• ই-পেপার

কার্যালয়ে বিক্ষোভকারীদের তালা

৫ দিনের ছুটি নিয়ে অফিস ছাড়লেন বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত
প্রতীকী ছবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় শের মোহাম্মদ (৭০) নামে এক বাইসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চালককে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত শের মোহাম্মদ ভোলাহাট সদর ইউনিয়নের চরধরমপুর গ্রামের মৃত আলী জান লায়েকের ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৮ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা সদরের নেকজান বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল সজোরে ধাক্কা দিলে বাইসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন শের মোহাম্মদ।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ভোলাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক বলেন, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক ময়েন হোসেন ওরফে ময়েন (১৯) নামে এক তরুণকে আটক করা হয়েছে। তিনি উপজেলার সুরানপুর গ্রামের মো. আরমানের ছেলে।

ওসি আরো জানান, নিহতের মেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।

টানা বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

দীঘিনালার সঙ্গে সাজেক ও লংগদুর সড়ক যোগাযোগ বন্ধ

দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি
দীঘিনালার সঙ্গে সাজেক ও লংগদুর সড়ক যোগাযোগ বন্ধ
ছবি : কালের কণ্ঠ

গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে খাগড়াছড়ির দীঘিনালার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ৩০টি গ্রাম তলিয়ে গেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে সড়কের বিভিন্ন জায়গা ডুবে যাওয়ার কারণে দীঘিনালার সঙ্গে রাঙামাটির সাজেক, বাঘাইছড়ি ও লংগদুর সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে বন্যার কারণে পানিবন্দি পরিবারগুলোর জন্য ৫টি ইউনিয়নে ২১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলার ঘোষণা দেয় উপজেলা প্রশাসন। আশ্রয়কেন্দ্রে অনেক পরিবার আশ্রয় নিলেও অধিকাংশরা আশ্রয় নিচ্ছে স্বজনদের বাড়িতে।

দীঘিনালা-মেরুং সড়কের বেলছড়ি, বাচামেরুং, বড়মেরুং এবং ছোটমেরুং বাজার এলাকার সড়ক ডুবে যাওয়ায় মেরুং এবং লংগদুর সঙ্গে দীঘিনালার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া উপজেলার কবাখালি এলাকার সড়ক ডুবে যাওয়ার কারণে সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত এবং পাহাড়ি ঢলের পানি বাড়তে থাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

মেরুং ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মীনা চাকমা জানান, ছোট মেরুং বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে ২৬ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। তাদের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয়প্রার্থীদের সংখ্যাও বাড়ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ জানান, বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসন সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে।

চৌদ্দগ্রামে শত বছরের রাস্তা বন্ধ, পুনরুদ্ধারের দাবি এলাকাবাসীর

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
চৌদ্দগ্রামে শত বছরের রাস্তা বন্ধ, পুনরুদ্ধারের দাবি এলাকাবাসীর
ছবি: কালের কণ্ঠ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের মধ্যম সাঙ্গীশ্বর গ্রামের হাজী আনু মিয়ার বাড়ির প্রায় শত বছরের পুরোনো জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা পাচ্ছে না। চলাচলের রাস্তা বন্ধ থাকায় স্কুল-মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীরাসহ পরিবারের সদস্যরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। রাস্তাটি পুনরুদ্ধারের জন্য এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ৮/১০টি পরিবারের লোকজনসহ গ্রামের মানুষ ওই রাস্তা ব্যবহার করে এলেও ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে তৎকালীন চিওড়া কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফোরকান ও তার ভাই স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা মোস্তাফিজ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রাস্তার একটি অংশ বন্ধ করে দেন। ফলে তখন থেকে লোকজন স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থী, কৃষকসহ সাধারণ মানুষকে বিকল্প কৃষি মাঠের আইল দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। তখনকার সময়ে স্থানীয় কনকাপৈত পুলিশ ফাঁড়িসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা পাওয়া যায়নি। বরং রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে।

আলহাজ্ব নূর মিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিফাত বলেন, ‘আমরা যারা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করি আমরা এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারি না। কৃষি জমির আইল দিয়ে চলাচল করার সময় আমাদের স্কুলে পোশাক নষ্ট হয়ে যায়। এতে করে আমাদের পড়ালেখার বিঘ্ন ঘটছে, আমাদের বাড়ির শত বছরের চলাচলের এই পুরাতন রাস্তাটি উম্মুক্ত করে দেওয়া হোক।

স্থানীয় রুহল আমিন, আব্দুল মান্নান, আবুল বাশার, মেহেদী হাসান বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে চিওড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি রাজনীতি প্রভাব খাটিয়ে শত বছরের চলাচলের রাস্তা ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে জোর করে বন্ধ করে দেয়। রাস্তাটি পুনরুদ্ধারের জন্য আমরা বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন ও অভিযোগ করলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ১০-১২টি পরিবারের লোকজন অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিতে কোনো যানবাহন বাড়িতে আসার ব্যবস্থা নাই। ১ থেকে দেড়শ বছর ধরে আমাদের মুরুব্বিরা যে রাস্তা দিয়ে হাঁটছিল, সেই রাস্তাটি কেন বন্ধ করে দেওয়া হলো? কেন আমাদের ওপর এই অত্যাচার করা হলো আমরা এর বিচার চাই। আমরা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করি মানবিক দিক বিবেচনা করে হলেও দ্রুত রাস্তাটি দখলমুক্ত করে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হোক।’

এ বিষয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া মোস্তাফিজ বলেন, ‘যে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছি বলে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে সেটি আমাদের ক্রয়কৃত জায়গা। এনায়েত উল্যাহ গংরা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বাড়ির উঠান দিয়ে চলাচল করত, ধীরে ধীরে আমাদের পরিবার বড় হওয়ায় আমাদের প্রয়োজনে ঘর করার কারণে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। সেখানে শত বছরের কোনো রাস্তার অস্তিত্ব নেই। বরং তারা আমাদের পরিবারের লোকজনের ওপর প্রতিনিয়ত নানা অত্যাচার করে আসছে।’

এ বিষয়ে চিওড়া ইউনিয়ন পরিষদ পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের বলেন, ‘রাস্তার বিষয়টি আমি শুনেছি। কোনো পক্ষ আমার কাছে অভিযোগ করেনি। এটি সরকারি কোনো রাস্তা না, বাড়ির চলাচলের রাস্তা ছিল।’

টানা ৪ দিনের বর্ষণে বান্দরবানে পাহাড়ধসে আহত ৩

৭টি বসতঘরের ক্ষয়ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান
টানা ৪ দিনের বর্ষণে বান্দরবানে পাহাড়ধসে আহত ৩
বান্দরবান জেলা শহরের পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কালাঘাটা বড়ুয়াপাড়া এলাকায় পাহাড়ধসের ক্ষতিগ্রস্ত বসতঘর। বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ।

টানা চার দিনের অবিরাম বর্ষণে পাহাড় যেন আবারও তার ভয়ংকর রূপ দেখাল। একদিকে ফুলে-ফেঁপে ওঠা পাহাড়ি ছড়া ও নদী, অন্যদিকে নরম হয়ে যাওয়া পাহাড়ের ঢাল। সব মিলিয়ে আতঙ্কে কাটছে বান্দরবানের মানুষের দিন-রাত। বুধবার সকালে সেই আতঙ্ক বাস্তবে রূপ নেয়। বান্দরবান পৌরসভার কালাঘাটা বড়ুয়াপাড়া এলাকায় পাহাড়ধসে একটি পাকা দালানসহ অন্তত ৭টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে অল্পের জন্য বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেলেও আহত হয়েছেন ৩ জন।

স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন ধরেই পাহাড়ে ফাটল দেখা দিয়েছিল। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি আলগা হয়ে পড়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে অনেক পরিবার আগেভাগেই নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়। সেই সতর্কতাই শেষ পর্যন্ত বহু প্রাণ বাঁচিয়েছে।

বুধবার সকাল ১০টার দিকে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কালাঘাটা বড়ুয়াপাড়া এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। ধসে নিপুণ বড়ুয়া, রন বড়ুয়া, অঞ্জনা বড়ুয়া, সুমন বড়ুয়াসহ কয়েকটি পরিবারের বসতঘর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অঞ্জনা বড়ুয়াসহ তিনজন আহত হন। একটি পাকা ঘর সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আরো ৭টি ঘরের বড় অংশ মাটির নিচে চাপা পড়ে।

00

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যরা জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকেই পাহাড় থেকে মাটি খসে পড়ার শব্দ শোনা যাচ্ছিল। পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়ায় তারা রাতেই ঘর ছেড়ে আত্মীয়স্বজন ও নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যান। রাত প্রায় ২টার দিকে বিকট শব্দে পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে পড়ে তাদের বসতঘরের ওপর। সকালে ফিরে এসে তারা দেখেন, বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা ঘরবাড়ি মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলমান ভারী বৃষ্টিতে শুধু পৌর এলাকাই নয়, জেলার ৭টি উপজেলাজুড়েই ছোট-বড় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ের ঢাল ধসে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং নতুন করে ঝুঁকিতে পড়ছেন পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী মানুষ। তবে এখন পর্যন্ত কোথাও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মেজর সায়েমের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা উদ্ধার ও ঝুঁকি মূল্যায়নের কাজ চালান। তারা পাহাড়ঘেঁষা ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে থাকা মানুষদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানান।

বান্দরবান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল মান্নান আনসারী বলেন, ‘পাহাড়ধসে সাতটি বসতঘর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সৌভাগ্যক্রমে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। ক্ষতিগ্রস্ত ও আশপাশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হলেও অনেকে এখনো ঘর ছাড়তে অনীহা দেখাচ্ছেন, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।’

11

বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফা সুলতানা খান হিরা মনি জানান, পৌরসভার কালাঘাটা বড়ুয়াপাড়া ও সুয়ালক এলাকায় এ পর্যন্ত ৭টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাজ করছেন এবং আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।