kalerkantho

মঙ্গলবার । ৭ বৈশাখ ১৪২৮। ২০ এপ্রিল ২০২১। ৭ রমজান ১৪৪২

গ্লুকোমা সচেতনতা সপ্তাহ

চোখের রোগ গ্লুকোমা নিয়ে যা জানা দরকার

প্রফেসর ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ   

৭ মার্চ, ২০২১ ২১:৪৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চোখের রোগ গ্লুকোমা নিয়ে যা জানা দরকার

প্রফেসর ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

চোখের প্রেসার/গ্লুকোমা সম্পর্কে ও অন্ধত্ব রোধে সচেনতায় প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ৮-১৩ মার্চ গ্লুকোমা সপ্তাহ পালিত হয়। এ বছরও বাংলাদেশসহ সব দেশে নানা আয়োজনে এ সপ্তাহ পালিত হচ্ছে। চোখের প্রেসার মানুষের অজ্ঞতার জন্য ব্লাড প্রেসারের চেয়ে মারাত্মক ক্ষতিকর। চোখের উচ্চ প্রেসারকে অকুলার হাইপারটেনশন বলে। যেমন ব্লাড প্রেসারের আর এক নাম হাইপারটেনশন। এ ক্ষেত্রে মানুষের স্বাভাবিক চোখের চাপ ১১-২১ মি. মি. মার্কারির চেয়ে বেশি হলেই অকুলার হাইপারটেনশান বলে। 

যদিও অপটিক স্নায়ু বা দৃষ্টিপরিধির (ভিস্যুয়াল ফিল্ড) কোনো পরিবর্তন না-ও হতে পারে। তবে যখনই অপটিক স্নায়ু বা ভিস্যুয়াল ফিল্ডের ক্ষতি হয় এবং চোখের উচ্চ প্রেসার থাকে তাকে গ্লুকোমা বলে। 

গ্লুকোমা কেন হয়?
১. সিলিয়ারি এপিথিলিয়াম থেকে পানি জাতীয় চোখের অবস্থান ঠিক রাখার জন্য যে প্রত্যক্ষ নিঃসরণ বেশি। যদি বেশি পরিমাণ নিঃসরণ হয়। 

২.পরোক্ষ নিঃসরণ ২০ শতাংশ স্বাভাবিক। যদি কোনো কারণে (ওষুধ দ্বারা) এর চেয়ে কম হয় তাহলে গ্লুকোমা হয়। 

৩. যদি ট্রাবিকুলাম, কর্নিও স্কেলেরাল সেমওয়ার্ক, স্লেমস ক্যানাল প্রভৃতি কোনো পথে প্রতিবন্ধকতা হয়, তাহলেও গ্লুকোমা হয়।

গ্লুকোমা আছে কি-না কিভাবে জানা যায়?
১. চোখের প্রেসার মাপার যন্ত্র টনোমিটার দিয়ে। ১১-২১ সস ওইমর বেশি হলে গ্লুকোমা অফথালামোসকোপ দিয়ে অপটিক স্নায়ুর পরিবর্তন হয়েছে কি-না দেখা। 

২. দৃষ্টিপরিধি বা ভিস্যুয়াল ফিল্ড দেখার যন্ত্র পেরিমিটার/এনালাইসার (হাসফ্রে বা অক্টোপাস দিয়ে)। 

৩. চোখের কোণ সরু কি-না দেখে। 

৪. চোখের দৃষ্টিশক্তির লক্ষণসমূহ পর্যালোচনা
ক. আলোর পার্শ্বে রঙধনুর মতো দেখা।
খ. চোখে ব্যথা হওয়া।
গ. মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরা।
ঘ. চোখ লাল হওয়া/ঝাপসা দৃষ্টি।
ঙ. চোখ দিয়ে পানি পড়া
চ. চোখে ঝাপসা দেখা
ছ. দৃষ্টিপরিধি কমে যাওয়া (ভিস্যুয়াল ফিল্ড)
জ. মণি বড় হওয়া (ডাইলেটেড পিউপিল)
ঝ. শেষের দিকে চোখ সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে যাওয়া। 

সবচেয়ে মারাত্মক হলো কখনো কোনো লক্ষণ ছাড়াই চোখের প্রেসার মানুষ ঘুন ধরার মতো অন্ধত্ববরণ করে। চোখের উচ্চচাপের প্রকারভেদ বা গ্লুকোমার প্রকারভেদ-
ক. জন্মগত গ্লুকোমা বা বুফথালমোস
খ. একোয়ার্ড বা জন্মপরবর্তী সংশ্লিষ্টতা 

১. প্রাইমারি

ক. চোখের কোণ ছোট হওয়া। 
খ. খোলা কোণ থাকা (সিম্পল গ্লুকোমা বা ক্রনিক গ্লুকোমা)

২. সেকেন্ডারি 

চোখের অন্য রোগের কারণে- ইউভিয়াইটিস, কর্নিয়ার ক্ষত, চোখের টিউমার, বিট্রাসে বা অ্যাসিতে রক্ত জমা, ছানি রোগ হলেও অপারেশন না করালে। 

চিকিৎসা 

১. চোখের ওষুধ : চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শমত পাইলো ড্রপ, টিমো ড্রপ, ল্যাটোনো প্রস্ট, প্রস্টগ্লানডিন, আলফাগান, বেটাগান।

২. খাওয়ার বড়ি। যেমন- এসিমক্স, ইলেকট্রো কে।

৩. ট্রাবিকুলোপ্লাস্টি; যেমন লেজার।

৪. অস্ত্রোপচার ; আইরিসে ছিদ্র করা, ট্রাবিকুলেক্টমি/ট্রাবিকুলেক্টমি, সিজ বা ফিল্টারিং অপারেশন। 

সেকেন্ডরি গ্লুকোমার কারণসমূহ দূর করা। যেমন ছানি রোগ দীর্ঘদিন অপারেশন না করালে, ছানি অপারেশনের পরে ইউভিয়াইটিস বা কর্নিয়ার ক্ষত চিকিৎসা।

পরামর্শ দিয়েছেন
প্রফেসর ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ
চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন
চেয়ারম্যান
কমিউনিটি অফথালমলজি বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়
চেম্বার : দীন মো. আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার লিমিটেড

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা