কুমিল্লার দেবীদ্বারে সরকারি খাল ভরাট করে তৈরি করা ২৫-৩০ ফুট প্রশস্ত একটি সড়ক বন্ধ করে দেওয়ায় ৪০ টি পরিবার বন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। উপজেলার ইউছুফপুর ইউনিয়নের পৈরাংকুল গ্রামের দক্ষিণপাড়া ফকির বাড়ি ও শেখ বাড়ির পারিবারিক বিরোধের জেরে ধরে এ ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়রা জানান, পৈরাংকুল গ্রামের দক্ষিণপাড়া ফকির বাড়ি থেকে শেখবাড়ি হয়ে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পর্যন্ত খাল ভরাট করে প্রায় ২৫/৩০ ফুট প্রশস্ত ও দৈর্ঘ্যে প্রায় ৫ শত ফুট রাস্তার এক পাশে বাঁশ, ঝাটা, কাঁটা, ইটের বেড়া দিয়ে এবং অপর পাশে আবাসন নির্মাণ করে জোরপূর্বক চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শেখ বাড়িরলোকজনের বিরুদ্ধে।ফলে শেখ বাড়ির লোকজন পার্শ্ববর্তী ফকির বাড়ির প্রায় ৪০ পরিবারের লোকজন চলাচল ও মসজিদে যাতায়তের একমাত্র সড়কটি বন্ধ করে দেওয়ায় ফকির বাড়ির লোকজন অবরুদ্ধ হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করার অভিযোগ করেছেন।
ওই ঘটনায় ফকির বাড়ির লোকজন সড়ক অবমুক্ত করে দিতে সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) বরাবরে লিখিত আবেদন করেন। এর আগে ইউনিয়ন তহশীল অফিসে এবং ইউপি চেয়ারম্যান বরাবরে আবেদন করেও কোন প্রতিকার পাননি তারা।
এলাকার একজন সালিসদার নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, ‘তাদের রাস্তার বিরোধ নিষ্পত্তিতে একাধিকবার সামাজিক সালিস ডাকা হলেও শেখ বাড়ির লোকজন সালিসের উপস্থিত হননি। তাই আমরা রাস্তার সমাধান করতে পারিনি।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে সরেজমিনে ওই গ্রামে যেয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে আরো জানা যায়, প্রায় ২০০ বছর এ এলাকার লোকজন এখানে বসতি স্থাপন করে বসবাস করে আসছেন । বিতর্কী সড়কের জায়গাটিতে একটি খাল ছিল, প্রায় শত বছর আগ থেকেই ওই খালে নৌকা দিয়ে যাতায়ত করত। খালের দু’পার দিয়ে মানুষ পায়ে হেঁটে চলাচল করত। প্রায় ২০/২২ বছর পূর্বে এ খালটি ভরাট করে স্থানীয় কেন্দ্রীয় মসজিদ ও কুমিল্লা-সিলেট অঞ্চলিক মহাসড়কের সংযোগ সড়ক কালিকাপুর-বড়শালঘর সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত হয়। এ সড়কে ফকির বাড়ি ও শেখ বাড়িসহ অন্যান্য এলাকার লোকজন এ সড়কে মসজিদ ও সংযোগ সড়কে যাতায়ত করত।
শেখ বাড়ির সায়েদ আলী শেখ, বাদশা মিয়া, শেখ মো.সাইফুল ইসলাম এবং কয়েকজন নারী অভিযোগ করে বলেন, আমরা এ জমি সরকার থেকে লিজ এনে, প্রচুর অর্থ ব্যয় করে খাল ভরাটে মালিক হয়েছি। বাড়ির উপর দিয়ে যাতায়ত নিরাপত্তা বিঘ্ন এবং রিক্সা, ভ্যান, গাড়ি চলাচলে রাস্তা নষ্ট, নারীদের পর্দার সমস্যা হয়। শুধু তাই নয়, আমাদের লিজের জায়গায় ঘর উঠাতে গেলে ওরা ঘরের পালা উপড়ে ফেলে দেয়। ওদের নানাভাবে অত্যাচারে আমরা অতিষ্ট। তাই তাদের ভিন্ন সড়কে যাতায়াত করতে অনুরোধ করেছি।
ফকির বাড়ির ইমাম উদ্দিন ফকির ও প্রবাসী মো. জহিরুল ইসলাম জানান, গত তিন বছর পূর্বে ধর্ম মন্ত্রনালয়ে কর্মরত মো. সাইফুল ইসলাম চৌধুরী নামে এক কর্মকর্তার সহযোগীতায় ‘মসজিদ থেকে ফকির বাড়ি পর্যন্ত’ প্রায় ৫ শত ফুট রাস্তা ইটের সলিং তৈরির বরাদ্ধ আনেন। শেখ বাড়ির লোকজন সরকারি জায়গা ইজারা আনার দাবি করে তাদের মালিকানাধীন জায়গা দিয়ে সড়ক সংস্কার এবং ওই রাস্তা দিয়ে মসজিদসহ অন্যান্য জায়গায় যাতায়াতের সুযোগ করে দেন। প্রায় দু’বছর আগে ২ পরিবারের ঝগড়ার কারণে ব্যক্তি মালিকানা জায়গায় তৈরি রাস্তাটিও নিজেদের জায়গা দাবি করে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে আমরা অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি এবং জরুরি প্রয়োজনে লাশ আনা নেওয়াসহ অনেক দূরের রাস্তা ব্যবহার করতে হচ্ছে।
সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সহকারী (অবসরপ্রাপ্ত) শেখ মোহাম্মদ সেলিম জানান, ‘প্রায় দুইশত বছর আগে আমার বাপ-দারারা এখানে বাড়ি করেছেন। প্রত্যেকটা বাড়ির পাশেই খাসজমি বিদ্যমান। আমাদের বাড়ির মাঝখান দিয়ে একটি খাল ভরাট করে বাড়ির সাথে যুক্ত করেছি। আইনসিদ্ধ করতে লীজের জন্য আবেদন করেছি। প্রতিবেশীরা বাড়ির উপর দিয়ে যাতায়ত করলে নারীদের পর্দার নিরাপত্তা থাকেনা। তাই রাস্তা বন্ধ করেছি। এ ছাড়া মসজিদে যাতায়তের জন্য বাড়ির পশ্চিম পাশে তাদের নিজস্ব জায়গা দিয়ে রাস্তা বানিয়ে চলাচল করতে পারে।
এ ব্যবারে দেবীদ্বার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়সল উদ্দিন জানান, অভিযোগের তদন্ত হবে। তদেন্তর পর আইনানুগ ব্যবস্থায় নেওয়া হবে।




