রাজনীতি আমার কাছে কখনোই ক্ষমতার সিংহাসনে পৌঁছানোর সোপান ছিল না। এটি ছিল আমার রক্তে বহমান এক আদর্শ, আত্মার গভীরে লালিত এক বিশ্বাস, বিবেকের সঙ্গে করা এক আজীবনের অঙ্গীকার।
এই অঙ্গীকার রক্ষা করতে গিয়ে কতবার মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েছি, কতবার হামলার শিকার হয়েছি, কতবার কারাগারের নির্জন অন্ধকারে কাটিয়েছি—তার কোনো হিসাব রাখিনি। পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছি; সেই গুলির ক্ষত আজও শরীরে যেমন বহন করি, তেমনি তার যন্ত্রণা প্রতিদিন হৃদয়ের গভীরেও অনুভব করি। প্রতিটি ব্যথা আমাকে শুধু একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়—আদর্শের পথে হাঁটার মূল্য কখনোই সহজ নয়।
আমি কখনো প্রাপ্তির হিসাব কষে রাজনীতি করিনি। পদ-পদবির মোহ আমাকে টানেনি; করতালির শব্দও আমার পথচলার প্রেরণা ছিল না। আমার একমাত্র শক্তি ছিল বিশ্বাস—দুঃসময়ে যে বিশ্বাস আমাকে রাজপথে দাঁড়াতে শিখিয়েছে, অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করতে শিখিয়েছে।
তবু নিয়তির নির্মম পরিহাসে বারবার বঞ্চিত হয়েছি। কখনো মনে হয়েছে, যাদের রক্তে সংগ্রামের ইতিহাস লেখা হয়, সুসময়ের আলোয় তাদের নামই সবচেয়ে আগে মুছে যেতে বসে। এই বঞ্চনা কষ্ট দেয়, বুকের ভেতর নীরব রক্তক্ষরণ ঘটায়; কিন্তু আমার আদর্শকে এক মুহূর্তের জন্যও নত করতে পারেনি।
আজও আমার আস্থা অটুট। দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব জনাব তারেক রহমানের প্রতি আমার বিশ্বাস অবিচল। কারণ আমি মনে করি, সত্যকে হয়তো কিছু সময়ের জন্য আড়াল করা যায়, কিন্তু চিরদিনের জন্য মুছে ফেলা যায় না। ত্যাগের মূল্যায়ন বিলম্বিত হতে পারে, কিন্তু ইতিহাস কখনো প্রকৃত ত্যাগীদের সঙ্গে অবিচার করে না।
আমি আজও সেই পথের পথিক—যে পথ রক্তে রঞ্জিত, অশ্রুতে সিক্ত, তবু বিশ্বাসে আলোকিত। যদি আবারও বেছে নিতে বলা হয়, তবু আমি আদর্শের এই পথই বেছে নেব। কারণ কিছু বিশ্বাসের মূল্য পদে নয়, কিছু ত্যাগের মূল্য প্রশংসায় নয়—সেগুলোর মূল্য লেখা থাকে ইতিহাসের গভীরতম পাতায়।
মো. তরিকুল ইসলাম তারিক
যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ এবং
সাবেক নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।




