• ই-পেপার

আমদানির খবরে হিলিতে কমল চালের দাম

রাঙামাটি

অবৈধ অটোরিকশা বন্ধ করতে প্রশাসনকে ৬ দিনের আলটিমেটাম

রাঙামাটি সংবাদদাতা
অবৈধ অটোরিকশা বন্ধ করতে প্রশাসনকে ৬ দিনের আলটিমেটাম

রাঙামাটিকে নিরাপদ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে রেজিস্ট্রেশন ও রুট পারমিটবিহীন অবৈধ অটোরিকশা চলাচল বন্ধের দাবি জানিয়েছেন রাঙামাটি অটোরিকশা চালক ও মালিকরা। 

আজ সোমবার (৬ জুলাই) সকালে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এই দাবিতে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করা হয়। এ সময় দাবি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনকে ছয় দিনের আলটিমেটাম দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আগামী রবিবার থেকে শহরে সব অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেন তারা। 

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রাঙামাটি অটোরিকশা মালিক সমিতির সভাপতি আলী বাবর, রাঙামাটি জেলা অটোরিকশা চালক সমিতির সভাপতি মো. আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শহিদুল মিয়া, অর্থ সম্পাদক অজিত দে এবং চালক মো. রনি প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, রাঙামাটি একটি পর্যটন শহর। জেলাতে প্রতিবছর লক্ষাধিক পর্যটক ভ্রমণ করেন। কিন্তু রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়িসহ রুট পারমিটবিহীন গাড়ি দৌরাত্ম্যের কারণে পর্যটকদের সাথে অশোভন আচরণসহ অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, এতে জেলার সুনাম হানি হচ্ছে। বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে। কিন্তু এসব ঘটনার দায় এসে পড়ে বৈধ অটোরিকশা চালকদের ওপর, ফলে তাদের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

বক্তারা আরো অভিযোগ করেন, অবৈধ অটোরিকশা চলাচলের পেছনে প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশ রয়েছে। তারা মাসোহারার বিনিময়ে এসব অটোরিকশা চলাচলের সুযোগ করে দিচ্ছেন। এ বিষয়ে নিজেদের কাছে প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা জেলা প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, আগামী শনিবারের মধ্যে রাঙামাটি শহরে চলাচলকারী সব অবৈধ অটোরিকশা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় আগামী রবিবার থেকে শহরের সব বৈধ অটোরিকশা অনির্দিষ্টকালের জন্য চলাচল বন্ধ রাখা হবে।

কুমিল্লার লালমাই

অবৈধ স্থাপনায় আটকা দোশারীচোঁ খালের খননকাজ

লালমাই-সদর দক্ষিণ (কুমিল্লা)
অবৈধ স্থাপনায় আটকা দোশারীচোঁ খালের খননকাজ
কুমিল্লার লালমাইয়ের দরবেশপাড়া বাজার এলাকায় দোশারীচোঁ খালের ওপর গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা যা এখনো উচ্ছেদ করা হয়নি। সম্প্রতি তোলা। -কালের কণ্ঠ

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার দরবেশপাড়া বাজার এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না হওয়ায় আটকে আছে ডাকাতিয়া নদীর শাখা খালের পুনঃখনন কর্মসূচি। 

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী পুরো পাঁচ  কিলোমিটার দীর্ঘ খাল ৩৩ ফুট প্রশস্ত করে পুনঃখননের কথা থাকলেও বাজার অংশে অবৈধ দখলের কারণে মাত্র ছয় থেকে আট ফুট পর্যন্ত খনন করা হয়েছে। এতে বর্ষা মৌসুমে এই অঞ্চলের তিন ফসলি জমি জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকারের দেশব্যাপী নদী-নালা ও খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায়  লালমাই ও লাকসাম উপজেলার ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া ডাকাতিয়া নদীর শাখা দোশারীচোঁ খালের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪৫ দশমিক ৫৩ লাখ টাকা। পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি পুনঃখননের কাজ চলছে। 

গত ১৬ মার্চ কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ কুমিল্লা ১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়াকে সঙ্গে নিয়ে প্রকল্পটি উদ্বোধন করেন। ইতোমধ্যে প্রায় ৩ দশমিক ৭০ কিলোমিটার খননকাজ শেষ হয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ৪২টি গ্রামের প্রায় দুই হাজার হেক্টর কৃষিজমি জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাবে এবং সাত হাজার ২০০টির বেশি কৃষক পরিবার সরাসরি ও পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে। পাশাপাশি আগাম বন্যা ও অতিবৃষ্টির ক্ষতি কমে কৃষিজমি পুনরায় তিন ফসলি হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তবে দরবেশপাড়া বাজার এলাকায় খালের প্রায় ২০০ মিটার অংশে ৩৩টি অবৈধ দোকান ও স্থাপনা থাকায় সেখানে পরিকল্পনা অনুযায়ী খনন করা সম্ভব হয়নি। বিএডিসির পক্ষ থেকে একাধিকবার নোটিশ প্রদান ও মাইকিং করার পরও দখলদাররা স্থাপনা সরিয়ে নেয়নি। 

এ অবস্থায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের জন্য গত ৭ জুন কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি দেয় বিএডিসি। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ না হওয়ায় বাজার অংশে মাত্র ছয় থেকে আট ফুট প্রশস্ত করে খননকাজ চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারের বাইরে খালের দুই পারের  অনেক বসতঘর ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও বাজারের অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে আইনের সমান প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয়ের পরও খালের নাব্যতা ও পানিপ্রবাহ পুনরুদ্ধার নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের বাসিন্দা ওসমান গণি রিংকু বলেন, ভৈরবপুর, শাসনপাড়া, যশপুর, দোশারীচোঁ ও ফাজিলপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় কৃষিজমি, বাগান ও বসতঘর অপসারণ করে খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। তাই দরবেশপাড়া বাজারের অবৈধ স্থাপনাও একই নিয়মে উচ্ছেদ করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা উচিত। কৃষকদের স্বার্থে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

বিএডিসির কুমিল্লা অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী রুবায়েত ফয়সাল আল-মাসুম বলেন, দরবেশপাড়া বাজার এলাকায় প্রায় ২০০ মিটার অংশে অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। এসব স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ চেয়ে গত ৭ জুন জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান শেষ হলে ওই অংশে পরিকল্পনা অনুযায়ী খাল পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন করা হবে।

লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুব্রত বিশ্বাস দাস বলেন, আমি সম্প্রতি এ উপজেলায় যোগদান করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সীমান্ত সুরক্ষায় ডিমলায় বিজিবির নতুন বিওপির উদ্বোধন

নীলফামারী সংবাদদাতা
সীমান্ত সুরক্ষায় ডিমলায় বিজিবির নতুন বিওপির উদ্বোধন
ছবি: কালের কণ্ঠ

সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার, চোরাচালান ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় নতুন একটি বর্ডার আউট পোস্ট (বিওপি) উদ্বোধন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

সোমবার (৬ জুলাই) বেলা ১১টায় উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরে ৫১ বিজিবির অধীনে নির্মিত ঝাড়সিংহেশ্বর বিওপির উদ্বোধন করেন উত্তর-পশ্চিম রংপুর রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এস এম নাছের।

উদ্বোধনের পর তিনি বিওপি প্রাঙ্গণে একটি আমগাছের চারা রোপণ করেন।

অনুষ্ঠানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এস এম নাছের বলেন, কালিগঞ্জ ও থানাহাট বিওপির মধ্যবর্তী সীমান্ত এলাকার দূরত্ব প্রায় ৯ কিলোমিটার। এ এলাকায় সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন, চোরাচালান, মানবপাচার ও মাদকের বিস্তার প্রতিরোধ এবং বিজিবির অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন এ বিওপি স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে সীমান্তে নজরদারি আরো জোরদার হবে।

এ সময় বিজিবি রংপুর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল রুবায়েত হাসান, রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজিউর রহমানসহ বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পাবনায় র‍্যাবের অভিযানে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৪

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, পাবনা
পাবনায় র‍্যাবের অভিযানে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৪
ছবি: কালের কণ্ঠ

পাবনার ঈশ্বরদীতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ ৪ যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল  কার্তুজ, ম্যাগাজিন দেশীয় অস্ত্র ও মোটরসাইকেলসহ জব্দ উদ্ধার করা হয়। 

সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে ঈশ্বরদী থানার চর রূপপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পাবনা র‍্যাবের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ঈশ্বরদী থানার নতুন রূপপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার সুপ্ত ইসলাম জীবন (২৬) ও চঞ্চল ইসলাম নীরব (২৬), চর রূপপুর বিবিসি বাজার এলাকার বাঁধন ইসলাম (২৩) ও শাকিল হোসেন (৩০)।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার ভোরে পাবনা র‍্যাবের একটি আভিযানিক দল ঈশ্বরদীর চর রূপপুর এলাকায় অভিযান চলিয়ে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল, ৫ রাউন্ড কার্তুজ, ৩টি ম্যাগাজিন ও ৫টি ম্যাগাজিন স্লাইড, ৫টি ব্যারেল, ৩টি সুইচ গিয়ার চাকু ও ১টি হাত চাপ ব্লেড, ১টি ইলেকট্রিক শুটার, ১০০টি এয়ারগান কার্তুজ, ৯টি মোবাইল ফোন, ১১টি সিম কার্ড ও ২টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। 

পাবনা র‍্যাবের কোম্পানি কমান্ডার ওয়াহিদুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও মালামালসহ তাদের পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।