• ই-পেপার

কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর সাদ্দামের পাশে দাঁড়ালেন জবি ছাত্রদল নেতা

জবিতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

জবি প্রতিনিধি
জবিতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন
ছবি : কালের কণ্ঠ

পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। রবিবার (২১ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে জবি বৃক্ষরোপণ কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. রইছ উদ্‌দীন এবং কোষাধ্যক্ষ ড. সাবিনা শরমীন। উদ্বোধনী পর্বে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুডকোর্ট সংলগ্ন এলাকায় দুটি পাইনগাছের চারা রোপণ করেন।

এ সময় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. ইমরানুল হক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মোস্তফা হাসান এবং প্রক্টর ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন করবী গাছের চারা রোপণ করেন। এছাড়া রেজিস্ট্রার ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন, বৃক্ষরোপণ কমিটির আহ্বায়ক ড. কাজী সাখাওয়াত হোসেন, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, দপ্তর প্রধান, শিক্ষক এবং বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় শহীদ সাজিদ ভবনের পাশে সোনালু, রফিক ভবনের পাশে চন্দ্রপ্রভা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যান্টিনের পাশে পাতাবাহারসহ বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলজ ও ফুলগাছের চারা রোপণ করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে মোট ১৪০টি চারা রোপণ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্যাম্পাসের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সবুজ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

বক্তারা বলেন, বৃক্ষরোপণ শুধু পরিবেশ রক্ষার জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও টেকসই পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ লক্ষ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত সবুজায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

প্রশ্নপত্রে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নাম না থাকায় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বয়কট ও বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রশ্নপত্রে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নাম না থাকায় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বয়কট ও বিক্ষোভ
সংগৃহীত ছবি

ইনকোর্স পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নাম উল্লেখ না থাকায় পরীক্ষা বয়কট করে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ঢাকা কলেজের ২০২৪-২৫ সেশনের শিক্ষার্থীরা। রবিবার (২১ জুন) বিকেল ৩টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।

শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষা বয়কট করার পর শিক্ষার্থীরা প্রথমে ক্যাম্পাসে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরে মিছিল নিয়ে তারা ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করে প্রশ্নপত্রে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নাম উল্লেখ করার আনুষ্ঠানিক দাবি জানায়। একই সঙ্গে সোমবার (২২ জুন) ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য (ভিসি) বরাবর এই দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিয়মানুযায়ী প্রশ্নপত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম থাকার কথা থাকলেও প্রশাসন তা এড়িয়ে যাচ্ছে।

২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জিহাদ হোসাইন বলেন, আমাদের অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধীনে সাতটি ক্যাম্পাস সংযুক্ত থাকবে। কিন্তু প্রশাসনের বর্তমান ভূমিকা দেখে আমরা আর এই অধ্যাদেশে বিশ্বাস রাখতে পারছি না। আজকের ইনকোর্স পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে যদি ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সংযুক্ত ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাস’ উল্লেখ থাকত, তাহলে শিক্ষার্থীরা সান্ত্বনা পেত। প্রশাসন শুধু ঢাকা কলেজের নাম ব্যবহার করে একটি নীলনকশার মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলনকে ভূলুণ্ঠিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

একই সেশনের আরেক শিক্ষার্থী আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি ঢাকার সরকারি সাতটি কলেজ ক্যাম্পাস নিয়ে গঠিত এবং এই ক্যাম্পাসগুলোই এর মূল ভিত্তি। অথচ প্রশ্নপত্রের শিরোনামে শুধু ‘ঢাকা কলেজ’ লেখা হয়েছে, যা আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না।

শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের মুখে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রশ্নপত্রে অবশ্যই ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নাম উল্লেখ থাকতে হবে।’

সুনামগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ শিক্ষার্থীদের অনির্দিষ্টকালের ক্লাস বর্জন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ শিক্ষার্থীদের অনির্দিষ্টকালের ক্লাস বর্জন
ছবি: কালের কণ্ঠ

সুনামগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল দ্রুত চালু এবং একাডেমিক সংকট নিরসনের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

রবিবার (২১ জুন) দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে এ ঘোষণা দেন তারা। এ সময় শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়ে ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, হাসপাতাল চালু না হওয়ায় তারা প্রয়োজনীয় ক্লিনিক্যাল ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে চিকিৎসাশিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে এবং পেশাগত দক্ষতা অর্জনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন শিক্ষার্থী পিয়াস চন্দ্র দাস, সাইদুল ইসলাম সাকিব, শাহপরান, কায়েস আব্দুল্লাহ জামাল, রাফাত রেজা আকাশ, ফারজান আহমেদ মিম, তামিমা রহমান ও শামসিয়া তাবাসসুম মাইশা।

বক্তারা অভিযোগ করেন, গত বছর হাসপাতাল চালুসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি। বারবার আশ্বাসের পরও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।

শিক্ষার্থীরা বলেন, হাসপাতাল চালু এবং পূর্বে উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের ক্লাস বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে দাবি আদায়ে গড়িমসি হলে আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

পরীক্ষা নাকি ফলাফলের ভিত্তিতে একাদশে ভর্তি?

অনলাইন ডেস্ক
পরীক্ষা নাকি ফলাফলের ভিত্তিতে একাদশে ভর্তি?
সংগৃহীত ছবি

সপ্তাহখানেক আগে শেষ হয়েছে চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। এরই মধ্যে কলেজের একাদশ ও মাদরাসার আলিমে ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে ভর্তিতে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হওয়ায় একাদশ শ্রেণির ভর্তি কীভাবে হবে এ নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন তারা।

গত ২১ এপ্রিল দেশব্যাপী একযোগে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়ে ২০ মে শেষ হয়। ৭ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত চলে ব্যবহারিক পরীক্ষা।

এ বছর মাদরাসা ও কারিগরিসহ ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। ইতিমধ্যে আগামী ২০ জুলাই এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

এদিকে, গত ১৬ মার্চ সরকার এক পরিপত্রে মাধ্যমিক স্কুলে ভর্তিতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা লটারি পদ্ধতি বাতিল করে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। ওই দিন সংবাদ সম্মেলনেও বিষয়টি তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০২৭ সালের ভর্তিতে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। এর আগে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিকের ভর্তিতেও লটারির পরিবর্তে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

কোন পদ্ধতিতে হবে একাদশ শ্রেণির ভর্তি?

শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (২১ জুন) এ সংক্রান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওই সভায় সবদিক বিবেচনা করে চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করা হবে, যা আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, সকল বোর্ডের কলেজ পরিদর্শকরা নীতিমালা নির্ধারণে একটি সভা করবেন। সভা শেষে খসড়া নীতিমালা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত নিবে, তাই বাস্তবায়ন করা হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, আগের নিয়ম অনুযায়ী এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হতে পারে।

প্রতিবছর ভর্তির আগে শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা প্রণয়ন করে থাকে সরকার। সর্বশেষ ২০২৫ সালের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নীতিমালায় কোনো বাছাই বা ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

ওই নীতিমালা অনুযায়ী, কেবল শিক্ষার্থীর এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে। এ ছাড়া ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ৯৩ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে, যা মেধার ভিত্তিতে নির্বাচন করা হবে। বাকি ৭ শতাংশের মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ২ এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রয়েছে।

এদিকে, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে নিজেদের স্বতন্ত্র ভর্তি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আসছে সনামধন্য কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসব কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য লিখিত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—নটর ডেম কলেজ, হলি ক্রস কলেজ, সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল এবং সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ। মেধার ভিত্তিতে কলেজগুলোতে আবেদন প্রক্রিয়া যেমন আলাদা, তেমনি লিখিত পরীক্ষা নেওয়া এই চার কলেজের নিয়ম-কানুনও বিশেষভাবে অনুসরণযোগ্য।