kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জামিনের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত

মিন্নির জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৭:৩০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মিন্নির জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন

বরগুনায় প্রকাশ্যে দিবালোকে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত শাহ নেওয়াজ রিফাত শরীফের স্ত্রী কারাবন্দি আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

মিন্নিকে জামিন দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় আজ রবিবার দুপুরে প্রকাশিত হওয়ার পরপরই রাষ্ট্রপক্ষ এ আবেদন করে। কাল সোমবার আপিল বিভাগের অবকাশকালীন চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে। এই আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে মিন্নি কারাগার থেকে বের হতে পারবেন কি না।

নিয়ম অনুযায়ী হাইকোর্টের জামিনের রায়ের কপি এখন বরগুনা আদালতে যাবে। ওই আদালতে জামিনের আদেশ পৌঁছানোর পর আসামিপক্ষ (মিন্নি) থেকে বরগুনার আদালতে জামিননামা দাখিল করতে হবে। এরপর ওই আদালত এই রায়ের কপি সত্য কি না তা যাচাই করবে। যাচাই-বাছাই শেষে তা কারাগারে পাঠাবে। কারা কর্তৃপক্ষও এই জামিনের আদেশ সঠিক কি না তা যাচাই করবে। জামিনের আদেশ সত্য হলে এবং এই আদেশ আপিল বিভাগে যদি স্থগিত না হয়ে থাকে তবে মিন্নিকে কারাগার থেকে মুক্তি দেবে কারা কর্তৃপক্ষ। তবে দ্রুত মিন্নির কারামুক্তির জন্য তার আইনজীবীদেরও তৎপর হতে হবে। জামিনের আদেশ বরগুনা আদালতে পৌঁছানোর পর জামিননামা দাখিল করা এবং তা দ্রুত কারাগারে পাঠানোর উদ্যোগ তাদেরই নিতে হবে। 

এদিকে হাইকোর্টের রায় প্রকাশিত হওয়ার পরপরই ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড সুফিয়া খাতুনকে দায়িত্ব দেন। দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন প্রস্তুত করে তা আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় দাখিল করেন অ্যাডভোকেট সুফিয়া খাতুন। 

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২৯ আগস্ট এক রায়ে মিন্নির জামিন মঞ্জুর করেন। রবিবার দুপুরে হাইকোর্টের প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে জামিন মঞ্জুরের বিষয়ে বলা হয়- এক. মামলার এজাহারে বর্তমান আসামিকে (মিন্নি) এক নম্বর সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং সংবাদদাতা এজাহারে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ঘটনার বিষয়ে ভিকটিম রিফাতের কাছ থেকে বিস্তারিত জেনেছেন।

দুই. গ্রেপ্তারের আগে আসামিকে (মিন্নি) দীর্ঘ সময় স্থানীয় পুলিশ লাইনে আটক রাখা, তিন. আদালতে রিমান্ড শুনানির সময় আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ না পাওয়া, চার. ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার আগেই অর্থ্যাৎ রিমান্ডে থাকাবস্থায় গণমাধ্যমের সামনে স্থানীয় পুলিশ সুপারের বিভিন্ন বক্তব্য; যথা ‘আসামি দোষ স্বীকার করেছে, মিন্নি শুরু থেকেই যারা হত্যাকারী ছিল তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে এবং এই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হওয়ার আগেও সে পরিকল্পনার জন্য যা যা দরকার হত্যাকারীদের সঙ্গে মিটিং করেছে’ এবং পাঁচ. আসামি একজন মহিলা এবং ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৯৭ ধারার ব্যতিক্রমের সুবিধা পেতে পারে। এসব কারণে তাকে জামিন দেওয়া ন্যায়সঙ্গত মনে করছি।

আদালত বলেন, আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে বরগুনার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে জামিননামা সম্পাদনের শর্তে জামিন প্রদান করা হলো। আসামি কর্তৃক অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের সুবিধা অপব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট আদালত আইনের নির্ধারিত নিয়মে জামিন বাতিল করতে পারবে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে কুপিয়ে রিফাত শরীফকে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহত রিফাতের পিতা আব্দুল আলিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে মামলা করেন। এই মামলার মিন্নি, রিফাত ফরাজী, টিকটক হৃদয়সহ ১৫ জনকে আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া এজাহারভুক্ত নয়ন বন্ড ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে।

গত ১৬ জুলাই রাতে মিন্নিকে গ্রেপ্তার করে পরদিন ১৭ জুলাই তাকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ড শেষ হওয়ার আগেই গত ১৯ জুলাই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয় মিন্নি। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগের দিন ১৮ জুলাই দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেন বরগুনার এসপি মারুফ হোসেন। এ অবস্থায় প্রথমে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ও পরে জেলা জজ আদালতে মিন্নির জামিনের আবেদন করা হলেও ওই দুই আদালতে তার জামিনের আবেদন খারিজ হয়। এরপর হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করা হয়। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা