• ই-পেপার

সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর ত্বকের জন্য এই খাবারগুলো প্রতিদিনের তালিকায় রাখুন

গরমে জেল না ক্রিম, কোন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন?

জীবনযাপন ডেস্ক
গরমে জেল না ক্রিম, কোন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন?
ছবি : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

ত্বকের যত্নে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এখন দৈনন্দিন রুটিনেরই অংশ। তবে বাজারে এখন এত ধরনের ময়েশ্চারাইজার পাওয়া যায় যে অনেকেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। কেউ জেল ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করেন, কেউ আবার ভরসা রাখেন ক্রিম বেসড পণ্যের ওপর। কিন্তু দুটির কাজ এবং উপযোগিতা এক নয়।

জুন মাসের ভ্যাপসা গরম, তার সঙ্গে মাঝেমধ্যে বৃষ্টি—সব মিলিয়ে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণও বেশি। এমন আবহাওয়ায় ত্বকের যত্নে কোন ধরনের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত, তা জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

গরমে কেন জেল ময়েশ্চারাইজার জনপ্রিয়?

গরমকালে বেশির ভাগ মানুষ এমন ময়েশ্চারাইজার খোঁজেন, যা ত্বকে দ্রুত মিশে যাবে এবং মুখে চটচটে ভাব তৈরি করবে না। এই কারণেই জেল ময়েশ্চারাইজারের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

জেলভিত্তিক ময়েশ্চারাইজারে পানির পরিমাণ বেশি থাকে। ফলে এটি খুব দ্রুত ত্বকে শোষিত হয় এবং ত্বকের ওপর ভারী কোনও স্তর তৈরি করে না। ব্যবহার করার পরও ত্বক থাকে হালকা ও সতেজ।

বিশেষ করে যাদের ত্বক তৈলাক্ত, ব্রণপ্রবণ বা বেশি ঘাম হয়, তাদের জন্য জেল ময়েশ্চারাইজার বেশ উপযোগী। এটি ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে, আবার অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব সৃষ্টি করে না। গরমে মেকআপ করার আগে ব্যবহার করলেও অস্বস্তি কম হয়।

ক্রিম বেসড ময়েশ্চারাইজার কাদের জন্য?

ক্রিম বেসড ময়েশ্চারাইজারে সাধারণত কোকো বাটার, শিয়া বাটার বা বিভিন্ন তেলজাতীয় উপাদান থাকে। জেলের তুলনায় এগুলোর ঘনত্ব বেশি এবং দীর্ঘ সময় ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

যাদের ত্বক স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি শুষ্ক, তাদের জন্য ক্রিম বেসড ময়েশ্চারাইজার ভালো পছন্দ হতে পারে। এছাড়া যারা দীর্ঘ সময় এসি ঘরে কাজ করেন, তাদের ত্বক দ্রুত আর্দ্রতা হারায়। সেক্ষেত্রে জেলের তুলনায় ক্রিম ত্বককে বেশি সুরক্ষা দিতে পারে।

জেল না ক্রিম—কোনটি বেছে নেবেন?

আসলে এর উত্তর নির্ভর করে আপনার ত্বকের ধরন ও জীবনযাপনের উপর।

জেল ময়েশ্চারাইজার বেছে নিতে পারেন যদি—

  • আপনার ত্বক তৈলাক্ত বা ব্রণপ্রবণ হয়
  • গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় থাকেন
  • হালকা অনুভূতির স্কিনকেয়ার পছন্দ করেন

ক্রিম বেসড ময়েশ্চারাইজার বেছে নিতে পারেন যদি—

  • ত্বক শুষ্ক হয়
  • দীর্ঘ সময় এসি পরিবেশে থাকতে হয়
  • রাতের স্কিনকেয়ারে বেশি আর্দ্রতা চান

মনে রাখুন

একটি ময়েশ্চারাইজার সবার জন্য সমান কার্যকর হয় না। গরমে জেল যেমন আরাম দিতে পারে, তেমনি শুষ্ক ত্বক বা এসি-নির্ভর পরিবেশে ক্রিম হতে পারে বেশি উপকারী। তাই ত্বকের প্রয়োজন বুঝেই ময়েশ্চারাইজার নির্বাচন করা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

সঠিক ময়েশ্চারাইজার শুধু ত্বককে আর্দ্র রাখে না, বরং ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ও স্বাস্থ্যও বজায় রাখতে সাহায্য করে।

সহজ পদ্ধতিতে ঘরেই তৈরি করুন কোরিয়ান স্পাইসি রামেন

জীবনযাপন ডেস্ক
সহজ পদ্ধতিতে ঘরেই তৈরি করুন কোরিয়ান স্পাইসি রামেন
সংগৃহীত ছবি

স্যুপ নুডলস অনেকেরই খুব পছন্দের খাবার, বিশেষ করে চিকেন নুডলস স্যুপ। তবে প্রতিদিন একঘেয়ে নুডলস না খেয়ে ঘরেই সহজে তৈরি করতে পারেন কোরিয়ার জনপ্রিয় খাবার ‘স্পাইসি রামেন’। নিজের পছন্দমতো সবজি ও ডিম দিয়ে ঝটপট তৈরি করা যায় এই মজাদার ও ঝাল ঝাল খাবারটি। চলুন, জেনে নিই এর সহজ রেসিপি।

প্রয়োজনীয় উপকরণ :
নুডলস : ইনস্ট্যান্ট নুডলস ও মসলা (১ প্যাকেট)।
মাংস ও ডিম : সেদ্ধ মুরগির মাংস কুচি (আধা কাপ) এবং ডিম (২টি)।
সবজি: গাজর কুচি (১টি), মাশরুম স্লাইস (১টি), পেঁয়াজ কলি কুচি (২টি) এবং কচি পালং বা পুঁইশাক (আধা কাপ)।

সস ও মসলা : সয়া সস (আধা চা চামচ), চিলি সস (১ চা চামচ), চিলি ফ্লেক্স (আধা চা চামচ), গোলমরিচ গুঁড়ো (আধা চা চামচ) ও লবণ (পরিমাণমতো)।

অন্যান্য : তেল (২ টেবিল চামচ) এবং পানি (২ কাপ)।

প্রস্তুত প্রণালী :
প্রথমে প্যানে তেল গরম করে পেঁয়াজ কলি, গাজর ও মাশরুম হালকা ভেজে নিন। এরপর সেদ্ধ মুরগির মাংস দিয়ে দিন। এবার সয়া সস, চিলি ফ্লেক্স, চিলি সস ও নুডলসের ভেতরের মসলা দিয়ে মাঝারি আঁচে ভালো করে নেড়েচেড়ে ভেজে নিন।
ভাজা মসলায় ২ কাপ পানি ও পরিমাণমতো লবণ দিয়ে চুলার আঁচ বাড়িয়ে দিন। পানি ফুটে উঠলে নুডলসটি না ভেঙে আস্ত অবস্থায় দিয়ে দিন। এরপর প্যানের একপাশে শাকগুলো দিয়ে দিন। মনে রাখবেন, রামেনের সৌন্দর্য ধরে রাখতে এই পর্যায়ে আর কোনো নাড়াচাড়া করা যাবে না।
এবার প্যানের অন্য পাশে একটি কাঁচা ডিম আস্ত ছেড়ে দিন। ফুটন্ত স্যুপের পানি চামচ দিয়ে ডিমের ওপর দিতে থাকুন যেন ডিমটি ভেঙে না গিয়ে শক্ত হয়ে সেদ্ধ হয়। এবার নুডলসটি আলতো করে উল্টে দিন, তবে সব উপাদান একসাথে মিশিয়ে ফেলবেন না। স্যুপের পানি যেন শুকিয়ে না যায়, তাই চুলার আঁচ কমিয়ে রাখুন।

নুডলস ও ডিম ভালোভাবে সেদ্ধ হয়ে গেলে উপর থেকে গোলমরিচের গুঁড়ো ছড়িয়ে দিন। এবার একটি বড় বাটিতে সাবধানে এটি নামিয়ে নিন। সবশেষে আগে থেকে সেদ্ধ করে রাখা আরেকটি ডিম মাঝখান থেকে কেটে এবং কাঁচামরিচ ও ধনেপাতা কুচি বাটির একপাশে সাজিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

রাত জেগে বিশ্বকাপ খেলা দেখছেন? সকালে ফিট থাকার কৌশল জেনে নিন

অনলাইন ডেস্ক
রাত জেগে বিশ্বকাপ খেলা দেখছেন? সকালে ফিট থাকার কৌশল জেনে নিন
সংগৃহীত ছবি

ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উত্তেজনায় বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকরা। সময়ের পার্থক্যের কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রাত জেগে দেখতে হচ্ছে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের। প্রিয় দলের খেলা উপভোগ করতে গিয়ে অনেকেই নিয়মিত ঘুমের সময় হারাচ্ছেন, যার প্রভাব পড়ছে পরদিনের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়।

ঘুম কম হওয়ার ফলে ক্লান্তি, ঝিমুনি, মনোযোগের অভাব এবং কর্মক্ষমতা হ্রাস খুব সাধারণ সমস্যায় পরিণত হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এক রাত জেগে থাকার কারণে পুরো দিনটিকে অকার্যকর করে ফেলার প্রয়োজন নেই। কিছু সহজ কৌশল মেনে চললে রাত জাগার পরও পরদিন সকালেই শরীরকে অনেকটা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

ঘুম পরিকল্পনা বেছে নিন আগে থেকেই :

ঘুম বিশেষজ্ঞদের মতে, রাত জেগে খেলা দেখার জন্য তিনটি কৌশল সবচেয়ে বেশি কার্যকর—

১. সম্পূর্ণ রাতভিত্তিক রুটিন পরিবর্তন


কিছু মানুষ বিশ্বকাপ চলাকালে সম্পূর্ণভাবে রাতের সময়সূচিতে চলে যান। এতে কিছুদিন লাগলেও শরীর অভ্যস্ত হয়ে যায়।

২. দুই ভাগে ঘুম

খেলা শুরুর আগে কিছুটা ঘুমিয়ে নেওয়া এবং খেলা শেষে আবার ঘুমানোর চেষ্টা করা যেতে পারে। এতে ক্লান্তি কিছুটা কম থাকে।

৩. অল্প ঘুমে সামঞ্জস্য করা

সারা রাত জেগে খেলা দেখে পরে কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে দিনের কাজ চালা—এটি সহজ হলেও শরীরের ওপর চাপ ফেলে।

রাত জাগার পর শরীরের ওপর প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, কম ঘুম হলে পরদিন মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, মনোযোগ কমে যায় এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়ে। এমনকি ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের প্রবণতাও বেড়ে যেতে পারে। তাই রাত জাগার পর গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া বা বড় কোনো কাজ করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ক্যাফেইন ব্যবহারে সতর্কতা

চা, কফি বা এনার্জি ড্রিংক সাময়িকভাবে সতেজতা দিলেও অতিরিক্ত গ্রহণ ঘুমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই খেলা শুরুর আগে অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ না করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমিত রাখা ভালো।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের আগে অন্তত কয়েক ঘণ্টা আগে শেষ ক্যাফেইন গ্রহণ করা উচিত।

সংক্ষিপ্ত ঘুম হতে পারে উপকারী

দুপুরের দিকে ২০-৩০ মিনিটের ছোট ঘুম শরীরকে পুনরায় সতেজ করতে সাহায্য করে। তবে বেশি সময় ঘুমালে ঘুমঘুম ভাব বেড়ে যেতে পারে।

সূত্র : বিবিসি
 

কোন সময় ব্যায়াম করলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়?

জীবনযাপন ডেস্ক
কোন সময় ব্যায়াম করলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়?
ছবি: কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা

সুস্থ থাকতে নিয়মিত ব্যায়াম করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। কেউ হাঁটেন, কেউ দৌড়ান, আবার কেউ জিমে গিয়ে শরীরচর্চা করেন। তবে শুধু ব্যায়াম করলেই হবে না, কখন ব্যায়াম করছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক ঘড়ি বা ‘বডি ক্লক’-এর সঙ্গে মিল রেখে ব্যায়াম করলে এর উপকারিতা আরো বাড়তে পারে।

যারা সকালে ঘুম থেকে উঠতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, তাদের জন্য সকালের ব্যায়াম বেশি উপকারী হতে পারে। আর যারা রাতে বেশি সক্রিয় থাকেন বা দেরিতে ঘুমান, তাদের জন্য বিকেল বা সন্ধ্যায় ব্যায়াম করা ভালো।

সম্প্রতি ওপেন হার্ট জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিজের দেহঘড়ির সঙ্গে মিল রেখে ব্যায়াম করলে হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো থাকে, ঘুমের মান উন্নত হয়, রক্তচাপ কমে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

গবেষণাটিতে পাকিস্তানের ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী প্রায় ১৩৫ জন অংশ নেন। তাদের বেশিরভাগেরই অতিরিক্ত ওজন বা উচ্চ রক্তচাপের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি ছিল। অংশগ্রহণকারীদের তিন মাস ধরে সপ্তাহে পাঁচ দিন, প্রতিদিন ৪০ মিনিট করে দ্রুত হাঁটার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের একদল ছিল ‘মর্নিং লার্ক’—যারা সকালে বেশি সক্রিয়। অন্যদল ছিল ‘নাইট আউল’—যারা রাতে বেশি জেগে থাকেন। দেখা যায়, দুই দলই ব্যায়াম করে উপকার পেয়েছেন। তবে যারা নিজেদের স্বাভাবিক দেহঘড়ি অনুযায়ী ব্যায়াম করেছেন, তারা তুলনামূলক বেশি সুফল পেয়েছেন।

গবেষকদের মতে, আমাদের দেহঘড়ি ঘুম, হরমোনের ভারসাম্য এবং দৈনন্দিন শারীরিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। তাই এটি ব্যায়ামের ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবার জন্য একই সময় উপযুক্ত নয়। নিজের জীবনযাপন ও শরীরের চাহিদা অনুযায়ী ব্যায়ামের সময় বেছে নেওয়াই ভালো।

অবশ্য ব্যায়ামের সময়ের চেয়ে নিয়মিত ব্যায়াম করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) প্রাপ্তবয়স্কদের সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম বা ৭৫ মিনিট উচ্চমাত্রার ব্যায়াম করার পরামর্শ দেয়। পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত দুই দিন শক্তি বৃদ্ধির ব্যায়ামও করার কথা বলা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাঁটা, দৌড়ানো, শক্তি বৃদ্ধি ও নমনীয়তা বাড়ানোর ব্যায়াম—সবকিছুর সমন্বয়ই সুস্থ থাকার সবচেয়ে ভালো উপায়।

সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর ত্বকের জন্য এই খাবারগুলো প্রতিদিনের তালিকায় রাখুন | কালের কণ্ঠ