• ই-পেপার

হাদিসের বাণী

যেকারণে খাবারের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ বলা গুরুত্বপূর্ণ

ঘনঘন ভূমিকম্প হলে মুমিনের করণীয়

মুফতি ওমর বিন নাছির
ঘনঘন ভূমিকম্প হলে মুমিনের করণীয়
সংগৃহীত ছবি

পৃথিবী মহান আল্লাহ তাআলার সৃষ্টি। তিনি যখন ইচ্ছা করেন, তখন তাঁর অসীম ক্ষমতার নিদর্শন হিসেবে পৃথিবীকে কাঁপিয়ে দেন। ভূমিকম্প মানুষের জন্য শুধু একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়; বরং এটি আল্লাহর শক্তি, ক্ষমতা ও মহিমার এক জাগ্রত স্মারক। আধুনিক বিজ্ঞান ভূমিকম্পের ভৌত কারণ ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হলেও, একজন মুমিন জানেন—সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ একমাত্র আল্লাহর হাতে। তাই ঘনঘন ভূমিকম্পের মতো ঘটনা মানুষকে নিজের অসহায়ত্ব উপলব্ধি করতে, গুনাহ থেকে ফিরে আসতে এবং পরকালের কথা স্মরণ করতে উদ্বুদ্ধ করে।

আজ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বারবার ভূমিকম্প আঘাত হানছে। অসংখ্য প্রাণহানি, ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। মানুষের অসহায় আর্তনাদ আকাশ-বাতাশ ভারি হয়ে উঠছে।  আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি নিদর্শনসমূহ পাঠাই শুধু মানুষকে সতর্ক করার জন্য।’(সুরা : ইসরা, আয়াত : ৫৯)

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, পৃথিবীতে সংঘটিত বিভিন্ন ভয়াবহ ঘটনা মানুষের জন্য সতর্কবার্তা। এগুলোর মাধ্যমে আল্লাহ মানুষকে তাঁর দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানান। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘যারা মন্দ ষড়যন্ত্র করে, তারা কি এ ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে যে, আল্লাহ তাদের ভূগর্ভে ধসিয়ে দেবেন না?’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৪৫)

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, ‘তোমরা কি আসমানে অধিষ্ঠিত সত্তা (আল্লাহ) সম্পর্কে নিশ্চিন্ত হয়ে গেছ যে, তিনি তোমাদের ভূমিতে ধসিয়ে দেবেন না? তখন তা হঠাৎ প্রবলভাবে কাঁপতে থাকবে।’ (সুরা : মুলক, আয়াত : ১৬)
এই আয়াতগুলো মানুষকে অহংকার ও গাফিলতি থেকে সতর্ক করে।

১. তাওবা ও ইস্তিগফার করা
ভূমিকম্পের মতো বিপদের সময় সর্বপ্রথম করণীয় হলো আন্তরিক তাওবা করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তাওবা কর, যাতে তোমরা সফল হতে পার।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৩১)

২. বেশি বেশি দোয়া করা
বিপদের সময় দোয়াই হলো মুমিনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ (সুরা : গাফির, আয়াত : ৬০)

৩. নামাজের প্রতি যত্নশীল হওয়া
যে কোনো ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আল্লাহর সাহায্য লাভের অন্যতম উপায় হলো সালাত। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৪৫)

৪. গুনাহ ও অন্যায় থেকে বিরত থাকা
সমাজে যখন পাপাচার বেড়ে যায়, তখন আল্লাহর শাস্তি নেমে আসার আশঙ্কা বাড়ে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘স্থলে ও সমুদ্রে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে মানুষের কৃতকর্মের কারণে।’ (সুরা : রূম, আয়াত : ৪১)

৫. ধৈর্য ধারণ করা
বিপদে ধৈর্যশীল হওয়া ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়। আল্লাহ বলেন, ‘আর আপনি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৫৫)

৬. বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাহায্যে এগিয়ে যাওয়া ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সাহায্যে থাকে, আল্লাহ ততক্ষণ তার সাহায্যে থাকেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৯৯)

৭. পরকালের কথা স্মরণ করা
ভূমিকম্প কিয়ামতের ভয়াবহ দিনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আল্লাহ বলেন, ‘যখন পৃথিবী তার প্রচণ্ড কম্পনে কেঁপে উঠবে।’ (সুরা : জিলজাল, আয়াত : ১)

ইসলাম শুধু দোয়া ও তাওয়ার ওপর সীমাবদ্ধ নয়; বরং যথাযথ উপায় অবলম্বনেরও নির্দেশ দেয়। তাই ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় নিরাপদ ভবন নির্মাণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার নির্দেশনা মেনে চলা, জরুরি প্রস্তুতি রাখা, আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুসরণ করাও একজন মুমিনের দায়িত্ব। কারণ ইসলাম তাওয়াক্কুলের পাশাপাশি বৈধ উপায় গ্রহণেরও শিক্ষা দেয়।

ঘনঘন ভূমিকম্প আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মানুষের শক্তি, সম্পদ ও প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক না কেন, আল্লাহর একটিমাত্র নির্দেশেই পৃথিবী কেঁপে উঠতে পারে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তাঁর নিদর্শন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করার, ঈমান ও তাকওয়ার সঙ্গে জীবন পরিচালনা করার এবং সকল প্রকার বিপদ-আপদ থেকে হেফাজত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

অহেতুক পেরেশানি থেকে মুক্তির দোয়া

মুফতি ওমর বিন নাছির
অহেতুক পেরেশানি থেকে মুক্তির দোয়া
সংগৃহীত ছবি

মানুষের জীবনে দুশ্চিন্তা, পেরেশানি ও মানসিক অস্থিরতা নতুন কোনো বিষয় নয়। কখনো ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা, কখনো জীবিকার সংকট, কখনো পারিবারিক জটিলতা, আবার কখনো অকারণ ভয় ও উদ্বেগ মানুষের হৃদয়কে ভারাক্রান্ত করে তোলে। তবে একজন মুমিন জানেন, জীবনের প্রতিটি অবস্থা আল্লাহর ইচ্ছার অধীন এবং তাঁরই স্মরণে অন্তর প্রশান্তি লাভ করে। তাই ইসলাম মানুষকে শুধু সমস্যার কথা বলেই থেমে যায়নি; বরং প্রতিটি দুশ্চিন্তা ও পেরেশানির মুহূর্তে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার সুন্দর দোয়াও শিক্ষা দিয়েছে। তীব্র পেরেশানির সময় আল্লাহর রাসুল (সা.) এই দোয়া বেশি বেশি পাঠ করতেন। 

لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ السَّمَوَاتِ، وَرَبُّ الْأَرْضِ، وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ

উচ্চারণ : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল আজিমুল হালিম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুল আরশিল আজিম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুস সামাওয়াতি ওয়া রাব্বুল আরদ্বি ওয়া রাব্বুল আরশিল কারিম।

অর্থ : আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই; যিনি সুমহান, সহিষ্ণু। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই; যিনি সুবৃহৎ আরশের প্রতিপালক। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য আরাধ্য নেই; যিনি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও সম্মানিত আরশের অধিপতি। (সহিহ্ বুখারি : হাদিস নং : ৬৩৪৬)

ইসলামে উন্নত জীবনযাপনে প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা
ইসলামে উন্নত জীবনযাপনে প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়
সংগৃহীত ছবি

ইসলাম অলসতা বা অন্যের ওপর নির্ভরশীলতাকে সমর্থন করে না; বরং ইসলামের দৃষ্টিতে হালাল উপায়ে উপার্জনের লক্ষ্যে প্রয়োজনে কঠোর পরিশ্রমের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কারণ চেষ্টা ও পরিশ্রম ছাড়া কোনো কিছু পাওয়ার স্বপ্ন দেখা অবান্তর। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর মানুষ যা চেষ্টা করে, তাই সে পায়।’ (সুরা : নাজম, আয়াত :৩৯)

তাই দুনিয়ায় হালাল উপার্জন করার জন্য কোরআন-হাদিসের নির্দেশিত পদ্ধতিতে চেষ্টা করার গুরুত্বও অপরীসীম। পবিত্র কোরআনের অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘অতঃপর যখন সালাত সমাপ্ত হবে তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো, আল্লাহর অনুগ্রহ (জীবিকা) অনুসন্ধান করো এবং বেশি বেশি আল্লাহ স্মরণ করতে থাকো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’ (সুরা : জুমা, আয়াত : ১০)

আয়াতদ্বয় প্রমাণ করে যে ইবাদতের পাশাপাশি বৈধ উপার্জনের জন্য চেষ্টা করাও একজন মুমিনের দায়িত্ব।

ইসলামের দৃষ্টিতে হালাল উপার্জনও এক ধরনের ইবাদত। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজ হাতে উপার্জনের গুরুত্ব অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি নিজ হাতে উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে উত্তম খাদ্য কখনো খায়নি। আল্লাহর নবী দাউদ (আ.) নিজ হাতে উপার্জন করে আহার করতেন।’ (বুখারি, হাদিস : ২০৭২)

যুবাইর ইবনে আওয়াম (রা.) সূত্রে মহানবী (সা.) থেকে বর্ণিত, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ রশি নিয়ে তার পিঠে কাঠের বোঝা বয়ে আনা এবং তা বিক্রি করা, ফলে আল্লাহ তার চেহারাকে (ভিক্ষা করার লাঞ্ছনা থেকে) রক্ষা করেন, তা মানুষের কাছে হাত পাতার চেয়ে উত্তম, চাই তারা দিক বা না দিক।’ (বুখারি, হাদিস : ১৪৭১)

অর্থাৎ কারো কাছে হাত পাতার চেয়ে কষ্ট করে উপার্জন করা অনেক বেশি সম্মানজনক।

সাহাবায়ে কেরামের জীবন ছিল এই শিক্ষার বাস্তব প্রতিচ্ছবি। আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) মদিনায় হিজরতের পর অতি সামান্য পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। ঘি ও পনিরের ছোট ব্যবসা থেকে তিনি ধীরে ধীরে মুসলিম উম্মাহর অন্যতম সফল ব্যবসায়ীতে পরিণত হন। তাঁর জীবন প্রমাণ করে সততা, ধৈর্য ও কঠোর পরিশ্রম মানুষকে সফলতার শিখরে পৌঁছে দিতে পারে। (সূত্র : আত-ত্বাবাকাতুল কুবরা : ৩/৯৩, আল-ইসাবাহ : ৪/২৯১)

খাব্বাব ইবনে আরাত্ত (রা.) ছিলেন একজন দক্ষ কামার। তলোয়ার তৈরির শিল্পের মাধ্যমে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। আবার আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) ইসলাম গ্রহণের আগে রাখাল হিসেবে কাজ করতেন। এতে বোঝা যায়, ইসলামে কোনো হালাল পেশাই ছোট নয়; বরং মর্যাদা নির্ভর করে উপার্জনের বৈধতা ও কর্মের সততার ওপর। (সূত্র : সাহাবায়ে কেরামের আলোকিত জীবন)

কখনো কখনো পরিশ্রম করে হালাল উপার্জন করতে গিয়েও অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতির শিকার হতে হবে, তবে এতে দমে যাওয়া চলবে না; বরং আল্লাহর ওপর ভরসা করে সব সমস্যা মোকাবেলা করে এগিয়ে যেতে হবে। যেমন—সাহাবি সাদ ইবনে আইজ আল-ক্বারাজ (রা.) প্রথম দিকে বিভিন্ন ব্যবসায় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। কিন্তু তিনি এতে হতাশ হয়ে কাজকর্ম ছেড়ে দেননি; বরং চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। পরবর্তী সময়ে নবীজি (সা.)-এর পরামর্শে ‘ক্বারাজ’ ব্যবসা শুরু করে সফলতা লাভ করেন। (তাহজিবুল কামাল : ১০/২৭৫)

এ ঘটনা আমাদের শেখায়, হালালভাবে চলতে গেলে কখনো কখনো পরীক্ষাস্বরূপ ব্যর্থতাও আসতে পারে, তবে এর মানে এই নয় যে জীবন সেখানেই থেমে যাবে; বরং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ধৈর্যসহ তা থেকে উত্তরণের চেষ্টা করলে মহান আল্লাহই রাস্তা খুলে দেবেন।

হালালভাবে পরিশ্রমের অর্থ এই নয় যে সবাই অন্য পেশা ছেড়ে ব্যবসা/কারিগারি পেশায় ঝাঁপিয়ে পড়বে। সাহাবায়ে কেরামের কর্মজীবন শুধু ব্যবসা বা কারিগরি পেশায় সীমাবদ্ধ ছিল না। উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) দক্ষ প্রশাসক হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন। (তারিখুল খুলাফা : ১/১০৬-১০৭) মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) বিচারক ও শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

(আত-ত্বাবাকাতুল কুবরা ৭/২৭১-২৭২) আর আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ (রা.) আমানতদার প্রশাসক ও শিক্ষক হিসেবে উম্মাহর সেবা করেছেন। (আল ইস্তিআব : ৪/১৭১০)
এসব উদাহরণ প্রমাণ করে সমাজের কল্যাণে নিবেদিত প্রতিটি হালাল পেশাই ইসলামে সম্মানিত।

বর্তমান সমাজে দ্রুত ধনী হওয়ার মোহে অনেকেই হারাম উপার্জনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। অনেকে এমনও ধারণা পোষণ করেন যে বর্তমান যুগে চলতে গেলে এত হালাল-হারাম মানা সম্ভব নয়! অথচ ইসলামের শিক্ষা হলো হালাল উপার্জনেই আল্লাহর রহমত ও বরকত নিহিত থাকে, যদিও তা পরিমাণে অল্প হয়। তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত দক্ষতা অর্জন করা, পরিশ্রমকে আপন করে নেওয়া এবং সততা ও আমানতদারিতার সঙ্গে হালাল জীবিকা অর্জন করা।

আজ পবিত্র কাবা শরিফ বার্ষিক ধৌতকরণ : সম্পন্ন হয়েছে সব প্রস্তুতি

ইসলামী জীবন ডেস্ক
আজ পবিত্র কাবা শরিফ বার্ষিক ধৌতকরণ : সম্পন্ন হয়েছে সব প্রস্তুতি
সংগৃহীত ছবি

আজ মুসলিম বিশ্বের সর্বাধিক পবিত্র স্থান পবিত্র কাবা শরিফ বার্ষিক ধৌতকরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নতুনভাবে সুশোভিত হবে। এ উপলক্ষে দুই পবিত্র মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক সাধারণ কর্তৃপক্ষ অনুষ্ঠানটির পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি ও কার্যক্রমের বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অত্যন্ত যত্ন, শৃঙ্খলা ও মর্যাদার সঙ্গে এই ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হবে, যা বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের হৃদয়ে কাবা শরিফের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীক।

প্রতিবছরের মতো এবারও কাবা শরিফ ধৌতকরণ কার্যক্রম সুপরিকল্পিত কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথমে প্রস্তুতি পর্বে সকল প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়। একই সঙ্গে ধৌতকরণ ও সুগন্ধিকরণের জন্য বিশেষ মিশ্রণ প্রস্তুত করা হয়। এ মিশ্রণে ব্যবহার করা হয় ১৫ লিটার পবিত্র জমজমের পানি, ১৫ লিটার তাইফের গোলাপ পানি, ১৫ লিটার গোলাপ তেল এবং ১০০ মিলিলিটার উৎকৃষ্ট মানের উদ (আগর) তেল। এ ছাড়া ধৌতকরণ চলাকালে কাবার গিলাফ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে দরজার আবরণের নিচের অংশ সতর্কতার সঙ্গে উপরে তুলে রাখা হয়।

এরপর শুরু হয় মূল ধৌতকরণ পর্ব। বিশেষভাবে প্রস্তুত করা কাপড়ের সাহায্যে জমজমের পানি ও তাইফের গোলাপ পানির মিশ্রণ দিয়ে কাবা শরিফের অভ্যন্তরের দেয়াল, স্তম্ভ এবং মেঝে ধুয়ে পরিষ্কার করা হয়। সবশেষে সুগন্ধিকরণ ও ধূপন পর্ব। এ সময় কাবা শরিফের ভেতরের দেয়াল ও কোণাগুলো উৎকৃষ্ট মানের উদ তেল ও আম্বর দিয়ে সুগন্ধিত করা হয়। পরে মনোমুগ্ধকর সুগন্ধি ও ধূপের সুবাসে কাবার অভ্যন্তর ভরে ওঠে। এই আধ্যাত্মিক পরিবেশ প্রতিবছর মুসলিম বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে নতুন আবেগ ও ভালোবাসার সঞ্চার করে।

দুই পবিত্র মসজিদের সাধারণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে ব্যবহৃত প্রতিটি উপকরণ ও সরঞ্জাম আগেভাগেই সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে প্রস্তুত করা হয়েছে। বিশুদ্ধতা, নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং সেবার সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করেই সম্পন্ন করা হবে কাবা শরিফ ধৌতকরণের এই আধ্যাত্মিক আয়োজন।