• ই-পেপার

‘আমি এখন আর সিঙ্গেল না’, বললেন নীহা

২০ কোটি টাকা না দিলে রোহিত শেঠিকে হত্যার হুমকি

বিনোদন ডেস্ক
২০ কোটি টাকা না দিলে রোহিত শেঠিকে হত্যার হুমকি
সংগৃহীত ছবি

বলিউডের জনপ্রিয় নির্মাতা রোহিত শেঠিকে আবারও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এবার তাঁর কাছে ২০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে একটি অডিও বার্তা পাঠানো হয়েছে। 

সেই বার্তায় স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে, নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ না করলে এবার সরাসরি তাঁকেই টার্গেট করা হবে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৯০ সেকেন্ডের ওই অডিও ক্লিপে দাবি করা হয়, কয়েক মাস আগে রোহিত শেঠির জুহুর বাড়ির বাইরে যে গুলির ঘটনা ঘটেছিল, সেটি ছিল কেবল সতর্কবার্তা। এবার টাকা না দিলে হামলার লক্ষ্য হবেন নির্মাতা নিজেই।

অডিও বার্তাটি পাওয়ার পর রোহিত শেঠির কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে সেটি মুম্বাই পুলিশের কাছে জমা দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, অডিওতে শোনা কণ্ঠটি লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও পলাতক অভিযুক্ত শুভম লোনকরের হতে পারে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে অডিও ক্লিপটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফল হাতে পাওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুভম লোনকরের নাম এর আগেও একাধিক আলোচিত মামলায় উঠে এসেছে। ২০২৪ সালে রাজনীতিক বাবা সিদ্দিকী হত্যাকাণ্ড এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে রোহিত শেঠির জুহুর বাড়ির বাইরে গুলিবর্ষণের ঘটনাতেও তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মোটরসাইকেলে এসে রোহিত শেঠির বাড়ির বাইরে গুলি চালায় এক হামলাকারী। পরে ওই হামলার দায় স্বীকার করে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং। তদন্তে দীপক শর্মাকে মূল শুটার হিসেবে শনাক্ত করা হয় এবং পরে উত্তর প্রদেশের আগ্রা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এরপর এপ্রিল মাসে মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চ এ ঘটনায় ১ হাজার ৬২৪ পৃষ্ঠার চার্জশিট আদালতে দাখিল করে। চার্জশিটে মোট ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। তাঁদের মধ্যে প্রবীণ লোনকর ও আরজু বিষ্ণোইকে পলাতক অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক এই হুমকির পর রোহিত শেঠির নিরাপত্তা আরো জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অডিও বার্তার উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে মুম্বাই পুলিশ।

সিনেমাহলে গোপনে ক্যামেরাবন্দি শ্রদ্ধা-রাহুল, ভাইরাল অন্তরঙ্গ মুহূর্ত

বিনোদন ডেস্ক
সিনেমাহলে গোপনে ক্যামেরাবন্দি শ্রদ্ধা-রাহুল, ভাইরাল অন্তরঙ্গ মুহূর্ত
সংগৃহীত ছবি

বলিউডে শ্রদ্ধা কাপুর ও রাহুল মোদির সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা নতুন নয়। যদিও দুজনের কেউই প্রকাশ্যে নিজেদের প্রেমের কথা স্বীকার করেননি, তবু বিভিন্ন সময় একসঙ্গে দেখা যাওয়ায় সেই গুঞ্জন আরো জোরালো হয়েছে। এবার সিনেমা দেখতে গিয়ে গোপনে ক্যামেরাবন্দি হলেন এই আলোচিত জুটি।

সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ দেখতে একটি প্রেক্ষাগৃহে পাশাপাশি বসেছিলেন শ্রদ্ধা কাপুর ও রাহুল মোদি। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সিনেমার মজার দৃশ্যে অন্য দর্শকদের মতোই প্রাণ খুলে হাসছেন দুজন। ভিডিওটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।

ধারণা করা হচ্ছে, প্রেক্ষাগৃহে উপস্থিত কোনো দর্শক গোপনে ভিডিওটি ধারণ করেছেন। সিনেমার দৃশ্যের পাশাপাশি শ্রদ্ধা ও রাহুলের স্বাভাবিক মুহূর্তও ধরা পড়ে সেই ভিডিওতে। 

এর আগে বিমানে একসঙ্গে থাকার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল। এবার সিনেমাহলের এই ভিডিও নতুন করে তাঁদের সম্পর্কের আলোচনা উসকে দিয়েছে।

বলিউড সূত্রের দাবি, ‘তু ঝুঠি ম্যায় মক্কার’ ছবিতে কাজ করার সময় থেকেই একে অপরের কাছাকাছি আসেন শ্রদ্ধা কাপুর ও রাহুল মোদি। এর পর থেকেই তাঁদের প্রেমের সম্পর্কের গুঞ্জন শুরু হয়।

সম্পর্ক নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়, যখন শ্রদ্ধা সামাজিক মাধ্যমে রাহুলের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখেন, ‘দিল রাখ লে, নিন্দ তো ওয়াপাস দে ইয়ার (আমার হৃদয় কেড়ে নাও, অন্তত আমার ঘুমটা ফিরিয়ে দাও)।’ সঙ্গে ছিল হাসিমুখ ও লাল হৃদয়ের ইমোজি। সেই পোস্টের পর থেকেই অনেকেই ধরে নেন, দুজনের সম্পর্ক বন্ধুত্বের গণ্ডি পেরিয়েছে।

২০২৪ সালের শুরুতে প্রথমবার মুম্বাইয়ের একটি রেস্তোরাঁ থেকে একসঙ্গে বের হওয়ার সময় পাপারাৎসিদের ক্যামেরায় ধরা পড়েন শ্রদ্ধা ও রাহুল। এরপর বিভিন্ন পার্টি, প্রিমিয়ার ও ব্যক্তিগত আয়োজনে তাঁদের একসঙ্গে দেখা গেছে একাধিকবার। যদিও এখনো পর্যন্ত সম্পর্ক নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি এই দুই তারকা।

সেই ‘চুমু কাণ্ড’ বিতর্কে মুখ খুললেন কঙ্গনা ও বীর

বিনোদন ডেস্ক
সেই ‘চুমু কাণ্ড’ বিতর্কে মুখ খুললেন কঙ্গনা ও বীর
সংগৃহীত ছবি

এক দশকেরও বেশি সময় পর আবারও আলোচনায় ফিরে এসেছে কঙ্গনা রানাউত ও বীর দাসকে ঘিরে পুরোনো ‘চুমু কাণ্ড’। ‘রিভলবার রানি’ সিনেমার শুটিং চলাকালে একটি ঘনিষ্ঠ দৃশ্য ধারণের সময় ‘কাট’ বলার পরও কঙ্গনা নাকি বীর দাসকে চুমু খেতে থাকেন, এমনকি তাঁর ঠোঁট কামড়ে রক্ত বের করে দেন—সম্প্রতি একটি পডকাস্টে ফের এমন দাবি ওঠে। তবে এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন দুই তারকাই।

২০১৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘রিভলবার রানি’ ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন কঙ্গনা ও বীর। যদিও বিতর্কটি প্রথম সামনে আসে ২০২৩ সালে, যখন এক প্রবীণ সাংবাদিক বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। সে সময় কঙ্গনা ব্যঙ্গ করে লিখেছিলেন, ‘হৃত্বিক রোশনের পর আমি নাকি বেচারা বীর দাসেরও ইজ্জত লুটে নিয়েছি! এটা আবার কবে হলো?’

সম্প্রতি একই অভিযোগ নতুন করে সামনে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন অভিনেতা ও কমেডিয়ান বীর দাস। তিনি লেখেন, ‘সকলে জেনে রাখুন, এই গল্পটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। কঙ্গনা শুটিং সেটে অত্যন্ত পেশাদার ছিলেন এবং আমি এখনও মনে করি তিনি একজন অসাধারণ প্রতিভাবান শিল্পী। তাঁর বিরুদ্ধে এধরনের অপপ্রচার অন্যায়। আমার কমেডির কনটেন্টের জন্য ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলেছিলেন, কিন্তু শুটিংয়ের সময় আমাদের মধ্যে কোনও সমস্যা ছিল না।’

বীরের এই বক্তব্যের জবাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কঙ্গনাও এক্সে লেখেন, ‘ধন্যবাদ বীর। কিন্তু উনি কে? মনে হচ্ছে কোনও অদ্ভুত মানুষ আমাদের নাম ব্যবহার করে নিজের বিকৃত কল্পনাকে তৃপ্ত করছে। আমি নাকি তোমার রক্ত খাচ্ছি আর তুমি এক দশক পরও সেই ট্রমায় কাঁদছ! কী আজগুবি ব্যাপার!’

দুই তারকাই যখন একসুরে অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন, তখন বিষয়টি প্রথম উত্থাপনকারী সাংবাদিকের পক্ষ থেকে আর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে কাজের ক্ষেত্রে সম্প্রতি ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’ ছবিতে দেখা গেছে কঙ্গনা রানাউতকে। ১২ জুন মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি দর্শকদের মধ্যে তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি।
 

বাংলাদেশের ‘দেলুপি’ নিয়ে বলিউডের অনুরাগ কাশ্যপের প্রশংসা

বিনোদন প্রতিবেদক
বাংলাদেশের ‘দেলুপি’ নিয়ে বলিউডের অনুরাগ কাশ্যপের প্রশংসা
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের স্বাধীনধারার চলচ্চিত্র ‘দেলুপি’ এবার প্রশংসা কুড়াল বলিউডের খ্যাতিমান নির্মাতা অনুরাগ কাশ্যপের কাছ থেকে। গত বছর দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হওয়া সিনেমাটি দেখে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন তিনি।

রবিবার (২৮ জুন) নির্মাতা মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সিনেমা-ভিত্তিক রিভিউ প্ল্যাটফর্ম ‘লেটারবক্স’-এ অনুরাগ কাশ্যপের দেওয়া মন্তব্যের একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করেন। 

সেই পোস্টে তাওকীর লেখেন, “অনুরাগ কাশ্যপ ‘দেলুপি’ দেখে নিজের ভাবনা জানিয়েছেন। আমার অনুভূতি প্রকাশ করতে পারছি না।”

‘লেটারবক্স’-এ ‘দেলুপি’ নিয়ে অনুরাগ কাশ্যপ লিখেছেন, “ক্ষমতার রাজনীতি যে কত ক্ষুদ্র স্তরেও কাজ করে, সেটাই দেখা যায় ‘দেলুপি’ গ্রামের গল্পে। শাসনব্যবস্থা বদলের পর বন্যায় দেশের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ছোট্ট এই গ্রাম। গল্পটা এতটাই মানবিক যে মনে হয় যেন আমাদের নিজেরই পাশের গ্রামের কথা দেখছি। ভীষণ ভালো লেগেছে।” সঙ্গে তিনি জুড়ে দিয়েছেন ভালোবাসার ইমোজি।

২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া ‘দেলুপি’ নির্মিত হয়েছে খুলনার দক্ষিণাঞ্চলের বাস্তব জীবনকে কেন্দ্র করে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, নদীভাঙন, স্থানীয় রাজনীতির ওপর জাতীয় রাজনীতির প্রভাব এবং প্রান্তিক মানুষের প্রতিদিনের সংগ্রাম—এসব বিষয় উঠে এসেছে সিনেমার গল্পে।

চলচ্চিত্রের কাহিনিতে দেখা যায়, গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশের সরকারপ্রধান ক্ষমতা ছেড়ে দেশ ত্যাগ করেন। সেই রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই ভয়াবহ বন্যায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে একটি গ্রাম। ঘরবাড়ি, জীবিকা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে মানুষ। এই সংকটের ভেতর যাত্রাশিল্পী পরিবারের ছেলে পার্থ, চরিত্রে চিরঞ্জিৎ বিশ্বাস, ধীরে ধীরে নিজের পরিবারকে ভেঙে পড়তে দেখেন। এমন কঠিন সময়েই পাশের গ্রামের নূপুর, চরিত্রে অদিতি রায়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক জীবনে আশার আলো হয়ে ওঠে। বাস্তবতার নির্মমতার মাঝেও এই প্রেমের গল্প সিনেমাটিকে দিয়েছে এক মানবিক আবহ।

দেশে মুক্তির পর দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সাড়া ফেলে ‘দেলুপি’। পরবর্তীতে চলচ্চিত্রটি স্থান পায় রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রদর্শনী তালিকায়, যা বাংলাদেশের স্বাধীনধারার সিনেমার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।