• ই-পেপার

দামুড়হুদায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ২

দামুড়হুদার বিষ্ণুপুর ব্রিজের প্রবেশমুখে সড়ক ধস, ভেঙে পড়ার শঙ্কা

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
দামুড়হুদার বিষ্ণুপুর ব্রিজের প্রবেশমুখে সড়ক ধস, ভেঙে পড়ার শঙ্কা
ছবি : কালের কণ্ঠ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার বিষ্ণুপুর ব্রিজের প্রবেশমুখে বর্ষণে সড়কের একটি অংশ ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে সেতুর সংযোগ সড়কে বড় ধরনের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং যেকোনো সময় এ সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে সেতুর সংযোগ সড়কের নিচের মাটি সরে গিয়ে ধসের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে সড়কের একাংশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে অসংখ্য যানবাহন ও সাধারণ মানুষ চলাচল করায় জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন। আরেক দফা ভারী বৃষ্টি হলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ আরো ভেঙে পড়তে পারে। তখন পুরো সড়কেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

স্থানীয়দের বলছে ধসের স্থানে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। না হলে রাতের বেলায় চলাচলকারী যানবাহন ও পথচারীরা দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছেন। দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানটি পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা প্রকৌশলী খালিদ হাসান জানান, সড়কটিতে উন্নয়নমূলক নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। তবে ধসের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ঠিকাদারকে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি আগামীকালের মধ্যেই প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। 

কিশোরী গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী-শ্বাশুড়িসহ গ্রেপ্তার ৩

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
কিশোরী গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী-শ্বাশুড়িসহ গ্রেপ্তার ৩
প্রতীকী ছবি

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে মারিয়া জাহান মীম (১৬) নামের এক কিশোরী গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করার পর আত্মগোপনে থাকা স্বামী-শ্বাশুড়িসহ তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‍্যাব)। 

শনিবার (২০ জুন) দিবাগত রাতে রাজধানীর সাভার ও আশুলিয়ায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

নিহত মারিয়া জাহান মীম (১৬)  রামগতি উপজেলার চরসেকান্তর গ্রামের আব্দুল মালেকের মেয়ে।

গ্রেপ্তারকৃত মাহিম রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার ইউনিয়নের আসলপাড়া গ্রামের প্রবাসী মোহাম্মদ হানিফের ছেলে। অন্যরা হলেন মাহিমের মা মাহিনুর বেগম ও স্বজন দেলোয়ার হোসেন সোহাগ। এর মধ্যে সোহাগকে সন্দেহজনক আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

র‌্যাব ও স্থানীয় সূত্র জানায়,  গত ৯ জুন শ্বশুরবাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকেই তার স্বামী-শ্বাশুড়িসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন আত্নগোপনে ছিল। ঘটনার দুই দিন পর মীমের মা বাদী হয়ে রামগতি থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় র‌্যাব-১১ অভিযান চালিয়ে মীমের স্বামী মাহিম ও শাশুড়ি মাহিনুরসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার প্রায় ৭ মাস আগে প্রেমের সম্পর্কে মীম ও মাহিম পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন।

নিহতের চাচা রাকিব হোসেন বলেন, ‘বিয়ের পর থেকে মীমের সঙ্গে আমাদের কারো যোগাযোগ ছিল না। সম্প্রতি মাহিমের বাবা দেশে আসেন। পরে বিয়ের বিষয়টি মেনে নেওয়ার জন্য উভয়পক্ষ সম্মত হয়। কিন্তু কাবিনের টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব হয়। এ ছাড়া পারিবারিক বিরোধও ছিল। এর জের ধরেই মীমকে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে।’

র‌্যাব-১১-এর নোয়াখালী ক্যাম্পের কম্পানি অধিনায়ক মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তার করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রামগতি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

টাঙ্গাইলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, গ্রেপ্তার ১

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, গ্রেপ্তার ১
সংগৃহীত ছবি

টাঙ্গাইলে ঝটিকা মিছিল করেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় এরই মাঝে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রবিবার (২১ জুন) সকাল ৯টার দিকে টাঙ্গাইল শহরের ভিক্টোরিয়া রোডের পোস্ট অফিসের মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করা হয়। পরে মিছিলটি বড় কালীবাড়ি মোড়ে গিয়ে শেষ হয় বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঝটিকা মিছিলে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী অংশ নেন। এ সময় ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’, ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘শেখ শেখ মুজিব, লও লও সালাম’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।

এদিকে মিছিলে অংশ নেওয়ায় আশিকুর রহমান আশিক নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি টাঙ্গাইল সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি। সদর থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলটি খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কিন্তু কাউকে পাওয়া যায়নি। ঝটিকা মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’ 

মাধবপুরে ইজারা ছাড়াই অবাধে বিক্রি হচ্ছে সিলিকা বালু

ধ্বংসের মুখে দুটি রাবার ড্যাম

আবুল হাসান ফায়েজ, মাধবপুর(হবিগঞ্জ)
মাধবপুরে ইজারা ছাড়াই অবাধে বিক্রি হচ্ছে সিলিকা বালু
ছবি : কালের কণ্ঠ

হবিগঞ্জের মাধবপুরের রঘুনন্দন পাহাড় ও সোনাই নদী থেকে অবাধে চলছে সিলিকা বালুর লুটতরাজ। সরকারের কোনো ধরনের অনুমোতি না নিয়েই প্রশাসনের চোখে আঙুল দিয়ে রঘুনন্দন পাহাড়, সুরমা ও তেলিয়াপাড়া চা-বাগানের ছড়া, সোনাই নদীর বিভিন্ন স্থানে শতাধিক ড্রেজার বসানো হয়েছে।

এসব অবৈধ মেশিন দিয়ে দৈনিক ২-৩ লাখ ঘনফুট বালু তোলা হচ্ছে। নদী ও পাহাড় ধ্বংস করে উত্তোলিত বালু ট্রাক ট্রাক্টর যোগে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রশাসনের উদাসীনতা বালু চোর সিন্ডিকেট বেপরোয়া হয়ে ওঠছে।

অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় বিএনপির কতিপয় নেতা, উপজেলা ও ভূমি প্রশাসনের কতিপয় দূর্নীতিবাজ কর্মচারী এই বালু চুরিতে সক্রিয়।

সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রঘুনন্দন পাহাড়ের শাহজীবাজার রাবার বাগান সংলগ্ন খেলার মাঠ, রাবার বাগানের সাতপাড়িয়া ছড়া, মনতাজ শাহ মাজারের পাশে তেঁতুলতলা ছড়া, জেদ্দা ছড়া, সুরমা চা বাগানের রসুলপুর ছড়া, তেলিয়াপাড়ার চা বাগানের সীমনা ছড়া, সোনাই নদীর বোরহানপুর, ভবানীপুর, দূর্লভপুর, আফজলপুর ও বহরা, চৌমুহনী রাবার ড্যাম এলাকার কাশিমপুর, আলাবক্সপুর, মনোহরপুর, মঙ্গলপুর, গাজীপুর, আশ্রবপুর মৌজাসহ আশপাশের এলাকায় শতাধিক মেশিন বসিয়ে চলছে বালু উত্তোলন। মেশিন দ্বারা অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে সোনাই নদীতে স্থাপিত রাবার ড্যাম দুটি ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৪৩৩ বাংলা সনের জন্য মনতলা সাধারণ বালু মহালটি ইজারা নেন মাধবপুর পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি মো. ফিরোজ মিয়া। মেসার্স শারমীন এন্ট্রারপ্রাইজ নামে ফিরোজের প্রতিষ্টান ১৪৩৩ বাংলা সনের জন্য ১১০০১০০০১৪১৫২০১ নং স্মরাকে ইজারা গ্রহণ করেন কিসমতপুর কিসমত ও মনোহরপুর এই দুটি মৌজার সাধারণ বালু ইজারা নিয়ে সোনাই নদীর বারার ড্যাম এলাকাসহ ৩০টি মৌজা থেকে সিলিকা বালু বিক্রির অভিযোগ ওঠেছে তার বিরুদ্ধে।

খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৪৩০ বাংলা সনে উপজেলার রসুলপুর, মনতলা ও মনতলা চৌমুহনী বালু  কোয়ারী (অংশ-০১)-৫৬৫ স্মারকের ইজারা দেওয়া হয়েছিল ২০২৩ সালে। ইজারাকৃত ওই তিন কোয়ারীর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে ২০২৫ সনের ১৩ এপ্রিল।

সিলিকা বালু কোয়ারীর মেয়াদ শেষ হলেও মনতলা ও চৌমুহনী মহালের সোনাই নদী ও রসুলপুর এলাকা থেকে হরদম চলছে ট্রাক, ট্রাক্টর যোগে বালু বিক্রি। আর এসব বালু পরিবহন হচ্ছে সাধারন বালু মহালের রশিদে। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকায় পকেটভারী হচ্ছে স্থানীয় সিন্ডিকেটের। অবৈধ বালু উত্তোলন ও বিক্রি বন্ধে আবেদন করা হলেও প্রশাসনের জোড়ালো ভূমিকা না থাকায় আক্ষেপ প্রকাশ করছেন সচেতন মহল।

এ বিষয়ে বালু মহাল ইজারাদার মাধবপুর পৌর বিএনপির সহসভাপতি ফিরোজ মিয়া মোবাইলফোনে সিলিকা বালু বিক্রি ও উত্তোলনের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘সাধারণ মহাল থেকে বালু বিক্রি করা হচ্ছে।’