• ই-পেপার

প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, অস্ত্র ঠেকিয়ে ৭ ভরি স্বর্ণ ও টাকা লুট

১০ মাসের প্রকল্প শেষ হয়নি ১৮ মাসেও, তুলে নেওয়া হল পুরো বিল

মো. মোস্তাফিজুর রহমান, কমলগঞ্জ
১০ মাসের প্রকল্প শেষ হয়নি ১৮ মাসেও, তুলে নেওয়া হল পুরো বিল
ফুলবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লক নির্মাণের বর্তমান পরিস্থিতি। ছবি : কালের কণ্ঠ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নয়নে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় বাস্তবায়নাধীন পিইডিপি-৪ (PEDP-4) প্রকল্পের সাতটি ওয়াশব্লক নির্মাণে চরম ধীরগতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। চুক্তি অনুযায়ী ১০ মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ১৮ মাস পেরিয়ে গেলেও নির্মাণকাজ শেষ হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে অন্য একজনকে দিয়ে কাজ করানো হয়েছে এবং কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই পুরো বিল উত্তোলন করা হয়েছে। এতে সাতটি বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী ও শিক্ষক ভোগান্তিতে পড়েছেন।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয় সূত্র জানায়, কমলগঞ্জ উপজেলার দরগাপুর, রসুলপুর, তিলকপুর, জামিরকোনা, ড. চেরাগ উদ্দিন, ফুলবাড়ী ও কোনাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একতলা আইসোলেটেড আরসিসি (RCC) ওয়াশব্লক নির্মাণের জন্য ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর কুড়িগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নুর ট্রেডার্স-কে ১ কোটি ৩০ লাখ ৯৭ হাজার ৯৯৯ টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

চুক্তি অনুযায়ী ১০ মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মাত্র দুই-তিনটি বিদ্যালয়ে নামমাত্র কাজ শুরু করে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে ২০২৬ সালের জুনে বরাদ্দ ফেরত যাওয়ার আশঙ্কায় কুলাউড়ার সিরাজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে দিয়ে নতুন করে কাজ শুরু করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, ফুলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াশব্লকের প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ এখনও অসম্পূর্ণ। প্লাস্টার, পানির সংযোগ, বেসিন, নিচতলার টাইলস ও সিঁড়ির কাজ শেষ হয়নি।

তিলকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ২০ শতাংশ কাজ বাকি। পুরোনো টয়লেট ভেঙে ফেলা হলেও নতুন ওয়াশব্লক চালু না হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিশেষ করে নারী শিক্ষক ও ছাত্রীদের আশপাশের বাড়িতে গিয়ে শৌচাগার ব্যবহার করতে হচ্ছে।

এ ছাড়া দরগাপুর, রসুলপুর, ড. চেরাগ উদ্দিন, জামিরকোনা ও কোনাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লকগুলোরও ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কাজ অসমাপ্ত অবস্থায় রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর)-২০০৮ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় চুক্তি বাতিল বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। বরং নিম্নমানের ইট, খোয়া, টাইলস ও ফিটিংস ব্যবহার করে কাজ সম্পূর্ণ না করেই জুন মাসে পুরো বিল উত্তোলন করা হয়েছে।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কার্যাদেশপ্রাপ্ত নুর ট্রেডার্সের কোনো প্রতিনিধিকে কখনও অফিসে দেখা যায়নি। কুলাউড়ার সিরাজুল ইসলাম নামের একজন ব্যক্তি পুরো কাজ পরিচালনা করছেন।

একাধিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, নির্মাণকাজে কার্যকর তদারকির অভাব রয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক স্থানে টাইলস ও ফিটিংস খুলে পড়তে শুরু করেছে।

তিলকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা বলেন, ‘আমাদের সমস্যার কথা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে জানানো হলেও কোনো সমাধান হয়নি।’

ফুলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাবুদ্দিন, রসুলপুরের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফাহিমা বেগম এবং জামিরকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসমত আরা জোন্স দ্রুত ওয়াশব্লকগুলোর কাজ শেষ করে চালুর দাবি জানান।

কাজের দায়িত্বে থাকা কুলাউড়ার সিরাজুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি অফিসের মাধ্যমে কাজ করছি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক সম্পর্কে বিস্তারিত জনস্বাস্থ্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুজন স্যার জানেন।’

কমলগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাবর বলেন, ‘কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের। আমরা শুধু চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যালয়ের নাম পাঠিয়ে থাকি।’

অভিযোগের বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুজন আহমেদ বলেন, ‘কাজটি নুর ট্রেডার্সই পেয়েছে। অন্য কাউকে দিয়ে কাজ করানোর সুযোগ নেই। কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি এবং মানসম্মত টাইলস ব্যবহার করা হয়েছে।’

গফরগাঁওয়ে বিলের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
গফরগাঁওয়ে বিলের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু
ছবি : কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে খেলার সময় বিলের পানিতে পড়ে আরিয়ান নামের তিন বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার পাগলা থানার কুরচাই গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আরিয়ান ওই গ্রামের আল আমিনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার দুপুর একটার দিকে আরিয়ান অন্য শিশুদের সঙ্গে বাড়ির পাশে বিলের পাড়ে বল খেলছিল। খেলার একপর্যায়ে বলটি বিলের পানিতে পড়ে যায়। পানির ভেসে থাকা বলটি তুলতে গিয়ে আরিয়ান বিলে পড়ে তলিয়ে যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এসে পানি থেকে তাকে উদ্ধার করেন। তবে ততক্ষণে শিশুটির মৃত্যু হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জয়পুরহাট প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু বক্কর, সম্পাদক শামীম

জয়পুরহাট প্রতিনিধি
জয়পুরহাট প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু বক্কর, সম্পাদক শামীম
সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক ও সাধারণ সম্পাদক শামীম কাদির (বাঁ দিক থেকে)। সংগৃহীত ছবি

জয়পুরহাট প্রেস ক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে (২০২৬-২০২৮) সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাভিশনের জেলা প্রতিনিধি আবু বক্কর সিদ্দিক এবং সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন ডিবিসি নিউজ, বাংলাদেশ প্রতিদিন ও দৈনিক করতোয়ার প্রতিনিধি শামীম কাদির।

শনিবার (২৫ জুলাই) ভোটগ্রহণ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

অন্য নির্বাচিতরা হলেন সহসভাপতি পদে সোহেল আহমেদ লিও (এসএ টিভি) ও তানভিরুল ইসলাম রিগ্যান (ভোরের দর্পণ), সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে আবু মুসা (মানবকণ্ঠ) এবং কোষাধ্যক্ষ পদে ইসমাইল হোসেন (যায়যায়দিন)।

এ ছাড়া লাইব্রেরি সম্পাদক পদে জাহিদুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক পদে মিলন রায়হান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে মোয়ান্নাফ হোসেন শিমুল, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে শীতল চন্দ্র এবং কার্যনির্বাহী সদস্য পদে আতাউর রহমান, পুলক সরকার ও রুহুল আমিন নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচন পরিচালনা করেন নজরুল ইসলাম। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রেস ক্লাবের ৪৮ জন সদস্য তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

রাতের আঁধারে ৯ নারীকে বিএসএফের পুশ ইনের চেষ্টা, প্রতিহত করল বিজিবি

বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
রাতের আঁধারে ৯ নারীকে বিএসএফের পুশ ইনের চেষ্টা, প্রতিহত করল বিজিবি
ছবি : কালের কণ্ঠ

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ভাইগড় সীমান্তে গভীর রাতে ৯ জন ভারতীয় নারীকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কঠোর প্রতিরোধে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের বাড়তি টহল এবং সদস্য উপস্থিতি বাড়ায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ভাইগড় সীমান্তের ঘাসুড়িয়া বিওপির ২৯১ নম্বর মেইন পিলারের ২০-এস সাব-পিলার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, শনিবার ভোরে ভারতের শ্রীরামপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে ৯ জন নারীকে জোরপূর্বক সীমানা অতিক্রম করিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। ওই সময় সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যদের চোখে বিষয়টি ধরা পড়লে তারা বিএসএফকে বাধা দেন। বিজিবির বাঁশির শব্দ ও সতর্ক অবস্থানে সাড়া দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারাও দ্রুত সীমান্তে একত্র হন। বিজিবি ও স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে বিএসএফ সদস্যরা পিছু হটতে বাধ্য হন।

পরবর্তীকালে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে সীমানার ওপারে আবারও অতিরিক্ত বিএসএফ সদস্য জড়ো হতে থাকেন। এতে করে উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। তবে বিজিবির শক্ত অবস্থান এবং বিজিবি-গ্রামবাসীর যৌথ প্রতিরোধের কারণে শেষ পর্যন্ত বিএসএফ তাদের পুশ ইনের চেষ্টা পুরোপুরি বাতিল করে ওই নারীদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে সীমান্তের ষাটোর্ধ্ব বাসিন্দা আব্দুল আজিজ বলেন, ‘ভোরে বিজিবির বাঁশির শব্দ শুনে ঘুম থেকে জেগে উঠি। বাইরে এসে দেখি নয়জন নারীকে জোর করে বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা চলছে। আমরা পুরো গ্রামের মানুষ এক হয়ে বিজিবির সঙ্গে তাদের আটকে দিই। সকাল থেকেই ওপারে বিএসএফের আনাগোনা বাড়ায় আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি।’

বিষয়টি নিশ্চিত করে কাটলা ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় সদস্য শুকুর আলী জানান, ভোরে বিএসএফের এই অন্যায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা গ্রামবাসী ও বিজিবির যৌথ প্রতিরোধে নস্যাৎ হয়ে যায়। এর পর থেকেই সীমান্তজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঘাসুড়িয়া বিওপির কম্পানি কমান্ডার টি আলম জানান, ভারত থেকে অবৈধ উপায়ে নয়জন নারীকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করছিল বিএসএফ। বিজিবির তৎপরতায় তা ব্যর্থ হয়েছে এবং তাদের ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরো জানান, সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবির টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি বিজিবির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।