• ই-পেপার

ড্রেনে পড়ে ছিল রক্তাক্ত কুকুর, নির্যাতনের অভিযোগে থানায় মামলা

শাশুড়ি হত্যা মামলায় জামিন করিয়েছিল স্ত্রী, এবার তাকেই হত্যা করল স্বামী

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
শাশুড়ি হত্যা মামলায় জামিন করিয়েছিল স্ত্রী, এবার তাকেই হত্যা করল স্বামী
সংগৃহীত ছবি

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে স্ত্রী দুলালি বেগমকে (৫৫) ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে স্বামী বিরাজ মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার পর পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। গতকাল সোমবার বিকেলে উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের গোশাইপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার।

নিহত দুলালি বেগম উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের চক সিংহডাঙ্গা গ্রামের দুলু মিয়ার মেয়ে।

আটক বিরাজ কাটাবাড়ী ইউনিয়নের সদর কলোনি গ্রামের ফয়েজ উদ্দীনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ১৯ বছর আগে শাশুড়ি হত্যার অভিযোগও রয়েছে। তার স্ত্রী দুলালী বেগমই ওই মামলায় কারাগার থেকে জামিন করিয়েছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, সোমবার বিকেলে সাংসারিক তুচ্ছ বিষয় নিয়ে দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রী দুলালির বুকে ছুরিকাঘাত করে রিয়াজ। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। এরপর পাটক্ষেতে আত্মগোপন করে রিয়াজ। সন্ধ্যার পরে এলাকাবাসী তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত স্বামী বিরাজকে আটক করা হয়েছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন।’  


 

কু‌ড়িগ্রা‌মে দুধকুমার নদের পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে

কম‌ছে অন্য নদ-নদীর পানি

আঞ্চ‌লিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
কু‌ড়িগ্রা‌মে দুধকুমার নদের পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে
ছবি: কালের কণ্ঠ

উজানের ঢল আর ভারি বৃষ্টিপাত কমে গিয়ে কুড়িগ্রামে সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। দুধকুমার নদের পানি সমতলে কমলেও এখনো বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দুধকুমার নদী অববাহিকার প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ৯টায় কু‌ড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, উজানের ঢল কমে গিয়ে জেলার সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর মধ্যে ধরলা নদীর পানি কুড়িগ্রাম পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার, চিলমারী পয়েন্টে ৫৭ সেন্টিমিটার এবং তিস্তা নদী কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

অন্যদিকে, দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধরলার কুড়িগ্রাম পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৬ দশমিক শূন‌্য ৫ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্রের নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৬ দশমিক শূন্য ৫ সেন্টিমিটার, চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৩ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার, তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৩১ সেন্টিমিটার ও দুধকুমার নদের পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার।

দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকডাঙ্গা, ছিট পাইকেরছড়া ও চর বলদিয়া এবং নাগেশ্বরী উপজেলার চরবিষ্ণুপুর, বালাবাড়ি, চর লুছনি ও ফান্দরচর, কালীগঞ্জ ইউনিয়নের ঢেবঢেবীর চর, কাঠগিরী, কৃষ্ণপুর এলাকার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে নিচু এলাকার ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, ‘দুধকুমার নদের পানি বেড়ে মিয়াপাড়া, মুড়িয়ারহাট এলাকায় বেড়িবাঁধ সড়ক ডুবে গিয়ে ওপর দিয়ে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। এ ছাড়াও দুধকুমার নদের পানি বেড়ে ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।’

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘গতকাল সোমবার বিকেল থেকে জেলার সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। দুধকুমার নদের পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নাগেশ্বরী উপজেলার মুড়িয়ারহাট এলাকায় ডুবে যাওয়া বেড়িবাঁধ এলাকায় আমরা জিও ব্যাগ ফেলে পানি প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে এনেছি।’

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, ‘জেলার পানিবন্দি মানুষের জন্য নগদ ২ লাখ টাকা এবং ১১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’

কান্নার শব্দে মিলল শিশুর অবস্থান, ময়লার স্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
কান্নার শব্দে মিলল শিশুর অবস্থান, ময়লার স্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার
প্রতীকী ছবি

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ময়লার স্তূপ থেকে জীবিত অবস্থায় এক নবজাতককে উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) রাতে খবর পেয়ে হাসপাতালের নার্সরা ওই নবজাতককে উদ্ধার করে।

জানা গেছে, সোমবার রাত ১টার দিকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে ভেসে আসা শিশুর কান্নার শব্দ শুনে স্থানীয় আয়া বিষয়টি কর্তব্যরত নার্সদের জানান। পরে নার্সরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পরপরই নবজাতকটিকে হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে জরুরি চিকিৎসাসেবা দিতে শুরু করেন চিকিৎসকরা।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. নুসরাত ফারজানা খান জানান, শিশুটি বর্তমানে জীবিত আছে। তার অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এদিকে নবজাতক উদ্ধারের খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতালে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে হাফসা নাদিয়া। তিনি জানান, একজন মা হিসেবে এমন সংবাদ শুনে তিনি মানসিকভাবে স্থির থাকতে পারেননি। শিশুটির সর্বোচ্চ সুরক্ষা এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে এমন নির্মম ঘটনার নেপথ্যে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে প্রশাসনিক তদন্ত শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

উখিয়ায় ৬০ হাজার ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক
উখিয়ায় ৬০ হাজার ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক

কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে জেলের ছদ্মবেশে ইয়াবা পাচারের সময় ৬০ হাজার ইয়াবাসহ মাদককারবারি রাশেদুলকে (২৫) আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকাল (২৯ জুন) বিকেলে অভিযানটি পরিচালনা করে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর বালুখালী বিওপি-এর একটি বিশেষ টহলদল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ নলবনিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ধাওয়া করে আটক করা হয়।

‘আনুমানিক বিকেল সাড়ে ৪টার পর মায়ানমার থেকে জেলের ছদ্মবেশে এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরের দিকে আসতে দেখে বিজিবি টহলদলের সন্দেহ হয়। বিজিবি সদস্যরা তাকে চ্যালেঞ্জ করলে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ধাওয়া করে তাকে আটক করা হয়। তল্লাশির সময় আটক ব্যক্তির কোমরে বাঁধা অবস্থায় এবং হাতে থাকা মাছের টুকরির ভেতর বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা খাকি রঙের প্যাকেট থেকে নীল রঙের বায়ুরোধী ৬টি কার্টনে সংরক্ষিত মোট ৬০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।’

আটক রাশেদুল উখিয়ার বালুখালী নলবুনিয়া গ্রামের মাহাবুব আলমের ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি স্বীকার করেছেন, তিনি মায়ানমার সীমান্ত থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে অধিক মূল্যে বিক্রির উদ্দেশে বাংলাদেশে নিয়ে আসছিলেন।

তিনি আরো জানান, নিজে এবং তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে মাছ ধরার জাল ও মাছের টুকরির মধ্যে ইয়াবা লুকিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে পাচার করে আসছিলেন। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান।

উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, মাদক সরবরাহকারী চক্র এবং তাদের সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি আরো জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।