• ই-পেপার

ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে শুদ্ধি অভিযান, পরিবহন তত্ত্বাবধায়ক পদে পরিবর্তন

বাসার দরজা ভেঙে তরুণীর মরদেহ উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
বাসার দরজা ভেঙে তরুণীর মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর মিরপুরের কাজীপাড়ায় বাসার দরজা ভেঙে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর ২টার দিকে কাজীপাড়া মেট্রো স্টেশনের পাশের একটি ভবনের সাততলার বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

২৪ বছর বয়সী ওই তরুণীর নাম জেনি খান। গত এপ্রিলে মুন্না নামে এক যুবকের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওই বাসা ভাড়া নেন। গত রবিবার মুন্না বাসা থেকে বেরিয়ে আর ফিরে আসেননি।

কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, বাসা থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে বাড়ির মালিক পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস গিয়ে দরজা ভেঙে শয়নকক্ষ থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

ওসি আরো বলেন, আমরা তাদের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ করছি। মুন্না পলাতক, তাকে খুঁজে পেলে বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া যাবে। এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। 

রাজধানীতে ‘কবজি কাটা’ গ্রুপের হামলায় আহত ওসি-এসআই

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীতে ‘কবজি কাটা’ গ্রুপের হামলায় আহত ওসি-এসআই
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর আদাবরে বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় অপরাধীদের ধরতে অভিযানের সময় হামলার শিকার হয়েছেন আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম ও উপপরিদর্শক (এসআই) তরুণ কুমার দে। এ সময় পুলিশের গুলিতে দুই ছিনতাইকারী গুলিবদ্ধ হন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ দুজনসহ মোট চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটকরা হলেন মো. রুবেল (গুলিবদ্ধ), মো. আমির (গুলিবদ্ধ), মো. কাশেম ও মো. জয়।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে আদাবর বুড়িগঙ্গা পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জুয়েল রানা বলেন, অভিযান চলাকালে ছিনতাইকারীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে ওসিসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। আহত পুলিশ সদস্যদের হাতে চাপাতির কোপ লেগেছে। তাদের চিকিৎসা  দেওয়া হয়েছে। দুজন এখন শঙ্কামুক্ত। আটক চার ছিনতাইকারীর মধ্যে গুলিবিদ্ধ দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ছিনতাইকারীরা ‘কবজি কাটা গ্রুপের সদস্য।
 
পুলিশ জানায়, কবজি কাটা গ্রুপের প্রধান মো. আনোয়ার ওরফে শুটার আনোয়ার ওরফে কবজি কাটা আনোয়ার। 

তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, আদাবর থানা পুলিশ বেড়িবাঁধ এলাকার একটি কক্ষে অভিযান চালায়। এ সময় সেখানে অবস্থানরত ছিনতাইকারীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে আদাবর থানার ওসি ও একজন এসআই আহত হয়েছেন। হামলার মুখে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালালে দুই ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধরা হলো রুবেল ও আমির। এ ঘটনায় আটক হয়েছেন চারজন। এর মধ্যে রুবেল, আমির ছাড়াও আছেন কাশেম ও মো. জয়।

এর আগে গতকাল সকাল ১১টার দিকে শেখেরটেক ৭ নম্বর সড়কের মাথায় এক ‘বিকাশ’ এজেন্টকে কুপিয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা লুট করে ছিনতাইকারীরা। ‘বিকাশ’ এর এজেন্ট শফিকুল ইসলাম (৩৯) বর্তমানে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) বা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

শফিকুলের বরাতে তার বড় ভাই মুসলিম হোসেন বলেন, ‘দুজন যুবক আমার ভাইয়ের দোকানে এসে দোকানের ক্যাশে হাত দিয়ে জোর করে টাকা নেওয়ার চেষ্টা করলে ভাই প্রথমে বাধা দেয়। তখন তাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ক্যাশে থাকা সব টাকা নিয়ে যায়। দুর্বৃত্তরা চাপাতি দিয়ে শফিকুলের বাম হাত, মাথায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপ দেয়।’ ক্যাশে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা ছিল বলে শফিকুলের কাছ থেকে জেনেছেন তার ভাই মুসলিম।

রাজধানীতে ট্রাকের ধাক্কায় জুলাইযোদ্ধা জোবায়ের নিহত

অনলাইন ডেস্ক
রাজধানীতে ট্রাকের ধাক্কায় জুলাইযোদ্ধা জোবায়ের নিহত
সংগৃহীত ছবি

ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মো. আবু জোবায়ের নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। জুলাই গণ-আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি।

আবু জোবায়ের রাজধানীর মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন পরিচিত ইনফ্লুয়েন্সার এবং দক্ষ বিতার্কিক হিসেবেও সুনাম অর্জন করেছিলেন। বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি জুলাই গণ-আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। বিকেলে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, জোবায়ের ঢাকার মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় খালার বাসায় থেকে পড়াশোনা করতেন। সোমবার রাতে দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে রিকশায় এক বন্ধুর বাসায় যাওয়ার পথে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির কাছে একটি দ্রুতগতির ট্রাক পেছন থেকে রিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে অন্য দুই আরোহী সামান্য আহত হলেও জুবায়ের গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের প্রথমবার স্বাস্থ্য কার্ড দিল ডিএসসিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের প্রথমবার স্বাস্থ্য কার্ড দিল ডিএসসিসি
ছবি: কালের কণ্ঠ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্য কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) নগর ভবন অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কর্মীদের হাতে এই কার্ড তুলে দেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

হারপিক বাংলাদেশের অর্থায়নে, সাজেদা ফাউন্ডেশন ও চার্টার্ড লাইফ ইনস্যুরেন্সের সহযোগিতায় এবং ডিএসসিসির ব্যবস্থাপনায় প্রথম পর্যায়ে এক হাজার জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে এই স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়া হয়েছে।

পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে এই স্বাস্থ্যসেবা কার্ড পাচ্ছেন। এই কার্ডের আওতায় একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও তার পরিবারের সর্বোচ্চ ৬ জন সদস্য বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন।

স্কিমের প্রধান সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে— দেশের ৪৫০টি অনুমোদিত হাসপাতালে বহির্বিভাগ, অন্তর্বিভাগ ও ডায়াগনস্টিক সেবায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ ছাড়। এ ছাড়া কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মৃত্যু হলে তার পরিবারকে এককালীন ৩০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।

মো. আবদুস সালাম বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাত ক্রমেই ব্যবসাকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে, যার ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষ। পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা দিন-রাত পরিশ্রম করে নগরীকে বাসযোগ্য রাখছেন। সমাজের জন্য তাদের এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, আজ প্রথমবারের মতো পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য এই স্বাস্থ্যসেবা কার্ড চালু হলো। আমি আশা করি, এই উদ্যোগ শুধু ঢাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও বিত্তবানরা এ ধরনের মানবিক কার্যক্রমে এগিয়ে আসবেন।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ঢাকা শহরের বিভিন্ন সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে (এসটিএস) স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা কিট বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে শিক্ষা কার্যক্রমও পরিচালনা করা হবে বলে জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কর্মক্ষেত্রে জ্যাকেট, হ্যান্ড গ্লাভস, মাস্কসহ অন্যান্য সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত কর্মীদের নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।