ক্লান্তি দূর করতে বা কাজের ফাঁকে একটু চাঙ্গা হতে এক কাপ গরম কফির জুড়ি মেলা ভার। কফিতে থাকা ক্যাফিন দ্রুত স্নায়ুকে চাঙ্গা করে শরীরে শক্তি জোগায়। চিনি-দুধ ছাড়া ব্ল্যাক কফি লিভারে ফ্যাট জমতে দেয় না এবং হার্ট ভালো রাখতেও সাহায্য করে। তবে এই উপকারী পানীয়টিই শরীরের জন্য বিপত্তির কারণ হতে পারে, যদি তা পানের ক্ষেত্রে পরিমিতিবোধ না থাকে। অতিরিক্ত কফি পানের কারণে নীরবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে আপনার মূত্রাশয় (ইউরিনারি ব্লাডার) ও কিডনি।
চিকিৎসকদের মতে, মাত্রাতিরিক্ত কফি পানের ফলে মূত্রাশয়ের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কফি মূলত ‘ডাইইউরেটিক’ বা মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে, যা শরীরে প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এর ওপর যদি পর্যাপ্ত পানি পান করা না হয়, তবে দ্রুত পানিশূন্যতা ও হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ভারতের নয়ডার প্রখ্যাত কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মনোজ সিংহল জানান, কফি যেভাবে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে স্নায়ুকে উদ্দীপিত করে, ঠিক একইভাবে এর অতিরিক্ত ব্যবহার মূত্রাশয়ের ক্ষতি করে। কফিতে থাকা ক্যাফিন মূত্রাশয়ের ভেতরের দেয়ালে বা আস্তরণে প্রদাহ (ইনফ্লামেশন) সৃষ্টি করে। ফলে ধীরে ধীরে মূত্রাশয়ের প্রস্রাব ধরে রাখার স্বাভাবিক ক্ষমতা কমে যেতে থাকে।
যেসব লক্ষণে বুঝবেন মূত্রাশয় দুর্বল হচ্ছে—
শরীরে ক্যাফিনের মাত্রাতিরিক্ত প্রভাব পড়ছে কি না, তা কিছু লক্ষণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। এগুলো খেয়াল রাখা জরুরি।
- ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ : পর্যাপ্ত পানি পান না করার পরেও কফি খাওয়ার পরপরই তীব্র প্রস্রাবের বেগ আসা।
- হঠাৎ বেগ পাওয়া : কোনো পূর্বলক্ষণ ছাড়াই হঠাৎ করে প্রস্রাবের চাপ অনুভব করা।
- রাতের ঘুম বিঘ্নিত হওয়া : রাতে বারবার প্রস্রাবের কারণে ঘুম ভেঙে যাওয়া।
- অস্বস্তি ও ব্যথা : মূত্রাশয় বা তলপেটে সার্বক্ষণিক অস্বস্তি, জ্বালাপোড়া কিংবা মৃদু ব্যথা হওয়া।
- নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি : প্রস্রাব চেপে বা ধরে রাখার ক্ষমতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়া।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে এই লক্ষণগুলো অবহেলা করলে মূত্রনালির সংক্রমণ (ইউটিআই), প্রস্টেট গ্রন্থি বেড়ে যাওয়া এবং পেলভিক ফ্লোরের পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়ার মতো জটিল সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই শরীর চাঙ্গা রাখতে কফি অবশ্যই খাবেন, তবে তা যেন কোনোভাবেই আসক্তিতে রূপ না নেয় এবং শরীরের স্বাভাবিক পানির চাহিদাকে বিঘ্নিত না করে।




