• ই-পেপার

অলিভিয়াই প্রথম মানুষ যার শরীরে নেই ব্যথা, ঘুম ও ক্ষুধা!

মার্কিন মুলুকের কাহিনি

ককেশিয়ান এক নারীর বিচিত্র জগৎ!

ড. রশিদ উল আহসান চৌধুরী
ককেশিয়ান এক নারীর বিচিত্র জগৎ!
সংগৃহীত ছবি

মিনেসোটার ডাউন টাউন মিনিয়াপলিস থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে ছিমছাম সুন্দর ছোট্ট উপশহর বারন্সভিলের অবস্থান। এই ছোট শহরটার আয়তন প্রায় ২৭ বর্গমাইল। আর এখানেই ১৭৬০ একর জায়গাজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মোট ৭৬টি পার্ক। ফলে বারন্সভিল শহরের যেকোনো জায়গায় বসবাসরত যেকোনো নাগরিক বাসা থেকে বেরিয়ে কয়েক কদম হাঁটলেই একটা পার্কের সন্ধান পেয়ে যাবেন। এতগুলো পার্কের মধ্যে একটি পার্ক নিকলে এভিনিউয়ের পাশ ঘেঁষে ৭৬ একর জায়গা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এর নাম ক্রস টাউন ওয়েস্ট পার্ক। এই পার্কে আছে হাঁটার জন্য লম্বা একটা ট্রেইল। আছে মাঝারি সাইজের দুটো লেক। আর সারা পার্কজুড়ে ছড়িয়ে আছে এলম, গ্রিন অ্যাশ, ম্যাপেল, বার্চ, ওক ও জানা-অজানা হরেক রকমের গাছ গাছালি।

পার্কের ভেতর হাঁটাচলা করলেই গভীর বনে হাঁটার অনুভূতিটা সহজেই পাওয়া যায়। সারা সামার জুড়ে লেক দুটোর টইটুম্বুর স্বচ্ছ কালচে নীল জলে বিচরণ করে এক ঝাঁক বিভিন্ন প্রজাতির হাঁস, মিনি আকারের কচ্ছপ আর বেশ কিছু সাদা আর খয়েরি রঙের বক; যাদের মূল উদ্দেশ্য লেক থেকে মাছ শিকার করে উদরপূর্তি করা। ট্রেইলের আশপাশের জঙ্গলে বিচরণ করে অসংখ্য কাঠবিড়ালি আর ছাই রঙের খরগোশ। মাঝে মাঝে এক রঙা হরিণ এবং টার্কি প্রজাতির মোরগেরও দেখা মেলে।

এক দিন এই ট্রেইল দিয়ে হাঁটতে গিয়ে লেকের মাঝ বরাবর উঠে যাওয়া কাঠের পাটাতনের ব্রিজে দাঁড়িয়ে এক ককেশিয়ান মহিলাকে দেখতে পেলাম। তিনি পরম মমতায়, নিবিষ্ট মনে একটা প্যাকেট থেকে ওটের তৈরি রুটি বের করে পানিতে ছুড়ে ফেলছেন। আর ব্রিজের নিচে এক দঙ্গল খাদ্য রসিক হাঁস সেগুলো কবজা করতে চারদিকে পাঁয়তারা করছে। এর মাঝে বেশ কয়েকটা মিনি কচ্ছপ পানির নিচে সাঁতরাতে সাঁতরাতে খোল থেকে মুখটা পানির ওপরে তুলে ওটের টুকরোগুলো ধরতে প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু হাঁসগুলোর দাপট আর দ্রুত গতির কারণে তাদের সব প্রচেষ্টাই বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। 

আরেক দিন দেখি সেই মহিলাই একটা ব্যাগ হাতে ট্রেইল ধরে ধীর গতিতে হেঁটে যাচ্ছেন আর তার পেছনে পেছনে এক ঝাঁক হাঁস প্যাক প্যাক শব্দ করে তাকে অনুসরণ করছে। একদম যেন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা আর তার অনুগত অনুসারী। কোনো কোনো দিন দেখি প্রচণ্ড বাতাসের কারণে রাস্তাজুড়ে পরে থাকা গাছের ভাঙা ডাল আর লতা পাতাগুলো সরিয়ে পরম যত্নে রাস্তার পাশে সরিয়ে রাখছেন। আবার কোনো কোনো দিন দেখি পার্কের বেঞ্চে তিনি ধ্যানরত ঋষির মতো নির্বাক হয়ে বসে আছেন আর তার পায়ের আশপাশে বেশ কয়েকটা কাঠবেড়ালি আর খরগোশ ঘুরে ঘুরে রাস্তা থেকে খাদ্য দানা তুলে নিয়ে উদরস্ত করছে। মানুষ আর প্রাণীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান দেখে বিস্মিত হই। ধারণা করি, এই মহিলা নিশ্চিত পার্কের কোনো কর্মকর্তা হবেন। কিন্তু আমার ধারণা ভ্রান্ত ছিল।

বাঙ্গাল আর মার্কিনিদের সাংস্কৃতিক আচার ব্যবহার অনেক ক্ষেত্রেই বিপরীতধর্মী। এখানে ট্রেইল ধরে হাঁটার সময় পাশ দিয়ে অতিক্রম করে যাওয়া মার্কিনিরা মৃদু হাসি দিয়ে ‘হাই’ শব্দটা উচ্চারণ করে। আর আবহাওয়া চমত্কার হলে ‘নাইস ওয়েদার’ বা ‘লাভলি ডে’ এ ধরনের মন্তব্য করে পাশ কেটে বেরিয়ে যায়। মার্কিনিদের এ ধরনের ব্যবহার ভালো লাগে আর মনটাকে করে তোলে প্রফুল্ল। তেমনি  দারুন এই মহিলার সাথে হাই হ্যালো করতে করতে একদিন পরিচয় হয়ে গেল। নাম তার প্যাটরিসিয়া লিলি। তুলা রাশির জাতিকা এই মহিলার জন্ম ১৯৫৩ সালের অক্টোবর মাসের ১৮ তারিখ বরফ ঝরা এক শীতের রাতে। মহিলা একজন পাক্কা মিনেসোটিয়ান। অর্থাত্ এই মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন, শৈশব, কৈশোর আর যৌবনে এখানেই বেড়ে উঠেছেন। বিয়ে, চাকরিবাকরি করে এখানেই থিতু হয়েছেন। এখন অনেক দিন ধরে একাকী অবসর কাটাচ্ছেন। পার্কের অতি নিকটেই তার নিজের বাড়ি, এখন তিনি সেখানেই থাকেন। অবাক বিষয় হলো তিনি কখনোই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সফর করেননি এবং অনেক মার্কিনির মতো বহিঃবিশ্ব সম্পর্কে তার ধারনা একেবারেই সীমিত।

প্যাটরিসিয়া খোদ রাজধানী মিনিয়াপলিসের কেন্দ্র সেন্টপলে জীবনের বড় অংশ কাটিয়েছেন। বেবি বুমার জেনারেশনে জন্মগ্রহণকারী এই মহিলার ছিল আরো সাত ভাই বোন। বাবা ছিলেন একজন সেলসম্যান আর পরিবারের আকার ছিল যথেষ্ট বড়। তাই পরিবারের কষ্ট লাঘব করতে হাই স্কুল পার হয়েই স্বাধীন জীবিকা অর্জনের জন্য  মাত্র ১৭ বছর বয়সে প্যাটরিসিয়া ঘর  হতে বেরিয়ে পরেন। আকাশ পথে উড়ালের স্বপ্ন তার অনেক দিনের। তাই এয়ারলাইনসে এয়ার হোস্টেসের চাকরি নিয়ে বহু বছর আমেরিকার আকাশ পথে এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়িয়েছেন। পরে এক রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে চাকরি ছেড়ে দেন এবং নিজেকে হোম মেকারে রূপান্তরিত করেন। দীর্ঘ বিবাহিত জীবনে তার একটা ছেলেসন্তানও জন্মগ্রহণ করে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় মাত্র চব্বিশ বছর বয়সে লাঙ্গ ক্যানসারে ছেলে মৃত্যুবরণ করে। ছেলের মৃত্যুর পর প্যাটরিসিয়া মানব কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করে কেয়ার গিভারের চাকরি গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে অসংখ্য প্রবীণ দম্পতির দেখভাল করেন। অবসর গ্রহণের পর বর্তমানে তিনি তার সাধ্যের মধ্যে প্রাণপরিবেশ রক্ষায় নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন।

প্রাণিকুলের প্রতি নিবেদিত প্রাণ এই নারী ছোটবেলা থেকেই বিপন্ন এবং অকুলে ডোবা প্রাণীদের বিভিন্ন জায়গা থেকে খুঁজে বের করে নিজের বাসস্থানে নিরাপদ আশ্রয় দিতেন। এই তালিকা খুবই লম্বা আর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত আছে অসংখ্য প্রাণী। যেমনঃ  কুকুর, বেড়াল, খরগোশ, টিয়া এবং গিনিপিগ। প্যাটরিসিয়ার যুক্তি খুবই সরল-প্রাণীরা অবলা। বিশেষ করে তারা যখন সংকটে পরে, তখন তাদের দেখভাল করার কেউ থাকে না। কাজেই মানবকুলের দায়িত্ব অবলা এই প্রাণীদের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য খোলা মনে এগিয়ে আসা। প্রাণীদের কেবল খাবার দিলে হবে না, তাদের অস্তিত্ব রক্ষা করার জন্য পরিবেশের যত্ন নিতে হবে। পরিবেশকে নিরাপত্তা দিলেই প্রাণীরা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করতে পারবে। পার্কের কোনো বেতনভোগী কর্মকর্তা না হয়েও কেবল এ যুক্তিতে ভদ্রমহিলা পার্কের পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য বিনা পারিশ্রমিকে অষ্টমের পেয়াদার মতো প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন। খ্রিস্টান ক্যাথলিক ধর্ম পালনকারী প্যাটরিসিয়া তার এই কল্যাণমুখী কাজের জন্য ধর্মীয় নির্দেশাবলিকে সব চেয়ে বড় অনুপ্ররণা বিবেচনা করেন, আর প্রায়ই বলেন, জেসাস সেজ লাভ দাই নেইবার, বি ইট আ হিউম্যান বিং অর এন অ্যানিম্যাল। 

আর দশটা সাধারণ মার্কিনির মতো প্যাটরিসিয়া আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে মোটেই মাথা ঘামায় না। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কী ধরনের ঘটনা ঘটছে, সে বিষয়ে তার একেবারেই কোনো ধারণা নেই। তার চিন্তাভাবনা, দৃষ্টিভঙ্গি সব কিছুই ঘুরপাক খায়  মার্কিন মুলুক নিয়ে। এর বাইরে যে বিশাল একটা জনগোষ্ঠী আর বহু দেশের অস্তিত্ব আছে সে সম্পর্কে তার ইষৎ ধারণা আছে। কিন্ত  নেই একবিন্দুও কৌতূহল। এ ক্ষেত্রে সে সাধারণ মার্কিনিদের চিন্তাভাবনার আদর্শ প্রতিবিম্ব। প্যাটরিসিয়া লিলি অবশ্যই জানে বিশ্বে অনেক দেশ আছে যেগুলো অনুন্নত এবং ভঙ্গুর। এ দেশগুলোর জনগণ অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল। তাই সে মনে করে উন্নত দেশগুলোর উচিত পৃথিবীর সব সম্পদের সুষম বণ্টন করে আদর্শিকভাবে একটা ইউটোপিয়ান বিশ্ব সৃষ্টি করা। তবে সম্পদের সুষম বণ্টন কিভাবে করা যায়, আন্তর্জাতিক রাজনীতি সম্পর্কে স্বল্প ধারণা থাকায়, সে যথাযথ বিশ্লেষণ করতে পারে না। দুঃখের বিষয়, বাংলাদেশ সম্পর্কে প্যাটরিসিয়া লিলির কোনো ধারণা নেই। গুগল ম্যাপ আর ইন্টারনেট খুলে তাকে জ্ঞান দিতে হল। আর যখনই বলা হলো বাঙালি সমাজের সংস্কৃতি, ধ্যান-ধারণা, জীবনযাপন ও আচার-ব্যবহার অনেকাংশে মার্কিনিদের বিপরীতমুখী। কেন জানি তখন সে অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে বাংলাদেশকে দেখার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করল। সুযোগ-সুবিধা মতো তাকে বাংলাদেশ সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানাব। এই অপেক্ষায় আছি।  

লেখক : বিশেষ লেখক, কালের কণ্ঠ, যুক্তরাষ্ট্র

সন্তান জন্মের পর বাবার জীবনেও আসতে পারে বিষণ্নতার ঝড়

সঞ্জয় দে
সন্তান জন্মের পর বাবার জীবনেও আসতে পারে বিষণ্নতার ঝড়
সংগৃহীত ছবি

একজন নারীর মা হয়ে ওঠার পরের অধ্যায়টি একদিকে যেমন আনন্দের, তেমনি বহু চ্যালেঞ্জে ভরপুর। এসব নিয়ে গবেষণা, আলোচনা, তর্ক-বিতর্কের শেষ নেই। তবে যে পুরুষ বাবা হয়ে ওঠেন, তার জীবনেও আছে রূপান্তরের চ্যালেঞ্জ। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা যেমন নেই, তেমনি আছে সচেতনতার অভাব। কারণ ধরেই নেওয়া হয় পুরুষ মানেই শুধু আধিপত্যের গল্প। সংকট, দুর্বলতা অথবা চ্যালেঞ্জের কোনো জায়গা নেই একজন পুরুষের জীবনে। 

তবে আধুনিক সময়ের গবেষণা বলছে, পুরুষের জন্যও পিতৃত্ব সহজ কিছু নয়। সন্তানের জন্ম শুধু নারীকে বদলে দেয় না, পুরুষের জীবনেও গভীর জৈবিক, মানসিক ও সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে আসে। দুই দশকের বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, বাবা হওয়ার পর পুরুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, এমনকি সামাজিক ভূমিকাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে পারে।

সন্তান প্রসবের পর অনেক নারীর পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন বা প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতায় আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি অনেকেরই জানা। এই বিষণ্নতা কখনো কখনো গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। দীর্ঘদিনের বিষণ্নতা, উদ্বেগ, ক্লান্তি ও আবেগগত অস্থিরতায় ভুগে আত্মহনন কিংবা সন্তানকে হত্যার মতো ঘটনাও বিরল নয়। 

সাম্প্রতিক বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, মায়ের পাশাপাশি বাবারাও সন্তানের জন্ম-পরবর্তী বিষণ্নতা বা প্যাটার্নাল পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনে ভুগতে পারেন। শুধু তা-ই নয়, বিষণ্নতায় আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যাও চমকে ওঠার মতো। আবার বিষয়টি নিয়ে পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা প্রায় শূন্যের কোটায় থাকায় পিতৃত্বের জগতে পা রাখা পুরুষের জীবনে বড় ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বাবারা এমন এক সময়ে গিয়ে পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হন, যখন মায়েরা সন্তান জন্মদানের প্রাথমিক ধকলের পর্ব পার করে ফেলেছেন। ফলে তখন বাবাদের বিষণ্ন জীবন শুরু হলেও বিষয়টিকে সন্তানের জন্মের সঙ্গে সম্পর্কিত হিসেবে অনেকে ভাবতে পারেন না। এতে ধীরে ধীরে জটিল হতে পারে বাবাদের মানসিক সমস্যা। 

আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের জেএএমএ নেটওয়ার্ক জার্নালে চলতি বছরের মার্চে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, বাবাদের বিষণ্নতা ও স্ট্রেসজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অপ্রত্যাশিত একটি সময়ে বাড়তে থাকে। সন্তান জন্মের পর প্রথম বছরের শেষভাগে ৩০ শতাংশ বাবার ক্ষেত্রে এ ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। 

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, সারা বিশ্বে ২৯ থেকে ৪০ শতাংশ মা পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনে ভোগেন। বাংলাদেশে এই হার প্রায় ৩৯.১ শতাংশ বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সেদিক থেকে বৈশ্বিক বিভিন্ন গবেষণায় বাবাদের মধ্যে এই জটিলতায় আক্রান্তের হার ৩০ শতাংশ হওয়ার বিষয়টিও বেশ উদ্বেগজনক।   

গবেষকেরা ২০০৩ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে সুইডেনে জন্ম নেওয়া ১০ লাখেরও বেশি শিশুর বাবাদের তথ্য পর্যালোচনা করে রীতিমতো বিস্মিত হয়েছেন। দেখা গেছে, সন্তান মায়ের গর্ভে থাকার সময় এবং জন্মের পর প্রথম কয়েক মাসে বাবাদের মধ্যে বিষণ্নতা রোগের লক্ষণ প্রকাশ হওয়ার মাত্রা বেশ কম। তবে সন্তান জন্মের এক বছর পর অনেকের ক্ষেত্রে জটিলতা স্পষ্ট হতে শুরু করে। এ কারণে রোগটির সঙ্গে সন্তান জন্মের যোগসূত্র অনেকে ধরতে পারেন না। আর তাই বাবারা থাকেন সবার মনোযোগ, যত্ন ও সহমর্মিতার বাইরে।     

বিষয়টি নিয়ে নিউইয়র্কের নর্থওয়েল হেলথের সমন্বিত পরিচর্যা কর্মসূচির মেডিক্যাল ডিরেক্টর ডা. খাতিয়া মুন বেশ উদ্বিগ্ন। তিনি বলছিলেন, ‘নতুন সন্তানের আগমন মা-বাবা দুজনের জীবনেই ব্যাপক পরিবর্তন ও চাপ নিয়ে আসে। এ ক্ষেত্রে মায়ের স্বাস্থ্য কিছুটা গুরুত্ব পেলেও বাবার মানসিক স্বাস্থ্যের দিকটি সাধারণত সবার অলক্ষে থেকে যায়।’

তিনি বলেন, ‘বাবাদের মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাস্তবে তেমনটি খুব দেখা যায় না। আমরা আরো বেশি পরীক্ষা চালাতে পারলে হয়তো সংগ্রামরত বাবাদের শনাক্ত করে সহায়তা দিতে পারতাম।’

ডা. মুন মনে করছেন, সন্তান জন্মের পর সাধারণত নতুন মা ও শিশু সবার মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন। এতে করে পুরুষের মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যা নজর এড়িয়ে যাওয়া ঝুঁকিতে পড়ে। তিনি বলেন, ‘গর্ভধারণ করা মা ও নবজাতকের দুর্বল অবস্থার প্রেক্ষাপটে বাবারা অনেক সময় বেশি চাপের মধ্যে পড়েন। সহায়তাকারীর ভূমিকা নিতে গিয়ে তাদের ওপর ধীরে ধীরে মানসিক চাপ তৈরি হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এই ভূমিকা পালন করাও কঠিন হয়ে ওঠে।’

গবেষণা নিবন্ধটির প্রধান লেখক ডংহাও লু মনে করেন, সন্তান জন্মের পর মায়ের পাশাপাশি বাবার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্নের দিকেও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। গবেষণার ফল তুলে ধরে তিনি বলছেন, ‘বাবাদের ক্ষেত্রে বিষণ্নতায় আক্রান্ত হওয়ার চিত্রটি খানিকটা পরে দেখা যায়। এ জন্য সন্তান জন্মের অনেক পরেও বাবাদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির সংকেতগুলোর দিকে সতর্ক নজর দেওয়া প্রয়োজন।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্তানের জন্মের সঙ্গে সঙ্গে বেশির ভাগ পুরুষের মধ্যে দায়িত্ববোধের বোঝা চেপে বসে। সেই সঙ্গে সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, আর্থিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা, পরিবারকে সুরক্ষা দেওয়ার চাপ, এমনকি নিজের ক্যারিয়ার ও পরিবারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা নিয়ে উদ্বেগও বাড়তে পারে। আবার বিভিন্ন গবেষণায় শিশুর জন্মের পর প্রথম কয়েক মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত অনেক বাবার ঘুমের মান ও ঘুমের সময়—দুই ক্ষেত্রেই সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর ফলে ক্লান্তি, মনোযোগে ঘাটতি, ও কর্মক্ষমতায় ছেদ ঘটতে পারে। এর সবই শেষপর্যন্ত প্রভাব ফেলে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর। 

শিকাগোর ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়ের এক গবেষণাতেও বাবাদের পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনকে গুরুত্ব দেয়ার তাগিদ দেয়া হয়েছে। ২০২৩ সালে প্রকাশিত গবেষণা নিবন্ধে বলা হয়, বাবার বিষণ্নতা শনাক্ত ও চিকিৎসা করা গোটা পরিবারের জন্যই জরুরি। এর ফলে তার সঙ্গী ও সন্তানের সঙ্গেও সম্পর্কের উন্নতি ঘটে এবং সামগ্রিকভাবে পরিবারের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো হতে পারে।

এই গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ২৪ জনের মধ্যে ৩০ শতাংশের ক্ষেত্রেই সন্তান জন্মের ১ থেকে ১৫ মাসের মধ্যে বিষণ্নতার লক্ষণ শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা। অংশগ্রহণকারীদের গড় বয়স ছিল ৩১ বছর। তারা সবাই ২০২০ সালে স্ত্রী ও নবজাতকের স্বাস্থসেবার জন্য শিকাগোর ইউআই হেলথ টু-জেনারেশন ক্লিনিকে গিয়েছিলেন। ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়ের গবেষকেরা এ সময় দেখতে পান, এই বাবারা মা এবং সন্তানের স্বাস্থ্যসেবার ব্যাপারে বেশ যত্নশীল, কিন্তু তারা নিজেদের স্বাস্থ্যের প্রতি অবহেলা করছেন। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা স্বীকার করেছেন, তারা নিজেদের খারাপ অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রে দ্বিধা বোধ করেন। কারণ তাদের আশঙ্কা, এগুলো প্রকাশ করলে সন্তানের মায়ের ওপর আরও মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। 

কিছু গবেষণায় দেখা যায়, পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন সাধারণভাবে প্রায় ৮ থেকে ১৩ শতাংশ বাবাকে আক্রান্ত করে। তবে সন্তানের মাও এই রোগে আক্রান্ত হলে বাবাদের মধ্যে আক্রান্তের হার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। অর্থাৎ নবজাতক ও মায়ের সেবাযত্নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত বাবারাই পরে বিষণ্নতা রোগে আক্রান্ত হওয়ার বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। 

ডা. মুন বলছেন, বাবা হওয়ার বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পুরুষকেও প্রচণ্ড সংগ্রাম করতে হয়। তাই মায়ের পাশাপাশি বাবাদের প্রতিও সমাজ ও পরিবারের সহমর্মী হওয়া উচিত। পুরুষ দৃশ্যত শক্তিধর হলেও তারও মানসিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে। তারা সহায়তা না পেলে শেষপর্যন্ত পরিবারের অন্যকে সাহায্য করার ভূমিকাও ঠিকমতো পালন করতে পারে না।

বাবাদের মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত যেকোনো উদ্বেগ বা উপসর্গের প্রতি মনোযোগ বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন ডা. মুন। পুরুষের সংকটের বিশেষ আরেকটি দিক তুলে ধরে তিনি বলছেন, ‘গর্ভবতী অথবা নতুন মা অনেক বেশি চিকিৎসাসেবা, লোকজনের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ ও সামাজিক যোগাযোগের সুযোগ পান। বাবাদের ক্ষেত্রে এটি ঘটে না। কারণ পুরুষ এসব বিষয় নিয়ে নিজেদের পরিসরে তেমন আলোচনা করে না। এগুলো নিয়ে অন্য পুরুষের সঙ্গে সংযোগ গড়ে তোলার প্রবণতাও তার কম।’ 

আর তাই নতুন সন্তানের জনকদেরও নিজস্ব নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরামর্শ দিচ্ছেন ডা. মুন। এই নেটওয়ার্কের সদস্যরা একদিকে যেমন নিজেদের পিতৃত্বের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করবেন, তেমনি যেকোনো মানসিক সংকট বা জটিলতায় পরস্পরের দিকে বাড়িয়ে দেবেন সহযোগিতার হাত।

অবসরে জীবনের শেষ নয়, নতুন শুরু

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
অবসরে জীবনের শেষ নয়, নতুন শুরু
সংগৃহীত ছবি

দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের প্রবীণ জনগোষ্ঠির অবসর ভাবনাটা ছিল গ্রামকেন্দ্রিক। ভালো কাজের সুযোগের আশায় গ্রাম ছেড়ে শহরে আসা মানুষের কর্মজীবনটা ব্যস্ত শহরেই কাটাতেন। কষ্ট করে সঞ্চয় করতেন। তারপর শেকড়ের টানে ফিরে যেতেন গ্রামে। শৈশবের স্মৃতি, চেনা পরিবেশ, আত্মীয়-স্বজন তাদের গ্রামে টেনে নিত।

তবে প্রবীণদের অবসর ভাবনাটা পাল্টে যাচ্ছে দ্রুতই। ভারতের বিপুলসংখ্যক প্রবীণ নাগরিক এখন আর নিছক বুড়ো হওয়ার জন্য এক মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজছেন না। তারা জীবনের প্রতিটি ক্ষণ উদযাপন করতে চান। তারা এখন কমিউনিটি খুঁজছেন, নগরজীবনের সুবিধা তাদের জীবনের যে আয়েশ এনেছে, গ্রামে ফিরে সেটা হারাতে চান না।

হাতের কাছে স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক যোগাযোগ, ফিটনেস সুবিধা, নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য আর উদ্দেশ্যপূর্ণ জীবনযাপনই এখন তাদের অনেকের আকাঙ্ক্ষা। বৃদ্ধাশ্রমের প্রাচীন ধারণায়ও বদল এসেছে। কারো বোঝা হয়ে নয়, নিজের উপার্জিত অর্থে শেষ জীবনটা নিজের মতো করেই কাটাতে চান তারা। উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থা, নিয়মিত জীবনযাপনে মানুষের গড় আয়ুও বেড়েছে, তাই বাড়ছে প্রবীণ জনগোষ্ঠির সংখ্যাও। ২০৩১ সালের মধ্যে ভারতের প্রবীণ জনসংখ্যা প্রায় ১৯ কোটি ৪০ লাখে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ক্রমবর্ধমান প্রবীণ জনগোষ্ঠিই ভারতের আবাসন খাতে সৃষ্টি করেছে নতুন সম্ভাবনা।

২০২৫ সালে ভারতের প্রবীণ আবাসন বাজারের মূল্য ছিল ৩ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালে এই বাজার ৪ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। ২০৩১ সালের মধ্যে এটি ১৪ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

ভারতের প্রবীণদের অবসর ভাবনায় এখনও দক্ষিণের শহরগুলোই এগিয়ে আছে। এক জরিপে দেখা গেছে, ভারতের পরিকল্পিত প্রবীণ আবাসনের ৬০ শতাংশই দক্ষিণ ভারতের শহরগুলোতে অবস্থিত। এর মধ্যে মনোরম আবহাওয়া, তুলনামূলকভাবে পরিচ্ছন্ন বাতাস, চমৎকার সব হাসপাতালের কারণে কোয়েম্বাটুর অনেকের পছন্দ। প্রযুক্তি খাতে কাজ করা প্রবীণদের প্রথম পছন্দ বেঙ্গালুরু। যারা নাগরিক সুবিধা ষোলআনা চান, কিন্তু নাগরিক ব্যস্ততা চান না; তাদের পছন্দ পুনে।

প্রবীণ আবাসন কেমন হওয়া উচিত, এই শহরগুলো তার একটা মানদণ্ড ঠিক করে দিয়েছে। আর এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রবীণদের আকৃষ্ট করতে নানা পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসছে ভারতের অন্য শহরগুলোও। 

ডেভেলপাররা এখন নতুন জায়গা খুঁজছেন। ভারতের সবচেয়ে বড় রিয়েল এস্টেট ডেভলপার ডিএলএফ গুরুগ্রামে প্রবীণদের জন্য একটি ডেডিকেটেড আবাসন প্রকল্পের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। ৫ লাখ বর্গফুট এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই আবাসনে থাকবে সব ধরনের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা, যাতে প্রবীণরা শহরে থেকেও নাগরিক কোলাহলের বাইরে নিরিবিলি জীবন কাটাতে পারেন। এই প্রকল্পে ২ হাজার কোটি রুপির অথনৈতিক সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে।

ডিএলএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা আকাশ ওহরি মনে করেন, ভারত একটি ঐতিহাসিক ডেমোগ্রাফিক সময়ে প্রবেশ করছে। আধুনিক ভারতে প্রবীণদের অবসর ভাবনাটা তিনি অল্প কথায় ফুটিয়ে তুলেছেন চমৎকারভাবে, ‘আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী, ডিজিটালি সংযুক্ত এবং গভীরভাবে সক্রিয় প্রবীণরা এখন অবসর জীবনকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছেন।’

তার মতে, আধুনিক অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা একাকীত্বের পরিবর্তে স্বাধীনতা, উদ্দেশ্য, সামাজিক যোগাযোগ এবং শহুরে জীবনযাত্রার নাগাল পেতে চান। তার যুক্তি হলো, ভবিষ্যৎ লুকিয়ে আছে পেশাদারভাবে পরিচালিত এমন সব কমিউনিটির মধ্যে—যা প্রবীণদের সুস্থতা, নিরাপত্তা, সামাজিক ব্যস্ততা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সারা জীবন ধরে গড়ে তোলা শহর ও পরিচিত মহলের সাথে যুক্ত থাকতে সাহায্য করবে।

যাদের অবসর ভাবনায় আধ্যাত্মিকতা প্রাধান্য পায়, তাদের পছন্দ মন্দিরকেন্দ্রিক শহর। এখানে এগিয়ে আছে তিরুপতি। মানাসুম সিনিয়র লিভিং সম্প্রতি তিরুপতিতে ‘ময়ূরা’ নামে একটি প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছে, যা তিরুপতিতে প্রবীণদের জন্য প্রথম গেটেট কমিউনিটি। এই প্রকল্পে আরাম ও সামাজিক জীবনের পাশাপাশি প্রবীণদের আধ্যাত্মিক সন্তুষ্টির কথাও মাথায় রাখা হয়েছে।

গুজরাটও প্রবীণদের নজর কাড়ার জন্য নানান পরিকল্পনায় নিজেকে গড়ে তুলছে। আহমেদাবাদ, গান্ধীনগর, ভাদোদরা এবং সুরাটের মতো শহরগুলোতে বড় বড় আধুনিক সব হাসপাতাল আছে, যেটা প্রবীণদের আকৃষ্ট করার বড় নিয়ামক। তবে নিছক স্বাস্থ্যসেবা নয়; গুজরাটের অবকাঠামোভিত্তিক উন্নয়ন মডেল, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, রাস্তাঘাট, বিমানবন্দর, মেট্রো প্রকল্প পুরো রাজ্যে জীবনযাত্রার মান উন্নত করেছে।

গিফট সিটি হলো গুজরাটের সবরচেয়ে বড় আকর্ষণের নাম। গিফট সিটি নামে পরিচিত গুজরাট ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স টেক সিটি গুজরাটের গান্ধীনগর এবং আহমেদাবাদের মধ্যবর্তী সবরমতি নদীর তীরে অবস্থিত দেশের প্রথম পরিকল্পিত 'স্মার্ট সিটি' এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক পরিষেবা কেন্দ্র। ভৌগোলিকভাবে ভারতের ভেতরে হলেও, গিফট সিটির আন্তর্জাতিক জোনে বিদেশি মুদ্রায় লেনদেন ও ব্যবসা করার  সুবিধা রয়েছে। এখানে বিশ্বের বড় বড় ব্যাংক, বিমা কোম্পানি, স্টক এক্সচেঞ্জ এবং ফান্ড ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের শাখা রয়েছে, রয়েছে বিশেষ কর সুবিধাও। মূলত দুবাই, সিঙ্গাপুরের সাথে প্রতিযোগিতার জন্যই গড়ে তোলা হয়েছে গিফট সিটি। যারা মানসম্মত অবসর জীবনযাপনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের পকিল্পনা করছেন, তাদের জন্য প্রথম পছন্দ হতে পারে গিফট  সিটি।

হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত দেরাদুন ঐতিহাসিকভাবে অনেকের অবসরের স্বপ্ন। যারা আধুনিক নগরজীবনের দ্রুতগতি এড়িয়ে হেলেদুলে শেষ জীবনটা কাটাতে চান তাদের প্রথম পছন্দ দেরাদুন। দিল্লি-দেরাদুন এক্সপ্রেসওয়ে নির্মিত দূরে থেকেও কাছে থাকার সুবিধা অনুভূতি পাবেন এখানকার বাসিন্দারা।

বড় শহরগুলোর তুলনায় পরিচ্ছন্ন বাতাস, নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু এবং উল্লেখযোগ্যভাবে কম দূষণের মাত্রা উত্তর ভারতের পাহাড়ি শহর কাসৌলিকেও অনেকের অবসরযাপনের গন্তব্য করে তুলেছে। চমৎকার যোগাযোগ ব্যবস্থা কাসৌলিকে এগিয়ে রাখবে। এখানে থাকলে প্রয়োজনে চণ্ডীগড়, মোহালি, পাঞ্চকুলা এবং সোলানের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা সুবিধাও হাতের নাগালে থাকবে। সুস্থতা, কানেক্টিভিটি আর প্রশান্তি- একসাথে চাইলে কাসৌলিকে ভাবনার বাইরে রাখা মুশকিল।

শুরুতে যেমনটা বলা হয়েছে, প্রবীণ নাগরিকদের অবসর ভাবনায় দারুণ পরিবর্তন এসেছে। ভারতের প্রবীণ নাগরিকরা আগের প্রজন্মের তুলনায় অনেক বেশি স্বাস্থ্যবান, সামর্থ্যবান এবং স্বাবলম্বী। তারা দীর্ঘায়ু হচ্ছেন এবং অবসর জীবন থেকে তাদের প্রত্যাশাও বেশি। তারা হাসপাতালের সুবিধা যেমন চান, তেমনি যোগব্যায়ামের কেন্দ্রও চান। তারা নিরাপত্তা চান, আবার একই সাথে সামাজিক জীবনও চান। তারা স্বাচ্ছন্দ্য চান, কিন্তু একাকীত্ব বা বিচ্ছিন্নতা চান না। তাদের কাছে অবসর মানে জীবনের শেষ নয়। অনেকের কাছে অবসর এখন জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা মাত্র।

ফিফা বিশ্বকাপ

জার্মানির সমর্থনে সোয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান খাবির উদ্দিন খানের র‍্যালি

অনলাইন ডেস্ক
জার্মানির সমর্থনে সোয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান খাবির উদ্দিন খানের র‍্যালি

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উৎসবমুখর আবহে জার্মান জাতীয় ফুটবল দলের প্রতি সমর্থন জানিয়ে রাজধানী ঢাকায় এক বর্ণাঢ্য র‍্যালির আয়োজন করেন সোয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান খাবির উদ্দিন খান। দীর্ঘদিন ধরে জার্মান ফুটবলের একজন নিবেদিতপ্রাণ সমর্থক হিসেবে তিনি এবারও জার্মানিকে বিশ্বকাপের অন্যতম শিরোপা প্রত্যাশী দল হিসেবে দেখছেন।

র‍্যালিতে অংশ নেয় জার্মানির জাতীয় পতাকা ও বিশ্বকাপের ফিক্সচার সংবলিত বিশেষভাবে ব্র্যান্ডিংকৃত একাধিক পিকআপ ভ্যান। পুরো র‍্যালিজুড়ে পথচারী ও ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে হাজার হাজার জার্মান পতাকা ও জার্সি বিতরণ করা হয়, যা রাজধানীব্যাপী বিশ্বকাপের উচ্ছ্বাসকে আরো প্রাণবন্ত করে তোলে।

র‍্যালিটি রাজধানীর ইস্কাটন থেকে শুরু হয়ে মগবাজার, বিচারপতি ভবন, ফকিরাপুল, মতিঝিল, টিকাটুলি, মধুমিতা সিনেমা হল, আরামবাগ, শাহজাহানপুর, রমনা, হাতিরঝিল, সোনারগাঁও, ফার্মগেট, জাতীয় সংসদ ভবন, ধানমন্ডি ও কলাবাগান প্রদক্ষিণ করে শাহবাগে এসে শেষ হয়।

এ উপলক্ষে খাবির উদ্দিন খান বলেন, ‘ফুটবল এমন একটি খেলা, যা মানুষকে ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক সীমারেখার ঊর্ধ্বে নিয়ে গিয়ে একসূত্রে গাঁথে। জার্মানি সবসময় শৃঙ্খলা, দলগত চেতনা এবং লড়াকু মানসিকতার প্রতীক। এই মূল্যবোধগুলো আমাকে অনুপ্রাণিত করে। বিশ্বকাপের এই আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করতেই আমাদের এই আয়োজন।’

সোয়ান গ্রুপ বিশ্বাস করে, খেলাধুলা সমাজে ইতিবাচকতা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়। সেই বিশ্বাস থেকেই বিশ্বকাপের এই বৈশ্বিক উৎসব উদযাপন এবং ফুটবলপ্রেমীদের আনন্দে শামিল হওয়ার লক্ষ্যে এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

খাবির উদ্দিন খান আশা প্রকাশ করেন যে, এ ধরনের আয়োজন বিশ্বকাপকে ঘিরে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আরও উৎসাহ ও সম্প্রীতির পরিবেশ সৃষ্টি করবে এবং খেলাধুলার প্রতি নতুন প্রজন্মকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে।

অলিভিয়াই প্রথম মানুষ যার শরীরে নেই ব্যথা, ঘুম ও ক্ষুধা! | কালের কণ্ঠ