• ই-পেপার

ওজন ও বলিরেখা কমাতে মজাদার সালাদ রেসিপি

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে যেসব পানীয়

জীবনযাপন ডেস্ক
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে যেসব পানীয়
সংগৃহীত ছবি

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা বললেই অনেকে সবার আগে গ্রিন টি-র কথা ভাবেন। স্বাস্থ্যের জন্য এই চায়ের নানা গুণের কথা সবারই জানা। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, গ্রিন টি ছাড়াও এমন কিছু ঘরোয়া পানীয় রয়েছে যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে দারুণ কাজ করে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পাশাপাশি এই পানীয়গুলো খেলে হৃদ্‌যন্ত্র বা হার্ট ভালো থাকে। চলুন, জেনে নিই পানীয়গুলো কী কী।

তবে মনে রাখা জরুরি, কোনো পানীয়ই উচ্চ রক্তচাপের মূল ওষুধের বিকল্প নয়। উচ্চ রক্তচাপকে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়, কারণ দীর্ঘ সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি শরীরের বড় ক্ষতি করে দেয়। তাই ওষুধের পাশাপাশি এগুলোকে স্বাস্থ্যকর জীবনের অংশ করে নেওয়া যেতে পারে।

জবা ফুলের চা (হিবিস্কাস টি)
যাদের ক্যাফেইনে সমস্যা আছে, তারা গ্রিন টি-র বদলে জবা ফুলের চা বেছে নিতে পারেন। এই চা ঠাণ্ডা বা গরম— দুইভাবেই খাওয়া যায়। জবা ফুলে থাকা ‘পলিফেনল’ রক্তনালিগুলোকে শিথিল করে দেয়, ফলে রক্ত চলাচল সহজ হয়। অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং ভিটামিন সি-তে ভরপুর এই চা রক্তচাপের পাশাপাশি কোলেস্টেরল কমায়, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হজম ভালো করে এবং ওজন কমাতেও সাহায্য করে।

বেদানার রস
বেদানা কেবল সুস্বাদু ফলই নয়, এটি হার্টের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকে, যা শরীরের প্রদাহ (ইনফ্লেমেশন) কমাতে সাহায্য করে। বেদানার রস রক্তনালি সচল রেখে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। তবে বাজার থেকে কেনা চিনিযুক্ত জুস না খেয়ে, বাড়িতে তৈরি করা খাঁটি বেদানার রস খাওয়া বেশি কার্যকরী।

বিটের রস
বিট হলো ‘ডায়েটারি নাইট্রেট’-এর একটি দুর্দান্ত উৎস। এই রস শরীরে যাওয়ার পর নাইট্রেট উপাদানটি ‘নাইট্রিক অক্সাইড’-এ পরিণত হয়। এটি রক্তনালিকে প্রসারিত ও শিথিল করে দেয়, যার ফলে রক্তচাপ দ্রুত স্বাভাবিক হতে শুরু করে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য এই রস যেমন উপকারি, তেমনই এটি শারীরিক কর্মক্ষমতা ও শক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেবল পানীয়ের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত প্রেশার মাপা, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং সুষম জীবনযাপন করা জরুরি।

সূত্র : আনন্দবাজার

চুলের যত্নে নারকেল তেলের সঙ্গে মেশাতে পারেন যে ৫ উপাদান

জীবনযাপন ডেস্ক
চুলের যত্নে নারকেল তেলের সঙ্গে মেশাতে পারেন যে ৫ উপাদান
সংগৃহীত ছবি

চুলের যত্নে নারকেল তেলের ব্যবহার বহু যুগ ধরে প্রচলিত। প্রাকৃতিক এই তেল শুধু চুলকে নরম ও উজ্জ্বল রাখে না, বরং চুলের গোড়া মজবুত করতে এবং চুল ভাঙা কমাতেও সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নারকেল তেলে থাকা লরিক অ্যাসিড চুলের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে, যা চুলের প্রোটিন ক্ষয় কমাতে সাহায্য করে। ফলে চুল থাকে আরো স্বাস্থ্যকর, মজবুত এবং প্রাণবন্ত। তবে নারকেল তেলের সঙ্গে কিছু উপকারী উপাদান মিশিয়ে ব্যবহার করলে এর উপকারিতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। জেনে নিন এমন ৫টি কার্যকর সংমিশ্রণের কথা।

নারকেল তেল ও মেথি

মেথি বীজে রয়েছে প্রোটিন, আয়রন, ফ্ল্যাভোনয়েড ও নিকোটিনিক অ্যাসিডের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান, যা চুলের বৃদ্ধিতে সহায়ক বলে মনে করা হয়। এছাড়া মেথিতে থাকা লেসিথিন মাথার ত্বককে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে এবং শুষ্কতা কমায়।

ব্যবহার পদ্ধতি
২ টেবিল চামচ মেথি সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে পেস্ট তৈরি করে নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে মাথার ত্বক ও চুলে লাগান।

নারকেল তেল ও ভৃঙ্গরাজ

আয়ুর্বেদে ভৃঙ্গরাজকে ‘ভেষজের রাজা’ বলা হয়। এটি চুলের বৃদ্ধি বাড়াতে এবং অকালেই চুল পেকে যাওয়া প্রতিরোধে সহায়ক বলে প্রচলিত ধারণা রয়েছে।

ব্যবহার পদ্ধতি
আধা কাপ নারকেল তেলের সঙ্গে ২ টেবিল চামচ শুকনো ভৃঙ্গরাজ গুঁড়ো মিশিয়ে ১৫ মিনিট হালকা আঁচে গরম করুন। ঠান্ডা হলে ছেঁকে কাচের বোতলে সংরক্ষণ করুন এবং নিয়মিত ব্যবহার করুন।

নারকেল তেল ও কালোজিরা

কালোজিরায় থাকা থাইমোকুইনোন শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও প্রদাহনাশক উপাদান হিসেবে পরিচিত। এটি মাথার ত্বকের প্রদাহ ও জ্বালাভাব কমাতে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি চুলের গোড়াকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের ক্ষতিকর প্রভাব থেকেও সুরক্ষা দেয় বলে মনে করা হয়।

ব্যবহার পদ্ধতি
গুঁড়ো করা কালোজিরা নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে কয়েক ঘণ্টা রেখে ব্যবহার করতে পারেন।

নারকেল তেল ও লবঙ্গ

চুলের যত্নে লবঙ্গের ব্যবহার খুব বেশি পরিচিত না হলেও এটি বেশ উপকারী হতে পারে। লবঙ্গে থাকা ইউজেনল অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল গুণে সমৃদ্ধ, যা মাথার ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া এটি রক্তসঞ্চালন বাড়াতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

ব্যবহার পদ্ধতি
৪ থেকে ৫টি লবঙ্গ নারকেল তেলে হালকা গরম করুন। ঠান্ডা হলে সেই তেল মাথার ত্বকে মালিশ করুন।

নারকেল তেল ও রোজমেরি অয়েল

বর্তমানে চুলের বৃদ্ধির জন্য রোজমেরি অয়েল বেশ জনপ্রিয় একটি প্রাকৃতিক উপাদান। এটি মাথার ত্বকে রক্তসঞ্চালন বাড়াতে এবং প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে।

ব্যবহার পদ্ধতি
২ টেবিল চামচ নারকেল তেলের সঙ্গে ৫ ফোঁটা রোজমেরি এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে ১০-১৫ মিনিট মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করুন। সারা রাত রেখে পরদিন শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

যদিও এসব প্রাকৃতিক উপাদান চুলের যত্নে সহায়ক হতে পারে, তবে সবার ত্বক ও চুলের ধরন এক নয়। তাই নতুন কোনো উপাদান ব্যবহার করার আগে অল্প পরিমাণে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। কোনো ধরনের অ্যালার্জি বা সমস্যা দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের যত্ন নিতে চাইলে নারকেল তেলের সঙ্গে এই উপাদানগুলোর সংমিশ্রণ হতে পারে একটি সহজ ও কার্যকর সমাধান।

সূত্র : এই সময়

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে উপকারী হতে পারে যে ফল

জীবনযাপন ডেস্ক
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে উপকারী হতে পারে যে ফল
সংগৃহীত ছবি

স্বাস্থ্যসচেতনদের খাদ্যতালিকায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে অ্যাভোকাডো। সালাদ, টোস্ট কিংবা বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর খাবারে এই বিদেশি ফলের ব্যবহার এখন বেশ পরিচিত। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হওয়ায় একে অনেকেই ‘সুপারফুড’ বলে থাকেন। সম্প্রতি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে অ্যাভোকাডোর ভূমিকা নিয়েও আলোচনা বেড়েছে।

পুষ্টিবিদদের মতে, অ্যাভোকাডোতে রয়েছে প্রচুর ফাইবার, ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি৬, পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী মনো আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট (গুড ফ্যাট) । অন্যান্য অনেক ফলের তুলনায় এতে কার্বোহাইড্রেট কম এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট বেশি থাকে, যা দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সহায়তা করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য অ্যাভোকাডো উপকারী হতে পারে কারণ এর উচ্চ ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট রক্তে শর্করার দ্রুত ওঠানামা কমাতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে এটি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যাভোকাডো সমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস খাদ্যের গ্লাইসেমিক লোড কমাতে সহায়তা করতে পারে।

সকালের নাস্তায় ব্রাউন ব্রেডের সঙ্গে অ্যাভোকাডোর শাঁস মেখে খাওয়া যেতে পারে। সিদ্ধ ডিমের সঙ্গে খেলে তা আরো পুষ্টিকর হতে পারে। ফাইবারের উপস্থিতির কারণে এটি দীর্ঘ সময় তৃপ্তি দেয় এবং অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমায়। তবে চিকিৎসকদের মতে, অ্যাভোকাডো কোনোভাবেই ডায়াবেটিসের ওষুধ নয়। এটি কেবল স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হতে পারে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সুষম খাদ্য, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাভোকাডো উপকারী হলেও আপেল, পেয়ারা বা অন্যান্য পুষ্টিকর ফলের বিকল্প হিসেবে নয়; বরং সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবেই এটি খাওয়া উচিত।

সূত্র : আনন্দবাজার

ব্রাজিলিয়ানদের প্রিয় খাবার ‘ফেইজোয়াদা’, যেভাবে এলো এই ঐতিহ্যবাহী স্টু

জীবনযাপন ডেস্ক
ব্রাজিলিয়ানদের প্রিয় খাবার ‘ফেইজোয়াদা’, যেভাবে এলো এই ঐতিহ্যবাহী স্টু
সংগৃহীত ছবি

ফুটবল তারকা নেইমারের দেশ ব্রাজিলকে আমরা সবাই চিনি তাদের সাম্বা নাচ, সঙ্গীত আর ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার জন্য। কিন্তু ফুটবল মাঠের বাইরেও ব্রাজিলের আরেকটি জিনিস বিশ্বজুড়ে দারুণ জনপ্রিয়, আর তা হলো তাদের ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘ফেইজোয়াদা ব্রাসিলেইরা’। মাংস ও শিমের মিশ্রণে তৈরি এই স্টু বা ঘন ঝোলকে বলা হয় ব্রাজিলের জাতীয় খাবার। দেশটির মানুষের কাছে এটি কেবল একটি খাবার নয়, বরং এক টুকরো ‘আত্মার খোরাক’।

‘ফেইজোয়াদা’ আসলে কী?
পর্তুগিজ শব্দ ‘ফেইজাও’ (যার অর্থ শিম) থেকে এই খাবারের নাম হয়েছে ফেইজোয়াদা। এটি মূলত বিভিন্ন ধরনের শিম এবং গরু বা শূকরের মাংস একসাথে অনেক সময় ধরে অল্প আঁচে মাটির পাত্রে রান্না করা একটি বিশেষ স্টু। ব্রাজিলের একেক অঞ্চলে এটি একেকভাবে রান্না করা হয়। যেমন রিও ডি জেনেইরোতে কালো শিম দিয়ে এটি তৈরি করা হলেও, বাহিয়া অঞ্চলে লাল বা বাদামী শিম বেশি জনপ্রিয়। ঐতিহ্যবাহী রান্নায় মাংসের বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করা হলেও, আধুনিক রেস্টুরেন্টগুলোতে এখন স্মোকড সসেজ, বেকন বা গরুর মাংস দিয়ে এটি পরিবেশন করা হয়।

ফেইজোয়াদার ইতিহাস নিয়ে চমৎকার কিছু তথ্য রয়েছে। অনেকেই বিশ্বাস করেন, ব্রাজিলের দাসপ্রথার সময় এই খাবারের জন্ম। সে যুগে দাসেরা তাদের মালিকদের ফেলে দেওয়া মাংসের টুকরো আর শিম দিয়ে এই স্টু তৈরি করত। তবে আধুনিক গবেষকদের মতে, এটি মূলত ইউরোপীয় বসতি স্থাপনকারীদের মাধ্যমে এসেছে। কম খরচে ও কম পরিশ্রমে অনেক মানুষের খাবার একসঙ্গে তৈরি করার সহজ উপায় হিসেবে তারা এই মাংস-শিমের স্টু রান্না শুরু করেছিল।

ব্রাজিলিয়ানরা সাধারণত সাদা ভাত, বেকন ও কুচানো সবজির সাথে ফেইজোয়াদা উপভোগ করেন। সাথে থাকে কমলার ফালি, যা এই ভারী খাবারটি সহজে হজম করতে সাহায্য করে। খাবার শেষে ব্রাজিলের সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয় ‘কাইপিরিনহা’ (আখের রস থেকে তৈরি বিশেষ পানীয়) দিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তোলেন তারা।

ব্রাজিলে ফেইজোয়াদা খাওয়ার অর্থ হলো—সবাই মিলে আনন্দ করা। সাধারণত সপ্তাহের ছুটির দিনগুলোতে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দিতে দিতে অলস দুপুরে এই ভারী খাবারটি খাওয়া হয়। আপনি যদি কখনো ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে যান, তবে সেখানকার ‘কাসা দা ফেইজোয়াদা’ বা ‘বার মিনেরো’র মতো বিখ্যাত জায়গাগুলো থেকে এই আসল ফেইজোয়াদার স্বাদ নিতে ভুলবেন না যেন!

ওজন ও বলিরেখা কমাতে মজাদার সালাদ রেসিপি | কালের কণ্ঠ