• ই-পেপার

পেশিবহুল শরীর গড়তে

মাচা কি কফির জায়গা নিচ্ছে?

জীবনযাপন ডেস্ক
মাচা কি কফির জায়গা নিচ্ছে?
ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

অনেকের দিনের শুরুটা হয় কফির কাপে। তবে শরীরকে একটু ‘ক্যাফেইন ব্রেক’ দিতে এবং ঘুম, অস্থিরতা বা অ্যাসিডিটির মতো সমস্যাগুলো এড়াতে অনেকে ধীরে ধীরে কফি কমানোর দিকে ঝুঁকছেন। ঠিক তখনই সামনে আসে এক উজ্জ্বল সবুজ পানীয়—মাচা।

বিশ্বজুড়ে এখন মাচার জনপ্রিয়তা বাড়ছে দ্রুত। কেউ বলছেন এটি কফির চেয়ে স্বাস্থ্যকর, কেউ আবার এটাকে নতুন লাইফস্টাইল ট্রেন্ড হিসেবে দেখছেন। কিন্তু প্রশ্নটা থেকেই যায়—মাচা কি সত্যিই এতটা উপকারী?

মাচা আসলে কী?

মাচা কোনো আলাদা গাছ নয়। এটি তৈরি হয় সবুজ চা গাছ থেকেই। তবে পার্থক্যটা শুরু হয় চাষের সময়।

চা গাছগুলোকে ফসল তোলার আগে কিছু সময় ছায়ায় রাখা হয়। এতে পাতার ভেতরে ক্লোরোফিল ও অ্যামিনো অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যায়। এরপর পাতাগুলো ভাপানো, শুকানো এবং সূক্ষ্ম গুঁড়োতে পরিণত করা হয়।

এই গুঁড়োই হলো মাচা।

সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো—এখানে শুধু চা পান করা হয় না, পুরো পাতাটাই নেওয়া হয়। তাই সাধারণ সবুজ চায়ের তুলনায় এর উপাদান বেশি ঘন থাকে।

দদদ

মাচায় কী আছে?

বিভিন্ন গবেষণার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মাচায় রয়েছে থিয়ানিন, ক্যাফেইন, ক্যাটেকিন ও রুটিনের মতো বায়োঅ্যাকটিভ উপাদান। এসব উপাদান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং শরীরের বিভিন্ন প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

এছাড়া মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও মাচা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি মনোযোগ বাড়াতে, স্ট্রেস কমাতে এবং স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

কফির বিকল্প হিসেবে কেমন?

মাচায় ক্যাফেইন থাকলেও তা কফির চেয়ে তুলনায় কম। ফলে যারা কফি ছাড়তে পারছেন না কিন্তু কমাতে চান, তাদের জন্য এটি একটি মাঝামাঝি বিকল্প হতে পারে।

অনেকে বলেন, মাচা মনকে একটু শান্ত রেখে ফোকাস বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। তাই অনেকে বলেন, কফি যেখানে দ্রুত জাগিয়ে তোলে, মাচা সেখানে ধীরে কিন্তু স্থায়ীভাবে সতেজ রাখে।

স্বাদের দিক থেকেও পার্থক্য আছে। কফির মতো তীব্র ও তিক্ত না হয়ে মাচার স্বাদ একটু ঘাসের মতো, হালকা উমামি এবং নরম।

মাচা কিভাবে খাওয়া যায়

মাচা সাধারণত গরম পানিতে মিশিয়ে পান করা হয়। অনেকেই এতে দুধ মিশিয়ে মাচা লাটে বানিয়ে খান, আবার কেউ আইসড মাচা হিসেবে ঠাণ্ডা করে উপভোগ করেন। শুধু পানীয়ই নয়, কেক, আইসক্রিম, স্মুদি বা ডেজার্টেও মাচা ব্যবহার করা হয়, যা খাবারে আলাদা স্বাদ ও রং যোগ করে।

তবে সতর্কতা আছে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাচাকে কখনোই ওষুধ বা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়। এর স্বাস্থ্য উপকারিতা নিয়ে গবেষণা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে।

সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, মাচা হয়তো কোনো ম্যাজিক ড্রিংক নয়, তবে স্বাস্থ্যসচেতন জীবনযাপনে এটি একটি আকর্ষণীয় সংযোজন হতে পারে।

আর যারা কফির বিকল্প খুঁজছেন, তাদের জন্য এক কাপ মাচা হতে পারে নতুন অভিজ্ঞতার শুরু।

হঠাৎ নাক দিয়ে রক্ত পড়া কোন রোগের লক্ষণ?

জীবনযাপন ডেস্ক
হঠাৎ নাক দিয়ে রক্ত পড়া কোন রোগের লক্ষণ?
প্রতীকী ছবি

হঠাৎ করেই নাক দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করলে দৃশ্যটি যেমন অস্বস্তিকর, তেমনি অনেকের জন্য ভীতিকরও। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটলে অভিভাবকরা প্রায়ই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে চিকিৎসকদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে নাক দিয়ে রক্ত পড়া বা ‘নোজব্লিড’ কোনো গুরুতর সমস্যা নয়। শুষ্ক আবহাওয়া, অ্যালার্জি, সর্দি-কাশি কিংবা নাক খোঁচানোর মতো সাধারণ কারণেই এটি হতে পারে। তবু কিছু ক্ষেত্রে বারবার নাক দিয়ে রক্ত পড়া শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কোনো রোগেরও জানান দিতে পারে। তাই নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখা প্রয়োজন।

ক্লেভল্যান্ড ক্লিনিক নাকে রক্ত পড়ার কারণ নিয়ে এ প্রতিবেদন করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নাক দিয়ে রক্ত পড়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘এপিস্ট্যাক্সিস’ বলা হয়। নাকের ভেতরের আবরণী টিস্যুতে অসংখ্য ক্ষুদ্র রক্তনালি থাকে, যা শ্বাস-প্রশ্বাসের বাতাসকে উষ্ণ ও ভেজা রাখতে সাহায্য করে। এসব রক্তনালি খুবই সূক্ষ্ম এবং নাকের ভেতরের দিকে থাকায় সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে সামান্য আঘাত, ঘর্ষণ বা শুষ্কতার কারণেও রক্তপাত শুরু হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনের কোনো না কোনো সময়ে প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৬ জন নাক দিয়ে রক্ত পড়ার অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রক্তপাত অল্প সময়ের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায় এবং বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না।

rrrrrrrr

কেন হয় নাক দিয়ে রক্তপাত?

নাক দিয়ে রক্ত পড়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো শুষ্ক বাতাস। শুষ্ক আবহাওয়া কিংবা দীর্ঘ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে থাকার ফলে নাকের ভেতরের আবরণী শুকিয়ে যায়। এতে টিস্যুতে ফাটল তৈরি হয় এবং রক্তনালিগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। এরপর নাক ঝাড়া, ঘষা বা খোঁচানোর মতো সাধারণ কাজেও রক্তপাত শুরু হতে পারে।

এ ছাড়া সর্দি-কাশি, সাইনাসের সংক্রমণ, অ্যালার্জি, নাকে আঘাত লাগা, নাকের ভেতরে কোনো বস্তু ঢুকে যাওয়া কিংবা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেও নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে। যারা নিয়মিত অ্যাসপিরিন বা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খেয়ে থাকেন তাদের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

কিছু বিরল ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপ, রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা, লিউকেমিয়া, নাকের টিউমার বা পলিপের মতো রোগও বারবার নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ হতে পারে।

শিশু ও বয়স্কদের ঝুঁকি বেশি

দুই থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। কারণ এ বয়সে শিশুরা প্রায়ই নাক খোঁচায় বা নাকে বিভিন্ন বস্তু ঢোকানোর চেষ্টা করে।

gggg

অন্যদিকে ৪৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ, ধমনির পরিবর্তন এবং রক্ত পাতলা করার ওষুধ ব্যবহারের কারণে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়।

গর্ভাবস্থায়ও নাকের রক্তনালিতে চাপ বেড়ে যাওয়ায় অনেক নারীর নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে।

নাক দিয়ে রক্ত পড়লে যা করবেন

নাক দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হলে প্রথম কাজ হলো আতঙ্কিত না হওয়া। অনেকেই ভুলবশত মাথা পেছনের দিকে হেলিয়ে দেন, যা ঠিক নয়। এতে রক্ত গলার ভেতর দিয়ে পেটে চলে যেতে পারে এবং বমি বমি ভাব তৈরি করতে পারে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, সোজা হয়ে বসে মাথা সামান্য সামনে ঝুঁকিয়ে রাখতে হবে। এরপর নাকের নরম অংশ দুই আঙুল দিয়ে চেপে ধরে অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এ সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এভাবে রক্তপাত বন্ধ হয়ে যায়।

কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে?

যদিও বেশির ভাগ নোজব্লিড গুরুতর নয়, তবুও কিছু লক্ষণকে অবহেলা করা উচিত নয়।

যদি ১৫ থেকে ২০ মিনিট চাপ দেওয়ার পরও রক্তপাত বন্ধ না হয়, যদি প্রচুর রক্ত বের হয়, যদি শ্বাস নিতে কষ্ট হয় বা মাথায় আঘাত পাওয়ার পর রক্তপাত শুরু হয়, তাহলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।

এ ছাড়া ঘন ঘন নাক দিয়ে রক্ত পড়া, শরীরে অস্বাভাবিক কালশিটে দাগ দেখা দেওয়া, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

প্রতিরোধেই সমাধান

নাক দিয়ে রক্ত পড়া প্রতিরোধে কিছু সহজ অভ্যাস কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।  ঘরের বাতাস আর্দ্র রাখা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং নাক খোঁচানোর অভ্যাস ত্যাগ করা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও ধূমপান থেকে দূরে থাকা, অ্যালার্জির সঠিক চিকিৎসা নেওয়া এবং নাক ঝাড়ার সময় অতিরিক্ত চাপ না দেওয়ার পরামর্শও দেন বিশেষজ্ঞরা।

নাক দিয়ে রক্ত পড়া সাধারণত আতঙ্কের বিষয় নয়। তবে এটি শরীরের একটি সতর্কবার্তাও হতে পারে। তাই একদিকে যেমন অযথা ভয় পাওয়ার কারণ নেই, অন্যদিকে বারবার বা অস্বাভাবিক রক্তপাতকে হালকাভাবে নেওয়াও ঠিক নয়। সমস্যাটি কেন হচ্ছে, তা বোঝা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

খুব সহজে ঘরেই বানিয়ে ফেলুন পুষ্টিকর চিয়া সিড কফি পুডিং

জীবনযাপন ডেস্ক
খুব সহজে ঘরেই বানিয়ে ফেলুন পুষ্টিকর চিয়া সিড কফি পুডিং
সংগৃহীত ছবি

পুষ্টিগুণে ভরপুর চিয়া সিড নিয়ে অনেকেরই ধারণা, এটি কেবল ওজন কমাতেই সাহায্য করে। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতিদিনের ডায়েটে চিয়া সিড রাখলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে, শরীরের ভেতরের প্রদাহ (ইনফ্ল্যামেশন) কমে ও হজমপ্রক্রিয়া ভালো থাকে। শুধু পানিতে ভিজিয়ে খাওয়া ছাড়াও এই উপকরণটি দিয়ে চমৎকার সব সুস্বাদু খাবার তৈরি করা সম্ভব। স্বাস্থ্য সচেতনদের জন্য সকালের নাশতা কিংবা বিকালের ডেজার্ট হিসেবে বানাতে পারেন পুষ্টিকর ‘চিয়া সিড কফি পুডিং’। চলুন, জেনে নিই এর রেসিপি।

প্রয়োজনীয় উপকরণ
চিয়া সিড: ১/৪ কাপ
ফুল ফ্যাট মিল্ক (দুধ): ২০০ মিলি
চিনি: ২ টেবিল চামচ
ইনস্ট্যান্ট কফি পাউডার: ২ চা চামচ
গরম পানি: ৪ টেবিল চামচ
পরিমাণমতো ফল (কলা, আপেল বা স্ট্রবেরি)

তৈরির পদ্ধতি
প্রথমে একটি কাপে গরম পানির সাথে ইনস্ট্যান্ট কফি পাউডার ও চিনি খুব ভালোভাবে মিশিয়ে নিন, যেন কফি দলা পাকিয়ে না থাকে। যে পাত্র বা জারে পুডিংটি সেট করতে দিবেন, তাতে এই কফির মিশ্রণ ও দুধ একসঙ্গে ঢেলে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এবার ওই জারের ভেতর চিয়া সিড দিয়ে একটি চামচ দিয়ে ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড অনবরত নাড়তে থাকুন। এতে চিয়া সিডগুলো জারের নিচে জমাট না বেঁধে কফি ও দুধের সাথে সমানভাবে মিশে যাবে। সবশেষে পুডিংয়ের মতো ঘন ও সুন্দর টেক্সচার পেতে জারটি ফ্রিজে (রেফ্রিজারেটর) অন্তত ১ ঘণ্টা রেখে দিন। ফ্রিজ থেকে বের করে পরিবেশনের সময় ওপরে নিজের পছন্দের কিছু ফল কুচি করে সাজিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে স্বাস্থ্যকর ‘চিয়া সিড কফি পুডিং’।

কফিপ্রেমীদের জন্য সতর্কবার্তা

অতিরিক্ত কফি পানে দুর্বল হচ্ছে মূত্রাশয়, বুঝবেন যেসব লক্ষণে

অনলাইন ডেস্ক
অতিরিক্ত কফি পানে দুর্বল হচ্ছে মূত্রাশয়, বুঝবেন যেসব লক্ষণে
প্রতীকী ছবি

ক্লান্তি দূর করতে বা কাজের ফাঁকে একটু চাঙ্গা হতে এক কাপ গরম কফির জুড়ি মেলা ভার। কফিতে থাকা ক্যাফিন দ্রুত স্নায়ুকে চাঙ্গা করে শরীরে শক্তি জোগায়। চিনি-দুধ ছাড়া ব্ল্যাক কফি লিভারে ফ্যাট জমতে দেয় না এবং হার্ট ভালো রাখতেও সাহায্য করে। তবে এই উপকারী পানীয়টিই শরীরের জন্য বিপত্তির কারণ হতে পারে, যদি তা পানের ক্ষেত্রে পরিমিতিবোধ না থাকে। অতিরিক্ত কফি পানের কারণে নীরবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে আপনার মূত্রাশয় (ইউরিনারি ব্লাডার) ও কিডনি।

চিকিৎসকদের মতে, মাত্রাতিরিক্ত কফি পানের ফলে মূত্রাশয়ের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কফি মূলত ‘ডাইইউরেটিক’ বা মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে, যা শরীরে প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এর ওপর যদি পর্যাপ্ত পানি পান করা না হয়, তবে দ্রুত পানিশূন্যতা ও হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ভারতের নয়ডার প্রখ্যাত কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মনোজ সিংহল জানান, কফি যেভাবে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে স্নায়ুকে উদ্দীপিত করে, ঠিক একইভাবে এর অতিরিক্ত ব্যবহার মূত্রাশয়ের ক্ষতি করে। কফিতে থাকা ক্যাফিন মূত্রাশয়ের ভেতরের দেয়ালে বা আস্তরণে প্রদাহ (ইনফ্লামেশন) সৃষ্টি করে। ফলে ধীরে ধীরে মূত্রাশয়ের প্রস্রাব ধরে রাখার স্বাভাবিক ক্ষমতা কমে যেতে থাকে।

যেসব লক্ষণে বুঝবেন মূত্রাশয় দুর্বল হচ্ছে—

শরীরে ক্যাফিনের মাত্রাতিরিক্ত প্রভাব পড়ছে কি না, তা কিছু লক্ষণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। এগুলো খেয়াল রাখা জরুরি।

  • ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ : পর্যাপ্ত পানি পান না করার পরেও কফি খাওয়ার পরপরই তীব্র প্রস্রাবের বেগ আসা।
  • হঠাৎ বেগ পাওয়া : কোনো পূর্বলক্ষণ ছাড়াই হঠাৎ করে প্রস্রাবের চাপ অনুভব করা।
  • রাতের ঘুম বিঘ্নিত হওয়া : রাতে বারবার প্রস্রাবের কারণে ঘুম ভেঙে যাওয়া।
  • অস্বস্তি ও ব্যথা : মূত্রাশয় বা তলপেটে সার্বক্ষণিক অস্বস্তি, জ্বালাপোড়া কিংবা মৃদু ব্যথা হওয়া।
  • নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি : প্রস্রাব চেপে বা ধরে রাখার ক্ষমতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়া।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে এই লক্ষণগুলো অবহেলা করলে মূত্রনালির সংক্রমণ (ইউটিআই), প্রস্টেট গ্রন্থি বেড়ে যাওয়া এবং পেলভিক ফ্লোরের পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়ার মতো জটিল সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই শরীর চাঙ্গা রাখতে কফি অবশ্যই খাবেন, তবে তা যেন কোনোভাবেই আসক্তিতে রূপ না নেয় এবং শরীরের স্বাভাবিক পানির চাহিদাকে বিঘ্নিত না করে।

পেশিবহুল শরীর গড়তে | কালের কণ্ঠ