• ই-পেপার

‘মেসি আরো গোল করুক, তবে আমার লক্ষ্য বিশ্বকাপ ট্রফি’

বিশ্বকাপ শেষ ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডারের!

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ শেষ ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডারের!
ঊরুর চোটে বিশ্বকাপ শেষ হতে পারে পাকেতার। ছবি : রয়টার্স

সুখের সময় দুঃখের সংবাদ। জাপানের বিপক্ষে দুর্দান্ত কামব্যাকের গল্পটা ঠিকমতো উপভোগ করা হয়নি ব্রাজিলের। ২-১ গোলের জয়ে শেষ ষোলোর টিকিট পাওয়ার রাতেই যে লুকাস পাকেতা চোট পান।

খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়া পাকেতাকে নিয়ে এবার দুঃসংবাদই হয়তো শুনেছে ব্রাজিল। যদিও চোট কতটা গুরুতর সেটা জানায়নি সেলেসাওরা। শুধু জানিয়েছে, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার বাঁ পায়ের ঊরুর পেশিতে চোট ধরা পড়েছে।

ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন বিবৃতিতে লিখেছে, ‘মঙ্গলবার পরীক্ষায় পাকেতার বাম ঊরুর পেছনের মাংসপেশীতে চোট পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। সে চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে থাকবে। লক্ষ্য যত দ্রুত সম্ভব সুস্থ হয়ে তাকে মাঠে ফেরানো।’

ব্রাজিল ফেডারেশন পাকেতার চোট নিয়ে বিস্তারিত না বললেও দেশটির সংবাদ মাধ্যম ও গ্লোবো জানিয়েছে, তিন সপ্তাহের মতো ফ্ল্যামেঙ্গোর মিডফিল্ডারকে মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে। সম্ভাবনা বলতে, ফাইনালে তাকে পাওয়া যেতে পারে। আগামী ১৯ জুলাই হতে যাওয়া ফাইনালে যদি ব্রাজিল ওঠে তবে।

সেই ফেরাও নির্ভর করছে কত দ্রুততার সঙ্গে উন্নতি হয় পাকেতার। ২৮ বছর বয়সী মিডফিল্ডারের ফেরাটা অনিশ্চিত হলেও স্কোয়াড থেকে তাকে বাদ দিবে না ব্রাজিল। এমনটা জানিয়েছে ও গ্লোবো। তবে আগামী রবিবার শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে যে খেলতে পারবেন না তা নিশ্চিত করেছে সংবাদ মাধ্যমটি।

পাকেতার আগে চোটের কারণে বর্তমানে মাঠের বাইরে আছেন রাফিনিয়া। তারও আগে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হয়েছে একের পর এক চোটের দুঃসংবাদে। চোটের কারণেই রদ্রিগো, এস্তেভাও ও এদের মিলিতাওয়ের মতো তারকাদের বিশ্বকাপে পায়নি ব্রাজিল।

নরওয়ে ২ ব্রাজিল ০

ক্রীড়া ডেস্ক
নরওয়ে ২ ব্রাজিল ০
শেষ ষোলোর লড়াইটা শুধু ব্রাজিল-নরওয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না, ভিনি-হালান্ডের মধ্যেকারও হবে। ছবি : রয়টার্স

কি শিরোনাম দেখে একটু অবাক হচ্ছেন? শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্রাজিল-নরওয়ে মুখোমুখি না হতেই কিভাবে জিতে গেল এটাই ভাবছেন তো। আপনারা আসলে ঠিকই ধরেছেন। নকআউটের ম্যাচটি এখনো হয়নি।

হবে আগামী ৬ জুলাই, রাত ২টায়। কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট পাওয়ার লক্ষ্যে সেদিন নিউ ইয়র্ক/নিউ জার্সিতে মাঠে লড়বে ব্রাজিল-নরওয়ে। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর সেদিনই জানা যাবে কারা জিতবে।

তবে তার আগে চলেন শিরোনামের জট খোলা যাক। নরওয়ের নামের পাশে ২ হচ্ছে ব্রাজিলের বিপক্ষে তাদের জয়। এখন পর্যন্ত ৪ বার দেখা হয়েছে দুদলের। আর্লিং হালান্ডের ২ জয়ের বিপরীতে বাকি দুটি ড্র হয়েছে। ব্রাজিল জয় না পাওয়ায় তাই তাদের নামের পাশে শূন্যে বসেছে।

দুই দলের প্রথম সাক্ষাৎ ১৯৮৮ সালে। প্রথম প্রীতি ম্যাচ ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয়। তবে ১৯৯৭ সালে দ্বিতীয় প্রীতিম্যাচে বড় ব্যবধানের জয় পায় নরওয়ে। ৪-২ গোলে সেলেসাওদের হারায় তারা।

বিশ্বকাপে প্রথম দেখা হয় ১৯৯৮ সালে। সেবার ব্রাজিল প্রথমে লিড নেওয়ার পরেও দুর্দান্ত কামব্যাকে ২-১ ব্যবধানের জয় পায় নরওয়ে। সর্বশেষ ২০০৬ সালে মুখোমুখি হয়েছে তারা। শেষ প্রীতিম্যাচ ড্র হয়েছে ১-১ গোলে। এবার হারের ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার পালা ব্রাজিলের। ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে দেখায় শুধু প্রতিশোধই নয়, হেক্সার স্বপ্নও জিইয়ে রাখার সময় ৫ বারের বিশ্বকাপ জয়ীদের। নেইমার-ভিনিসিয়ুসদের সেই সুযোগ দেবেন কি আর্লিং হালান্ড-মার্টিন ওডেগার্ডরা।

ইকুয়েডরকে হারিয়ে ৮ বছর পর শেষ ষোলোয় মেক্সিকো

ক্রীড়া ডেস্ক
ইকুয়েডরকে হারিয়ে ৮ বছর পর শেষ ষোলোয় মেক্সিকো
মেক্সিকোর দ্বিতীয় গোলের সময় তাদের ফুটবলারদের উদযাপন। ছবি : রয়টার্স

ঘরের দর্শকদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য যা দরকার তা প্রথমার্ধেই পেয়ে যায় মেক্সিকো। সেটিও একটি নয়, দুটি। তাই দ্বিতীয়ার্ধে আর কোনো গোল না হলেও ঠিকই জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে স্বাগতিক মেক্সিকো।

ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে ৮ বছর পর শেষ ষোলোতেও জায়গা করে নিয়েছে তারা। সর্বশেষ ২০১৮ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোয় খেলেছিল তারা। 

মেক্সিকো সিটিতে ম্যাচের শুরুতে ঘরের দর্শক-সমর্থকদের আনন্দে ভাসানোর সুযোগ পেয়েছিলেন রাউল হিমেনেজ। তবে ষষ্ঠ মিনিটে ফ্রি হেডার হয়েও গোলরক্ষককে একদম সামনাসামনি পেয়েও সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি মেক্সিকোর অভিজ্ঞ এই স্ট্রাইকার।

পরে অবশ্য প্রায়শ্চিত্ত করেছেন হিমেনেজ। ৩১ মিনিটে গোল করে ঘরের সমর্থকদের উল্লাসে মাতান তিনি। ১০ গজ থেকে করা ৩৫ বছর বয়সী স্ট্রাইকারের গোলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় মেক্সিকো।

কেননা তার আগেই মেক্সিকো লিড এনে দেন হুলিয়ান কিনিয়োনেস। ২২ মিনিটে প্রথম গোলটি করেন ২৯ বছর বয়সী উইঙ্গার। এর আগে বেশ কটি সুযোগ পেয়েও জালের দেখা পায়নি স্বাগতিকরা। 

বিপরীতে ১৮ মিনিটে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল ইকুয়েডর। তবে মন্দ ভাগ্য তাদের। জন ইয়েবোয়ার শট বারে লেগে ফিরে আসে। ৪০ মিনিটে আরেকটি সুযোগ পায় পান তিন। কিন্তু এবার বাধা হয়ে দাঁড়ান মেক্সিকোর গোলরক্ষক রাউল রানহেল। বক্সের মধ্যে থেকে নেওয়ার তার শটটি দারুণ ক্ষিপ্রতায় সেভ করেন মেক্সিকোর গোলরক্ষক। পরে তাই হতাশা নিয়েই ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ইকুয়েডর।

বিরতির পর ইকুয়েডর ম্যাচে ফিরতে তো পারেননি উল্টো ৬৭ মিনিটে তৃতীয় গোল হজম করার প্রায় দ্বারপ্রান্তে ছিল। তবে সেজার মন্তেসের শট অবিশ্বাসভাবে এক হাতে সেভ দেন ইকুয়েডরের গোলরক্ষক এরনান গালিন্দেজ। ৯০ মিনিটে মেক্সিকোর দুই খেলোয়াড় প্রতিপক্ষের বক্সের কাছাকাছি নিজেদের মধ্যে পাস দেওয়ার ক্ষেত্রে তালগোল না পাকালে ঠিকই তৃতীয় গোল পেত তারা। পরে আর কোনো গোল না হলে ২-০ ব্যবধানের জয় পায় মেক্সিকো।

অন্যদিকে আবার বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে ‘ভিনি আইনে’ যোগ করা সময়ে লাল কার্ড দেখেন পিয়েরো হিনকাপিয়ে। হাত দিয়ে মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়কে কিছু বলায় ভিএআর দেখে তাকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এই নিয়মে লাল কার্ড দেখেন প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার মিগুয়েল আলমিরন।

রোনালদোর রেকর্ড ভেঙে মেসির ঘাড়ে নিঃশ্বাস এমবাপ্পের

ক্রীড়া ডেস্ক
রোনালদোর রেকর্ড ভেঙে মেসির ঘাড়ে নিঃশ্বাস এমবাপ্পের
দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বিশ্বকাপে উড়ছেন এমবাপ্পে। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক পেয়েই গিয়েছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, ২০ মিনিটে করা প্রথম গোলটি যদি অফসাইডের কারণে বাতিল না হতো। তবে জোড়া গোলও কম কিসের। রিয়াল মাদ্রিদের স্ট্রাইকারের জোড়া এবং ব্র্যাডলি বারকোলার এক গোলে সুইডেনকে উড়িয়ে দিয়েছে ফ্রান্স।

ফ্রান্স শেষ ষোলোর টিকিট এনে দেওয়ার পথে জোড়া গোলে রেকর্ডও গড়েছেন এমবাপ্পে। নিউ ইয়র্ক/নিউ জার্সিতে ৪৫ মিনিটে প্রথম গোলটি করে রেকর্ড ভেঙেছেন দুই ব্রাজিলিয়ান রোনালদো নাজারিও ও লিওনিদাসের। নক আউটে এতদিন দুজনের সঙ্গে ৯ গোল নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন ফ্রান্সের অধিনায়ক। আজ প্রথম গোলে তাদের ছাড়িয়ে যান।

 

৭৪ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করে সংখ্যাটা ১০-এ উত্তীর্ণ করেন এমবাপ্পে। সামনে আরো বাড়ানোর সুযোগ থাকছে। 

অন্যদিকে সবমিলিয় বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোল সংখ্যা এখন ১৮। তাতে লিওনেল মেসির ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলেছেন ২৭ বছর বয়সী স্ট্রাইকার। ১৯ গোলে বর্তমানে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের মালিক আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।

 

সবমিলিয়ে না পারলেও এবারের বিশ্বকাপের গোল সংখ্যায় ঠিকই মেসিকে ছুঁয়েছেন এমবাপ্পে। বর্তমানে দুজনের গোল ৬। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তাদের পরেই আছেন ৫ গোলের মালিক আর্লিং হালান্ড। ৪টি করে গোল করেছেন উসমান দেম্বেলে ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।