বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেছেন, দেশের উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য, কৃষি শিল্প পরিবহন বন্দর কিংবা রপ্তানি খাত সর্বত্র শ্রমিকদের ঘাম ও শ্রম জাতীয় অগ্রগতির ভিত্তি অথচ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির তুলনায় অনেক শ্রমিক এখন অনেক কর্ম পরিবেশ থেকে বঞ্চিত। তাই শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে ইসলামী শ্রম নীতির কোন বিকল্প নেই।
বৃহস্পতিবার ( ১৬ জুলাই) গাইবান্ধায় স্থানীয় দারুল আমান ট্রাস্টে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন জেলা সভাপতি নূরুন্নবী প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের লক্ষ্য কেবল একটি শ্রমিক সংগঠন হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করা নয় বরং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা শোষণ নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং ন্যায় ভিত্তিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখা। এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে শ্রমিকরা বৈষম্য, কম মজুরি চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের শিকার হলেও তাদের প্রকৃত কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা কেউ রাখেনি।’
বিগত সরকারগুলোর সমালোচনা করে আতিকুর রহমান বলেন, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার ৫৫ বছর পার হওয়ার পরও এ দেশে যখন যারা ক্ষমতার এসেছিলেন তারা শ্রমিকদের নিয়ে অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলেছিলেন কিন্তু বাস্তবে এই ৫৫ বছরে বাংলাদেশের শ্রমিকদের ভাগ্য উন্নয়নে কোন ভূমিকা রাখা রাখেননি তারা।’
তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর বাজেট আসে শ্রমিকদের নিয়ে কোন বাজেট হয় না এমনকি শ্রমিকদের ভাগ্যের চাকা পরিবর্তন হয় না । কৃষি শ্রমিকদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি আরো বলেন সংসদে যখন বলা হয় বাংলাদেশ কৃষিতে স্বয়ংসম্পন্ন, মন্ত্রীরা তখন ভুলে যান । যে দেশে কৃষক শ্রমিকরা বৃষ্টিতে ভিজে এমন কি বজ্রপাতেও জীবন দিয়ে এই ফসল করিয়েছেন। সরকার বাহাবা নিলেও কৃষকদের প্রকৃত সম্মান কেউ দেখায়নি। এসময় তিনি শোষণমক্ত সমাজ কায়েমের লক্ষ্যে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনকে মাঠে ময়দানে আরো জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের জেলা আমির ও জাতীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল করিম বলেন, ‘দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম ও অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশের বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। তিনি শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ইসলামী আন্দোলনের সকল শহীদদের জন্য মহান আল্লাহর কাছে উচ্চ মর্যাদা কামনা করে বলেন বর্তমান সময়ে শ্রমজীবী মানুষের মাঝে ইসলামের ন্যায় ইনসাফ ও মানব কল্যাণের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ সত্যবাদিতা, ক্ষমাশীলতা ও মানব সেবার মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনের জন্য তিনি কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
রংপুর দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক গোলাম রব্বানী বলেন, ‘শ্রমিকদের যাবতীয় সমস্যার সময়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং তাদের যাবতীয় সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে।’ এসময় তিনি সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকান্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সংগঠনকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান ।
সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসেন, সাবেক জেলা আমির ডা. আব্দুর রহিম সরকার, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ড. জিয়াউল হক, রংপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক আবুল হাসেম বাদল ,শহর জামায়াতের আমির অধ্যাপক ফেরদৌস আলম ,সদর জামায়াতের আমির মাওলানা নুরুল ইসলাম মন্ডল, গাইবান্ধা সদর উপজেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুর রহমান, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শ্রমিক কল্যাণের সভাপতি অধ্যাপক বদরুল আমিন , পলাশবাড়ী উপজেলা সভাপতি খাইরুল ইসলাম চান অধ্যাপক গোলাম মোস্তফাসহ অন্যান্য জেলা ও উপজেলার নেতৃবৃন্দ।




