নড়াইল লোহাগড়া উপজেলায় নলদি ইউনিয়নে ব্রাহ্মণীনগর গ্রামে মাদক ব্যবসার অভিযোগ এনে ‘মব সৃষ্টি করে’ বাড়িঘরে হামলা করে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। রবিবার ( ২১ জুন) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণী ডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার সোমবার (২২ জুন) দুপুরে সামাদ শেখসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে লোহাগড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ব্রাহ্মণীনগর গ্রামের বাসিন্দা সবুজ সিকদারের কাছে কিছুদিন আগে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন অভিযুক্ত কয়েকজন। চাঁদার টাকা না দিলে গ্রামে বসবাস করতে দেওয়া হবে না বলে তাকে হুমকি দেওয়া হয়। সবুজ সিকদারের অভিযোগ, গত রবিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালান। সে সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না।
বাড়িতে থাকা তার বাবা, বোন ভাই ও ভগ্নিপতির কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে তার বাবাকে মারধর করা হয় এবং বাড়িঘর ও দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়। এজাহারে আরো বলা হয়েছে, হামলাকারীরা ঘরে থাকা নগদ ৮৫ হাজার টাকা, দোকানে থাকা ১৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকার স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। এ ছাড়াও মুদি দোকানের মালামাল নষ্ট করা হয় এবং একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
স্থানীয়ারা জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে হঠাৎ করে একদল মানুষ এসে তাদের বাড়িঘরে হামলা চালায়। তাদের জিজ্ঞাসা করলে তারা বলেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে বাড়িঘর হামলা ভাঙচুর করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মন্নু মোল্যা বলেন, ২০ থেকে ২৫ জনের এক দল লোক হঠাৎ করে এসে বাড়িঘর দোকান ভাঙচুর করে। তাদের কাছে হামলার কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে ভাঙা হচ্ছে। এসময় তিনি নিজেকে ৬৫ বছর বয়স দাবি করে আরো বলেন, এখানে কোনো মাদক ব্যবসা হয় না। পাশে মসজিদ। এখানে সব সময় গ্রামের মানুষ থাকে কেউ বলতে পারবে না তারা মাদক ব্যবসায় জড়িত। স্থানীয় কোন্দলে তাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ এনে তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের একজন সামাদ শেখ তিনি বলেন, তারা গাজার ব্যবসা করে। ওর জামাই মোটরসাইকেলে এনে দেয় আর ওরা দুজন বিক্রি করে।ওই বাড়ি থেকে একজন গাঁজা কিনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তাকে ধরে স্থানীয়রা জিজ্ঞেস করতেই সবুজদের নাম বলেন। তখন স্থানীয়রাসহ কয়েক গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়ে তার বাড়িতে হামলা চালায়। আমি সেখানে বিষয়টি মিমাংসার জন্য গিয়েছিলাম। হামলার সঙ্গে আমি জড়িত না। চাঁদা দাবির যে অভিযোগ করা হচ্ছে এটি সঠিক না।
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি আমরা দেখছি।




