• ই-পেপার

মিরপুরে আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দিয়েছে বিজিবি

ট্রাফিক আইন মানার হুঁশিয়ারি, নিজেই অনির্ধারিত ক্রসিং পার হলেন ডিএমপি কমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক
ট্রাফিক আইন মানার হুঁশিয়ারি, নিজেই অনির্ধারিত ক্রসিং পার হলেন ডিএমপি কমিশনার

ট্রাফিক আইন মানার ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি সবাই সমান, এমনকি প্রধানমন্ত্রীও ট্রাফিক আইন মেনেই যাতায়াত করছেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। তবে এমন বক্তব্য দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই কমিশনারের গাড়িবহরকে অনির্ধারিত ক্রসিং দিয়ে ব্যারিকেড সরিয়ে  রাস্তা পার হতে দেখা গেল।

ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নিজেদের সফলতা জানাতে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন কমিশনার। সংবাদ সম্মেলন শেষে ডিএমপি সদর দপ্তরের দিকে যাওয়ার পথে তিনি ওই অনির্ধারিত পথটি পার হন।

মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টার থেকে ডিএমপি সদর দপ্তরের দিকে যেতে হলে সাধারণ যানবাহনগুলোকে অনেকটা পথ ঘুরে মগবাজারে ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে ইউটার্ন নিতে হয়। তবে বৃহস্পতিবার বিকেলে মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন শেষে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের গাড়িবহর অবশ্য সে পথে গেল না। মিন্টো রোডের ওই ক্রসিংয়ে ত্রিকোণাকৃতির কোন ও দড়ি দিয়ে পুলিশ সাধারণের জন্য যে (ব্যারিকেড) প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছিল, সেটি সরিয়েই নিজেদের কমিশনারকে পার করে দিতে দেখা গেল পুলিশ সদস্যদের। এর আগে দুই পাশের যান চলাচল বন্ধ রাখতেও দেখা যায় দায়িত্বরত পুলিশের সদস্যদের। যদিও এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গমনাগমনের ক্ষেত্রেও কোনো রাস্তা বন্ধ রাখা হয় না বলে বিভিন্ন সময় পুলিশের পক্ষ থেকেই জানানো হয়েছে।

অনির্ধারিত ক্রসিংটি ব্যবহারের কয়েক মিনিট আগেই সংবাদ সম্মেলনের ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘সরকারি-বেসরকারি সব যানবাহনের জন্যই আইন সমান। এমনকি আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ট্রাফিক আইন মেনেই গাড়ি চালান।’

শহরের সরকারি গাড়িগুলোকে বেশি ট্রাফিক আইন অমান্য করতে দেখা যায়। তাদের নিয়ন্ত্রণে কী পরিকল্পনা করছেন ডিএমপি কমিশনার- এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ট্রাফিকের আইন আসলে সবার জন্যই সমান, সেটা সরকারি হোক বেসরকারি হোক। যেমন- আমরা কিন্তু আমাদের পুলিশ সদস্যের ক্লিয়ার মেসেজ দিয়েছি যে, কেউ যদি ট্রাফিক আইন অমান্য করে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব ট্রাফিক আইন অনুযায়ী। তেমনিভাবে আপনি জানেন যে, আমাদের প্রধানমন্ত্রী কিন্তু ট্রাফিক আইন মেনে যাতায়াত করেন। তো সেখানে আর অন্যদের ব্যাপারে তো অবশ্যই...আমাদের সরকারি হোক বা বেসরকারি হোক আমাদের অবস্থান কিন্তু স্পষ্ট। যে ট্রাফিক আইন যিনি লঙ্ঘন করবেন, ট্রাফিক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা তার বিরুদ্ধে নেওয়া হবে।’

তবে সংবাদ সম্মেলন শেষে নিজের দপ্তরে যাওয়ার সময় কমিশনার জনসাধারণের জন্য নির্ধারিত পথটি ব্যবহার করলেন না।

ওই পথ নিয়মিত ব্যবহার করেন মোটরসাইকেল চালক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। তিনি বলছেন, ‘আমি প্রতিদিন এই পথে যাই। মিন্টু রোড থেকে বেইলিরোড বা কাকরাইলের দিকে যেতে হলে হয় মগবাজারে ফ্লাইওভারের নিচে দিয়ে ঘুরে আসতে হয়, না হয় হেয়ার রোড হয়ে যেতে হয়। কিছুক্ষণ আগে ডিএমপি কমিশনার যে ক্রসিং অতিক্রম করলেন, সেটা জনসাধারণের জন্য সবসময় বন্ধই থাকে।’

কমিশনারের সংবাদ সম্মেলন শেষ হওয়ার পরপরই ওই ক্রসিংয়ের দড়ির প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে দিয়ে দুই পাশে দাঁড়িয়ে যান দুজন পুলিশ সদস্য। কমিশনারের গাড়িবহর আসার আগে ওই সড়কের দুই পাশের রাস্তাতেই যান চলাচল বন্ধ করে দেন পুলিশ সদস্যরা। কমিশনারের গাড়িবহর পার হওয়ার পর তারা আবার দড়ির প্রতিবন্ধকতাটি যথাস্থানে রেখে দেন এবং ক্রসিংটি আগের মতো বন্ধ করে দেন।

পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে গ্রিন কনসার্নস ফাউন্ডেশনের বৃক্ষরোপণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে গ্রিন কনসার্নস ফাউন্ডেশনের বৃক্ষরোপণ
ছবি : কালের কণ্ঠ

‘রোড ডিভাইডারে গাছ লাগাই সবুজে সাজাই শহর সবাই’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিন কনসার্নস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে রাজধানীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকালে তেজগাঁও বিএসটিআই ও আমাদের সময়ের মাঝখানের সড়ক বিভাজকে এই কর্মসূচি পালিত হয়। সংগঠনটি দেশব্যপী বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছে। 

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন গ্রিন কনসার্ন’স ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান ও আমাদের সময়ের নির্বাহী সম্পাদক নজরুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারি রণজিৎ সরকার, আমাদের সময়ের ভারপ্রাপ্ত বার্তা সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, অনলাইন ইনচার্জ বিপুল হাসান, আমাদের সময়ের সিনিয়র রিপোর্টার আব্দুল্লাহ ক্বাফী, গ্রিন কনসান’স ফাউন্ডেশনের সদস্য কবি ও সাংবাদিক গিরীশ গৈরিক, এমিলিয়া খানম, লাবণ্য লিপি, আমাদের সময়ের সিনিয়র রিপোর্টার শাহজান মোল্লাসহ সংগঠনের সদস্যবৃন্দ। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সার্বিক সহযোগিতা করেছে শিকদার এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে আমাদের সময়ের নির্বাহী সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষা ও বাসযোগ্য করতে হলে পরিবেশের বিকল্পনা নাই। যেহেতু এই পৃথিবী দিন দিন উষ্ণ হয়ে উঠছে। আজ থেকে ১০ বছর আগে এই দেশে গড় তাপমাত্রা কত ছিল? এখন কত? বিষয়গুলো সবাইকে অনুধাবন করতে হবে। বাসযোগ্য দেশ গড়তে বৃক্ষ রোপণের বিকল্প নাই। আমরা আজকে এখানে নিমগাছ রোপণ করলাম। প্রশ্ন আসতে পারে নিমগাছ কেন? কারণ নিমগাছ বেশি অক্সিজেন ত্যাগ করে এবং বেশি করে কার্বণডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে যা আমাদের জন্য অত্যান্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটা  নাগরিকদের স্বস্তি দেবে। সবুজ পৃথিবী গড়তে প্রত্যেকের অন্তত একটা করে গাছ লাগানো উচিত। বর্তমান সরকার পরিবেশের বিষয়টাকে অত্যান্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনা জুড়ে পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার।’ 

গ্রিন কনসার্ন’স ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘সমগ্র পৃথিবীব্যাপী উষ্ণায়ন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে। ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস। এই দিবসকে ঘিরে আজ গ্রিন কনসান’স ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে তেজগাঁও এলাকায় রোড ডিভাইডারের মাঝখানে গাছ লাগানো হলো। আমরা এখানে অনেকগুলো নিমগাছের চারা রোপন করেছি। এটা একটা ঔষুধিগাছ আপনারা জানেন নিমগাছ খুবই উপকারী একটি গাছ। এটি মানুষের রূপচর্চা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যচর্চায় বিভিন্ন উপকারী হিসাবে ব্যহৃত হয়। আসুন সবাই একটি করে হলেও গাছ লাগাই। সবুজে ভরে উঠুক সারা পৃথিবী।’

গ্রিন কনসার্ন’স ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি রণজিৎ সরকার বলেন, ‘আজ আমরা একটি সুন্দর ও মানবিক উদ্যোগ নিয়ে একত্রিত হয়েছি— সড়কের ডিভাইডারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। একটি গাছ শুধু পরিবেশ সুন্দর করে না, এটি আমাদের জীবন রক্ষা করে, বিশুদ্ধ অক্সিজেন দেয়, তাপমাত্রা কমায় এবং শহরকে বাসযোগ্য করে তোলে। বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন, তীব্র গরম, বায়ুদূষণ ও পরিবেশ বিপর্যয় আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। তাই শুধু আলোচনা নয়, এখন প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগ। পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়; নাগরিক সমাজ, তরুণ প্রজন্ম এবং সচেতন প্রতিটি মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই সবুজ নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘ডিভাইডারে রোপিত প্রতিটি চারা হবে দূষণের বিরুদ্ধে একেকটি প্রতিবাদ, উষ্ণতার বিরুদ্ধে একেকটি প্রতিরোধ এবং জীবনের পক্ষে একেকটি সবুজ ঘোষণা। শুধু বৃক্ষরোপণ নয়, বৃক্ষ সংরক্ষণেও সমানভাবে দায়িত্বশীল হবো। কারণ প্রকৃতিকে রক্ষা করা মানে মানবসভ্যতার অস্তিত্ব রক্ষা করা।’

গ্রিন কনসান’স ফাউন্ডেশনের সদস্য কবি ও সাংবাদিক গিরীশ গৈরিক বলেন, ‘পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আমরা সারা দেশব্যাপী গাছ লাগাতে চাই। এই প্রত্যাশা নিয়ে আজকে আমাদের যাত্রা শুরু হলো। সরকারের সবুজায়নের উদ্যোগকে শক্তিশালী করতে গ্রিন কনসান সহায়ক শক্তি হিসাবে কাজ করবে।’

স্থানীয়দের সম্পৃক্ততা নিশ্চিতের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষায় উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক
স্থানীয়দের সম্পৃক্ততা নিশ্চিতের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষায় উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি
সংগৃহীত ছবি

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় বক্তারা বলেছেন, বর্তমানে পৃথিবী ভয়াবহ জলবায়ু সংকটের মুখোমুখি। বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ বাংলাদেশ। পরিবেশ উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও তা বেশির ভাগ প্রকল্পভিত্তিক ও দীর্ঘমেয়াদি নয়। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এর সুফল জনগণ পায় না। স্থানীয় সমস্যা সমাধানে স্থানীয় জনগণের মতামত নিয়ে পরিকল্পনা ও নীতিমালা গ্রহণ করা হলে পরিবেশ সুরক্ষায় টেকসই ফলাফল অর্জন সম্ভব। এ জন্য সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি, বেসরকারি সংগঠন, পরিবার, নারী, শিশু, তরুণসমাজের সমন্বিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

আরো পড়ুন
বীরগঞ্জে প্রাইভেট কার-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ, নিহত ১

বীরগঞ্জে প্রাইভেট কার-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ, নিহত ১

 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) চিলড্রেন ওয়াচ ফাউন্ডেশন (সিডাব্লিউএফ), ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ (আইডাব্লিউবি) এবং ওয়ার্ক ফর আ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) ট্রাস্ট আয়োজিত ‘জলবায়ু পরিবর্তন : আজকের পদক্ষেপ আগামীর নিরাপত্তা’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী। 

একই সংগঠনের প্রজেক্ট ম্যানেজার নাঈমা আকতারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. আকতার মাহমুদ, চিলড্রেন ওয়াচ ফাউন্ডেশন (সিডাব্লিউএফ)-এর চেয়ারম্যান শাহ ইসরাত আজমেরি এবং পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ্ সুমন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে এমপি আনিছুর রহমান বলেন, পরিবেশ উন্নয়নে ইতোমধ্যেই সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জলাবদ্ধতা নিরসন, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা, নগরের সবুজায়ন, মাঠ পার্ক সংরক্ষণে বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শিল্প-কারখানায় বর্জ্য অপসারণ, নদী দখলমুক্তকরণ, নদী ভাঙ্গন প্রতিহত করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার, জলাশয় সংরক্ষণে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকার টেকসই অবকাঠামো গঠন, পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী প্রজন্মের জন্য টেকসই বাংলাদেশ গঠনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ড. আকতার মাহমুদ বলেন, জলবায়ু বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জনগণ শহরমুখী হচ্ছে। আমরা উন্নয়নের যথার্থ দর্শন বিবেচনায় না নিয়ে তথাকথিত উন্নয়নের নামে ফিক্সড গ্লাস ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আধুনিক দালান নির্মাণ করছি। মাঠ-পার্ক-জলাধার দখল ভরাট করে ফেলছি। ফলে শহরের জলাবদ্ধতা, তাপমাত্রা বৃদ্ধিসহ নানা জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিবেশগত বিপর্যয় আমাদের দীর্ঘদিনের অবহেলা ও ব্যর্থতারই সামগ্রিক চিত্র। যে উন্নয়ন হয়ে গেছে তা পুরোপুরি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। কিন্তু এর নেতিবাচক প্রভাব প্রশমিত করার লক্ষ্যে সবুজায়ন, গণপরিসর, জলাধার বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।

আরো পড়ুন
‘পুনরায় পরীক্ষা দেয়ার সাহস নেই’ লিখে ছাত্রীর আত্মহনন

‘পুনরায় পরীক্ষা দেয়ার সাহস নেই’ লিখে ছাত্রীর আত্মহনন

 

সভাপতির বক্তব্যে গাউস পিয়ারী বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি আইন লঙ্ঘনের জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করা জরুরি। শহরমুখী পরিকল্পনা থেকে বের হয়ে এসে বিকেন্দ্রীকরণকে গুরুত্ব দিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন কেবলমাত্র পরিবেশগত বিষয় নয় বরং স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নিরাপত্তা, অর্থনীতি সর্বোপরি টেকসই উন্নয়নের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা নিশ্চিতের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষায় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

চরম ঝুঁকিপূর্ণ ২৭টি

ডিএসসিসির ৭৫ ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টিই ডেঙ্গু ঝুঁকিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডিএসসিসির ৭৫ ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টিই ডেঙ্গু ঝুঁকিতে

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টি ওয়ার্ডেই এডিস মশার ঘনত্ব নির্ধারিত সূচকের চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর জন্য সবচেয়ে বেশি বা চরম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ডিএসসিসির নগর ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বর্ষাপূর্ব এডিস মশার লার্ভা জরিপের ফলাফল প্রকাশ ও কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন’ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।

জরিপের সারসংক্ষেপ ও লার্ভার উৎস :

ডিএসসিসির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ৩৬ জন কর্মীর মাধ্যমে গত ১২ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত এই জরিপ চালানো হয়। আধুনিক ‘কবো টুলবক্স’ (KoboToolbox) প্রযুক্তির মাধ্যমে ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

লার্ভার উপস্থিতি : পরিদর্শন করা বাড়ির মধ্যে ২৮১টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা ও পিউপা পাওয়া গেছে।

স্থাপনার ধরন : বহুতল ভবনে সর্বোচ্চ ৩৫.২৩%, স্বতন্ত্র বা একক বাড়িতে ২৭.৭৬%, নির্মাণাধীন ভবনে ১৭.৪৪% এবং সেমিপাকা বাড়িতে ১৪.৫৯% লার্ভা শনাক্ত হয়েছে।

পানির উৎস : মেঝেতে জমে থাকা পানিতে ১২.২৬%, বালতিতে ১০.৩৪% এবং প্লাস্টিকের ড্রামে ৮.৮৯% এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র পাওয়া গেছে।

ঝুঁকি মোকাবেলায় বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম ও কর্মসূচি :

ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম জানান, এই জরিপের ওপর ভিত্তি করে আগামী ৭ জুন থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ২৭টি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্য ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সমন্বয়ে ৫ দিনব্যাপী ‘বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ চালানো হবে। পরবর্তী সপ্তাহে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ৩৬টি ওয়ার্ডেও একই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

এ ছাড়া আগামী ৬ জুন ধানমণ্ডির রবীন্দ্রসরোবর থেকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে একটি সচেতনতামূলক র‍্যালির আয়োজন করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে অন্যান্য এলাকাতেও হবে।

আবদুস সালাম বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এ জন্য নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বাসাবাড়ি ও কর্মস্থল পরিষ্কার রাখা এবং প্রতি ৩ দিন অন্তর জমে থাকা পানি অপসারণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

মিরপুরে আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দিয়েছে বিজিবি | কালের কণ্ঠ