• ই-পেপার

ফেলোশিপ পেলেন কালের কণ্ঠের ২ প্রতিবেদক

সরকারি সেবায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতে আন্ত মন্ত্রণালয় সমন্বয়ের আহ্বান

জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গড়তে নারী নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গড়তে নারী নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান

বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নারীর নেতৃত্বকে জাতীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের কেন্দ্রবিন্দুতে আনার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। তাদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে নারীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সফল উদ্যোগগুলোকে জাতীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণের মাধ্যমেই জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

রবিবার (২৮ জুন) রাজধানীতে ইউএন উইমেন বাংলাদেশের আয়োজনে ‘এমপাওয়ার-২ : ন্যাশনাল লেসন্স লার্নড অ্যান্ড স্কেল-আপ ওয়ার্কশপ’-এ বক্তারা এ কথা বলেন। সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি ও নিউজিল্যান্ড সরকারের সহায়তায় পরিচালিত ‘এমপাওয়ার : উইমেন ফর ক্লাইমেট-রেজিলিয়েন্ট সোসাইটিজ (ফেজ-২)’ প্রকল্পের আওতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, শিক্ষা, দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসের সমন্বয় ঘটলে নারীরা সমাজে নেতৃত্ব দিতে পারেন। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে নারীদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।

ইউএন উইমেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং বলেন, প্রকল্পের মাধ্যমে নারীদের জীবিকা, পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার, আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের সক্ষমতা বেড়েছে। জলবায়ু অঙ্গীকার তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা নারীদের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনে। তিনি বলেন, লিঙ্গ-সংবেদনশীল জলবায়ু উদ্যোগ একটি বাস্তবসম্মত, সম্প্রসারণযোগ্য ও লাভজনক বিনিয়োগ।

বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামে ইউএন উইমেন ও ইউএনইপির যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এ প্রকল্প খুলনা, সাতক্ষীরা, জামালপুর, কুড়িগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার ১০টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় ৩৩ হাজার ২৮৪ জন নারী জলবায়ু সহনশীল জীবিকা ও প্রয়োজনীয় সেবার আওতায় এসেছেন।

কর্মশালায় কুড়িগ্রামের নারী অ্যাসোসিয়েট ফর রিভাইভাল অ্যান্ড ইনিশিয়েটিভের প্রতিনিধি ফরিদা ইয়াসমিনসহ পাঁচ জেলার নারী জলবায়ু নেত্রীরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। ফরিদা ইয়াসমিন জানান, এমপাওয়ার প্রকল্প তাদের জ্ঞান, তথ্য ও আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে, ফলে এখন তারা নিজেদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিতে এবং নেতৃত্ব দিতে পারছেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ঢাকায় সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের সহযোগিতা বিভাগের প্রধান ডিপাক এলমার, জার্মান দূতাবাসের ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন অ্যাডভাইজার রেডিটা রকিব, সুইডেন দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি ও ডেপুটি হেড অব ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন নায়োকা মার্টিনেজ-ব্যাকস্ট্রোম এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান। সম্মানিত অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) ড. নুরুন নাহার।

বক্তারা বলেন, নারীদের নেতৃত্বাধীন জলবায়ু উদ্যোগ সম্প্রসারণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়ন বৃদ্ধি এবং লিঙ্গ-সংবেদনশীল জলবায়ু নীতির কার্যকর বাস্তবায়নে সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, সুশীল সমাজ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও শক্তিশালী সমন্বয় প্রয়োজন।

নায়োকা মার্টিনেজ-ব্যাকস্ট্রোম বলেন, এমপাওয়ার প্রকল্প স্থানীয় উদ্ভাবন ও অভিযোজন উদ্যোগকে জাতীয় নীতিনির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি স্থানীয় সুশীল সমাজের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অনুষ্ঠানে এমপাওয়ার বাংলাদেশের ওয়েবপেজ এবং উইমেন ইন ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (ডব্লিউসিএএন) সদস্যদের তোলা আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জলবায়ু অর্থায়ন, জলবায়ু অভিযোজনে জেন্ডার অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়ন এবং নারীর নেতৃত্ব নিয়ে কারিগরি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সেন্টার ফর কমিউনিকেশন প্রোগ্রামস (বিসিসিপি), মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্টকে (সিইডি) স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন

সংসদ ভবনে বিশেষ বরাদ্দপত্র হস্তান্তর, পাচ্ছেন ৬৫ বিরোধীদলীয় এমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংসদ ভবনে বিশেষ বরাদ্দপত্র হস্তান্তর, পাচ্ছেন ৬৫ বিরোধীদলীয় এমপি
ছবি : কালের কণ্ঠ

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের অনুকূলে ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দের বরাদ্দপত্র হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়।

রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ সদস্যদের হাতে এ বরাদ্দপত্র হস্তান্তর করেন।

সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২ (GSID-2) প্রকল্পের আওতায় দেশের ৬৫ জন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যের অনুকূলে এ বিশেষ বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় প্রতিটি আসনের ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য জনপ্রতি ৩০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

আজ অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হয়ে বরাদ্দপত্র গ্রহণ করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এবং সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান।

বরাদ্দপত্র হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, এই বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক ও ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো আরো শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করছেন।

চলতি অর্থবছরেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা জরিপ : পানিসম্পদমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
চলতি অর্থবছরেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা জরিপ : পানিসম্পদমন্ত্রী

চলতি অর্থবছরেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা জরিপ (ফিজিবিলিটি স্টাডি) সম্পন্ন করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, তিস্তায় একটা ফিজিবিলিটি স্টাডির ব্যাপারে চীন সম্মত হয়েছে। আমরা যৌথভাবে স্টাডিটা কমপ্লিট করব।

রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, তিস্তা নদীর তীরবর্তী মানুষ প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে জীবন যাপন করছেন। শুধু তিস্তা নয়, পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্রসহ দেশের প্রায় চার হাজার কিলোমিটার নদী ভাঙনপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষও একই ধরনের দুর্ভোগের শিকার। তাদের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের চীন সফরে দেশটির প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সঙ্গে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে নদী ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং তিস্তা প্রকল্পের সমীক্ষায় কারিগরি সহযোগিতা দিতে সম্মতি দিয়েছে চীন।

তিনি আরো বলেন, চীন সরকার বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছে যে, নদী ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশের পাশে থাকবে।

তিনি জানান, তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি বিশেষজ্ঞ দল ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করে দ্রুত সমীক্ষা শেষ করার পর পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের মতো তিস্তা মহাপরিকল্পনাও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মাদরাসা শিক্ষকদের বেতন নিয়ে সংসদে যে বার্তা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
মাদরাসা শিক্ষকদের বেতন নিয়ে সংসদে যে বার্তা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

শিক্ষার্থীদের আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ প্রকল্প এবং শিক্ষকদের ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়াতে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ উদ্যোগ চালু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, একই সঙ্গে মাদরাসা শিক্ষকদের বকেয়া বেতন পরিশোধে অর্থমন্ত্রী দ্রুততম সময়ে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন এবং আগামী জুলাই মাসের মধ্যে বাকি সব টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

রবিবার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও পরিকল্পনার কথা জানান।

দেশে শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও বৈষম্য নিরসনে সরকারের নেওয়া নানামুখী মহাপরিকল্পনার কথা জাতীয় সংসদে তুলে ধরেন তিনি।

সংসদে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষায় এখন এক ব্যাপক পরিকল্পনা ও রূপান্তর চলছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ নামে একটি সম্পূর্ণ নতুন অধ্যায় যুক্ত করতে যাচ্ছে। এই ট্যাবের মাধ্যমে শিক্ষকরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে ক্লাস লেসন প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার সব বিষয়ে সার্বক্ষণিক আপডেট ও অবগত থাকবেন। এই ট্যাবের সমন্বয়ে দেশে ২৫ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম তৈরি করা হবে। এর পাশাপাশি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে আরো ২০ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।

মন্ত্রী আরো জানান, দেশের ৫০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম (জিআইএস) ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে সামাজিক ও ভৌগোলিক বৈষম্য নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যেই ১৫ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য একটি করে ‘ইউনিক এডুকেশন আইডি’ চালু করার ব্যবস্থা হাতে নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের সনাতন জিপিএ-নির্ভর পড়াশোনার বাইরে নিয়ে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা শুধু খাতা-কলম নিয়ে জিপিএ ৫ পাওয়ার সেই সোনার হরিণের পিছনে ছুটে বেড়াক, প্রধানমন্ত্রী তা চান না। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আগ্রহে শিক্ষার্থীদের জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামের একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যার আওতায় ৩০০ শিক্ষককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া উন্নত বিশ্বের সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দেশে যদি জন্ম নিবন্ধনের পর থেকেই ন্যাশনাল আইডি বা ভোটার আইডির মতো একটি স্থায়ী নম্বর দেওয়া যেত, তবে স্কুল সিস্টেমে নতুন করে এই আইডি চালু করার প্রয়োজন হতো না।

পরিবেশ সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ উদ্যোগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ড. মিলন বলেন, দেশের প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বছরে ‘অন্তত একটি করে গাছ লাগাতে হবে এবং এই পরিকল্পনার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এসংক্রান্ত একটি স্টার্টআপ ইনোভেশন শোকেস অনুষ্ঠান আগামীকাল বিকেল ২টায় চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি আগামী বছর থেকে সারা দেশে ২৪ হাজার করে বিএনসিসি ক্যাডেট তৈরির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’

বক্তব্যে বান্দরবানের এক দুর্গম এলাকার প্রধান শিক্ষকের সংগ্রামের গল্প তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, থানচির রেমাক্রি নদীপথের দুর্গম এলাকায় ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘হিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ টিকিয়ে রাখতে প্রধান শিক্ষক বাম খিয়াং মিলান এক ব্যতিক্রমী সংগ্রাম চালাচ্ছেন। ৬৫ জন শিক্ষার্থীর অধিকাংশ পরিবার দরিদ্র হওয়ায় তারা ঠিকমতো বেতন দিতে পারেন না। এই শিক্ষক ও কর্মচারী সংকট মোকাবিলায় প্রধান শিক্ষক নিজে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালিয়ে পর্যটক আনা নেওয়া করেন। সেখান থেকে আয় হওয়া ৪০ হাজার টাকার মধ্যে ৩০ হাজার টাকাই তিনি স্কুলের পেছনে খরচ করেছেন। এই স্কুলটি টিকিয়ে রাখার জন্য করা একটি আবেদন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তিন্দু এলাকার ওই স্কুলটিকে জাতীয়করণ করার জন্য এরইমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন।

মাদরাসা শিক্ষকদের বকেয়া বেতনের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, এনটিআরসিএর মাধ্যমে মাদরাসায় প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তাদের বেতনের জন্য প্রতি মাসে ৫০১ কোটি টাকা প্রয়োজন হলেও বাজেট সংকটের কারণে এই মাসে বেতন দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে অর্থমন্ত্রী অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ১০০ কোটি টাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন এবং আগামী জুলাই মাসে বাকি সব টাকা পরিশোধের কথা দিয়েছেন।

সব শেষে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর ভাতার সমস্যার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ২০২০ সাল থেকে যেসব শিক্ষক অবসরে গেছেন, তারা কেউই এখন পর্যন্ত কোনো অবসরভাতা বা কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পাচ্ছেন না।