• ই-পেপার

তিন দিনে রাজধানীতে ট্রেনের ধাক্কায় চারজন নিহত

দিন-রাত দুই শিফটে কাজ করবেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা : ডিএনসিসি প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক
দিন-রাত দুই শিফটে কাজ করবেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা : ডিএনসিসি প্রশাসক

রাজধানীকে আরো পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১০টি অঞ্চলে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা এখন থেকে দিবাকালীন ও রাত্রিকালীন—দুই শিফটে কাজ করবেন। শুক্রবার (১২ জুন) এক সভায় ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এ কথা জানান।

তিনি বলেন, নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরো কার্যকর ও গতিশীল করতে ইতিমধ্যে ডিএনসিসির ২৬টি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারে উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য অপসারণে ব্যবহৃত প্রচলিত ভ্যান সার্ভিসকে সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, প্রধান সড়কগুলোতে পড়ে থাকা বর্জ্য দ্রুত অপসারণের জন্য কুইক রেসপন্স টিম (QRT) ও মোবাইল টিম গঠন করা হয়েছে। নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে কোথাও যাতে বর্জ্যের স্তূপ জমে না থাকে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত সব যানবাহন ও যন্ত্রপাতির শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি নতুন প্রয়োজনীয় যান-যন্ত্রপাতি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আধুনিক কম্প্যাক্টর ট্রাক, হুক-লিফট ট্রাকসহ অন্যান্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যানবাহন সংগ্রহ করা হলে বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থা আরো দ্রুত, আধুনিক ও কার্যকর হবে।

বর্জ্য পৃথকীকরণ ও সুষ্ঠু সংগ্রহ ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করতে পরীক্ষামূলকভাবে ডিএনসিসির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ২৫০টি সবুজ ও ২৫০টি হলুদ রঙের মোট ৫০০টি প্লাস্টিক বিন বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৫০ হাজার পিস পলিব্যাগও বিতরণ করা হয়েছে। এই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

শফিকুল ইসলাম খান বলেন, আমিনবাজার ল্যান্ডফিল সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় ‘বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ’ উৎপাদনের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে। প্রকল্পের আওতায় প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার টন কঠিন বর্জ্য ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে নাগরিক অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং ওয়ার্ডভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানো হবে।

নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্ধারিত স্থান ছাড়া কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে ময়লা-আবর্জনা ফেলা যাবে না। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার মাধ্যমেই ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ বাস্তবায়ন সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চুরি হওয়া তারের ক্রেতা মাহাবুব কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চুরি হওয়া তারের ক্রেতা মাহাবুব কারাগারে
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রেড টেলিফোন সংযোগের তামার তার চুরি হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় তদন্তে প্রাপ্ত আসামি ও তারের ক্রেতা আসামি মো. মাহাবুব হাসানকে (৩৪) কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

শুক্রবার (১২ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিএমপির (সিটিটিসি) টিমের উপ-পুলিশ পরিদর্শক ইনজামুল হোসেন এ আবেদন করেন।

​মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২২ মে সকাল ১০টা হতে ১ জুন  সকাল ১০টার মধ্যে যেকোনো সময় বাংলাদেশ সচিবালয়ের অভ্যন্তরে পুরাতন ভবন-১, ২ ও ৩ এর ছাদ থেকে বিটিসিএলের জোড়ার কপার ক্যাবল চুরির ঘটনা ঘটে। আনুমানিক ১১০ মিটার দীর্ঘ  চুরি হওয়া সরকারি ক্যাবলের বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকা। এ ঘটনায় (বিটিসিএল) জুনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক (কারিগরি) মো. ফয়সাল কবীর শাহবাগ থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের করেন। 

মামলা দায়েরের পর সিসিটিভি ফুটেজ ও আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে গত ৪ জুন (বৃহস্পতিবার) বিকেলে সচিবালয় এলাকা থেকে আউট সোর্সিংয়ে কর্মরত রঞ্জন চন্দ্র (২৬) ও রিজাকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরেরদিন  তাদেরকে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রঞ্জন চুরির দায় স্বীকার করে এবং জানায় যে, সে চুরিকৃত ক্যাবলের ভেতরের মূল্যবান তামা বের করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনে ‘মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স’ নামক ভাঙ্গারির দোকানে বিক্রি করেছে। ​রঞ্জনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই মালের মূল ক্রেতা মো. মাহবুব হাসানকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামি চোরাই তার ক্রয়ের বিষয় স্বীকার করলেও কোথায় রাখছে তা অস্বীকার করছে। এজন্য তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন।

ইট মেরে মোটরসাইকেল চালককে হত্যাচেষ্টা, ৩ আসামি কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
ইট মেরে মোটরসাইকেল চালককে হত্যাচেষ্টা, ৩ আসামি কারাগারে

রাজধানীর কাফরুল থানাধীন এলাকায় মোটরসাইকেল চালক সাজিদ চৌধুরী রাফিকে ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানোর হয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

শুক্রবার (১২ জুন) বিকালে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন এ আদেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার উপ-পরিদর্শক মো. হাসিবুর রহমান আবেদনটি করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই ওয়াজেদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন মো. পারভেজ, আনোয়ার হোসেন বাবু ও মো. ফয়সাল ওরফে কালু। তবে এ দিন আসামিপক্ষে কোনো আবেদন ছিল না।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া থানার ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মো. পারভেজকে এবং ইব্রাহিমপুর এলাকা থেকে আনোয়ার হোসেন বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া কাফরুল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফয়সাল ওরফে কালুকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটের দিকে মোটরসাইকেলে নিজ বাসায় ফিরছিলেন ভুক্তভোগী রাফি। তিনি কাফরুল থানাধীন ইব্রাহিমপুর এলাকায় পৌঁছালে পূর্বশত্রুতার জেরে রাফির মাথার ডান পাশে ইট দিয়ে আঘাত করেন দুষ্কৃতকারীরা। এতে তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে মোটরসাইকেল থেকে রাস্তায় পড়ে যান। এ ঘটনায় রাফির চাচা নুর হোসেন বাদী হয়ে কাফরুল থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

আসামি কালু প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান, ব্যবসা নিয়ে রাফির সঙ্গে অভিযুক্তদের আগে থেকে বিরোধ চলছিল। কয়েকদিন আগেও এ নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। ঘটনার দিন রাফি একা বাইক চালিয়ে আসছিলেন। এ সময় ওই রাস্তায় কালু, পারভেজসহ তার সহযোগীরা আড্ডা দিচ্ছিল। রাফিকে একা দেখে তারা আটকাতে যায়। কালু বাইকারকে আটকাতে ব্যর্থ হলে একটু সামনে অবস্থান করা পারভেজ ইটের টুকরো দিয়ে মাথায় সজোরে আঘাত করে। এতে বাইকার পড়ে যায় এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পায়। পরবর্তীতে অভিযুক্তরা বাইকারকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যায়।

রামপুরায় শীর্ষ সন্ত্রাসী কাইল্লা পলাশকে গুলি

অনলাইন ডেস্ক
রামপুরায় শীর্ষ সন্ত্রাসী কাইল্লা পলাশকে গুলি

রাজধানীর রামপুরা এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে ‘কাইল্লা পলাশ’কে (৫০) গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। 

শুক্রবার (১২ জুন) দুপুর ২টার দিকে গুলির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, আজ পলাশের বাসায় মিলাদ ছিল। মসজিদে জুমার নামাজ শেষে বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি রামপুরা টিভি সেন্টারের উল্টো পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এই সময় মোটরসাইকেলযোগে এসে দুই অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

এদিকে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান জানান, পলাশ ওরফে ‘কাইল্লা পলাশ’ হাতিরঝিল রামপুরা এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ ১৮-২০ বছর জেল খেটে মাস খানেক আগে জামিনে বের হয় সে। তার বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা না থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ অন্তত দশটি মামলার সন্ধান পেয়েছি আমরা। তবে কারা তাকে গুলি করেছে সেই বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। 

বর্তমানে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন গুলিবিদ্ধ পলাশ।