• ই-পেপার

সীতাকুণ্ডে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা

নোয়াখালীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১

নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় বন্ধুদের সঙ্গে চা খেতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মো. নাজিম হোসাইন (২৪) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার মোটরসাইকেলে থাকা একই বাড়ির আবির নামে আরো এক তরুণ আহত হয়েছেন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দশঘরিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নাজিম উপজেলার পরকোট ইউনিয়নের পূর্ব শোশালিয়া গ্রামের আটঘর এলাকার মিঝি বাড়ির আমিন উল্যার ছেলে। তিনি পেশায় একজন মোবাইল মেকানিক ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাজিম ও তার প্রতিবেশী আবির মোটরসাইকেলে আটঘর এলাকা থেকে উপজেলার দিঘীরপাড় এলাকায় চা খেতে যাচ্ছিলেন। পথে দশঘরিয়া এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়। তবে ঢাকা নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাজিম মারা যান। অন্যদিকে, আবিরকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, নিহতের স্বজনরা বিষয়টি পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। তবে আমরা খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

মৌলভীবাজারে ডাকাত দলের পাঁচ সদস্য গ্রেপ্তার, প্রাইভেট কার উদ্ধার

মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার
মৌলভীবাজারে ডাকাত দলের পাঁচ সদস্য গ্রেপ্তার, প্রাইভেট কার উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় পৃথক দুটি অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার, রামদা, ছোরা, সুইস গিয়ার ছুরি ও কাটারসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জেলার বিভিন্ন থানাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মোট ৪৬টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (৩ জুলাই) দিবাগত রাত ২টা ৩৫ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্নার নেতৃত্বে পুলিশের একটি আভিযানিক দল উপজেলার ১১ নম্বর শরীফপুর ইউনিয়নের মানগাঁও ত্রিমোহনী সড়কে অভিযান চালায়। এ সময় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের চার সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মৌলভীবাজার সদর উপজেলার পূর্ব সৈয়ারপুর গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে মো. কাউছার মিয়া (৩২), বেরিরচক গ্রামের মৃত নুর মিয়ার ছেলে জসিম মিয়া (৩৫), কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের পশ্চিম বিলেরপাড় গ্রামের মৃত ইসমাইল আলীর ছেলে মো. সালাউদ্দিন (২৯) এবং কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগরের সতিজিরগ্রাম গ্রামের আসুক আলীর ছেলে রেজাউল ইসলাম মামুন (২৮)।

অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি করোলা প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো-গ-১৩-৪৫৯৮), একটি হলুদ হাতলযুক্ত কাটার, একটি স্টিলের সুইস গিয়ার ছুরি, একটি লোহার রামদা এবং একটি লোহার ছোরা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত আলামত জব্দ তালিকাভুক্ত করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, এর আগের রাতে (২ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুলাউড়া থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-এর যৌথ অভিযানে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার হাসপাতাল রোড এলাকা থেকে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের আরেক সদস্য দেলোয়ার হোসেন ওরফে আহাদ মিয়া (৪৬)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি রাজনগর উপজেলার কদমহাটা গ্রামের মৃত মোস্তফা মিয়ার ছেলে।

পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার হওয়া কাউছার মিয়ার বিরুদ্ধে ১১টি, জসিম মিয়ার বিরুদ্ধে ১২টি, সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে ৯টি এবং দেলোয়ার হোসেন ওরফে আহাদের বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার অধিকাংশই চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি-সংক্রান্ত।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে আন্তঃজেলা অপরাধচক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন সড়ক, গ্রামীণ জনপদ ও নির্জন এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কুলাউড়াসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় পরিচালিত এসব অভিযানের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না।

পরকীয়া সম্পর্কের জেরে হাতাহাতি, পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি
পরকীয়া সম্পর্কের জেরে হাতাহাতি, পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

রংপুরের পীরগাছায় পরকীয়া সম্পর্ককে কেন্দ্র করে হাতাহাতির ঘটনায় চান মিয়া (৫০) নামের এক পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিবেশী মিথুন মিয়াকে (৩২) আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের দিগটারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

চান মিয়া ওই গ্রামের আজগার আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। মেয়ের বিয়ে হয়েছে।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, চান মিয়া ঢাকায় চাকরি করার সময় তার স্ত্রী মুক্তি বেগম প্রতিবেশী দুলু মিয়ার ছেলে মিথুন মিয়ার সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এক বছর আগে কৌশলে চান মিয়াকে দিয়ে প্রায় আড়াই বিঘা জমি নিজের নামে লিখে নেন বলেও পরিবারের অভিযোগ।

স্বজনদের দাবি, গত ঈদুল আজহার কয়েক দিন আগে ঢাকায় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে চান মিয়া গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে তিনি আর ঢাকায় না গিয়ে বাড়িতেই থাকার সিদ্ধান্তের কথা স্ত্রীকে জানান। এর কিছুদিন পর মুক্তি বেগম পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন। যাওয়ার সময় তিনি বাড়ির আসবাবসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে যান।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, ঘটনার দিন চান মিয়া জানতে পারেন, তাকে তালাক না দিয়েই তার স্ত্রী প্রতিবেশী মিথুন মিয়াকে বিয়ে করে সুন্দরগঞ্জের ওই ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। বিষয়টি জানতে শুক্রবার সন্ধ্যায় বাড়ির পাশের একটি ইটভাটার কাছে মিথুন মিয়ার সঙ্গে কথা বলতে যান তিনি। এসময় তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয়। হাতাহাতির সময় চান মিয়া মাটিতে পড়ে যান। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এসময় মিথুন মিয়া দৌড়ে পাশের জিয়ার বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে একটি ঘরে আটকে রাখেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। একই সঙ্গে স্থানীয়দের হাতে আটক মিথুন মিয়াকেও থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় রাতেই নিহতের ভাগ্নে আলম মিয়া বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পীরগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তফা কামাল বলেন, ঘটনাস্থলে একজনকে স্থানীয় লোকজন আটকে রেখেছিলেন। পরে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে আসে।

পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

কক্সবাজার বিমান ঘাঁটি পরিদর্শন করলেন বিমান বাহিনী প্রধান

অনলাইন ডেস্ক
কক্সবাজার বিমান ঘাঁটি পরিদর্শন করলেন বিমান বাহিনী প্রধান

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কক্সবাজার ঘাঁটি পরিদর্শন করেছেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এ পরিদর্শনে যান তিনি।

এসময় বিমান বাহিনী প্রধান ওই ঘাঁটির জেসিও’স টাইপ কোয়ার্টার ও বিমানসেনা ব্যারাকের উদ্বোধন করেন। তিনি সেখানে বৃক্ষরোপণ করেন এবং বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।

পরে বিমান বাহিনী প্রধান ঘাঁটিস্থ নর্থ হ্যাঙ্গারের সকল কর্মকর্তা, বিমানসেনা এবং অন্যান্য পদবির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। 

মতবিনিময়কালে তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল অবদানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে শৃঙ্খলা, সততা, পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানান।

এসময় সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (পরিকল্পনা), সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (প্রশাসন), বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারের এয়ার অধিনায়ক, বিমান সদরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ ঘাঁটির সকল কর্মকর্তা, বিমানসেনা এবং অন্যান্য পদবির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, একই দিনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতির (বাফওয়া) সভানেত্রী সালেহা খান বাফওয়া আঞ্চলিক শাখা কক্সবাজারে স্থাপিত বাফওয়া গোল্ডেন ঈগল নার্সারি স্কুলের উদ্বোধন করেন। পরে সভানেত্রী বাফওয়া আঞ্চলিক শাখা কক্সবাজার এবং আদার্স উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন ক্লাবের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। 

মতবিনিময়কালে তিনি সদস্যদেরকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত ও দিকনির্দেশনা দেন।

এ ছাড়া সভানেত্রী জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সাথে সামঞ্জস্য রেখে আঞ্চলিক বাফওয়া কার্যালয়ের সামনে বনজ গাছের চারা রোপণ করেন। এসময় বাফওয়ার সহ-সভানেত্রীরা, বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-স্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।