• ই-পেপার

টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তিতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৪০

ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধে যুবককে হত্যার অভিযোগ, আটক ১

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধে যুবককে হত্যার অভিযোগ, আটক ১
ছবি: কালের কণ্ঠ

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে এক যুবককে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

রবিবার (১৯ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের কালিঞ্জা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইলিয়াস খান (২৬) ইলিয়াস কালিঞ্জা গ্রামের সাত্তার খানের ছেলে। আটক মো. রাসেল একই গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে। 

স্থানীয়রা জানান, রবিবার বিকেলে এলাকার মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে কয়েকজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। বিষয়টি নিয়ে সিয়াম আহমেদের বাবা রাসেলের সঙ্গে নিকট আত্মীয় ইলিয়াস খানের তর্ক হয়। প্রথমে স্থানীয়রা পরিস্থিতি শান্ত করলেও বিষয়টি নিয়ে রাতে উভয়পক্ষের মধ্যে আবারও উত্তেজনার দেখা দেয়। একপর্যায়ে রাসেলের ছেলে সিয়াম ধারালো ছুরি দিয়ে ইলিয়াসের বুকে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা ইলিয়াসকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে নেওয়ার পথ তিনি মারা যান।

রায়গঞ্জ থানার ওসি মো. আহসানুজ্জামান বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ভোরে সিরাজগঞ্জ শহর থেকে মো. রাসেলকে আটক করা হয়েছে। তার ছেলে সিয়াম ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

আমরা ধর্মীয় রাজনীতির বিরুদ্ধে : প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
আমরা ধর্মীয় রাজনীতির বিরুদ্ধে : প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল
সংগৃহীত ছবি

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, দলগতভাবে আমরা ধর্মীয় রাজনীতির বিরুদ্ধে। কারণ, যারা ধর্মকে পুঁজি করে রাজনীতি করে, তারা মূলত নিজেদের ফায়দা হাসিলের জন্যই তা করে। এতে রাষ্ট্র বা মানুষের কোনো উপকার হয় না।

রবিবার চট্টগ্রামের ফটিকছড়িস্থ বাবুনগর মাদরাসায় হেফাজত আমিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা বিশ্বাস করি হেফাজতে ইসলাম কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। এটি বাংলাদেশে ইসলামকে সুরক্ষিত রাখবার এবং ইসলামকে সহীহ পথে পরিচালনার একটি সংগঠন। যারা ইসলামের পক্ষে কথা বলে এবং নিজেদের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করে না— এজন্যই নীতিগতভাবে আমি তাদের পছন্দ করি।

 

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, এবার পার্বত্য তিন জেলা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে গত ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ভয়াবহ প্লাবন হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আগে আমাদের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে হবে ও মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে; তারপর রাজনীতি আর নির্বাচন।

এ সময় ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম, ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান, হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির আল্লামা আইয়ুব বাবুনগরী, কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা জুনায়েদ বিন জালাল, আবু তালেব, মাওলানা ইয়াহিয়া এবং নাজিরহাট পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক এজাহার মিয়া সহ বিএনপি এবং হেফাজতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

শিশু মরিয়ম ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি আবুল হোসেনের মৃত্যুদণ্ড

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
শিশু মরিয়ম ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি আবুল হোসেনের মৃত্যুদণ্ড
ছবি: কালের কণ্ঠ

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মরিয়ম খাতুনকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় একমাত্র আসামি আবুল হোসেন ওরফে ফটিকের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোক্তাগীর আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর কঠোর পুলিশ প্রহরায় দণ্ডপ্রাপ্তকে কারাগারে পাঠানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত আবুল হোসেন ওরফে ফটিক (২৯) জীবননগর উপজেলার গয়েশপুর (বড় মসজিদপাড়া) গ্রামের আবু তাহের মোল্লার ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর সকাল প্রায় ১১টার দিকে গোয়ালপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক ইকবাল হোসেনের ১০ বছর বয়সী মেয়ে মরিয়ম খাতুনসহ কয়েকজন শিশু স্থানীয় হাড়িভাঙ্গা মাঠে শাক তুলতে যায়। এ সময় আবুল হোসেন মরিয়মকে শাক তুলে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পাশের ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে যান এবং অন্য শিশুদের অপেক্ষা করতে বলেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও মরিয়ম ফিরে না আসায় অন্য শিশুরা বিষয়টি তার মাকে জানায়। পরে স্বজনরা ভুট্টাক্ষেতে গিয়ে মরিয়মের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেন।

ঘটনার পর মরিয়মের বাবা ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে জীবননগর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর জীবননগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম আবুল হোসেন ওরফে ফটিককে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।

মামলার বিচার চলাকালে আসামি চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলামের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এছাড়া তার ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে অভিযুক্তের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে। বিচারিক কার্যক্রমে মোট ৩১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

গত বুধবার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত ২০ জুলাই রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। চার্জশিট, সাক্ষ্য-প্রমাণ, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনসহ উপস্থাপিত সব তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত এ রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট এম. এম. শাহজাহান মুকুল। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করেছেন। আসামিপক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী হিসেবে ছিলেন অ্যাডভোকেট ওহিদুজ্জামান মুকুল।

কালকিনিতে জাল টাকা ও নোট তৈরির সরঞ্জামসহ যুবক গ্রেপ্তার

কালকিনি (মাদারীপুর) প্রতিনিধি
কালকিনিতে জাল টাকা ও নোট তৈরির সরঞ্জামসহ যুবক গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় বিপুল পরিমাণ জাল টাকা ও জাল নোট তৈরির সরঞ্জামসহ দীন ইসলাম ঢালী (৩০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৮)। এসময় তার কাছ থেকে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৭৫০ টাকার জাল নোট এবং জাল টাকা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

রবিবার (১৯ জুলাই) বিকেলে কালকিনি উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের চরজগমোহন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ওই এলাকার মহসিন ঢালীর ছেলে। সোমবার (২০ জুলাই) সকালে কালকিনি থানার ওসি (তদন্ত) বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

র‌্যাব-৮, সিপিসি-৩ (মাদারীপুর) জানায়, চরজগমোহন এলাকায় একটি বাড়িতে জাল টাকা তৈরি করা হচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ২-৩ জন পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে দীন ইসলাম ঢালীকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৭৫০ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া সহযোগী সুজন ঢালীর ভাড়া বাসা থেকে জাল টাকা তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। জব্দ আলামতের মধ্যে রয়েছে একটি কালার প্রিন্টার, জাল টাকা তৈরির রং, একটি এন্ট্রিকাটার, একটি স্কেল, দুটি চপিং বোর্ড, একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন এবং জাল নোট তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত প্রায় ৯৫০ পিস এ-ফোর সাইজের কাগজ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গেপ্তার আসামি দীর্ঘদিন ধরে জাল নোট তৈরি করে আসল টাকা হিসেবে বাজারে সরবরাহ করার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন।

র‌্যাব আরও জানায়, এ ঘটনায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫-ক ধারায় মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা  গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামি ও জব্দ আলামত কালকিনি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) অরবিন্দ বিশ্বাস বলেন, ‘র‌্যাবের পক্ষ থেকে গ্রেপ্তার আসামি ও জব্দ আলামত আমাদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আদালতের মাধ্যমে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’