kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

সুনসান নীরব ঢাবির চারুকলা

মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজনে মার্চের শেষ ও এপ্রিলের প্রথম দুই সপ্তাহ মেতে থাকতো চারুকলা

রফিকুল ইসলাম   

৪ এপ্রিল, ২০২০ ১৫:২৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সুনসান নীরব ঢাবির চারুকলা

বছর ঘুরে মার্চ মাস আসলে চারুকলার শিক্ষার্থীদের দম ফুরানোর ফুরসত থাকে না। কারণ পহেলা নববর্ষের মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজনটি হয় তাদের হাতেই। মধ্য মার্চ থেকেই শুরু হয় মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি। পহেলা বৈশাখের আগে দিন সবকিছু শেষ হয়। আর বাংলা নববর্ষের প্রথমদিন সকাল হলেই রাজধানীর রাস্তায় বের হয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের নানা অনুষঙ্গ মেশানো মঙ্গল শোভাযাত্রা।

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের কারণে এবার বৈশাখের সব আয়োজন ভেস্তে গেছে। তাই এবার হচ্ছে না জাতিসংঘের ইউনেস্কো ঘোষিত অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা। আর এই কারণে মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজনের কেন্দ্রস্থল চারুকলায় নেই কোনো হৈ চৈ, নেই মানুষের ভীড়। এখন কেবলই সুনসান নীরবতা।

উইকিপিডিয়ার তথ্যানুযায়ী, ১৯৮০’র দশকে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ঐক্য এবং একইসঙ্গে শান্তির বিজয় ও অপশক্তির অবসান কামনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউটের উদ্যোগে ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে সর্বপ্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রচলন হয়। প্রতিবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীগণ পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে এই আনন্দ শোভাযাত্রা বের করে।

শোভাযাত্রার অনতম আকর্ষণ, বিশালকায় চারুকর্ম পুতুল, হাতি, কুমীর, লক্ষ্মী পেঁচা, ঘোড়াসহ বিভিন্ন শিল্পকর্ম। মুখোশ, সাজসজ্জ্বা, বাদ্যযন্ত্র ও নৃত্য এবং বাঙালী সাংস্কৃতির ঐতিহ্যও স্থান পায় এই শোভাযাত্রায়। প্রতি বছরই একটি যেকোনো একটি বিষয়কে প্রতিপাদ্য ধরা হয়। গত বছর মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য ছিল ‘মস্তক তুলিতে দাও অনন্ত আকাশে’। ছিল পেঁচা, হরিণ, হলুদ পাখি, হাতি, সিংহ, ঘোড়া ইত্যাদিও প্রতীক।

এবছর মঙ্গল শোভাযাত্রা তৈরির দায়িত্বে ছিল চারুকলার ২২তম ব্যাচ। নিয়ম অনুযায়ী, এই ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আয়োজকের ভূমিকায় থাকেন। শিক্ষকরা নানান নির্দেশনা দেন আর জুনিয়র ব্যাচের শিক্ষার্থীরা সহযোগিতা করে থাকেন।

আয়োজন ব্যাচের শিক্ষার্থী ফাহিম ইসলাম লিমন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সব প্রস্তুতিই ছিল, কমিটিও গঠন করা হয়েছে কিন্তু করোনার কারণে মঙ্গল শোভাযাত্রা সম্ভব হচ্ছে না। মার্চের মাঝামাঝি কিংবা শেষ সপ্তাহে মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি শুরু হয়। তবে করোনার কারণে প্রস্তুতি শুরু করা যায়নি। যদিও সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।’

তিনি বলেন, মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজনে চারুকলার সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীদের অনুদানে তৈরী হয়। বিভিন্ন লোকজ মোটিফ ও চিত্রকর্ম তৈরীর পর সেটা বিক্রির আয় থেকে ব্যয় নির্বাহ করা হয়। কিন্তু করোনায় রাজধানীজুড়ে অচলাবস্থার কারণে সেটা বাতিল করা হয়েছে। যার জন্য কোনো কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না। শোভাযাত্রা প্রস্তুতি শুরু হলেই মানুষের অনাগোনায় সবসময় ভীড় লেগে থাকতো চারুকলায় কিন্তু এবার চিত্র ভিন্ন। সবকিছু বন্ধ থাকায় চারুকলা এখন ফাঁকা কিন্তু দীর্ঘসময় ধরে এমন চিত্র দেখা যায়নি।’

চারুকলার শিক্ষক আখতারুজ্জামান সিনবাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেকোনো জরুরী পরিস্থিতি কিংবা জঙ্গিবাদের হুমকির মধ্যেও মঙ্গল শোভাযাত্রা থেকে থাকেনি। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে জনসমাগম এড়িয়ে চলতে সরকারি নির্দেশনার কারণে সেটা করা সম্ভব হচ্ছে না। নববর্ষ উদযাপনে মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজনের সময় চারুকলার চিত্র কখনো এমনটা দেখা যায়নি। প্রস্তুতি শুরুর পর থেকে পহেলা বৈশাখের দিন পর্যন্ত শত শত মানুষের ভীড় দেখা যেত কিন্তু এবার চিত্র পুরোটাই উল্টো। মার্চ মাসের মাঝামাঝি কিংবা শেষ সপ্তাহে সব প্রস্তুতি শুরু হয়। আর সব আয়োজনে প্রায় একমাস বা কিছু কম সময় লাগে। কিন্তু করোনার কারণে এবার সবকিছুই থেমে গেছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা