• ই-পেপার

চোখ দেখে যেভাবে বুঝবেন কার মনে কী চলছে

ঘরেই বানিয়ে নিন দেশ-বিদেশের স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু সালাদ

অনলাইন ডেস্ক
ঘরেই বানিয়ে নিন দেশ-বিদেশের স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু সালাদ
ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

সালাদ হলো সাধারণত কাঁচা বা হালকা সিদ্ধ করা বিভিন্ন সবজি, ফল, শাকপাতা এবং কখনও কখনও বাদাম, ড্রেসিং (যেমন অলিভ অয়েল, লেবুর রস, দই ইত্যাদি) মিশিয়ে তৈরি একটি স্বাস্থ্যকর খাবার। এটি সাধারণত ঠান্ডা অবস্থায় পরিবেশন করা হয় এবং প্রধান খাবারের আগে বা সঙ্গে খাওয়া হয়।

সালাদে টমেটো, শসা, গাজর, লেটুস, বেল পেপার, পেঁয়াজ, বিট, আপেল, আঙুর ইত্যাদি উপাদান ব্যবহার করা হয়। এটি খুব সহজে তৈরি করা যায় এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর।

সালাদ খাওয়ার উপকারিতা

শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেল সরবরাহ করে

সালাদে থাকা বিভিন্ন সবজি ও ফল ভিটামিন A, C, K, পটাশিয়াম এবং আয়রনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে

সালাদে ক্যালরি কম কিন্তু ফাইবার বেশি থাকে। ফলে এটি খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা লাগে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। তাই ওজন কমাতে বা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সালাদ খুবই উপকারী।

হজম শক্তি উন্নত করে

সালাদে থাকা ফাইবার হজম প্রক্রিয়া সহজ করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। নিয়মিত সালাদ খেলে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়

সবজি ও ফলের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইবার রক্তে কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।

ত্বক ও চুলের জন্য উপকারী

সালাদে থাকা ভিটামিন C ও অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে উজ্জ্বল রাখে এবং চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।

শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে

শসা, টমেটো ইত্যাদি সবজিতে প্রচুর পানি থাকে, যা শরীরের পানির ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

নিয়মিত সালাদ খেলে শরীরের ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী হয়, ফলে সর্দি-কাশি ও অন্যান্য সাধারণ রোগ থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়।


দেশ-বিদেশের কয়েকটি জনপ্রিয় সালাদের রেসিপি হলো-

দেশি স্টাইলের শসা-টমেটো সালাদ 

একটি মাঝারি শসা, একটি মাঝারি টমেটো এবং একটি টি ছোট পেঁয়াজ ও দুইটি কাঁচা মরিচ ভালো করে ধুয়ে পাতলা করে কেটে নিন। এক মুঠ ধনিয়াপাতা কুঁচির সাথে একটি বাটিতে এগুলো মিশিয়ে নিন। এর সাথে এক টেবিল চামচ লেবুর রস, আধা চা চামচ লবণ এবং সরিষার তেল দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে পরিবেশন করুন। 

গ্রিক সালাদ

একটি বড় শসা, দুটি মাঝারি টমেটো, অর্ধেকটা লাল পেঁয়াজ এবং কিছু কালো জলপাই কেটে একটি বাটিতে নিন। এর মধ্যে প্রায় ৫০ গ্রাম ফেটা চিজ ছোট কিউব করে যোগ করুন। এরপর ২ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল, ১ টেবিল চামচ লেবুর রস, আধা চা চামচ লবণ এবং সামান্য ওরেগানো ছিটিয়ে হালকা হাতে মিশিয়ে নিন। এটি ঠান্ডা অবস্থায় খেলে সবচেয়ে ভালো স্বাদ পাওয়া যায়।


চিকেন সালাদ

প্রায় ১ কাপ সেদ্ধ ও ছেঁড়া চিকেন একটি বাটিতে নিন। এর সাথে আধা কাপ কুচানো শসা, আধা কাপ গাজর কুচি এবং ২ টেবিল চামচ সেদ্ধ কর্ন যোগ করুন। এরপর ৩ টেবিল চামচ মায়োনিজ, ১ টেবিল চামচ লেবুর রস, সামান্য লবণ ও কালো মরিচ দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। চাইলে একটু সরিষার সস দিলে স্বাদ আরো বাড়ে। এটি হালকা লাঞ্চ হিসেবে দারুণ।


ফ্রুট সালাদ

এক কাপ আঙুর, একটি আপেল কিউব করে কাটা, একটি কলা স্লাইস করা, আধা কাপ পেঁপে এবং আধা কাপ তরমুজ ছোট করে কেটে নিন। এর সাথে ২ টেবিল চামচ মধু এবং ২ টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিন। চাইলে ২ টেবিল চামচ দই যোগ করলে ক্রিমি স্বাদ পাওয়া যায়। সব ফল মিশিয়ে ১০ মিনিট ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে পরিবেশন করুন।


রাশিয়ান সালাদ (অলিভিয়ের সালাদ)

প্রায় ১ কাপ সেদ্ধ আলু কিউব করে কাটা, আধা কাপ সেদ্ধ গাজর, আধা কাপ সেদ্ধ মটরশুঁটি এবং ১ কাপ ছোট করে কাটা পিকলস একটি বড় বাটিতে নিন। এর সাথে ২টি সেদ্ধ ডিম কুচি এবং ১ কাপ মায়োনিজ যোগ করুন। ১ চা চামচ লবণ ও সামান্য কালো মরিচ দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এটি ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে খেলে স্বাদ আরো ভালো হয়।


থাই স্পাইসি সালাদ (ইয়াম স্টাইল)

প্রায় ১ কাপ সেদ্ধ চিংড়ি ও চিকেন নিন। এর সাথে আধা কাপ পেঁপে কুচি, ১টি ছোট শসা স্লাইস এবং কিছু ধনেপাতা যোগ করুন। এরপর ১ টেবিল চামচ ফিশ সস, ১ টেবিল চামচ লেবুর রস, আধা চা চামচ চিনি এবং ২টি কাঁচা মরিচ কুচি দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। টক-ঝাল স্বাদের এই সালাদ খুবই জনপ্রিয় থাই খাবার।

সিজার সালাদ 

সিজার সালাদ বানাতে প্রথমে প্রায় ১ কাপ লেটুস ভালো করে ধুয়ে ছোট ছোট টুকরো করে নিন। এর সাথে প্রায় ১ কাপ গ্রিল করা বা সেদ্ধ চিকেন পাতলা স্ট্রিপ করে যোগ করুন। এরপর ২ টেবিল চামচ পারমেজান চিজ কুচি, ১ কাপ টোস্ট করা ব্রেড কিউব (ক্রুটন) দিয়ে দিন। ড্রেসিং তৈরির জন্য ৩ টেবিল চামচ মায়োনিজ, ১ টেবিল চামচ লেবুর রস, ১ চা চামচ ডিজন মাস্টার্ড, আধা চা চামচ রসুন বাটা, সামান্য কালো মরিচ এবং খুব অল্প অ্যাঙ্কোভি পেস্ট (ঐচ্ছিক) একসাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এই ড্রেসিংটি সালাদের ওপর ঢেলে সবকিছু হালকা হাতে মিশিয়ে নিন যাতে লেটুস ভেঙে না যায়। শেষে আরও সামান্য পারমেজান চিজ ছিটিয়ে পরিবেশন করুন। এই সালাদটি ঠান্ডা অবস্থায় খেলে সবচেয়ে ভালো স্বাদ পাওয়া যায় এবং এটি হালকা লাঞ্চ বা ডায়েট মিল হিসেবেও খুব জনপ্রিয়।

ক্যাশিউ নাট সালাদ

এই সালাদ বানাতে প্রায় ১ কাপ ভাজা বা হালকা রোস্ট করা কাজু বাদাম নিন। একটি বাটিতে এর সাথে আধা কাপ শসা কুচি, আধা কাপ টমেটো কিউব, আধা কাপ বেল পেপার কুচি এবং কয়েকটি লেটুস পাতা ছেঁড়া অবস্থায় যোগ করুন। চাইলে একটু লাল পেঁয়াজ পাতলা করে কেটে দিতে পারেন, এতে স্বাদ আরও ভালো হয়। ড্রেসিংয়ের জন্য ২ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল, ১ টেবিল চামচ লেবুর রস, ১ চা চামচ মধু, আধা চা চামচ লবণ এবং সামান্য কালো গোলমরিচ গুঁড়া একসাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এরপর এই ড্রেসিং সালাদের ওপর ঢেলে হালকা হাতে মিশিয়ে নিন। সবশেষে উপরে আরো কয়েকটি কুচানো ক্যাশিউ ছড়িয়ে দিলে মচমচে স্বাদ পাওয়া যাবে। এই সালাদটি হালকা নাস্তা বা ডায়েট মিল হিসেবে খুবই জনপ্রিয় এবং খুব দ্রুত তৈরি করা যায়।


কাবুলি ছোলার সালাদ

এই সালাদ বানাতে প্রায় এক কাপ সেদ্ধ কাবুলি ছোলা নিন। সেদ্ধ ছোলাগুলো একটি বড় বাটিতে নিয়ে এর সাথে আধা কাপ শসা কুচি, আধা কাপ টমেটো কিউব, আধা কাপ পেঁয়াজ কুচি, একটু ধনেপাতা কুচি এবং সামান্য কাঁচা মরিচ কুচি যোগ করুন। এরপর ১ টেবিল চামচ লেবুর রস, ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল বা সরিষার তেল, আধা চা চামচ লবণ এবং সামান্য ভাজা জিরা গুঁড়া ছিটিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। সব উপকরণ একসাথে মিশিয়ে ৫–১০ মিনিট রেখে দিলে স্বাদ আরো ভালো হয়। এই সালাদটি প্রোটিনে ভরপুর, তাই এটি হালকা নাস্তা, ডায়েট মিল বা বিকেলের স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে খুব ভালো কাজ করে।

যে ২০ খাবার খেলে বাড়বে না ওজন

জীবনযাপন ডেস্ক
যে ২০ খাবার খেলে বাড়বে না ওজন
ছবি: কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা

ওজন কমাতে বা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে না খেয়ে থাকতে হবে—এমন ধারণা অনেকেরই। কিন্তু পুষ্টিবিদরা বলছেন, সঠিক খাবার বেছে নিলে পেট ভরে খেয়েও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। কিছু খাবারে ক্যালোরি কম হলেও থাকে পর্যাপ্ত আঁশ, পানি ও পুষ্টি উপাদান, যা দীর্ঘ সময় তৃপ্তি দেয় এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায়। জেনে নিন এমন ২০ খাবার সম্পর্কে, যেগুলো খাদ্যতালিকায় রাখলে পেট ভরবে, কিন্তু ওজন বাড়ার ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকবে—

পপকর্ন

এয়ার-পপড বা কম তেলযুক্ত পপকর্ন একটি স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস। এটি গোটা শস্য থেকে তৈরি হওয়ায় এতে প্রচুর আঁশ থাকে। এক কাপ এয়ার-পপড পপকর্নে ক্যালোরি তুলনামূলক কম, কিন্তু পেট ভরা রাখার ক্ষমতা বেশি। তবে অতিরিক্ত মাখন বা লবণযুক্ত পপকর্ন এড়িয়ে চলাই ভালো।

স্যুপ

ঝোলভিত্তিক সবজি বা মুরগির স্যুপ ক্ষুধা কমাতে কার্যকর। গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের আগে স্যুপ খেলে মোট ক্যালোরি গ্রহণ কমে যায়। কারণ স্যুপ পাকস্থলীতে জায়গা দখল করে দীর্ঘ সময় তৃপ্তি অনুভব করায়।

আপেল ও কলা

দ্রুত ক্ষুধা মেটাতে আপেল ও কলা দারুণ বিকল্প। এ দুটি ফলে রয়েছে আঁশ, পটাশিয়াম এবং বিভিন্ন ভিটামিন। বিকেলের নাস্তায় বিস্কুট বা ভাজাপোড়ার পরিবর্তে ফল খেলে অতিরিক্ত ক্যালোরি এড়ানো সম্ভব।

ওটস

ওটস বা ওটমিল দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখার জন্য পরিচিত। এতে থাকা দ্রবণীয় আঁশ হজম ধীর করে এবং ক্ষুধা কমায়। সকালের নাশতায় ওটস খেলে সারাদিন তুলনামূলক কম ক্যালোরি গ্রহণ করা সহজ হয়।

hh
ট্রেইল মিক্স

ট্রেইল মিক্স

বাদাম, শুকনো ফল ও অল্প পরিমাণ ডার্ক চকোলেটের মিশ্রণ স্বাস্থ্যকর ট্রেইল মিক্স হতে পারে। এটি মিষ্টি বা লবণাক্ত খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা কমাতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত চিনি বা চকোলেটযুক্ত প্যাকেটজাত ট্রেইল মিক্স থেকে সতর্ক থাকতে হবে।

মরিচ

ঝাল মরিচে থাকা ক্যাপসাইসিন নামের উপাদান ক্ষুধা কিছুটা কমাতে এবং বিপাকক্রিয়া সক্রিয় রাখতে সহায়তা করতে পারে। তাই ঝাল খাবার পছন্দ করলে পরিমিত পরিমাণে মরিচ খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

ডিম

ডিম উচ্চমানের প্রোটিনের অন্যতম উৎস। সকালের নাশতায় ডিম খেলে দীর্ঘ সময় ক্ষুধা লাগে না এবং অতিরিক্ত নাশতা করার প্রবণতাও কমে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডিমকে অনেক পুষ্টিবিদ গুরুত্বপূর্ণ খাবার হিসেবে বিবেচনা করেন।

চিয়া সিড

চিয়া বীজে প্রচুর আঁশ রয়েছে। পানিতে বা দুধে ভিজিয়ে তৈরি করা চিয়া পুডিং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। ফল ও বাদাম যোগ করলে এটি আরও পুষ্টিকর হয়ে ওঠে।

ll;;
নারকেল তেল

নারকেল তেল

নারকেল তেলে কিছু মিডিয়াম-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড (MCTs) থাকে, যা ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারে বলে কিছু গবেষণায় দেখা গেছে। তবে সব গবেষণা একমত নয়—অন্যান্য তেলের তুলনায় এর তৃপ্তি বাড়ানোর প্রভাব সীমিত বলেও মত রয়েছে। তবুও রান্নায় স্বাদ ও ব্যবহারিক সুবিধার কারণে এটি অনেকের খাদ্যতালিকায় থাকে।

ফুলকপি

ফুলকপিতে ক্যালোরি কম হলেও এতে রয়েছে প্রচুর পানি ও আঁশ। ফলে এটি কম ক্যালোরিতে বেশি তৃপ্তি দেয়। বেকড বা ভাপা ফুলকপি স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস হিসেবেও জনপ্রিয়।

অ্যাভোকাডো

অ্যাভোকাডোতে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি ও আঁশ ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। যদিও এটি তুলনামূলক দামি, তবু পরিমিত পরিমাণে খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি পাওয়া যায়।

lkl
আদা

আদা

আদা শুধু হজমে সাহায্য করে না, ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখতে পারে। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, আদা গ্রহণ করলে দীর্ঘ সময় ক্ষুধা কম অনুভূত হয়।

কমলা

ভিটামিন সি ও আঁশসমৃদ্ধ কমলা কম ক্যালোরির একটি ফল। ক্ষুধা লাগলে মিষ্টি খাবারের পরিবর্তে কমলা খাওয়া স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হতে পারে।

kk
পিনাট বাটার

পিনাট বাটার

পরিমিত পরিমাণ পিনাট বাটার প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বির ভালো উৎস। ফল বা হোলগ্রেইন ব্রেডের সঙ্গে খেলে এটি দীর্ঘ সময় ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

শাকসবজি

পালং শাক, লাল শাক, পুঁইশাকসহ বিভিন্ন সবুজ শাকসবজি কম ক্যালোরিতে বেশি পুষ্টি দেয়। প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজির পরিমাণ বাড়ালে মোট ক্যালোরি গ্রহণ কমানো সহজ হয়।

সেলারি

সেলারিতে প্রচুর পানি এবং খুব কম ক্যালোরি থাকে। সালাদ, স্যুপ কিংবা স্বাস্থ্যকর ডিপের সঙ্গে এটি খাওয়া যায়।

চুইংগাম 

গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় চুইংগাম চিবালে ক্ষুধা কিছুটা কমে এবং পেট ভরা অনুভূতি তৈরি হতে পারে। যদিও এতে কোনো ক্যালোরি পোড়ে না, তবে এটি অতিরিক্ত খাওয়া এড়াতে সহায়ক হতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের পর চুইংগাম চিবালে মিষ্টি বা স্ন্যাকসের আকাঙ্ক্ষা কমে এবং দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণও কিছুটা হ্রাস পেতে পারে।

জাম্বুরা

জাম্বুরা বা গ্রেপফ্রুটে পানি ও আঁশের পরিমাণ বেশি। এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

ডার্ক চকোলেট

মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা হলে অল্প পরিমাণ ডার্ক চকোলেট ভালো বিকল্প হতে পারে। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে এবং এটি অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা কমাতে সাহায্য করে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—পর্যাপ্ত পানি পান

সারাদিন প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা শুধু স্বাস্থ্যকরই নয়, এটি আপনার পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, ফলে আপনি অপ্রয়োজনীয় খাওয়া থেকে বিরত থাকতে পারবেন। পানি শক্তি বাড়াতে এবং বিপাক ক্রিয়া উন্নত করতে সাহায্য করে। আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটি খাবারের আগে প্রায় এক থেকে দুই গ্লাস পানি বা ভেষজ চা পান করার পরামর্শ দেয়, কারণ এটি আপনার ক্যালোরি গ্রহণ কমিয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুধু একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। বেশি আঁশযুক্ত খাবার, পর্যাপ্ত প্রোটিন, ফলমূল, শাকসবজি এবং পর্যাপ্ত পানি—এই সমন্বয়ই দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম ও পর্যাপ্ত ঘুমও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

দামি ‘সুপারফুড’ নয়, পুষ্টির ভাণ্ডার হতে পারে কাঁঠালের বিচি

অনলাইন ডেস্ক
দামি ‘সুপারফুড’ নয়, পুষ্টির ভাণ্ডার হতে পারে কাঁঠালের বিচি
ছবি : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় এখন নানা ধরনের বীজের কদর বেড়েছে। চিয়া সিড, ফ্ল্যাক্স সিড, কুমড়ার বিচি, কাজু বা কাঠবাদাম—এসব খাবারকে অনেকেই সুপারফুড হিসেবে নিয়মিত খেয়ে থাকেন। অথচ আমাদের আশপাশেই এমন একটি পুষ্টিকর খাবার রয়েছে, যা বেশির ভাগ সময় অবহেলিত থেকে যায়। সেটি হলো কাঁঠালের বিচি।

গ্রীষ্মের জনপ্রিয় ফল কাঁঠাল খাওয়ার পর অনেকেই এর বীজ ফেলে দেন। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, এই বীজে রয়েছে এমন অনেক উপাদান, যা শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। সঠিকভাবে রান্না বা প্রস্তুত করে খেলে এটি দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় একটি স্বাস্থ্যকর সংযোজন হতে পারে।

পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ

কাঁঠালের বিচিতে রয়েছে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, খাদ্যআঁশ, ভিটামিন বি-গ্রুপের কিছু উপাদান এবং বিভিন্ন খনিজ। পাশাপাশি এতে পাওয়া যায় আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ও ফসফরাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করে এবং সামগ্রিক পুষ্টি চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রোটিনের বাড়তি উৎস

নিরামিষভোজীদের জন্য কাঁঠালের বিচি হতে পারে উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের একটি ভালো উৎস। প্রতি ১০০ গ্রাম বীজে কয়েক গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়, যা শরীরের কোষ গঠন ও মেরামতে সহায়তা করে। যদিও এটি ডাল, মাছ, ডিম বা মাংসের বিকল্প নয়, তবু প্রতিদিনের খাবারে অতিরিক্ত প্রোটিন যোগ করার একটি সহজ উপায় হতে পারে।

হজমে সহায়ক

কাঁঠালের বিচিতে থাকা খাদ্যআঁশ বা ফাইবার হজমপ্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতাও কমতে পারে। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের জন্য ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার বিশেষভাবে উপকারী। একই সঙ্গে এটি কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো
 
এই বীজে থাকা ফাইবার অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হিসেবে কাজ করে। ফলে অন্ত্রের ভেতরের পরিবেশ সুস্থ রাখতে সাহায্য করে এবং হজমশক্তি উন্নত করতে পারে। নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে কাঁঠালের বীজ খেলে অন্ত্রের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চের সুবিধা

কাঁঠালের বিচিতে রয়েছে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ, যা সাধারণ শর্করার মতো দ্রুত হজম হয় না। এটি অন্ত্রে থাকা উপকারী জীবাণুর বৃদ্ধি ও কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। এ ধরনের স্টার্চ রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি এতে তুলনামূলক কম ক্যালোরি থাকায় ওজন ব্যবস্থাপনাতেও কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস

গবেষণায় দেখা গেছে, কাঁঠালের বীজে কিছু প্রাকৃতিক উদ্ভিজ্জ যৌগ রয়েছে, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে ক্ষতিকর ফ্রি র‌্যাডিকেলের প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

কিভাবে খাবেন?

কাঁঠালের বিচি বিভিন্নভাবে খাওয়া যায়। কেউ সেদ্ধ করে খান, কেউ ভেজে বা হালকা মসলা দিয়ে রান্না করেন। অনেক এলাকায় তরকারি, ভর্তা বা ডালের সঙ্গেও এটি ব্যবহার করা হয়। 

সহজলভ্য এই বিচিটি নিয়মিত খাদ্যতালিকায় যোগ করলে পুষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। তাই কাঁঠাল খাওয়ার পর বিচি ফেলে না দিয়ে সেটিকে খাবারের অংশ হিসেবে ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা।

পেট ভালো রাখতে সকালের নাশতায় রাখতে পারেন এই ৭ খাবার

অনলাইন ডেস্ক
পেট ভালো রাখতে সকালের নাশতায় রাখতে পারেন এই ৭ খাবার
ছবি : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

গরমের সময়ে অনেকেরই হজমের সমস্যা, পেট ফাঁপা, অস্বস্তি বা বদহজমের মতো সমস্যা দেখা দেয়। এ সময় শরীরকে সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবারের পাশাপাশি এমন খাবার খাওয়া জরুরি, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং হজমে সাহায্য করে।

সাধারণত টক দই বা ইয়োগার্টকে অন্ত্রের জন্য উপকারী খাবার হিসেবে ধরা হয়। এতে থাকা ভালো ব্যাকটেরিয়া হজমপ্রক্রিয়া উন্নত করে এবং শরীরকে খাবারের পুষ্টি শোষণে সহায়তা করে। তবে অনেকেই টক দই খেতে পছন্দ করেন না বা খেলে অস্বস্তি অনুভব করেন।

সে ক্ষেত্রে সকালের খাবারে এমন কিছু বিকল্প রাখা যেতে পারে, যা পেট ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কার্যকর।

ইডলি

দক্ষিণ ভারতীয় জনপ্রিয় খাবার ইডলি তৈরি হয় চাল ও ডালের ফারমেন্ট করা মিশ্রণ দিয়ে। ভাপে রান্না হওয়ায় এতে অতিরিক্ত তেল লাগে না।

ইডলির সঙ্গে সবজিসমৃদ্ধ সাম্বার খেলে শরীর পায় ফাইবার, ভিটামিন, খনিজ ও প্রোটিন। সঙ্গে নারকেলের চাটনি থাকলে স্বাস্থ্যকর চর্বির চাহিদাও পূরণ হয়। হালকা ও সহজপাচ্য হওয়ায় এটি পেটের জন্য উপকারী।

কলা

সকালের নাশতায় কলা একটি সহজলভ্য ও পুষ্টিকর ফল। এতে রয়েছে প্রচুর পটাশিয়াম ও খাদ্যআঁশ।

কলার ফাইবার অন্ত্রে থাকা উপকারী জীবাণুর জন্য খাদ্য হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি এটি হজমে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে। কলার সঙ্গে সেদ্ধ ডিম বা হোল-হুইট টোস্ট খেলে খাবারটি আরো পুষ্টিকর হয়।

ওটস, আপেল ও খেজুর

ফাইবারসমৃদ্ধ ওটস অন্ত্রের কার্যকারিতা ভালো রাখতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।

রাতে দুধে ওটস ভিজিয়ে রেখে সকালে তার সঙ্গে কুচি করা আপেল, খেজুর ও বাদাম মিশিয়ে খেতে পারেন। এটি একটি স্বাস্থ্যকর ও পেটবান্ধব সকালের খাবার।

মুগ ডালের চিলা

মুগ ডালে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিন ও ফাইবার। তাই এটি হজমের জন্য ভালো এবং দীর্ঘ সময় শক্তি জোগায়।

ভেজানো মুগ ডাল আদা, কাঁচামরিচ ও সামান্য মসলা দিয়ে ব্লেন্ড করে পাতলা ব্যাটার তৈরি করুন। এরপর অল্প তেলে ননস্টিক প্যানে দোসার মতো ছড়িয়ে রান্না করুন। এর সঙ্গে পনির বা সবজি খাওয়া যেতে পারে।

কিমচি

কোরিয়ান খাবার কিমচি তৈরি হয় ফারমেন্ট করা বাঁধাকপি ও মূলা দিয়ে।

ফারমেন্টেড খাবার হওয়ায় এতে উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। সকালের নাশতায় সালাদের অংশ হিসেবে কিমচি যোগ করা যেতে পারে।

পেঁপে

পেঁপে হজমশক্তি উন্নত করার জন্য পরিচিত একটি ফল। এতে থাকা ‘প্যাপেইন’ নামের এনজাইম খাবার ভাঙতে ও হজমে সহায়তা করে।

এ ছাড়া পেঁপেতে থাকা দ্রবণীয় ফাইবার অন্ত্র পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং নিয়মিত মলত্যাগে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

ডিম ও পালং শাকের রোল

পালং শাকে রয়েছে ফাইবার, ভিটামিন ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান। অন্যদিকে ডিম প্রোটিনের ভালো উৎস।

অল্প তেলে রসুন দিয়ে পালং শাক ভেজে তার সঙ্গে ডিম মিশিয়ে রান্না করুন। এরপর আটার বা রাগির রুটিতে মুড়ে রোল তৈরি করে খেতে পারেন। এটি পুষ্টিকর হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকলে হজমপ্রক্রিয়া উন্নত হয়, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী হয় এবং শরীর খাবার থেকে পুষ্টি ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারে। তাই প্রতিদিনের সকালের নাশতায় ফাইবার, প্রোটিন এবং অন্ত্রবান্ধব খাবার রাখলে পেটের নানা সমস্যা কমানোর পাশাপাশি সামগ্রিক স্বাস্থ্যও ভালো রাখা সম্ভব।

চোখ দেখে যেভাবে বুঝবেন কার মনে কী চলছে | কালের কণ্ঠ