জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রাজস্ব বৃদ্ধি—উভয় লক্ষ্য অর্জনে আগামী অর্থবছরের বাজেটে তামাকজাত দ্রব্যের ওপর উচ্চ হারে ‘সুনির্দিষ্ট কর’ আরোপের দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) দীর্ঘদিন ধরেই এই কর ব্যবস্থার সুপারিশ করে আসছে। বাংলাদেশেও প্রচলিত অ্যাড ভ্যালোরেম (মূল্যভিত্তিক) কর পদ্ধতির পাশাপাশি নির্দিষ্ট পরিমাণ ‘সুনির্দিষ্ট কর’ চালু করা জরুরি।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরো (বিইআর) এবং বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি) আয়োজিত এক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘তামাক কর ব্যবস্থাপনা ও জনস্বাস্থ্যে এর প্রভাব’ শীর্ষক এই আলোচনা সভাটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম জুমে অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হকের সভাপতিত্বে ওয়েবিনারে প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সাবেক চেয়ারম্যান আমিন উল আহসান, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সাবেক সমন্বয়কারী হোসেন আলী খন্দকার এবং কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল্লাহ দেশের বর্তমান তামাক কর কাঠামোর বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন এবং কর ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন, তামাকপণ্যের ওপর কার্যকর কর আরোপ শুধু রাজস্ব বাড়ানোর বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। তাই আগামী বাজেটে তামাক কর ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার আনতে হবে।
ওয়েবিনারে বক্তারা দেশের তামাক কর প্রশাসনের অন্যতম বড় দুর্বলতা হিসেবে জর্দা ও গুলের মতো ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যের ওপর কার্যকর কর আদায় পদ্ধতির অভাবকে চিহ্নিত করেন। তারা বলেন, দেশে জর্দা ও গুলের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হলেও এগুলো থেকে আদায় হওয়া করের পরিমাণ খুবই কম। ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে এবং তামাক নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যও ব্যাহত হচ্ছে। ধোঁয়াবিহীন তামাকের কর ব্যবস্থায় আধুনিক ও কার্যকর পদ্ধতি চালু করা গেলে রাজস্ব বৃদ্ধি ও তামাকের ব্যবহার কমানো—উভয়ই সম্ভব।
তামাক কোম্পানিগুলোর ভূমিকার সমালোচনা করে বক্তারা বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো নীতি নির্ধারণে হস্তক্ষেপ করতে এবং নিজেদের ব্যবসা বাড়াতে বিভিন্ন সময় নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ায়। সম্প্রতি তারা অবৈধ ব্যবসা ও চোরাচালান বৃদ্ধির তত্ত্ব নিয়ে প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে, যা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ (এনবিআর) বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে দেশের কোনো গবেষণাতেই এই দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক কোম্পানির এমন মিথ্যাচারে কর্ণপাত না করে সরকারকে অবিলম্বে সুনির্দিষ্ট কর আরোপের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান বিশেষজ্ঞরা।





