কী অবিশ্বাস্য এক ম্যাচই না খেললেন ভোজিনিয়া! এবারের বিশ্বকাপের নবাগত কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক গত রাতে স্পেনের বিপক্ষে গোলবারের সামনে যেন এক অদম্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। স্প্যানিশদের একের পর এক আক্রমণ ব্যর্থ হয়েছে তাঁর দুর্দান্ত সেভ আর কেপ ভার্দের সুসংগঠিত রক্ষণভাগের সামনে।
শক্তি ও সামর্থ্যের বিচারে স্পেনের চেয়ে অনেক পিছিয়ে কেপ ভার্দে। মাঠের খেলায় বলের দখলও ছিল প্রায় পুরোপুরি স্প্যানিশদের নিয়ন্ত্রণে। তবু একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করে আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্রটি নিজেদের জাল অক্ষত রাখতে সক্ষম হয়। দুই অর্ধ মিলিয়ে কেপ ভার্দের জালে কোনো গোলই দিতে পারেনি স্পেন।
প্রথমার্ধেই তিনটি দুর্দান্ত সেভ করেন ভোজিনিয়া। শুরু থেকেই বলের দখল ধরে রেখে খেলতে থাকা স্পেন ৩৬ মিনিটে ম্যাচের সেরা সুযোগগুলোর একটি পায়। পেদ্রির শট কর্নারের বিনিময়ে রুখে দেন কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। যদিও পরে কুকুরেলা অফসাইডে থাকায় কর্নারটি বাতিল হয়। ৩৮ মিনিটে গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল স্পেন। ফেরান তোরেসের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে মিকেল ওইয়ারসাবাল হেড নিলেও অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন ভোজিনিয়া। ৪৫ মিনিটে আরো একটি দুর্দান্ত সেভ করেন তিনি। বক্সের ভেতর থেকে বাঁ পায়ে জোরালো শট নিয়েছিলেন তোরেস। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি ধরে ফেলেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক।
যোগ করা সময়েও নিজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার প্রমাণ দেন ভোজিনিয়া। বিরতির আগে পেদ্রির নেওয়া কর্নার থেকে আমেরিক লাপোর্তে শক্তিশালী হেড নিলে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলের গতিপথ বদলে দেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালকে নামিয়েও কেপ ভার্দের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি স্পেন। মিকেল মেরিনোর বদলি হিসেবে ৭১ মিনিটে মাঠে নামেন ইয়ামাল। চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না উঠলেও গোলের পথ খুঁজে পেতেই তাঁকে মাঠে নামান স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তবে তাতেও কোনো লাভ হয়নি। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে স্পেনকে। অন্যদিকে জয়ের সমান এক ড্র নিয়েই মাঠ ছেড়েছে কেপ ভার্দে, যে ড্রয়ের মাহাত্ম্য বোঝা যাচ্ছিল ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই কেপ ভার্দের ফুটবলারদের চোখে অশ্রু দেখে।


