• ই-পেপার

গোপালগঞ্জে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত ৪০

কসবায় ২৫ শারিরিক প্রতিবন্ধীকে হুইল চেয়ার দিলেন জামায়াত নেতা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
কসবায় ২৫ শারিরিক প্রতিবন্ধীকে হুইল চেয়ার দিলেন জামায়াত নেতা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার বিতরণ করছেন জামায়াত নেতারা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার ২৫ শারিরিক প্রতিবন্ধীকে হুইল চেয়ার দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও কসবা-আখাউড়া উপজেলা উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান সরকারের পক্ষ থেকে হুইল চেয়ার বিতরণ করা হয়।

আজ রবিবার দুপুর ১২টায় কসবা মডেল মসজিদ কমপ্লেক্স মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হাতে হুইল চেয়ার বিতরণ করা হয়। কসবা-আখাউড়া উপজেলা উন্নয়ন ফোরামের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজ সেবক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াত নেতা মো. আতাউর রহমান সরকার। নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা কাজী ইয়াকুর আলী, কাজী সিরাজুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, বোরহান উদ্দিন খান।

প্রধান অতিথি মো. আতাউর রহমান সরকার তার বক্তব্যে বলেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সবসময় মানুষের পাশে থেকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। প্রতিবন্ধকতা কখনো মানুষের অগ্রযাত্রার বাধা হতে পারে না। সমাজের সহযোগিতা ও আত্মবিশ্বাস থাকলে জীবনের পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।’

যৌতুকের টাকা না পেয়ে শ্বশুরকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২

চাটখিল ও সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
যৌতুকের টাকা না পেয়ে শ্বশুরকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২
ছবি: কালের কণ্ঠ

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলায় যৌতুকের টাকা না পেয়ে শ্বশুর মো. শাহজাহান (৬২) কে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার জামাতা মো. সুজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে সুজন ও তার ভাই ইমরানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঘটনাটি শনিবার (৪ জুলাই) গভীর রাতে উপজেলার বজরা ইউনিয়নের মুটবি গ্রামের খলিল হাজি বাড়িতে ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে শাহজাহানের মেয়ে মাজেদা আক্তারের সঙ্গে একই গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে ও লিবিয়া প্রবাসী মো. সুজনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, গত রমজান মাসে লিবিয়া থেকে দেশে এসে ইউরোপ যাওয়ার জন্য সুজন শ্বশুরের কাছে যৌতুক দাবি করেন। গত এক মাস ধরে তিনি স্ত্রী মাজেদা আক্তারের ওপর যৌতুকের জন্য নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন।

কয়েক দিন আগে সুজন তার স্ত্রীকে ৫ লাখ টাকা যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার গভীর রাতে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা সুজন ও তার সহযোগীরা শাহজাহান ঘর থেকে বাথরুমে বের হলে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে শ্বাসরোধ করে হত্যারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

শাহজাহানের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাইমুড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠান।

 

এ ঘটনায় রবিবার আহত শাহজাহানের স্ত্রী শাহিদা আক্তার বাদী হয়ে সোনাইমুড়ি থানায় মামলা করেন। ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে পুলিশ সুজন ও তার ভাই ইমরানকে গ্রেপ্তার করে।

সোনাইমুড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, ভুক্তভোগীর স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। অভিযানে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

দিনাজপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দিনাজপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২
ফাইল ছবি

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। রবিবার (৫ জুলাই) ভোর ও বিকেলে উপজেলার সুজালপুর ও সাতোর ইউনিয়নে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্র জানায়, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সুজালপুর ইউনিয়নের উত্তর সুজালপুর মালদইয়াপাড়া এলাকায় মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় অজ্ঞাত একটি নছিমনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন বীরগঞ্জ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত আব্দুল বারী মিয়ার ছেলে মো. রাজিউর রহমান রবি (৬৩)। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার পর নছিমনটি পালিয়ে যায়।

অপরদিকে, বিকেলে সাতোর ইউনিয়নের দলুয়া এলাকায় বীরগঞ্জ-ঠাকুরগাঁও মহাসড়কে একটি ট্রাকের ধাক্কায় ভ্যানযাত্রী সকাল রানী (৩৫) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ঘটনায় তার ছেলে তুষার (৬) এবং ভ্যানচালক মো. আপেল (৩০) গুরুতর আহত হন। তাদের ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, বিকেলের দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাক ও এর হেলপারকে আটক করা হয়েছে। দুটি ঘটনাতেই আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ছুটি না দেওয়ায় প্রধান শিক্ষককে মারধর সহকারী শিক্ষকের, ভিডিও ভাইরাল

তদন্ত কমিটি গঠন

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
ছুটি না দেওয়ায় প্রধান শিক্ষককে মারধর সহকারী শিক্ষকের, ভিডিও ভাইরাল
সংগৃহীত ছবি

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছুটি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক আলী আসাদ মিয়া থানা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। 

বিদ্যালয় ও শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের মে মাসে প্রধান শিক্ষক হিসেবে আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন আলী আসাদ মিয়া। এর আগে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে একই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন দেলোয়ার হোসেন। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। একপর্যায়ে দেলোয়ার হোসেনকে ছয় মাসের জন্য পাশের ছুরিরচর বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রেষণে পাঠানো হলেও চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি আবার আগের কর্মস্থলে ফিরে আসেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে দেলোয়ার হোসেন প্রধান শিক্ষকের কক্ষে গিয়ে ছুটির আবেদন করেন। সেদিন শিক্ষকদের একটি নির্ধারিত সভা থাকায় প্রধান শিক্ষক ছুটি দিতে রাজি হননি। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। পরে অন্য শিক্ষকরা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রায় ১ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক অন্য শিক্ষক ও অফিস সহকারীকে নিয়ে কক্ষে কাজ করছিলেন। এ সময় দেলোয়ার হোসেন তার শিশুসন্তানকে সঙ্গে নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ পর দুজনের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে তিনি প্রধান শিক্ষককে মারধর করেন। পরে প্রধান শিক্ষক কক্ষ থেকে বেরিয়ে গেলে অভিযুক্ত শিক্ষক কক্ষের চেয়ার ও কিছু কাগজপত্র ছুড়ে ফেলেন।

প্রধান শিক্ষক আলী আসাদ মিয়া বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক প্রায়ই নানা অজুহাতে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকতেন এবং অশোভন আচরণ করতেন। এসব কারণে তাকে আগে অন্য বিদ্যালয়ে প্রেষণে পাঠানো হয়েছিল। ঘটনার দিন শিক্ষকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা থাকায় ছুটি দেওয়া সম্ভব হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি তার ওপর হামলা চালান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রধান শিক্ষকের কারণে তার পারিবারিক জীবন ভেঙে গেছে। স্ত্রী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। ঘটনার দিন অসুস্থ শিশুসন্তানকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে ছুটি চেয়েছিলেন। ছুটি না পেয়ে উত্তেজিত হয়ে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন।

জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আল মুজাহিদ জানান, প্রধান শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে এবং পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুবকর সিদ্দিক বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে সুপারিশ পাঠানো হবে।