনো প্রত্যক্ষ সুবিধা নেই। পাশাপাশি স্বল্পসুদে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন, পেমেন্ট সিকিউরিটি এবং বিনিয়োগ সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাজেটে নতুন কোনো উদ্যোগও দেখা যায়নি।

বিএসআরইএ সতর্ক করে বলেছে, বর্তমান এসআরও বহাল থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট পিক সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য পূরণ হবে না; বরং সক্ষমতা ২ থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট পিকে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। তবে সব আমদানিকারক, ইপিসি প্রতিষ্ঠান, ডিস্ট্রিবিউটর এবং খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের জন্য শূন্য শতাংশ কাস্টমস ডিউটি ও কর সুবিধা উন্মুক্ত করা হলে ঢাকা ও বিভাগীয় শহরগুলোর মাত্র ২৫ শতাংশ ছাদ ব্যবহার করেই ২০৩০ সালের মধ্যে ৬ থেকে ৮ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি সোলার মডিউল, ইনভার্টার, ব্যাটারি স্টোরেজ, মাউন্টিং স্ট্রাকচার, ডিসি কেবল, কানেক্টর ও স্মার্ট মিটারসহ সব নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জামের ক্ষেত্রে সমান শুল্ক সুবিধা কার্যকর, অন্তত ১০ বছরের ট্যাক্স হলিডে ও আয়কর অব্যাহতি এবং আবাসিক ও কৃষি গ্রাহকদের জন্য কর-সুবিধা উন্মুক্ত করার দাবি জানায়। 

শিবির নেতা জিসান ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ

অনলাইন ডেস্ক
শিবির নেতা জিসান ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ
সংগৃহীত ছবি

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক জিসান মিয়া প্রধানের কুমিল্লা থেকে ‘নিখোঁজ’ হওয়ার পর উদ্ধার এবং পরে গ্রেপ্তারের বিষয়টি সংসদকে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের মামলা ও উদ্ধার প্রক্রিয়ার বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি। তবে জিসান ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের একটি অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিরোধী দল।

রবিবার (১৪ জুন) সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ বিধিতে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিবৃতি দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্য ও ঘটনার বিবরণ তুলে ধরলে সরকারি ও বিরোধী পক্ষের সংসদ সদস্যদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

সংসদ অধিবেশন চলাকালে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের অনুমতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ৩০০ বিধিতে বক্তব্য দেন। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদকে অবহিত করেন, দুর্নীতির মামলায় পলাতক সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দুবাই থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘোষণার পরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাত্রশিবিরের সদ্য বহিষ্কৃত সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক নেতা জিসানের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গটি সংসদে উত্থাপন করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিসানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিবরণ দিয়ে সংসদে বলেন, কয়েক মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে জিসান তার ওপর ভ্রূণ নষ্ট করার চাপ দেন এবং ওষুধ সেবনের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটানো হয়। এই কাজে জিসানের চাচাতো ভাই রাসেল আহমেদ একটি দোকান থেকে ওষুধ এনে সহযোগিতা করেন।

পরবর্তীতে গত ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) জিসান বিয়ে না করার টালবাহানায় নিজেই আত্মগোপনে চলে যান এবং চাচাতো ভাইয়ের মাধ্যমে থানায় একটি নিখোঁজের জিডি করান। পুলিশ অনুসন্ধানের পর লাকসাম এলাকা থেকে জিসানকে উদ্ধার করে। জিসান উদ্ধারের খবর পেয়ে ভুক্তভোগী ওই নারী বাদী হয়ে কুমিল্লা দাউদকান্দি মডেল থানায় জিসানকে প্রধান আসামি করে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর সংসদে তীব্র আপত্তি জানান বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। স্পিকারের অনুমতি নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার শুরুতে তিনি সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশকে ধন্যবাদ জানান।

তবে শিবির নেতার প্রসঙ্গ তোলায় প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি সংসদ তুলতে দেওয়া উচিত হয়নি। একটি বিতর্কিত বিষয় এভাবে তোলা বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই প্রথম।’

তখন ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘এ বিষয়টি আমি জানতাম না। যেমন প্রথম বিষয়টিও আমার জানা ছিল না।’

পরে বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, ‘একটি দলকে নিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এটি তোলা হয়েছে।’

তবে জিসান ইস্যুতে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইচ্ছাকৃতভাবে জিসান প্রসঙ্গে এই বক্তব্য দিয়েছেন, যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিরোধী দলকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করা।’

এ সময় বিরোধীদলীয় উপনেতা জানতে চান, জিসান কোথায় আছে? জিসানকে কারো সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়নি কেন। মেয়েটাকেও কথা বলতে দেওয়া হয়নি। এখানে কি প্লট তৈরি করা হচ্ছে? কোনটা সঠিক, এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এমন অনেক ঘটনা ঘটলেও শুধু এটিই সংসদে তোলা হলো।

তিনি অবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া জিসানসংক্রান্ত বক্তব্যটি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ বা বাদ দেওয়ার দাবি জানান।

ডা. আবদুল্লাহ তাহেরের দাবির পর বিরোধী দলের সব সংসদ সদস্য নিজ নিজ আসন থেকে দাঁড়িয়ে যান। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও জবাব দেওয়ার জন্য নিজের আসনে দাঁড়িয়ে থাকেন।

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বিরোধীদলীয় উপনেতাকে থামতে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বারবার বসে পড়ার অনুরোধ জানালেও উভয় পক্ষই দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকায় সংসদে চরম উত্তেজনা ও হট্টগোল তৈরি হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ডেপুটি স্পিকার জানান, ৩০০ বিধির আওতায় প্রদত্ত বিবৃতির ওপর সাধারণত কোনো প্রশ্ন করা বা বিতর্ক করার সুযোগ থাকে না। তবে নিয়ম মেনে স্পষ্টীকরণের প্রশ্ন করা যেতে পারে।

তিনি সবাইকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রুলিং দেন যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য যদি সংসদীয় রীতির বাইরে প্রমাণিত হয়, তবে তা বিধি অনুযায়ী এক্সপাঞ্চ করা হবে।

ডেপুটি স্পিকারের কঠোর নির্দেশনায় দীর্ঘ সময় পর উভয় পক্ষ আসনে বসলে সংসদের পরবর্তী স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়।

পচা সবজি থেকে পচনশীল পলিথিন, সাজ্জাদুলের উদ্ভাবনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী

বাসস
পচা সবজি থেকে পচনশীল পলিথিন, সাজ্জাদুলের উদ্ভাবনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মৌলভীবাজারের শিক্ষার্থী ও তরুণ উদ্ভাবক সাজ্জাদুল ইসলামের উদ্ভাবিত বিভিন্ন পণ্য পরিদর্শন করেছেন। তিনি আজ রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে পচা ও পরিত্যক্ত সবজি থেকে পচনযোগ্য পলিথিনসহ সাজ্জাদুলের উদ্ভাবিত বিভিন্ন পণ্য দেখেন ও মুগ্ধ হন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান।

পণ্য পরিদর্শনকালে সাজ্জাদুল ইসলাম পচা ও পরিত্যক্ত সবজি থেকে পচনযোগ্য পলিথিন এবং কলাগাছের তন্তু ব্যবহার করে ঢেউটিন, টাইলস ও বোর্ড তৈরির বিষয় প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব এসব উদ্ভাবনের প্রশংসা করেন।

একই সঙ্গে তিনি সাজ্জাদুল ইসলামের উদ্ভাবনী কাজে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে তাকে উৎসাহিত করেন।

বেসরকারি শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্টে বছরে ১৫৬ কোটি টাকার ঘাটতি : শিক্ষামন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
বেসরকারি শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্টে বছরে ১৫৬ কোটি টাকার ঘাটতি : শিক্ষামন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্টের বার্ষিক মোট আয় প্রায় ৬৮৪ কোটি টাকা। অন্যদিকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ সুবিধা প্রদান বাবদ বার্ষিক প্রয়োজন প্রায় ৮৪০ কোটি টাকা। ফলে প্রতিবছর প্রায় ১৫৬ কোটি টাকার ঘাটতি সৃষ্টি হচ্ছে। বর্তমানে ২০২৩ সালের আগস্ট ৮ জুন থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রায় ৪৪ হাজার কল্যাণ সুবিধা প্রাপ্তির আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টে প্রতিবছর প্রায় ১৫৬ কোটি টাকার আর্থিক ঘাটতি তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, ঘাটতির কারণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ সুবিধা ও অন্যান্য প্রাপ্য অর্থ পরিশোধে বিলম্ব হচ্ছে।

রবিবার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় এবং প্রথম বাজেট অধিবেশনের ষষ্ঠ কার্যদিবসে তারকা চিহ্নিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. গোলাম রছুল জানতে চান বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কর্মচারীরা অবসর গ্রহণের পর তাহাদের অবসরকালীন ভাতা, কল্যাণ ট্রাস্ট্রের অর্থ ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা পেতে বিলম্বিত হওয়ার কারণ কী? বর্তমানে কতজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারীর আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে; অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ভাতা দ্রুত প্রদান নিশ্চিত করিতে সরকার কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে?

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ১৯৯০’ এবং ‘প্রবিধানমালা, ১৯৯৯’ অনুযায়ী ট্রাস্টটি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মাসিক বেতনের ৪ শতাংশ চাঁদা ও বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত মুনাফার মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

তিনি জানান, বর্তমানে কল্যাণ ট্রাস্টের বার্ষিক মোট আয় প্রায় ৬৮৪ কোটি টাকা। অন্যদিকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ সুবিধা প্রদানে বছরে প্রয়োজন হয় প্রায় ৮৪০ কোটি টাকা। ফলে প্রতি বছর প্রায় ১৫৬ কোটি টাকার ঘাটতি সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির কারণে ট্রাস্টের দায়ও ক্রমাগত বাড়ছে।

মন্ত্রী আরো জানান, বর্তমানে ২০২৩ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রায় ৪৪ হাজার কল্যাণ সুবিধা পাওয়ার আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

তিনি বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রাপ্য সুবিধা দ্রুত প্রদানের লক্ষ্যে সরকার ও কল্যাণ ট্রাস্ট বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইতোমধ্যে ৯ হাজার ২৮৪ জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীকে ৫৫৩ কোটি ৬৩ লাখ ৩৫ হাজার ৮৭৪ টাকা কল্যাণ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৩ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত জমা পড়া সব আবেদন নিষ্পত্তি করে আইবাস প্লাস প্লাসের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানো হয়েছে। ২০২৩ সালের জুন ও জুলাই পর্যন্ত জমাকৃত আবেদনগুলোর নিষ্পত্তি সম্পন্ন করে অর্থ পরিশোধের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অনিষ্পন্ন প্রায় ৪৪ হাজার আবেদন নিষ্পত্তির জন্য এককালীন প্রায় ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকার অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন। এ অর্থের সংস্থান এবং আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

‘না বুঝে লাইক-শেয়ার দিলেই গ্রেপ্তার’ | কালের কণ্ঠ