• ই-পেপার

চট্টগ্রাম বন্দরে ক্রেনের রশি ছিঁড়ে নিচে পড়ল কনটেইনার

কালীগঞ্জের জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ

‘টাকা দিলে সার্ভার খোলা, না দিলে নেট সমস্যা’

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর
‘টাকা দিলে সার্ভার খোলা, না দিলে নেট সমস্যা’
লাইভকারী খোরশেদ আলম। ছবি : ভিডিও থেকে নওয়া।

গাজীপুরের কালীগঞ্জের জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন পরিষদে অনেক বেলা পর্যন্ত অফিসের তালাবদ্ধ। ভুক্তভোগীদের দুর্দশায় এক ভুক্তভোগী চলে আসেন ফেসবুক লাইভে। লাইভে এসে সেবার নামে ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরেন। লাইভের শিরোনাম দেওয়া হয় কালীগঞ্জের জাঙালিয়া ইউনিয়ন পরিষদে ‘টাকা দিলে সার্ভার খোলা, না দিলে নেট সমস্যা।’ লাইভ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায় ভিডিওটি। রবিবার (১৯ জুলাই) সকাল ১০টায় গাজীপুরের কালীগঞ্জের জাঙ্গুলীয়া ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটে।

ভিডিও থেকে জানা যায়, সকাল থেকে জাঙালিয়া ইউনিয়ন পরিষদে তালাবন্ধ। নানা বয়সী সেবাগ্রহীতাদের ভীড় পরিষদ কার্যালয়ের সামনে। সকাল ১০টায় জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের আজমতপুর গ্রামের বাসিন্দা খোরশেদ আলম সেবা নিতে এসে সেবাগ্রহীতাদের ভীড় দেখেন। এক সময় নিজের ফেসবুক লাইভে এসে তালাবদ্ধ রুম দেখান। লাইভে অনেক ভুক্তভোগীদের বক্তব্য প্রচার করা হয়। সকাল সাড়ে ১০ টার পর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও সচিব অফিসে এসে লাইভে বক্তব্য দিতে দিতে অফিসে প্রবেশ করেন। লাইভকারীর বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে বিরক্ত হয়ে নানা কথা বলে তারা অফিসে প্রবেশ করেন।

ভিডিওতে লাইভকারীকে বলতে শোনা যায়, লাইভে আসার পর কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তালাবদ্ধ অফিসের বিষয়টি জানালে নির্বাহী কর্মকর্তা তাকে লাইভ কেটে দেয়ার অনুরোধ করে প্রশাসককে পাঠানোর কথা বলেন। এদিকে কিছুক্ষনের মধ্যেই ভিডিওটি কয়েক হাজার ভিউ হয়ে যায়। ফেসবুক পোস্টের কমেন্টে নানা ধরণের মন্তব্য দেখা যায়। শেয়ারও হয় অনেক।

এ বিষয়ে লাইভকারী খোরশেদ আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমিসহ জনগনের ভোগান্তি দেখে ফেসবুক লাইভে আসি। এই লাইভটি সেবাপ্রার্থীদের জন্য উপকার হবে আশা করি।

জাঙালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক আবুল হোসেন আকাশ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সেবাপ্রার্থীদের কোন সমস্যা হয়নি। বৃষ্টির জন্য একটু দেরী হয়েছে। এই ঘটনায় কম্পিউটার অপারেটরকে অনুপস্থিতির জন শোকজ করেছি।’

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম কামরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘লাইভের বিষয়টি আমি জেনেছি। সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। আমি শিঘ্রই যাব।’  

ফেনীতে আকস্মিক টর্নেডোয় লণ্ডভণ্ড ৩৫ পরিবার

ফেনী প্রতিনিধি
ফেনীতে আকস্মিক টর্নেডোয় লণ্ডভণ্ড ৩৫ পরিবার
ছবি : কালের কণ্ঠ

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় আকস্মিক টর্নেডোর তাণ্ডবে ৩৫টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় এক মিনিট স্থায়ী এ টর্নেডোয় ঘরবাড়ি, গাছপালা ও বৈদ্যুতিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

রবিবার (১৯ জুলাই) দুপুরে উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যম স্বরাজপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, বিকট শব্দের সঙ্গে হঠাৎ টর্নেডো বয়ে গেলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে চারটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে যায়, শতাধিক গাছপালা উপড়ে পড়ে এবং প্রায় ২০টি ছোট-বড় ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া ৩৫টি পরিবারের বৈদ্যুতিক মিটারও উড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, এতে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত বৃদ্ধ সাহাব উদ্দিন বলেন, তার ৭০ বছরের জীবনে এমন টর্নেডো তিনি আর দেখেননি। হঠাৎ করে যেন কেয়ামত নেমে এসেছিল।

মতিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আমিন উদ্দিন দোলন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের দুর্দশার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে এবং সরকারি সহায়তার আবেদন করা হয়েছে।

সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিগ্যান চাকমা বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে।

তিন দশক পর সরল টমছমব্রিজ সড়কের গলার কাঁটা

কুমিল্লা প্রতিনিধি
তিন দশক পর সরল টমছমব্রিজ সড়কের গলার কাঁটা
ছবি: কালের কণ্ঠ

দীর্ঘ তিন দশক পর অবশেষে মুক্ত হলো কুমিল্লা নগরীর ব্যস্ততম টমছমব্রিজ সড়ক। সড়কের ওপর ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ কাঁচাবাজার উচ্ছেদ করেছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক)। রবিবার (১৯ জুলাই) বিকালে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

দীর্ঘদিন ধরে এই বাজারের কারণে সৃষ্টি হওয়া তীব্র যানজটে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুর্ভোগ পোহাতে হতো নগরবাসীকে। বাজারটি অপসারণ করায় স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ মানুষের মাঝে। নগরবাসী এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।

সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, প্রধান সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলায় টমছমব্রিজ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র যানজট লেগে থাকত। এতে নগরবাসীর পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষের চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটছিল। আজ বিকালে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেনের তত্ত্বাবধানে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সড়ক ও ফুটপাত পুরোপুরি দখলমুক্ত করা হয়।

অভিযান চলাকালে উচ্ছেদ হওয়া টমছমব্রিজ কাঁচাবাজারের মুরগি ব্যবসায়ী জাবেদ বলেন, ‘আগে থেকেই উচ্ছেদের বিষয়টি আমাদের জানানো হয়েছিল। আমরা কোনোভাবে টিকে থাকার জন্য সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথাও বলেছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত উচ্ছেদ করা হলো। এখন এই মালামাল নিয়ে কোথায় যাব?’

একই বাজারের সবজি ব্যবসায়ী হৃদয় হোসেন বলেন, ‘আমার দোকানটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। কোনো রকমে মালামাল সরাতে পেরেছি। আমরা এখানে ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করতাম।’

উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন বলেন, ‘নগরীতে যানজট কমানো, জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে।’

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, ‘যেকোনো স্থাপনা উচ্ছেদের আগে নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের নোটিশ দেওয়া হয়। যারা সেই নোটিশ মানেন না, কেবল তাদেরই অপসারণ করা হয়েছে। সড়কের ওপর যত অবৈধ স্থাপনা থাকবে, সবগুলোই আইনানুগভাবে উচ্ছেদ করা হবে।’

অভিযান চলাকালে অন্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন এবং কুমিল্লা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

গাজীপুর

বিয়েবাড়িতে মদ্যপানে প্রাণ গেল ২ যুবকের

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
বিয়েবাড়িতে মদ্যপানে প্রাণ গেল ২ যুবকের
সংগৃহীত ছবি

গাজীপুরে একটি বিয়েবাড়িতে উৎসব চরাকালে মিথিনলযুক্ত অ্যালকোহল (মদ) পান করে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (১৯ জুলাই) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাদের মৃত্যু হয়।

মৃতরা হলেন সজিব (২২) ও রনি মিয়া (২০)। সজিব ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানার জুনিয়ার বাজার এলাকার আব্দুল রাজ্জাক ওরফে রেজাকের ছেলে। তিনি গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী থানার বাইমাইল কাদের মার্কেট এলাকায় মফিজ উদ্দিনের বাসায় ভাড়া থেকে কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। আর রনি মিয়া একই জেলার মোস্তফা ইসলামের ছেলে এবং বাইমাইল কাদের মার্কেট এলাকার তোবারক মোল্লার বাসায় ভাড়া থেকে আশুলিয়া পলিটেকনিক্যালে পড়াশোনা করতেন।

স্থানীয়রা জানায়, গত ১০ জুলাই রাতে কাদের মার্কেট এলাকার ভাড়াটিয়া রমজানের বিয়ের অনুষ্ঠানে সজিব ও রনি মিয়া মিথিনর মিশ্রিত অ্যালকোহল পান করেন। পরদিন সকাল থেকে তারা অসুস্থ অনুভব করলে স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে খান। উন্নতি না হলে তাদের স্থানীয় কোনাবাড়ী ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ওই দিন তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার (১৯ জুলাই) ভোর ৪টায় সজিব এবং বিকেল সাড়ে ৪টায় রনি মিয়া মারা যান।

মৃত রনি মিয়ার নানি রেজিয়া খাতুন বলেন, ‘ভিক্ষাবৃত্তি করে নাতিকে পড়াশোনা করাচ্ছি। সে ভদ্র ছিল। কোনো দিন নেশা করেনি। ষড়যন্ত্র করে তাকে হত্যা করা হয়েছে।’ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন তিনি।

গাজীপুর কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইফতেখার হোসেন জানান, শুনেছি মদ্যপান করে তারা মারা গেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।