• ই-পেপার

রাষ্ট্র সংস্কার ছাড়া জুলাই বিপ্লবের সুফল মানুষের কাছে পৌঁছাবে না : নাহিদ ইসলাম

শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে ইসলামী শ্রমনীতির বিকল্প নেই : আতিকুর রহমান

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে ইসলামী শ্রমনীতির বিকল্প নেই : আতিকুর রহমান
বৃহস্পতিবার গাইবান্ধায় বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন আয়োজিত প্রতিনিধি সম্মেলনে কথা বলছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান।

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেছেন, দেশের উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য, কৃষি শিল্প পরিবহন বন্দর কিংবা রপ্তানি খাত সর্বত্র শ্রমিকদের ঘাম ও শ্রম জাতীয় অগ্রগতির ভিত্তি অথচ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির তুলনায় অনেক শ্রমিক এখন অনেক কর্ম পরিবেশ থেকে বঞ্চিত। তাই শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে ইসলামী শ্রম নীতির কোন বিকল্প নেই।

বৃহস্পতিবার ( ১৬ জুলাই) গাইবান্ধায় স্থানীয় দারুল আমান ট্রাস্টে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন জেলা সভাপতি নূরুন্নবী প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের লক্ষ্য কেবল একটি শ্রমিক সংগঠন হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করা নয় বরং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা শোষণ নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং ন্যায় ভিত্তিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখা। এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে শ্রমিকরা বৈষম্য, কম মজুরি চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের শিকার হলেও তাদের প্রকৃত কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা কেউ রাখেনি।’

বিগত সরকারগুলোর সমালোচনা করে আতিকুর রহমান বলেন, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার ৫৫ বছর পার হওয়ার পরও এ দেশে যখন যারা ক্ষমতার এসেছিলেন তারা শ্রমিকদের নিয়ে অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলেছিলেন কিন্তু বাস্তবে এই ৫৫ বছরে বাংলাদেশের শ্রমিকদের ভাগ্য উন্নয়নে কোন ভূমিকা রাখা রাখেননি তারা।’

তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর বাজেট আসে শ্রমিকদের নিয়ে কোন বাজেট হয় না এমনকি শ্রমিকদের ভাগ্যের চাকা পরিবর্তন হয় না । কৃষি শ্রমিকদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি আরো বলেন সংসদে যখন বলা হয় বাংলাদেশ কৃষিতে স্বয়ংসম্পন্ন, মন্ত্রীরা তখন ভুলে যান । যে দেশে কৃষক শ্রমিকরা বৃষ্টিতে ভিজে এমন কি বজ্রপাতেও জীবন দিয়ে এই ফসল করিয়েছেন। সরকার বাহাবা নিলেও কৃষকদের প্রকৃত সম্মান কেউ দেখায়নি। এসময় তিনি শোষণমক্ত সমাজ কায়েমের লক্ষ্যে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনকে মাঠে ময়দানে আরো জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের জেলা আমির ও জাতীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল করিম বলেন, ‘দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম ও অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশের বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। তিনি শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ইসলামী আন্দোলনের সকল শহীদদের জন্য মহান আল্লাহর কাছে উচ্চ মর্যাদা কামনা করে বলেন বর্তমান সময়ে শ্রমজীবী মানুষের মাঝে ইসলামের ন্যায় ইনসাফ ও মানব কল্যাণের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ সত্যবাদিতা, ক্ষমাশীলতা ও মানব সেবার মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনের জন্য তিনি কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

রংপুর দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক গোলাম রব্বানী বলেন, ‘শ্রমিকদের যাবতীয় সমস্যার সময়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং তাদের যাবতীয় সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে।’ এসময় তিনি সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকান্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সংগঠনকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান ।

সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসেন, সাবেক জেলা আমির ডা. আব্দুর রহিম সরকার, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ড. জিয়াউল হক, রংপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক আবুল হাসেম বাদল ,শহর জামায়াতের আমির অধ্যাপক ফেরদৌস আলম ,সদর জামায়াতের আমির মাওলানা নুরুল ইসলাম মন্ডল, গাইবান্ধা সদর উপজেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুর রহমান, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শ্রমিক কল্যাণের সভাপতি অধ্যাপক বদরুল আমিন , পলাশবাড়ী উপজেলা সভাপতি খাইরুল ইসলাম চান অধ্যাপক গোলাম মোস্তফাসহ অন্যান্য জেলা ও উপজেলার নেতৃবৃন্দ।

আবু সাঈদ হত্যার ২ বছর

‘রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের’ অপেক্ষায় অভিযোগপত্র

রফিকুল ইসলাম, রংপুর
‘রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের’ অপেক্ষায় অভিযোগপত্র
১৬ জুলাই ২০২৪। রংপুরে পুলিশের গুলির সামনে বুক টান করে দাঁড়িয়ে যান আবু সাঈদ। —ফাইল ছবি

বছর শেষে ফিরেছে ১৬ জুলাই। ২০২৪ সালের এই দিনেই শহীদ হন রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। নিজের ক্যাম্পাসে ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের এই শিক্ষার্থীকে হত্যার ঘটনায় কোটা সংস্কার আন্দোলন নতুন মোড় নেয়, রূপ নেয় গণ-অভ্যুত্থানে। ৩৬ দিনের সেই আন্দোলনে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়।

এদিকে আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় হওয়া মামলায় ইতোমধ্যে রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ওই আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা পৃথক মামলা হয় আট মাস পর। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির তখনকার রেজিস্ট্রার ড. হারুন-অর-রশীদ বাদী হয়ে মামলাটি করেছিলেন। 

মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক, একাধিক কর্মচারী, আট পুলিশ সদস্য, আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ ৭১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। তবে এ মামলায় এখনো অভিযোগপত্র জমা পড়েনি আদালতে। 

১৬ জুলাই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র আবু সাঈদ পুলিশের বন্দুকের সামনে যেভাবে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তা দেখে স্তম্ভিত হয়ে যায় পুরো বিশ্ব। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও তাদের সমর্থকদের হামলায় ওই দিন আবু সাঈদ, ওয়াসিমের পাশাপাশি সারা দেশে শহীদ হন ছয়জন। আন্দোলনে শহীদ অন্য চারজনের মধ্যে দুজন ঢাকার এবং বাকিরা চট্টগ্রামের।

আবু সাঈদ হত্যা মামলার বর্তমান অবস্থা
বেরোবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তখনকার রেজিস্ট্রার ড. হারুন অর রশিদের করা মামলটি এখনো চলমান। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মেট্রোপলিটন তাজহাট থানার উপপরিদর্শক রাশেদ খান কালের কণ্ঠকে বলেন, তদন্ত কার্যক্রম প্রায় শেষ। এখন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছি। সিদ্ধান্ত হলেই অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫ জন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। অধিকাংশ আসামি আত্মগোপনে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

প্রশ্নের মুখে বিচারপ্রক্রিয়া
এক বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার অভিযোগপত্র জমা না হওয়া, অনেক আসামির গ্রেপ্তার না হওয়া এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার ধীরগতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থী শামসুর রহমান বলেন, যারা আমাদের ওপর হামলা করল, তাদের গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয়ে  কর্মরতদের সাময়িক বরখাস্ত করেই ক্ষ্যান্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আমরা চাই দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিল। যারা অপরাধী তাদের দ্রুত বিচার হোক।

বেরোবি প্রশাসনের বক্তব্য
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা করেছে। মামলা চলমান রয়েছে। এই মামলা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত যারা আসামি, আইন অনুযায়ী তাদেরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দিলে আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আবু সাঈদকে নিয়ে বেরোবির আয়োজন
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের দিনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দিনভর নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টায় ছিল কবর জিয়ারত, সাড়ে ৯টায় ক্যাম্পাসে শোক র‌্যালি, সোয়া ১০টায় আবু সাঈদ চত্বরে পুষ্পমাল্য অর্পণ, এরপর বিশেষ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে ছিল বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল।

কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ ও আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন।

শ্রমিক অসন্তোষে বে ফুটওয়্যার কারখানা বন্ধ ঘোষণা

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
শ্রমিক অসন্তোষে বে ফুটওয়্যার কারখানা বন্ধ ঘোষণা
ছবি : কালের কণ্ঠ

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকার বে ফুটওয়্যার লিমিটেড নামের একটি জুতা তৈরি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩ (১) ধারার আওতায় বুধবার (১৫ জুলাই) কারখানা কর্তৃপক্ষ এসংক্রান্ত একটি নোটিশ জারি করে।

নোটিশে বলা হয়, গত ১২ জুলাই কারখানায় আকস্মিকভাবে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে কিছু শ্রমিক কারখানার ভেতরে অবস্থান নেন। পরবর্তীতে ১৩ ও ১৪ জুলাইও একই পরিস্থিতি চলতে থাকে। কর্তৃপক্ষের দাবি, শ্রমিকদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেও উৎপাদন স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে শ্রম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় এবং কারখানায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে না আসা পর্যন্ত ১৫ জুলাই ২০২৬ থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

নোটিশে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, কারখানা পুনরায় চালুর বিষযয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত যথাসমযয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের জানিয়ে দেওয়া হবে।

এদিকে কারখানা বন্ধ করে দেওয়ায় কারখানায় প্রায় ২ শতাধিক শ্রমিকদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। তারা দ্রুত কারখানাটি খুলে দেওয়ার দাবি করেন।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েক দিন ধরেই কারখানাটিতে শ্রমিক অসন্তোষ চলছিল। কারখানা বন্ধ ঘোষণার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।’

লালপুরে ৩ কক্ষবিশিষ্ট টিনশেডে চলছে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
লালপুরে ৩ কক্ষবিশিষ্ট টিনশেডে চলছে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম
নাটোরের লালপুর উপজেলার অর্জুনপুর-বরমহাটি ইউনিয়ন পরিষদের ৩ কক্ষবিশিষ্ট টিনশেড ঘর।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অগ্রযাত্রায় যখন দেশের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে আধুনিক অবকাঠামো গড়ে উঠছে, তখনও নাটোরের লালপুর উপজেলার অর্জুনপুর-বরমহাটি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রয়েছে মাত্র তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি টিনশেডে। ফলে প্রতিদিন সরকারি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের প্রায় সব ধরনের কার্যক্রম—জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদ প্রদান, ট্রেড লাইসেন্স, কর আদায়, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কাজ, দাপ্তরিক সভা ও সালিস—একই সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে ওই তিনটি কক্ষেই। পর্যাপ্ত কক্ষ না থাকায় একাধিক সেবা একযোগে দিতে গিয়ে তৈরি হচ্ছে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। এতে সেবাগ্রহীতাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে বিলম্ব হচ্ছে।

প্রাকৃতিক প্রতিকূলতাও এই ভোগান্তিকে আরো বাড়িয়ে তুলছে। বর্ষা মৌসুমে টিনশেডের ওপর বৃষ্টির তীব্র শব্দে অফিসের কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটে, আর গ্রীষ্মকালে অসহনীয় গরমে কক্ষের ভেতরে অবস্থান করাই কঠিন হয়ে পড়ে। নেই পর্যাপ্ত অফিস কক্ষ, সভাকক্ষ কিংবা গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষণের নিরাপদ ব্যবস্থা। এমনকি সেবা নিতে আসা মানুষের বসার মতো উপযুক্ত স্থানও নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অর্জুনপুর-বরমহাটি ইউনিয়ন একটি জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হওয়া সত্ত্বেও এখানে এখনো আধুনিক প্রশাসনিক ভবন নির্মিত হয়নি। এতে শুধু সেবার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, বরং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার কার্যকারিতাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গোলাম মোস্তফা আসলাম বলেন, ‘নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা আমরা বারবার উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। বিভিন্ন সভায় বিষয়টি তুলে ধরা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। দ্রুত বরাদ্দ পাওয়া গেলে জনগণের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।’

একই সুরে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব জহুরুল হক বলেন, ‘বর্তমান সীমিত পরিসরে সেবা দিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আধুনিক প্রশাসনিক ভবন এখন সময়ের দাবি। এতে সেবার গতি ও মান—দুইই বাড়বে।’

এলাকাবাসীর ভাষ্য, দেশের অনেক ইউনিয়নেই বহুতল আধুনিক ভবন নির্মিত হয়েছে, যেখানে ডিজিটাল সেবা সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু অর্জুনপুর-বরমহাটি ইউনিয়ন পরিষদ এখনো টিনশেডের তিনটি কক্ষেই আটকে আছে। ফলে প্রতিদিনই মানুষকে নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়নের প্রশাসনিক কার্যক্রম আর কতদিন এমন অপ্রতুল অবকাঠামোর মধ্যে চলবে? তারা দ্রুত একটি আধুনিক, বহুতল ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ, নাটোর জেলা প্রশাসন এবং লালপুর উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করে একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ ভবন নির্মাণ করা হলে দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির অবসান ঘটবে এবং ইউনিয়নবাসী পাবে উন্নত, সহজ ও মানসম্মত সরকারি সেবা।