• ই-পেপার

টানা ৪ দিনের বর্ষণে বান্দরবানে পাহাড়ধসে আহত ৩

  • ৭টি বসতঘরের ক্ষয়ক্ষতি

পুকুরে ডুবে চাচাতো ভাই-বোনের মৃত্যু

লক্ষীপুর প্রতিনিধি
পুকুরে ডুবে চাচাতো ভাই-বোনের মৃত্যু
ছবি: কালের কণ্ঠ

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে পুকুরে ডুবে মায়েশা আক্তার (সাড়ে ৩) ও মুজাহিদুল ইসলাম (৩) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই-বোন। স্থানীয়দের দাবি, পানিতে পড়ে যাওয়া মুজাহিদকে বাঁচাতে গিয়ে মায়েশাও ডুবে যায়।

বুধবার (৮ জুলাই) উপজেলার চররমিজ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খন্দকারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মায়েশা প্রবাসী মো. রিয়াজের মেয়ে এবং মুজাহিদ টাইলস মিস্ত্রি মো. মনজুরের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুজাহিদ ও মায়েশা একসঙ্গে খেলছিল। একপর্যায়ে মুজাহিদ অসাবধানতাবশত পুকুরে পড়ে যায়। তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে মায়েশাও পানিতে ডুবে যায় বলে স্থানীয়দের দাবি। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

চররমিজ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজাহিদুল ইসলাম দিদার বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, একজনকে বাঁচাতে গিয়ে আরেকজনেরও মৃত্যু হয়েছে।

রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মাসুদ জাহান বলেন, পানিতে ডুবে যাওয়া দুই শিশুকে হাসপাতালে আনা হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।

রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ফটিকছড়ি

হালদা-ধুরুংয়ে পানি বাড়ছে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
হালদা-ধুরুংয়ে পানি বাড়ছে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বুধবার বিকেলে উপজেলার পাইন্দং এলাকায়। -কালের কণ্ঠ

গত তিন দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে হালদা ও ধুরুং নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হওয়ায় বন্যার আতঙ্কে রয়েছে স্থানীয়রা।

বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টিতে পৌরসভা এলাকা ছাড়াও সুয়াবিল, হারুয়ালছড়ি, সুন্দরপুর ও পাইন্দং ইউনিয়নের অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকার সড়ক ডুবে গেছে। কোথাও কোথাও বৃষ্টির পানি বসতবাড়িতে ঢুকে পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে বাসিন্দারা। নিচু এলাকার কৃষিজমিও এখন পানির নিচে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এবং পাহাড়ি ঢল বাড়লে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে, উপজেলার সুন্দরপুরে হালদা নদীর পাড় উপচে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এতে নদীতীরবর্তী এলাকায় গবাদি পশু ও ঘরের আসবাবপত্র নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে সেখানকার বাসিন্দাদের।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জরুরি অবস্থা বিবেচনায় ১৯টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় একটি করে মোট ২১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া প্রত্যেক ইউনিয়নে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

সূত্র জানায়, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ও স্বেচ্ছাসেবক দলগুলোকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে যাতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করা যায়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, বন্যা পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে। নিয়ন্ত্রণ কক্ষের মাধ্যমে খবরাখবর নেওয়া হচ্ছে।

শাহজালাল মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনার সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
শাহজালাল মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনার সিদ্ধান্ত
ফাইল ছবি

সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে সম্প্রতি গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটির তত্ত্বাবধানে আগামী ১১ জুলাই (শনিবার) এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।

কমিটির সদস্য ও সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘শনিবার দুপুর ১২টায় মাজার প্রাঙ্গণের উন্মুক্ত স্থানে দানবাক্স খুলে অর্থ গণনা করা হবে। এ কার্যক্রমের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় কমিটির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।’

এর আগে গত ২২ জুন প্রায় সাতশ বছরের প্রচলিত রীতি পরিবর্তন করে প্রথমবারের মতো সবার উপস্থিতিতে মাজারের ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেক ও দুটি দানবাক্স খোলা হয়। ওই দিন গণনায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। পরে এসব অর্থ সোনালী ব্যাংকে শাহজালাল (রহ.) মাজারের নামে খোলা একটি নির্ধারিত হিসাবে জমা রাখা হয়।

কমিটির সদস্য রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, শনিবার গণনা শেষে প্রাপ্ত অর্থ আগের মতোই সোনালী ব্যাংকের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে।

চান্দিনায় অটোরিকশাকে ধাক্কা দিয়ে পুকুরে লরি, নিহত ২

চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
চান্দিনায় অটোরিকশাকে ধাক্কা দিয়ে পুকুরে লরি, নিহত ২
ছবি : কালের কণ্ঠ

কুমিল্লার চান্দিনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দিয়ে একটি লরি পুকুরে পড়ে গেছে। এ ঘটনায় অটোরিকশার চালক ও এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো একজন।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা উপজেলার নূরীতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার পাঁচকিত্তা গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে হানিফ মিয়া (৩৫) এবং দেবীদ্বার উপজেলার দাঁড়িয়াপুর গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে লাবিব হোসেন (১৫)।

আহত সজীব হোসেন (২৪) একই উপজেলার দাঁড়িয়াপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তিনি নিহত লাবিবের মামাতো ভাই।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃষ্টির মধ্যে মাধাইয়া থেকে ছেড়ে আসা সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি নূরীতলা এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে চট্টগ্রামগামী একটি লরি ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশা ও লরিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায়।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের অবস্থার অবনতি হলে কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হানিফ মিয়া ও লাবিব হোসেন মারা যান।

নিহতদের স্বজনরা বিকেলে তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

হাইওয়ে পুলিশ ইলিয়টগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন সিকদার বলেন, দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় তিনজন আহতকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।