• ই-পেপার

শাশুড়ি হত্যা মামলায় জামিন করিয়েছিল স্ত্রী, এবার তাকেই হত্যা করল স্বামী

ড্রেনে রক্তাক্ত কুকুর, ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ড্রেনে রক্তাক্ত কুকুর,  ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
সংগৃহীত ছবি

বগুড়া শহরের কানছগাড়ী এলাকায় ড্রেনে একটি কুকুর রক্তাক্ত হয়ে আহত অবস্থায় পড়ে থাকার বিষয়টি নজরে আসার পর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সোমবার রাতে এ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বগুড়া জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মির্জা সায়েম মাহমুদ।

এ ঘটনায় এনিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (বাওয়া) বগুড়া শাখার আহ্বায়ক সদস্য মো. এমরান হোসেন বাদী হয়ে মামলায় অভিযুক্ত মো. স্বপনকে গতকাল রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার স্বপন কানছগাড়ী পুকুরপাড় এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি পেশায় একজন ফার্নিচার ব্যবসায়ী।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গতকাল সোমবার দুপুরে মোবাইল ফোনে খবর পেয়ে এমরান হোসেন কানছগাড়ী এলাকার ইন্ডিপেন্ডেন্ট হাসপাতালের পশ্চিম পাশের একটি গলিতে যান। সেখানে একটি সাদা-কালো রঙের পথকুকুরকে ধারালো কোনো কিছুর আঘাতে গুরুতর জখম অবস্থায় ড্রেনে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে স্থানীয় দুই ব্যক্তি এস এম সাদিকুল ইসলাম ও রাফিদ ইয়াসাদের সহযোগিতায় কুকুরটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য জলেশ্বরীতলার একটি পশু চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে বাদী মো. এমরান হোসেন জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তাদের খবর দিলে উপজেলা ও জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের একটি সমন্বিত চিকিৎসকদল কুকুরটির চিকিৎসা দেয়। 

মো. এমরান হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা দেখতে পাই দা, বঁটি বা ধারালো কিছু দিয়ে কুকুরটির পিঠে আঘাত করা হয়েছে। এতে ক্ষতটি প্রায় মেরুদণ্ডর কাছ পর্যন্ত চলে গিয়েছে।

বগুড়া জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মির্জা সায়েম মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কুকুরটির করুণ অবস্থা প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার পর তিনি গত রাত ১০টার দিকে আমাকে ফোন করেন। একই সঙ্গে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। আমরা একজনকে রাতেই গ্রেপ্তার করেছি।’

গফরগাঁওয়ে পুকুরে গোসলে নেমে নিখোঁজ স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
গফরগাঁওয়ে পুকুরে গোসলে নেমে নিখোঁজ স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহের গফরগাঁও পৌর শহরে মসজিদের পুকুরে গোসল করতে নেমে নিখোঁজের পরের দিন মো. তামিম মিয়া (১১) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে পৌর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শিলাসী নিশাই সরকার পুকুরে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত মো. তামিম আট নম্বর ওয়ার্ড শিলাসী মহিলা কলেজ এলাকার কুয়েতপ্রবাসী মো. রনি মিয়ার একমাত্র ছেলে ও গফরগাঁও ইসলামিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। 

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত তামিম সোমবার দুপুর ১টার দিকে মায়ের কাছ থেকে ১০ টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে সহপাঠী অন্য শিশুদের সঙ্গে নিশাই সরকার মসজিদের পুকুরে গোসল করতে নামে। পরে অন্য শিশুরা বাড়ি ফিরে গেলেও তামিম বাড়ি যায়নি। পরে স্বজনরা পুকুর পাড়ে এসে তামিমের জুতো জোড়া পড়ে থাকতে দেখে কান্নাকাটি শুরু করেন এবং পুকুরে খোঁজতে থাকেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল ও জাল দিয়ে খুঁজেও সন্ধান না পেয়ে রাত হয়ে যাওয়ায় চলে যায়। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে পুকুরঘাটের সামনে তামিমের মরদেহ ভেসে ওঠে। পরে স্বজনরা মরদেহ উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে যান।

নিহত তামিমের মা শিল্পী আক্তার সন্তানের জুতো জোড়া বুকে চেপে বিলাপ করে বলেন, ‘বাজান ১০টা টেহা লইয়া যাওয়ার সময় কইছে মা তুমি গোস্ত পোলাও রান্ধ আমি গোসল কইরা আইয়া খাইবাম। আল্লাহ্গো অহন কেডায় গোস্ত পোলাও খাইব? কেডায় আমারে মা ডাকব?’

গফরগাঁও থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান সেখ বলেন, ‘খবর পেয়ে অফিসার পাঠিয়েছি। বিষয়টি মানবিক বিবেচনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মৎস্যজীবীদের মাঝে আর্থিক সহায়তা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মৎস্যজীবীদের মাঝে আর্থিক সহায়তা
সংগৃহীত ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের উদ্যোগে দুর্যোগে সাময়িক কর্মহীন অসহায় ১৬ জন মৎস্যজীবীকে তিন হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সোমবার বিকেলে জেলা পরিষদের উদ্যোগে শিমরাইলকান্দি দাসপাড়ার মৎস্যজীবীদের এ সহায়তা দেওয়া হয়। 

এ সময় মো. তাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় জেলা বিএনপির উপদেষ্টা আব্দুর রহিম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান শাহীন ও আশরাফুল আলম মাহফুজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, ‘নদীতে এখন কচুরিপানা। তাই জেলেরা মাছ ধরতে না পেরে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের কথা চিন্তা করে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে উপহার দিতে পেরে আমি আনন্দিত।’

কু‌ড়িগ্রা‌মে দুধকুমার নদের পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে

কম‌ছে অন্য নদ-নদীর পানি

আঞ্চ‌লিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
কু‌ড়িগ্রা‌মে দুধকুমার নদের পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে
ছবি: কালের কণ্ঠ

উজানের ঢল আর ভারি বৃষ্টিপাত কমে গিয়ে কুড়িগ্রামে সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। দুধকুমার নদের পানি সমতলে কমলেও এখনো বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দুধকুমার নদী অববাহিকার প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ৯টায় কু‌ড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, উজানের ঢল কমে গিয়ে জেলার সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর মধ্যে ধরলা নদীর পানি কুড়িগ্রাম পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার, চিলমারী পয়েন্টে ৫৭ সেন্টিমিটার এবং তিস্তা নদী কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

অন্যদিকে, দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধরলার কুড়িগ্রাম পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৬ দশমিক শূন‌্য ৫ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্রের নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৬ দশমিক শূন্য ৫ সেন্টিমিটার, চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৩ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার, তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৩১ সেন্টিমিটার ও দুধকুমার নদের পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার।

দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকডাঙ্গা, ছিট পাইকেরছড়া ও চর বলদিয়া এবং নাগেশ্বরী উপজেলার চরবিষ্ণুপুর, বালাবাড়ি, চর লুছনি ও ফান্দরচর, কালীগঞ্জ ইউনিয়নের ঢেবঢেবীর চর, কাঠগিরী, কৃষ্ণপুর এলাকার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে নিচু এলাকার ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, ‘দুধকুমার নদের পানি বেড়ে মিয়াপাড়া, মুড়িয়ারহাট এলাকায় বেড়িবাঁধ সড়ক ডুবে গিয়ে ওপর দিয়ে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। এ ছাড়াও দুধকুমার নদের পানি বেড়ে ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।’

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘গতকাল সোমবার বিকেল থেকে জেলার সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। দুধকুমার নদের পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নাগেশ্বরী উপজেলার মুড়িয়ারহাট এলাকায় ডুবে যাওয়া বেড়িবাঁধ এলাকায় আমরা জিও ব্যাগ ফেলে পানি প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে এনেছি।’

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, ‘জেলার পানিবন্দি মানুষের জন্য নগদ ২ লাখ টাকা এবং ১১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’