• ই-পেপার

মুন্সিগঞ্জ

রান্নাঘরের মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল বৃদ্ধের মরদেহ, নেপথ্যে কী?

শিয়ালের সঙ্গে ধাক্কা লেগে প্রাণ গেল মোটরসাইকেল চালকের

বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি
শিয়ালের সঙ্গে ধাক্কা লেগে প্রাণ গেল মোটরসাইকেল চালকের
সংগৃহীত ছবি

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় শিয়ালের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত মহব্বত হোসেন নামের এক মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু হয়।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে বাঘারপাড়া উপজেলার বন্দবিলা ইউনিয়নের গাইদঘাট এলাকায় যশোর-মাগুরা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

নিহত যুবকের নাম মহব্বত হোসেন (২৮)। তিনি সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের সাঈদুর মন্ডলের একমাত্র ছেলে। মহব্বতের খাজুরা সরকারি শহীদ সিরাজুদ্দীন হোসেন কলেজের সামনে ফার্নিচারের ব্যবসা ছিল। 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ব্যবসায়িক কাজ শেষে মাগুরার শালিখা উপজেলার সীমাখালী এলাকায় খালাবাড়ি থেকে রাতের খাবার খেয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন মহব্বত। পথে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাঘারপাড়ার গাইদঘাট এলাকায় আকস্মিকভাবে একটি শিয়াল মহাসড়ক পার হতে গেলে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলটি সেটির সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন মহব্বত। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন৷ পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত দেড়টার দিকে মারা যান তিনি। 

যশোর সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য রেজাউল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক যুবকের ফুসফুস ফেটে যায়। নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে পৌঁছালে তার মৃত্যু হয়।

বাঞ্ছারামপুর

ভূমি অফিসের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা, থানায় অভিযোগ

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
ভূমি অফিসের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা, থানায় অভিযোগ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ভূমি অফিস। ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম ব্যবহার করে একটি চক্র সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চক্রটি নামজারি ও জমা খারিজের নামে সেবাগ্রহীতাদের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করছে বলে জানা গেছে। 

অনেক সেবাগ্রহীতা এ ধরনের চক্রের খপ্পরে পড়ে আর্থিক লেনদেনে জড়িয়ে পড়ছে। এতে উপজেলা ভূমি অফিসের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় গতকাল বুধবার একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

ভূমি অফিসের অভিযোগ অনুযায়ী, ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমান নামজারি ও জমাখারিজের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন হয়। এ জন্য আবেদন ফি ৭০ টাকা এবং অনুমোদন ফি এক হাজার ১০০ টাকা অনলাইনে জমা দিতে হয়। সরাসরি নগদ অর্থ লেনদেনের কোনো সুযোগ নেই। 

কিন্তু সম্প্রতি বিভিন্ন ইউনিয়নে দালাল ও প্রতারক চক্র সক্রিয়। চক্রের সদস্যরা উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ ভূমি সেবাপ্রার্থীদের নামজারি অনুমোদন করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লক্ষাধিক পর্যন্ত টাকা দাবি করা হচ্ছে। 

এবিষয়ে জমির খারিজ করতে আসা একাধিক সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে, তারা মিডিয়ায় কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে বাঞ্ছারামপুর পৌর এলাকার কৃষক মো. আজাদ মিয়া বলেন, 'আমি সরকারি ফি ১১৭০ টাকা দিয়েই খারিজ করেছি।’

সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাঞ্ছারামপুর  মো. রবিউল হাসান ভূঁইয়ার ভাষ্য, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ভূমি অফিস শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা সঙ্গে নাগরিকদের ভূমিসেবা দিয়ে যাচ্ছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ই-নামজারি ও জমাখারিজের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া এখন অনলাইনে সম্পন্ন হয়। এর বাইরে কোনো ধরনের নগদ অর্থ বা অতিরিক্ত অর্থ লেনদেনের প্রয়োজন নেই। 

সম্প্রতি ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম ব্যবহার করে একটি দালাল ও প্রতারক চক্র সাধারণ ভূমি সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে- এমন তথ্য জানতে পেরেছি। এ ধরনের লেনদেন সম্পূর্ণ বেআইনি। এসব প্রতারকদের সঙ্গে ভূমি অফিসের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।’

বাঞ্ছারামপুর পৌর প্রশাসক ও এসি ল্যান্ড মো. রবিউল হাসান ভূঁইয়া  কালের কন্ঠকে বলেন, ‘নামজারি সংক্রান্ত কাজে সরকারি ফি’র অতিরিক্ত একটি টাকাও দেওয়ার প্রয়োজন নেই। যদি কেউ নামজারি করিয়ে দেওয়ার কথা বলে অতিরিক্ত টাকা দাবি করে, তাহলে সরাসরি সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা উপজেলা ভূমি অফিসে জানানোর জন্য অনুরোধ করছি। 

পৌর প্রশাসক বলেন, ভূমিসেবা নিশ্চিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। প্রতারকদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে এধরনের প্রতারকদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় তা শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

জামালপুরে বিচারক দম্পতির বাসায় গ্রিল কেটে চুরির অভিযোগ

জামালপুর প্রতিনিধি
জামালপুরে বিচারক দম্পতির বাসায় গ্রিল কেটে চুরির অভিযোগ
সংগৃহীত ছবি

জামালপুরে এক বিচারক দম্পতির বাসায় চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে পৌর শহরের আমলাপাড়া এলাকায় মেলান্দহ সিভিল জজ আদালতের বিচারক আহমাদুল কবির সাকিল ও দেওয়ানগঞ্জ সিভিল জজ আদালতের বিচারক নুসরাত জেরিন জেনির ভাড়াবাসায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে বিচারকের স্ত্রীকে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দিতে বাসা থেকে বের হন বিচারক আহমাদুল কবির সাকিল। ওই সময় বাসায় কেউ ছিলেন না। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা জানালার গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে হীরার আংটি, প্রায় আট ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ এক লাখ টাকা এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায়।

বাড়ির মালিক আনোয়ার হোসেন জানান, তিনতলা ভবনটিতে পাঁচটি ইউনিট রয়েছে। এর আগে ভবনে কখনও চুরির ঘটনা ঘটেনি। ভবনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হলেও বর্তমানে সেটি অচল। ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বাসাটি ফাঁকা থাকার সুযোগ নিয়ে চুরির ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

জামালপুর সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ জানান, বিচারক দম্পতির ভাড়া বাসায় চুরির ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

তৃতীয় দফায় পেছাল শিশু আসমা হত্যা মামলার রায়

নোয়াখালী প্রতিনিধি
তৃতীয় দফায় পেছাল শিশু আসমা হত্যা মামলার রায়
সংগৃহীত ছবি

নোয়াখালীর চাটখিলের চাঞ্চল্যকর শিশু আসমা আক্তার (৫) ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় তৃতীয় দফায় পিছিয়েছে। রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৬ জুলাই নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। বুধবার (১ জুলাই) জেলার বিশেষ শিশু ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা আক্তার এ আদেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শুক্লা সাহা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার রায় ঘোষণার তারিখ তৃতীয় দফা পরিবর্তন করে ৬ জুলাই নির্ধারণ করা হয়।

নিহত উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের মেঘা গ্রামের মৃধা বাড়ির বাসিন্দা মাওলানা মো. শাহজাহানের মেয়ে। মামলার একমাত্র আসামি শাহাদাত (২৬) একই গ্রামের বাবুল হোসেনের ছেলে এবং নিহতের জেঠাতো ভাই।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৪ মার্চ দুপুর দেড়টার দিকে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় আসমা। ঘটনার নয় দিন পর বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংকি থেকে আসামির তথ্যের ভিত্তিতে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার জেঠাতো ভাই শাহাদাতকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত চলাকালে শাহাদাত আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানায়, ধর্ষণের পর ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়ার আশঙ্কায় তিনি শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন এবং মরদেহ সেপটিক ট্যাংকিতে ফেলে দেন।