• ই-পেপার

স্ট্রেস, অ্যাংজাইটি এবং মানসিক অবসাদ কমায় যে খাবারগুলো

সুস্থ থাকতে খেজুর খাওয়ার ৫ স্বাস্থ্যকর উপায়

অনলাইন ডেস্ক
সুস্থ থাকতে খেজুর খাওয়ার ৫ স্বাস্থ্যকর উপায়
সংগৃহীত ছবি

রমজান হোক বা বছরের অন্য সময় খেজুর অনেকেরই পছন্দের খাবার। প্রাকৃতিক মিষ্টি স্বাদের এই ফলটিকে অনেকে চিনির স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করেন। তবে খেজুরে চিনি থাকলেও এর আঁশ (ফাইবার) রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে বাধা দিতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি এটি হজমেও সহায়ক। খবর ভেরিওয়েল ফুড 

তাজা, শুকনা, পেস্ট কিংবা সিরাপ বিভিন্নভাবে খেজুর খাওয়া যায়। প্রতিটি ধরনেরই রয়েছে আলাদা স্বাদ, গঠন এবং পুষ্টিগুণ। সঠিকভাবে খেলে খেজুর হতে পারে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ।

তাজা খেজুর খান

তাজা খেজুর একটি চমৎকার স্বাস্থ্যকর নাশতা। শুকনা খেজুরের তুলনায় এতে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় এটি নরম, রসালো এবং সহজে হজম হয়। তাজা খেজুরের কিছু সুবিধা হলো—

  • ক্যালোরি ও প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণ তুলনামূলক কম।
  • হজমে তুলনামূলক সহজ।
  • শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়।

তবে তাজা খেজুর দ্রুত নষ্ট হতে পারে, তাই অবশ্যই ফ্রিজে সংরক্ষণ করা উচিত। সঠিকভাবে রাখলে কয়েক মাস পর্যন্ত ভালো থাকে।

খেজুর সাধারণত তিনটি পর্যায়ে খাওয়া হয় 

  • খালাল: শক্ত, হলুদ রঙের এবং হালকা মিষ্টি।
  • রুতাব: নরম, বাদামি এবং অনেক বেশি মিষ্টি।
  • তামার: পুরোপুরি পাকা, চিবিয়ে খাওয়ার মতো এবং ক্যারামেলের মতো স্বাদযুক্ত।

শুকনা খেজুর পরিমিত পরিমাণে খান

শুকনা খেজুর সবচেয়ে পরিচিত ও সহজলভ্য। এটি কিশমিশের মতো চিবিয়ে খাওয়া যায় এবং দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়। যদিও এতে তাজা খেজুরের তুলনায় চিনি ও ক্যালোরি বেশি থাকে, তবুও এতে রয়েছে বেশি আঁশ। ফলে এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করতে পারে এবং ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে। এছাড়া শুকনা খেজুরে রয়েছে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি৬, নিয়াসিন, কপার, ও সেলেনিয়াম।  যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তাদের জন্য একবারে অনেকগুলো খেজুর না খেয়ে পরিমিত পরিমাণে খাওয়া ভালো।

বেকিংয়ে ব্যবহার করুন খেজুরের পেস্ট

খেজুরের শাঁস থেকে তৈরি করা হয় খেজুরের পেস্ট। এটি কেক, মাফিন, কুকিজ বা বিভিন্ন বেকড খাবারে পরিশোধিত চিনির পরিবর্তে ব্যবহার করা যায়। খেজুরের পেস্টের বিশেষ সুবিধা হলো খেজুরে এতে প্রাকৃতিক আঁশ থাকে। এটি 
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। অতিরিক্ত পরিশোধিত চিনি ছাড়াই খাবারে মিষ্টি স্বাদ আনে। খেজুর দিয়ে পেস্ট ছাড়াও বাটার, জ্যাম ও জেলিও তৈরি করা যায়।

চিনির বদলে ব্যবহার করুন খেজুরের সিরাপ

খেজুরের প্রাকৃতিক মিষ্টি স্বাদ এবং আঠালো গঠন একে বিভিন্ন রান্না ও বেকিংয়ের জন্য আদর্শ প্রাকৃতিক মিষ্টিকারক করে তোলে। বিশেষ করে দারুচিনি, এলাচ, আদা, বিভিন্ন বাদাম ও বীজজাতীয় উপাদানের সঙ্গে খেজুরের সিরাপের স্বাদ ভালোভাবে মানিয়ে যায়।

খেজুর থেকে তৈরি সিরাপে চিনির পরিমাণ বেশি থাকলেও এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও থাকে, যা সাধারণ পরিশোধিত চিনির তুলনায় এটিকে কিছুটা পুষ্টিগুণসম্পন্ন বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এটি যে চিনি-মুক্ত বা কম ক্যালোরির, তা নয়। তাই ডায়াবেটিস, প্রিডায়াবেটিস বা ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকলে খেজুরের সিরাপও পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা।

ফারমেন্টেড খেজুরও হতে পারে বিকল্প

খেজুরে প্রাকৃতিক চিনি বেশি থাকায় এটি ফারমেন্ট করে বিভিন্ন ধরনের ভিনেগার ও পানীয় তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে খেজুরের রস থেকে এসব পণ্য তৈরি করা সম্ভব।

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যেভাবে খেজুর রাখবেন: খেজুর নানা উপায়ে খাবারের সঙ্গে যোগ করা যায়। যেমন—

  • সকালের স্মুদিতে।
  • দইয়ের সঙ্গে।
  • বাদাম বা পনিরের সঙ্গে স্বাস্থ্যকর নাশতা হিসেবে।
  • সালাদে কুচি করে।
  • এনার্জি বার তৈরিতে।
  • পাউরুটি, মাফিন বা স্কোনে।
  • পিনাট বাটার ও ডার্ক চকলেট দিয়ে ভরে স্বাস্থ্যকর ডেজার্ট হিসেবে।
  • পুডিং তৈরির উপকরণ হিসেবে।

খেজুরে প্রাকৃতিক চিনি থাকলেও এতে থাকা ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যাওয়া কমাতে সাহায্য করতে পারে। তাই সুস্থ মানুষের পাশাপাশি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমিত পরিমাণে খেজুর খেতে পারেন। তবে অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়।

গলায় মাছের কাঁটা আটকে গেলে কী করবেন? জেনে নিন ঘরোয়া কিছু উপায়

জীবনযাপন ডেস্ক
গলায় মাছের কাঁটা আটকে গেলে কী করবেন? জেনে নিন ঘরোয়া কিছু উপায়
ছবি : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

মাছে-ভাতে আমাদের বাঙালির মাছ ছাড়া যেন এক বেলাও চলে না। দুপুরের খাবারে এক টুকরো মাছ না থাকলে অনেকের কাছেই খাবারটা অপূর্ণ মনে হয়। তবে প্রিয় এই খাবার খেতে গিয়েই অনেক সময় ঘটে বিপত্তি। অসাবধানতায় গলায় মাছের কাঁটা আটকে গেলে মুহূর্তেই শুরু হয় অস্বস্তি ও দুশ্চিন্তা। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।

লেবুর রস :
গলায় মাছের কাঁটা আটকে গেলে অনেকেই লেবুর রস খাওয়ার পরামর্শ দেন। লেবুতে থাকা সাইট্রিক এসিড কাঁটাকে কিছুটা নরম করতে সাহায্য করতে পারে বলে ধারণা রয়েছে। একটি লেবুর রসের সঙ্গে সামান্য লবণ মিশিয়ে অল্প অল্প করে পান করলে অনেকের ক্ষেত্রে উপকার মিলতে পারে।

কোল্ড ড্রিংকস :
কোল্ড ড্রিংকসে থাকা কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস গলায় আটকে থাকা ছোট ও নরম কাঁটা নিচে নামতে সহায়তা করতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা সব ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত নয়।

অলিভ অয়েল বা ভিনিগার :
এক চামচ অলিভ অয়েল খেলে গলা কিছুটা পিচ্ছিল হয়ে কাঁটা নিচে নেমে যেতে পারে বলে প্রচলিত ধারণা রয়েছে। অলিভ অয়েল না থাকলে এক গ্লাস পানিতে দুই চামচ ভিনিগার মিশিয়ে পান করার কথাও বলা হয়। তবে এসব পদ্ধতি সব সময় কার্যকর নাও হতে পারে।

তত
ছবি : সংগৃহীত

কলা বা শুকনো ভাত :
গলায় মাছের কাঁটা আটকে গেলে অনেকেই প্রথমেই কলা বা শুকনো ভাত খাওয়ার পরামর্শ দেন। ধারণা করা হয়, কলা বা ভাতের বড় লোকমা গলার কাঁটাকে নিচে নামতে সাহায্য করতে পারে। তবে জোর করে বড় লোকমা গিলে খাওয়া ঠিক নয়। এতে কাঁটা আরো গভীরে ঢুকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। 

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি গলায় তীব্র ব্যথা দীর্ঘ সময় ধরে থাকে, গিলতে বা কথা বলতে সমস্যা হয়, থুতুর সঙ্গে রক্ত আসে কিংবা শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তাহলে আর দেরি না করে দ্রুত নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসক বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে নিরাপদভাবে কাঁটা বের করে দেন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
গলায় মাছের কাঁটা আটকে গেলে জোর করে বড় বড় খাবারের লোকমা গিলে কাঁটা নামানোর চেষ্টা করা উচিত নয়। এতে কাঁটা আরো গভীরে আটকে যেতে পারে এবং জটিলতা বাড়তে পারে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

হেয়ার কালার দীর্ঘদিন উজ্জ্বল রাখবেন যেভাবে

জীবনযাপন ডেস্ক
হেয়ার কালার দীর্ঘদিন উজ্জ্বল রাখবেন যেভাবে

পার্লার থেকে হেয়ার কালার করানোর পর চুলের উজ্জ্বলতা, মসৃণতা আর ঝলমলে রং আমাদের মন ভালো করে দেয়। কিন্তু সমস্যা বাঁধে কিছুদিন পর। কয়েকবার শ্যাম্পু করার পরই সেই পছন্দের রং ফিকে হয়ে যেতে শুরু করে। অনেক সময় চুলে অবাঞ্ছিত হলদে কিংবা তামাটে ভাবও চলে আসে। শুধু ভালো মানের হেয়ার কালার ব্যবহার করলেই রঙের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা যায় না। এর জন্য প্রয়োজন সঠিক নিয়মে চুলের যত্ন নেওয়া। চলুন, জেনে নিই হেয়ার কালার দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখার ৫টি সহজ উপায়।

কালার করার আগে চুল প্রস্তুত করুন
হেয়ার কালার করার আগে চুল পরিষ্কার রাখা খুবই জরুরি। চুলে অতিরিক্ত তেল, ধুলোবালি বা কোনো স্টাইলিং প্রোডাক্ট জমে থাকলে রং সমানভাবে বসে না। তাই কালার করার কয়েক দিন আগে একটি ভালো ক্ল্যারিফাইং শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার করে নিন। পাশাপাশি চুলের আগা ফাটা থাকলে সামান্য ট্রিম করিয়ে নিন। কারণ শুষ্ক ও ক্ষতিগ্রস্ত চুলে রং দ্রুত ফিকে হয়ে যায়।

প্রথম ৩ দিন শ্যাম্পু থেকে দূরে থাকুন
হেয়ার কালার করার পর অন্তত ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা (২-৩ দিন) চুলে শ্যাম্পু না করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এই সময়ের মধ্যে চুলের কিউটিকল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে রংকে ভেতরে আটকে রাখতে সাহায্য করে। কালার করার পরপরই শ্যাম্পু করলে নতুন রং দ্রুত ধুয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

চুল ধোওয়ার অভ্যাস বদলান
গরম পানি দিয়ে চুল ধুলে কিউটিকল খুলে যায় এবং রং দ্রুত নষ্ট হয়। তাই চুল ধোওয়ার জন্য সবসময় ঠাণ্ডা বা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবারের বেশি শ্যাম্পু করবেন না। প্রয়োজনে মাঝের দিনগুলোতে ড্রাই শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়া সাধারণ শ্যাম্পুর বদলে ‘কালার-সেফ’ ও ‘সালফেট-মুক্ত’ শ্যাম্পু ব্যবহার করলে রঙের উজ্জ্বলতা দীর্ঘদিন বজায় থাকে।

রোদ, ক্লোরিন ও হার্ড ওয়াটার থেকে সুরক্ষা
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি হেয়ার কালার নষ্ট করে দেয়। তাই কড়া রোদে বাইরে বের হলে স্কার্ফ বা টুপি ব্যবহার করুন। লাইনে সরবরাহ করা পানিতে অতিরিক্ত খনিজ থাকলে তা চুলের ক্ষতি করতে পারে, তাই সম্ভব হলে শাওয়ার ফিল্টার ব্যবহার করুন। এ ছাড়া সুইমিং পুলের ক্লোরিনযুক্ত পানিতে নামার আগে পরিষ্কার পানি দিয়ে চুল ভিজিয়ে লিভ-ইন কন্ডিশনার লাগিয়ে নিন।

নিয়মিত ময়েশ্চার ও টোনিং
কালার করার পর চুলে আর্দ্রতার ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই সপ্তাহে অন্তত একবার শিয়া বাটার বা কেরাটিনযুক্ত ‘ডিপ কন্ডিশনিং মাস্ক’ ব্যবহার করুন। চুলে হলদে ভাব দূর করতে পার্পল শ্যাম্পু এবং বাদামি চুলের তামাটে ভাব কমাতে ব্লু শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া মাঝে মাঝে হেয়ার গ্লস ব্যবহার করলে চুলের কিউটিকল সিল হয়ে যায় এবং পার্লারের মতো ঝকঝকে লুক বজায় থাকে।

সূত্র : এই সময়

পরিবারের ছোট সন্তান হওয়ার ‘চাপে’ আপনি কতটা একাকী?

সঞ্জয় দে
পরিবারের ছোট সন্তান হওয়ার ‘চাপে’ আপনি কতটা একাকী?
প্রতীকী ছবি

পরিবারের ছোট সন্তান মানেই আপনি যেন আজীবনের হাসিখুশি এক ‘ছোট্ট পুতুল’। নানা বাহানা আর বায়না দিয়ে দখল করে রাখেন সবার মনোযোগ। সাধারণ ধারণা হলো, ছোট সন্তান হওয়া মানেই ‘সব পাওয়ার সুযোগ’। তবে বিভিন্ন ধরনের গবেষণা বলছে, ‘সব পাওয়ার’ প্রচলিত ধারণার মাঝেই ছোট সন্তানের মাঝে ভর করতে পারে নানা ধরনের মানসিক অতৃপ্তি। এমনকি পরিবারে জীবনভর একটি নির্ধারিত ভূমিকায় নিজেকে আটকে রাখার লড়াই চালাতে গিয়ে আসতে পারে ক্লান্তি। পরিবারে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগের অভাবে দীর্ঘ মেয়াদে আত্মবিশ্বাসে ঘাটতিও তৈরি হতে পারে। ফলে বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দেখা দিতে পারে অনিশ্চয়তা। 

অস্ট্রিয়ান মনোবিজ্ঞানী আলফ্রেড অ্যাডলার সর্বপ্রথম পরিবারে জন্মক্রমের ভিত্তিতে সন্তানের ব্যক্তিত্ব নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত ঘটান। ১৯২০-এর দশকে তিনি দাবি করেন, সন্তানদের জন্মক্রম তাদের ব্যক্তিত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রথম সন্তান সাধারণত দায়িত্বশীল হয়, ছোট সন্তান হয় তুলনামূলক আদুরে। আর মাঝখানের সন্তান দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী জায়গায় নিজের অবস্থান খোঁজার লড়াই চালাতে গিয়ে আলাদা মানসিক বৈশিষ্ট্য অর্জন করে।

১৯২৮ সালে আলফ্রেড অ্যাডলারের উপস্থাপন করা তত্ত্বে দাবি করা হয়, সন্তানেরা একই পরিবারে জন্ম নিলেও তাদের জন্মক্রম আলাদা মানসিক বিকাশকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। জন্মক্রমের ভিত্তিতে শিশুর ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য দেখা যেতে পারে। অ্যাডলারের মতে, পরিবারের সবচেয়ে বড় সন্তান তুলনামূলকভাবে কর্তৃত্বপরায়ণ হয়। সাধারণত তার ওপর বাবা-মায়ের উচ্চ প্রত্যাশা থাকে বলে সে নিজেকে অনেক বেশি ক্ষমতাবান মনে করতে শুরু করে। অন্যদিকে সবচেয়ে ছোট সন্তান পরিবারে আদুরে শিশু হিসেবে বেড়ে ওঠে। আর মেজো সন্তান সাধারণত ভারসাম্যপূর্ণ স্বভাবের হয়।
 
অ্যাডলারের তত্ত্বটি জন্মক্রমের ভিত্তিতে মানুষের মানসিক বিকাশকে মনোবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করার পথ খুলে দিয়েছিল। তবে পরবর্তী আরো অনেক গবেষণায় জন্মক্রমের প্রভাব সম্পর্কে পরস্পরবিরোধী ফলাফলও দেখা গেছে। বছরের পর বছর ধরে এ বিষয়ে নানা তত্ত্ব ও সংজ্ঞা হাজির করেছেন মনোবিজ্ঞানীরা। এতে সাধারণভাবে পরিবারের সবচেয়ে ছোট সন্তানকে অত্যন্ত মিশুক, আত্মবিশ্বাসী, সৃজনশীল, সমস্যা সমাধানে দক্ষ এবং অন্যদের দিয়ে নিজের কাজ করিয়ে নেয়ায় পারদর্শী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। 

তবে ইয়াংগেস্ট চাইল্ড সিনড্রোম ব্যক্তিত্বের বিকাশে নানা ধরনের জটিলতাও তৈরি করতে পারে। সবচেয়ে ছোট সন্তানের বিরুদ্ধে প্রায়ই অতি আদরে ‘নষ্ট হয়ে যাওয়া’র অভিযোগ শুনতে পাওয়া যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি নিয়ে নিজেদের বিপদে ফেলে, এমনকি বড় ভাইবোনের বুদ্ধি-পরামর্শেরও খুব একটা তোয়াক্কা করে না। 

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, বাবা-মা প্রায়ই ছোট সন্তানকে অতিরিক্ত আগলে রাখেন। আবার ছোট সন্তানকে আড়ালে রেখে সমস্যার মোকাবেলায় বড় ভাইবোনদের এগিয়ে দেন। ফলে সবচেয়ে ছোট সন্তান নিজের সমস্যা নিজেই সমাধান করার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে ওঠার সুযোগ পায় না। 

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন ডটকমের এক নিবন্ধে গবেষকদের বরাতে বলা হয়েছে, পরিবারের সবচেয়ে ছোট সন্তানের মধ্যে কখনো কখনো বিশেষ একটি ধারণা জন্ম নেয়। পরিবার তাকে কখনো ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলতে চায় না বলে তারা নিজেদের ‘অজেয়’ ভাবতে শুরু করতে পারে। এ কারণে একাকী জীবনে সে হুঁটহাট ঝুঁকিপূর্ণ কোনো কাজে অবলীলায় নেমে পড়ে। বড় ভাইবোনদের মতো সে কাজটির সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে ততটা সচেতন থাকে না। এতে মাঝে মধ্যেই সে খাল কেটে নিজের ঘর পর্যন্ত কুমির নিয়ে আসতে পারে। 

সাধারণভাবে ছোট সন্তান পরিবারে সবচেয়ে ‘সুবিধাভোগী’ হিসেবে বিবেচিত। তবে কিছু গবেষণায় দেখা গেছে পরিবারের অতিরিক্ত নজর ও আগলে রাখার কিছু নেতিবাচক প্রভাবও ছোট সন্তানের ওপর পড়তে পারে। কারো কারো মাঝে জন্ম নিতে পারে বিশেষ ধরনের বিচ্ছিন্নতা ও নিঃসঙ্গতাবোধ। পরিবারের মনোযোগ ধরে রাখার ক্রমাগত মনস্তাত্ত্বিক লড়াই দীর্ঘমেয়াদে ক্লান্তির জন্মও দিতে পারে। 

গবেষণায় দেখা গেছে, বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে ছোট সন্তানকে নিজস্ব পরিচয় (Identity) খুঁজে পাওয়ার সংগ্রামে নামতে হয়। সে ভাবতে থাকে বড় ভাইবোনরা অনেক কিছু আগেই করে ফেলেছে। ফলে তাকে আলাদা কিছু করে নিজেকে বিশেষভাবে প্রমাণ করতে হবে। এ কারণে ছোট সন্তানেরা প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে সাধারণত নিজের আলাদা পরিচয় গড়তে চায়। তারা ভিন্ন রুচি, পেশা বা জীবনধারা বেছে নেয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিজেকে অন্যদের সঙ্গে তুলনা করার লড়াই চালাতে গিয়ে মানসিক দ্বন্দ্বে ভুগতে থাকে। এটি কখনও কখনও একাকীত্বের অনুভূতির জন্মও দিতে পারে। 

মনোবিজ্ঞানী লিয়ন ফেস্টিঙ্গারের সোশ্যাল কম্প্যারিজন থিওরি অনুযায়ী, মানুষ স্বাভাবিকভাবেই নিজের সঙ্গে অন্যের তুলনা করে। ছোট সন্তানও একইভাবে ভাইবোনের সঙ্গে নিজের তুলনা করে। সেক্ষেত্রে বড় ভাইবোনেরা পড়াশোনায় এগিয়ে গেলে অথবা ক্যারিয়ারে প্রতিষ্ঠিত হলে ছোটজনের আত্মসম্মানে আঘাত লাগার পাশাপাশি সে নিজেকে গুটিয়ে নিতে পারে।

আবার পরিবারে অতিরিক্ত সুরক্ষাও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছোট সন্তানের জন্য হীতে বিপরীত হতে পারে। কারণ এর ফলে তার স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ কমে আসে, আত্মবিশ্বাস গড়ে উঠতে দেরি হয়, এমনকি বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ক্ষেত্রেও জটিলতা দেখা দিতে পারে। পরিবারের বড় ভাইবোন পড়াশোনা, চাকরি, বিয়েসহ বিভিন্ন কারণে বাড়ি ছেড়ে চলে গেলেও ছোট সন্তান মানসিকভাবে হঠাৎ একা হয়ে যেতে পারে। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় সিবলিং লস অব ডেইলি কনট্যাক্ট। এতে ঘরের পরিবেশ বদলে যায় এবং ছোট সন্তানের মধ্যে একাকিত্ব বাড়তে পারে।

‘সবার ছোট’ পরিচয় থেকে বের হতে না পারাও ছোট সন্তানের জন্য সব সময় উপদেয় নাও হতে পারে। অনেক পরিবারে ৩০-৪০ বছর বয়সে পৌঁছানোর পরেও ছোট সন্তানকে ‘ছোট’ হিসেবে বিচার করা হয়। এটি দীর্ঘ মেয়াদে ব্যক্তির আত্মপরিচয়কে প্রভাবিত করতে পারে। ফ্যামিলি সিস্টেম থিওরিতে বলা হয়, পরিবার কাউকে একটি নির্দিষ্ট ভূমিকায় আটকে রাখলে সে নিজের সক্ষমতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগতে পারে।

আরেকটি বৈশিষ্ট্য মেনে চলার ‘চাপ’ ছোট সন্তানকে বেশ বিপদে ফেলতে পারে। তাকে সাধারণত পরিবারের সবচেয়ে ‘হাসিখুশি’ সদস্য হিসেবে মনে করা হয়। আর এটাই তৈরি করতে পারে মানসিক জটিলতা। তার নিজস্ব কষ্ট প্রকাশে যেমন অস্বস্তি তৈরি হয়, তেমনি কষ্টকে গুরুত্ব দেয়ার মানুষও তেমন থাকে না। সব মিলিয়ে অনেকেই নিজের অনুভূতি চাপা দিতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। এতে ধীরে ধীরে পাড়তে পারে নিঃসঙ্গতার অনুভূতি। 

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে বড় সন্তানের তুলনায় ছোটরা জন্ম নেয় পরিবারের অপেক্ষাকৃত বেশি জটিল সময়ে। এ সময়ে বাবা-মায়ের বয়স বেড়ে যায়, পরিবারের আর্থিক অবস্থার বদল ঘটতে পারে, আবার পারিবারিক সমস্যার ধরনেও বদল আসে। এ কারণে ছোট সন্তানের বেড়ে ওঠার পরিবেশ বড় ভাইবোনদের চেয়ে আলাদা হতে পারে।

এভাবে জন্মক্রম একটি পরিবারে সন্তানদের মাঝে ব্যক্তিত্বের ধরনে পরিবর্তন ঘটিয়ে থাকে বলে অনেক মনোবিজ্ঞানীর ধারণা। তবে এর বিপরীত দাবিও রয়েছে। বড় পরিসরে চালানো কিছু গবেষণায় দাবি করা হয়েছে জন্মক্রমের কারণে ব্যক্তিত্বে বড় কোনো স্থায়ী প্রভাব পড়ে না। বরং পারিবারিক অভিজ্ঞতা, ভাইবোনের সম্পর্ক এবং সন্তান লালন-পালনের ধরন কিছু মানুষের জীবনকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে সক্ষম। 

অর্থাৎ, ছোট সন্তান হয়ে জন্ম নেওয়াই শেষ কথা নয়। তার পরিবারের সদস্যদের আচরণ, আর্থিক সঙ্গতি, অতিরিক্ত সুরক্ষা, সম্পর্কের ধরনসহ বেশ কিছু কারণ ছোট সন্তানের মধ্যে জটিল মনস্তত্ত্ব, আত্মবিশ্বাসহীনতা বা নিঃসঙ্গতার অনুভূতি তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সাধারণভাবে, বড় ভাইবোনের সঙ্গে বেড়ে ওঠার ফলে ছোট সন্তান ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন বয়সের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতা রপ্ত করে ফেলে। এতে তাদের সামাজিক অভিযোজন ক্ষমতা যেমন বাড়ে, তেমনি যোগাযোগ দক্ষতা তুলনামূলকভাবে উন্নত হতে পারে।

স্ট্রেস, অ্যাংজাইটি এবং মানসিক অবসাদ কমায় যে খাবারগুলো | কালের কণ্ঠ