• ই-পেপার

খুলনায় বস্তার মধ্যে রক্তাক্ত নারীর লাশ, তদন্তে পুলিশ

সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে চাঁদা দাবি, পুলিশের জালে যুবক

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে চাঁদা দাবি, পুলিশের জালে যুবক
গ্রেপ্তার রমজান আলী

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে শীতলপুর এলাকায় একটি শিপইয়ার্ডের রাস্তা বন্ধ করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও সশস্ত্র মহড়ার অভিযোগে রমজান আলী নামক এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে উপজেলার চৌধুরীঘাটা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি ওই এলাকার ফজল রহমানের ছেলে।

থানা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শীতলপুর চৌধুরীঘাটা এলাকায় অবস্থিত বারাকা ও সাগরিকা শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের রাস্তা বন্ধ করে পরপর তিন দফায় সশস্ত্র মহড়া দেয় রমজান আলী (৩৩), আরাফাতসহ (৩০) তাদের দলবল। পরে তারা এই ইয়ার্ড মালিকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দিলে মালিককে দেখে নেওয়াসহ ক্ষতি করার হুমকি দেয়।

এতে বাধ্য হয়ে সাগরিকা শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের ম্যানেজার রায়হান উদ্দিন বাদি হয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় রামজান আলী ও আরাফাত নামে দুজনসহ অজ্ঞাত ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে পুলিশ প্রধান আসামি রমজান আলীকে গ্রেপ্তার করে।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম চাঁদাবাজি মামলায় রমজান আলীকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্ত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে নিহত বেড়ে ৮

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার
উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে নিহত বেড়ে ৮
ছবি: কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্লক এ-৩ এলাকার ইরানি পাহাড় পুলিশ ক্যাম্পের আওতাধীন খতিজাতুল মহিলা হেফজখানায় পাহাড় ও দেয়াল ধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ জনে। আহত আরো ১২ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

টানা বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে পাহাড়ি মাটির আঘাতে মাদরাসার দেয়াল ধসে বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

ঘটনার সময় ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী হেফজখানায় ছিল। দেয়াল ধসে তারা চাপা পড়ে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার।

এদিকে রাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত ১৪ আর্মস পুলিশ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার মো. সিরাজ আমিন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিহত ৮ জন রোহিঙ্গা মাদরাসা ছাত্রীর মধ্যে ৫ জনের পরিচয় জানিয়েছেন। তারা হচ্ছে যথাক্রমে ক্যাম্প-৩-এর জি/৮৩ ব্লকের সামশুল আলমের মেয়ে শাহিদা (১৩), ক্যাম্প-৩-এর এফ/১ ব্লকের আব্দু. শুক্কোরের দুই মেয়ে উম্মে নেজাতুল (১৩) ও উম্মে সালমা (১২), ক্যাম্প-৫-এর এ/৮ ব্লকের মো. ইলিয়াছের মেয়ে ওমাইচা বিবি (১৩) এবং একই ক্যাম্পের এ/১১ ব্লকের হাসেম উল্লাহর মেয়ে রাশিদা (১৬)। অন্য তিনজনের নাম পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, গত রবিবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে ক্যাম্পে পাহাড়ধসের পৃথক ঘটনায় ৮ জন রোহিঙ্গার মৃত্যুর ৩ দিনের মাথায় বুধবারর এ ঘটনা ঘটল।

দুর্ঘটনার খবর পেয়েই উখিয়ার ইউএনও পান্না আক্তার দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি কালের কণ্ঠকে জানান, পাহাড়ধসের ঘটনায় মাদরাসা থেকে মোট ২০ জন শিশুকে উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে ৪ জন ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরো ৪ জনের মৃত্যু হয়। আহত ১২ জনকে ক্যাম্প-৩-এর জিকে (এক) হাসপাতাল, ক্যাম্প-৫-এর ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল, ক্যাম্প-৬-এর আইআরসি (আন্তর্জাতিক রেড ক্রিসেন্ট) হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

ইউএনও পান্না আক্তার বলেন, পাহাড়ের পাদদেশে নির্মিত মাদরাসাটির চারদিকে ইটের দেয়াল এবং উপরে টিন ও বাঁশের ছাউনি ছিল। অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড় থেকে নেমে আসা মাটি দেয়ালে আঘাত হানলে সেটি ধসে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী রোহিঙ্গা আনাম জানান, পাহাড় কেটে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে মাদরাসাটি নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রবল বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি ধসে দেয়ালের ওপর চাপ সৃষ্টি করলে সেটি ভেঙে পড়ে। এরপর স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন। মাদরাসাটিতে ১৮০ জন ছাত্রী পড়ত। তবে গতকাল ভারি বর্ষণের কারণে উপস্থিতি বেশি ছিল না, বড়জোর ৩০ থেকে ৩৫ জন উপস্থিত ছিল।

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন রোহিঙ্গা জানান, মাদরাসাটিতে রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরসার নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং কথিত আরসা নেতা মৌলভি জুবায়ের এটি পরিচালনা করতেন।

প্রতিদিন সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় মোট ৩ শিফটে সেখানে রোহিঙ্গা কন্যাশিশুদের কুরআন শিক্ষা দেওয়া হতো।

তবে ঘটনার পর পরই মৌলভি জুবায়ের পালিয়ে যাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

গাইবান্ধায় এইচএসসি পরীক্ষায় অসদুপায়ে ৬ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধায় এইচএসসি পরীক্ষায় অসদুপায়ে ৬ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার

গাইবান্ধায় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অসদুপায় গ্রহণ করায় ৬ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শিক্ষা ও কল্যাণ শাখা বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। 

বুধবার (৮ জুলাই) পরীক্ষা চলার সময় তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেন কেন্দ্র সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র জানায়, ওই ৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে গাইবান্ধা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের ৪, তুলসীঘাট শামসুল হক ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের ২ জন পরীক্ষার্থী রয়েছেন। তুলসীঘাট শামসুল হক ডিগ্রি কলেজের বহিষ্কৃত ২ জনের মধ্যে ১ জন জেনারেল শাখার ও অন্যজন বিএম শাখার পরীক্ষার্থী।

গাইবান্ধা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব সাইফুল ইসলাম জানান, তাদের প্রশ্নপত্রের উল্টোদিকে প্রশ্নের সমাধান ও বসার বেঞ্চে লেখা উত্তর পাওয়া গেছে।

তুলসীঘাট শামসুল হক ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব শফিক আহম্মেদ সরকার ওই কেন্দ্রে বিএম ও জেনারেল শাখার একজন করে ২ শাখার ২ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তাদের কাছে কাগজে লেখা নকল পাওয়া গেছে।

বিধান অনুযায়ী বহিষ্কৃতরা আগামী পরীক্ষাগুলো দিতে পারবেন না।

উল্লেখ্য, বুধবার সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা চলে ১টা পর্যন্ত। গাইবান্ধার ৫০টি পরীক্ষাকেন্দ্রে মোট ১৯ হাজার ২১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ১৮ হাজার ৬৩৯ জন। অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৬০ জন।

শঙ্খ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, নির্ঘুম তীরবর্তী মানুষ

চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
শঙ্খ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, নির্ঘুম তীরবর্তী মানুষ
ছবি: কালের কণ্ঠ

টানা ৪ দিনের অবিরাম বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। চলমান বৃষ্টি না থামলে পানি আরো বৃদ্ধি পেয়ে শঙ্খ নদীর তীরবর্তী মানুষের ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এসব এলাকার জনসাধারণ নির্ঘুম পাহারায় রয়েছেন ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কায়। অনেক পরিবার নিজেদের সহায়-সম্বল, আসবাব সরাতে ব্যস্ত রয়েছে সারাক্ষণ।

অবিরাম বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ নদীর সংলগ্ন যে সব এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, এর মধ্যে রয়েছে চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী রায় জোয়ারা, বার্মা কলোনি, চাগাচর, বরমা, বৈলতলী, সেনার চর এলাকা। আরো রয়েছে সাতকানিয়া উপজেলার পুরানগড়, বাজালিয়া, কালিয়াইশ, নলুয়া, আমিলাইশ, ধর্মপুর, চরতি ও খাগরিয়া ইউনিয়ন এলাকার শত শত পরিবার।

চন্দনাইশ উপজেলার চাগাচর এলাকার মামুনুর রশীদ জানান, গত ২-৩ বছর লাগাতার বৃষ্টি না থাকার কারণে শঙ্খ নদীর ঢল তেমন না থাকায় বন্যার সৃষ্টি হয়নি। এতে আমরা স্বস্তিতে ছিলাম। চলতি বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টির এবং কালো মেঘের ঘনীভূতের কারণে পাহাড়েও প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে। শঙ্খ নদীর পানি বেড়ে তীরবর্তী মানুষের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ছে। তাই আমাদের এলাকার শঙ্খ নদীর পাড়ে অবস্থিত মানুষদের সারারাত জেগে থাকতে হচ্ছে।

দোহাজারী রায় জোয়ারা এলাকার বৃদ্ধ জাফর আহমেদ জানান, গত ২০২৩ সালের ভয়াবহ বন্যায় আমাদের রায় জোয়ারা এলাকার যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে। তাই অনেক পরিবার চলতি ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কায় নিজ নিজ আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন ইতোমধ্যে।

সাতকানিয়া উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আকতার হোসেন জানান, সাতকানিয়া উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়ন এলাকার শঙ্খ নদীর পাড় সংলগ্ন এলাকায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। শঙ্খে নদীর তীরবর্তী মানুষের ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা। ইতোমধ্যে সব ধরনের সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। রাস্তায় উপর পানির ঢলে অধিকাংশ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী পড়েছে। চন্দনাইশের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ প্রায় বন্ধ। তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে নিম্নাঞ্চলের জনসাধারণকে স্থানীয় হাইস্কুলে ও ইউনিয়ন পরিষদে আশ্রয় নেওয়ার জন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

চন্দনাইশের ইউএনও আব্দুর রহমান জানান, শঙ্খ নদীর পানি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে তাই এলাকার পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত ও নদীর তীরবর্তী মানুষের ঘরবাড়ি ছেড়ে নির্দিষ্ট নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

সাতকানিয়ার ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও গ্রাম পুলিশদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সব এলাকায় মাইকিং করে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।