• ই-পেপার

চুনারুঘাট

নিখোঁজের ৪ দিন পর খোয়াই নদী থেকে আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার

‘অবৈধ দেয়াল’ ভাঙলো বিক্ষুব্ধ জনতা, নবাব ফয়জুন্নেছা জমিদার বাড়ির পথ উন্মুক্ত

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
‘অবৈধ দেয়াল’ ভাঙলো বিক্ষুব্ধ জনতা, নবাব ফয়জুন্নেছা জমিদার বাড়ির পথ উন্মুক্ত
ছবি : কালের কণ্ঠ

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার পশ্চিমগাঁওয়ে অবস্থিত নবাব ফয়জুন্নেছা জমিদার বাড়ি জাদুঘরের ঐতিহাসিক প্রবেশপথে নির্মিত ‘অবৈধ ইটের দেয়াল’ গুঁড়িয়ে দিয়েছেন স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা। সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম নারী নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীর ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়ির গেজেটভুক্ত প্রবেশপথটি গত বছরের ৩০ অক্টোবর রাতে ছৈয়দ আলী নামের এক ব্যক্তি ইটের দেয়াল নির্মাণ করে বন্ধ করে দেন। এরপর দীর্ঘদিন ধরে পথটি বন্ধ থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, জমির মালিকানা দাবি করে ২০২৪ সালের ৩ মার্চ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন ছৈয়দ আলী, যা বর্তমানে বিচারাধীন। তবে মামলার নিষ্পত্তির আগেই প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা, ওয়াকফ এস্টেট প্রশাসন ও সচেতন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়রা জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার অবৈধ দেয়াল অপসারণের জন্য নোটিশ দেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। পরে জনরোষের মুখে সোমবার রাতে বিক্ষুব্ধ জনতা দেয়ালটি ভেঙে ফেলে এবং দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা প্রবেশপথ পুনরায় উন্মুক্ত করে।

ওয়াকফ এস্টেট প্রশাসনের এক প্রতিনিধি বলেন, ঐতিহাসিক স্থাপনার প্রবেশপথ এভাবে বন্ধ করে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি নিয়ে তারা শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন।

স্থানীয় আইনজীবী ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, ‘আইনগতভাবে কোনো চলাচলের পথ বন্ধ করা যায় না। এমনকি জমির মালিকানা থাকলেও জনসাধারণের ব্যবহৃত প্রবেশপথ বন্ধ করা বেআইনি।’

এ বিষয়ে লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নার্গিস সুলতানা বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীর ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি ও জাদুঘরটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর একটি। প্রতি বছর দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য দর্শনার্থী এ স্থাপনা দেখতে আসেন।

দেশে তামাক সেবনে ঘণ্টায় ১৮ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে তামাক সেবনে ঘণ্টায় ১৮ জনের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

দেশে বছরে এক লাখ ৬১ হাজারের বেশি মানুষ তামাকজাত দ্রব্য সেবনের প্রতিক্রিয়ায় মারা যায়। সে হিসেবে প্রতি ঘণ্টায় ১৮ জনের মৃত্যু হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। এরআগে দিবসটি পালন উপলক্ষে র‌্যালি হয়। এরপর আলোচনাসভা, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন বাস্তবায়নে করণীয়’ শীর্ষক তামাকবিরোধী সেমিনার এবং বিভাগীয় ত্রৈমাসিক সভা হয়।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় আয়োজিত এই সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি। 


সেমিনারে বলা হয়, বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এবং ১৫ বছরের কম বয়সীদের ৬ দশমিক ৯ শতাংশ তামাক সেবন করে। এক কোটি ৯২ লাখ মানুষ ধূমপান করে। দুই কোটি ৫০ লাখ মানুষ গণপরিবহনে, ৮১ লাখ মানুষ কর্মস্থলে এবং চার কোটির বেশি মানুষ বাসায় পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়। 

এতে আরো বলা হয়, জর্দা, গুল, সাদাপাতা ও খৈনী ইত্যাদি (ধোঁয়াবিহীন তামাক) সেবন করে। বাংলাদেশে ক্যান্সার রোগীদের ৪৬ শতাংশ তামাক ব্যবহারকারী। দেশের মোট মৃত্যুর দুই দশমিক ৫১ শতাংশের কারণ পরোক্ষ ধূমপান। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে বিড়ি-সিগারেটের জ্বলন্ত টুকরা থেকে ৪ হাজার ১৩৯টি অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়। বাংলাদেশে প্রতিবছর সিগারেটের প্রায় ১৬ হাজার মেট্রিক টন বিষাক্ত ফিল্টার বর্জ্য হিসেবে পরিবেশকে দূষিত করছে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, তামাকজনিত রোগ, অকালমৃত্যু এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি দেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তামাক নিয়ন্ত্রণে আইন থাকলেও এর কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মো. মোতাহার হোসেনের সভাপতিত্বে সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইনামুল হাছানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. জাহিদ হোসেন মোল্লা প্রমুখ।

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের দুই সদস্য আটক

বুড়িচং–ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের দুই সদস্য আটক
প্রতীকী ছবি

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় অভিযান চালিয়ে কথিত কিশোর গ্যাংয়ের দুই সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) উপজেলার বুড়িচং সদর ইউনিয়নের জগতপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন জগতপুর (জাবক্সি ভূঁইয়া বাড়ি) এলাকার আব্দুল হান্নান ভূঁইয়ার ছেলে শরিফুল ইসলাম শ্রাবণ (২৩) এবং একই গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে মো. ফয়সাল (২০)।

পুলিশ জানায়, বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা একটি মামলার আসামি হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। বুড়িচং থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান জানান, সম্প্রতি কিশোর গ্যাংয়ের মহড়ার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তিনি আরো জানান, উপজেলায় কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে এমন যেকোনো অপতৎপরতার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

২৪ ঘণ্টায় জামায়াত নেতা আশাদুল হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
২৪ ঘণ্টায় জামায়াত নেতা আশাদুল হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩

রাজবাড়ীর কালুখালীতে জামায়াত নেতা আশাদুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। সেই সঙ্গে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের কাউসার শেখের ছেলে মো. মিজান শেখ (২৪), পশ্চিম রতনদিয়া গ্রামের আসমত মণ্ডলের ছেলে মো. আনোয়ার মণ্ডল (৪৪) এবং সূর্যদিয়া গ্রামের শাহাজউদ্দীনের ছেলে মো. আব্দুল করিম মোল্লা (৩৫)।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) পাংশা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার দেবব্রত সরকারের নেতৃত্বে কালুখালী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানায়, তদন্তে জানা গেছে, প্রায় ৪ মাস আগে গ্রেপ্তার মিজান শেখের কাছ থেকে আশাদুল ইসলাম ৬৮ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ে সেই টাকা পরিশোধ করতে না পারায় তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মিজান শেখ ও তার সহযোগীরা আশাদুলকে হত্যা করে এবং পরে মরদেহে আগুন লাগিয়ে দেয়।

পুলিশ আরো জানায়, গ্রেপ্তার মিজান শেখ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

অভিযানের সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, একটি রক্তমাখা হেলমেট, একটি এসএস পাইপ (রড) এবং একটি লোহার ফোল্ডিং স্টিক উদ্ধার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (১৫ জুন) সকালে কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের সূর্যদিয়া গ্রামের একটি পাটক্ষেত থেকে আশাদুল ইসলামের অগ্নিদগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আশাদুল ইসলাম স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর একজন কর্মী ছিলেন।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা শাহজাহান মণ্ডল বাদী হয়ে কালুখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত চলাকালে পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটন করে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।