চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে হামে আক্রান্ত হয়ে ১২ দিনের ব্যবধানে যমজ দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
গত মঙ্গলবার (২ জুন) নারায়ণগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু আবদুল্লাহ আল ফাহিমের মৃত্যু হয়। বুধবার (৩ জুন) রাত ১১টার দিকে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে গত ২২ মে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার যমজ ভাই আবদুল্লাহ আল নোমান মারা যায়।
মৃত দুই শিশুর বয়স ছিল এক বছর। তারা মিরসরাই উপজেলার ১২ নম্বর খৈয়াছড়া ইউনিয়নের পূর্ব খৈয়াছড়া তাকিয়াপাড়া এলাকার হারুনুর রশিদ ও ইসরাত জাহান দম্পতির সন্তান।
শিশুদের বাবা হারুনুর রশিদ বলেন, ‘স্বজন, বন্ধুবান্ধব, এনজিও, কারও কাছে হাত পাততে বাকি রাখিনি। সব মিলিয়ে প্রায় ৬ লাখ টাকা খরচ করেছি। ছেলেদের বাঁচানোর জন্য হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরেছি, তবুও বুকের দুই ধনকে বাঁচাতে পারলাম না। হামের উপসর্গ নিয়ে ১২ দিনের ব্যবধানে আমার এক বছর বয়সী যমজ দুই ছেলের মৃত্যু হয়েছে। সন্তানদের চিকিৎসার প্রায় সব টাকাই ঋণ করে খরচ করেছি। এখন এ ঋণের বোঝা আর শোক এক সঙ্গে বয়ে বেড়াচ্ছি।’
তিনি আরো জানান, গত ৮ মার্চ ফাহিমের শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ১৮ মার্চ তার শরীরে হাম শনাক্ত হয়। কিছুটা সুস্থ হলে বাড়িতে আনা হলেও পরে আবার অবস্থার অবনতি হয়। এদিকে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে অপর যমজ সন্তান নোমানের শরীরেও হামের উপসর্গ দেখা দেয় এবং পরীক্ষায় তার শরীরেও হাম শনাক্ত হয়। এরপর ২২ মে নোমানের মৃত্যু হয়।
এদিকে হামের পর সৃষ্ট নানা জটিলতায় ফাহিমের অবস্থারও অবনতি হতে থাকে। নোমান মারা যাওয়ার পরদিন ফাহিমকে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রের সংকট থাকায় তিন দিন পর নারায়ণগঞ্জের বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় ফাহিমকে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হারুনুর রশিদ আরো বলেন, ‘ছোটোবেলায় বাবাকে হারিয়েছি। চার বোনের পর আমি পরিবারের একমাত্র ছেলে। বাজারে ছোট একটা মুদিদোকান করে কোনোমতে সংসার চালাই। ছেলেদের চিকিৎসার জন্য গত তিন মাস দোকান খুলতে পারিনি। প্রায় ছয় লাখ টাকার ধারদেনা করেছি। হাসপাতালে না খেয়ে থেকেছি অনেক সময়। টাকা খরচ হলেও যদি ছেলেদের ফিরে পেতাম, কোন আফসোস থাকত না। এখন আমাকে দেনার মধ্যে ফেলে দুই বুকের ধন চলে গেছে।’
হারুনুর রশিদের প্রতিবেশী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘বাচ্চা দুটি খুবই সুন্দর আর হাসিখুশি ছিল। এলাকার সবাই তাদের খুব আদর করতো। একই পরিবারের দুই শিশুর এমন মৃত্যু আমাদের সবাইকে কাঁদিয়েছে। পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।’
মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন বলেন, ‘হামের উপসর্গ নিয়ে মিরসরাইয়ের দুই শিশুর মৃত্যুর এমন তথ্য আমাদের কাছে জানা নেই। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হলে এমন রোগীর তথ্য আমাদের কাছে থাকে।’




